শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

ছয় বছর ধরে বারান্দায় পড়ে আছেন পাইকগাছার লতিফ, মিলছে না চিকিৎসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
ছয় বছর ধরে বারান্দায় পড়ে আছেন পাইকগাছার লতিফ, মিলছে না চিকিৎসা

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): জীবন যেন থমকে গেছে লতিফ সরদারের। ৬ বছর ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে ঘরের বারান্দায় শয্যাশায়ী তিনি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে শারীরিক অবস্থা। অর্থের অভাবে চিকিৎসা তো দূরের কথা, দু’বেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তার পরিবারকে।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের মৌখালী চরভরাটী এলাকার বাসিন্দা লতিফ সরদার। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৬৪ বছর হলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত বয়স আরও বেশি। তিনি মৃতঃ রজত সরদারের ছেলে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেড় শতকেরও কম জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে একটি জরাজীর্ণ ভাঙাচোরা মাটির ঘর. যার পিছনের দেয়াল ধসে পড়েছে। ভাঙ্গা ঘরের সামনের বারান্দায় দিনের পর দিন শুয়ে আছেন অসহায় লতিফ সরদার। নিজের শরীর নড়ানোরও শক্তি নেই। প্রয়োজনীয় সব কাজেই তাকে অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে কষ্টের মাঝেও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার শরীরে বিভিন্ন ধরনের গুটি দেখা দেয়।

 

পরে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। এরপর থেকেই কার্যত শয্যাশায়ী। টাকার অভাবে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ৬ বছর ধরে চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটছে তার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্ত্রী ফজিলা বেগম। অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনোমতে দুজনের সংসার চলে। অনেক সময় খাবার জোটে, আবার অনেক সময় অনাহার কিংবা অর্ধাহারেই কাটে দিন।

ফজিলা বেগম বলেন, “স্বামীকে চিকিৎসা করাতে চাই, কিন্তু সামর্থ্য নেই। সরকারি সহায়তা পাওয়ার আশায় অনেকের কাছে গেছি। কিন্তু কিছু না পেয়ে ফিরে এসেছি। গরিব মানুষের কপালে যেন কোনো সাহায্যই নেই। লতিফ সরদারের নিকটাত্মীয় ও পাইকগাছা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে কিছু আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছি। কিন্তু তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারি উদ্যোগ এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান জানান, লতিফ সরদারকে চিনতে পারছিনা। খোঁজ নিয়ে দেখে পরে জানাবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আমার জানা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অসহায় লতিফ সরদারের পরিবার এখন সরকারি সহায়তা এবং সমাজের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায়। সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা মিললে হয়তো কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসতে পারে তার জীবনে।

 

 

Ads small one

ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়নে খুলনা বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়নে খুলনা বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের বার্ষিক মূল্যায়নে খুলনা বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরবজনক সম্মাননা অর্জন করেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এ সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সমগ্র সাতক্ষীরাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এ এফ এম এহসানুল হক মিলন এর উপস্থিতিতে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভাইস চ্যান্সেলর) হাত থেকে খুলনা বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মাননা ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মুফতি মাওলানা আখতারুজ্জামান।

শিক্ষার গুণগত মান, পাবলিক পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য, দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং সামগ্রিক একাডেমিক উৎকর্ষের ভিত্তিতে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এ সম্মাননা প্রদান করে। এই অর্জন প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সুনাম, ঐতিহ্য এবং মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রমের একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সম্মাননা গ্রহণ শেষে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মুফতি মাওলানা আখতারুজ্জামান বলেন, এ সম্মাননা সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার ফল। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিচালনা পর্ষদ, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং শুভানুধ্যায়ীদের অকুণ্ঠ সহযোগিতা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না। এই স্বীকৃতি আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

ভবিষ্যতেও ইসলামী আদর্শ ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে দক্ষ, নৈতিক, দেশপ্রেমিক ও মানবিক নাগরিক গড়ে তুলতে আমরা আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ। এ গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিচালনা পর্ষদ, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের শুভানুধ্যায়ীরা গভীর আনন্দ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দও মাদ্রাসা পরিবারকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

টানা বৃষ্টিতে পাটকেলঘাটার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত ফসলের ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
টানা বৃষ্টিতে পাটকেলঘাটার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত ফসলের ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: গত দুদিনের টানা বৃষ্টিপাতে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার নিচু এলাকার আমন বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। এতে আমন চাষিরা এ মৌসুমে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। এ ছাড়া বৃষ্টির পানিতে অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় পানি ঢ়ুকে পড়েছে অনেক বাড়িতে। বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। তলিয়ে গেছে পুকুর ডোবা নালা।

 

এছাড়া সবজি খেতে পানিতে ডুবে গেছে। ফলে সবজি চাষিরাও পড়েছেন বিপাকে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিন রাতভর বৃষ্টি হয়। এতে করে পাটকেলঘাটার তৈলকুপি, শাকদহ, চোমরখালী, মিঠাবাড়ী, নগরঘাটা, সরুলিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাটকেলঘাটার জুজখোলা গ্রামের আমন চাষি আব্দুল হাই বলেন, আমার আমন বীজতলা পানির নিচে। পানি দ্রুত না নামলে নতুন করে বীজতলা তৈরী করতে হবে.।

 

একই ভাবে অনুরুপ কখা বলেন ধানচাষী হাবিবুর রহমান তিনি বলেন আমার বীজতলা তলিয়ে গেছে। এ বিষয়ে উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কল্যাণ পাল জানান গত দুদিনের বৃষ্টিতে শাক সবজির বেশি ক্ষতি হয়েছে । দ্রুত পানি নেমে গেলে বীজতলার তেমন ক্ষতিহবে না।

 

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, গত দুদিনের টানা বর্ষনে উপজেলার শাক সবজি চাষিরা বিপাকে পড়েছে। চাষীরা এখনও পুরাপুরি আমন বীজতলার কাজ শুরু করেনি। বৃষ্টি আর না হলে কৃষকের তেমন ক্ষতি হবে না।

আশাশুনিতে ঘরের দরজা ভেঙে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ঘরের দরজা ভেঙে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে বাড়িতে কেউ না থাকায় ঘরের দরজা ভেঙে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা সরদার বাড়ি এ ঘটনাটি ঘটে।

 

সরেজমিনে গেলে বাড়ির মালিক মৃত উজির আলী সরদারের মেয়ে রিজিয়া খাতুন সহ পার্শ্ববর্তী শিউলি পারভিন, জোহরা খাতুন, সুফিয়া খাতুন, ফিরোজ আহমেদ ও নাহিদ হাসান খোকন এই প্রতিবেদককে জানান, রিজিয়া খাতুন (৫৬) সাতক্ষীরা তার ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়িতে এসে দেখে ঘরের দরজার হাসকল ডুবনি ভাঙ্গা।

 

ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে দেখেন তিনটা বক্সের তালা ভাঙ্গা। বক্সের মধ্যে থাকা একজোড়া রুলি যার আনুমানিক মূল্য ৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা, জমি বিক্রয়ের নগদ টাকা, সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি, বিদেশি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ৩ টা দামীর শাড়ি ও অন্যান্য আসবাবপত্রসহ সর্বমোট প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।