শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

এক রাতের বৃষ্টিতে ডুবেছে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল, জলাবদ্ধতায় নাকাল জনজীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
এক রাতের বৃষ্টিতে ডুবেছে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল, জলাবদ্ধতায় নাকাল জনজীবন

নিজস্ব প্রতিনিধি: এক রাতের রেকর্ড বৃষ্টিতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে সাতক্ষীরায়। পৌরসভাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাতে জেলায় ১৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

রাতভর টানা বর্ষণে পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ বিভিন্ন এলাকা এখন পানিতে থইথই করছে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, কলেজ মাঠ, হাসপাতাল চত্বর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ একাধিক সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় পানি জমে গেছে। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড থেকে শুরু করে মাছখোলা এলাকার বাসিন্দারা। এই এলাকার রাস্তাঘাটে এখন হাঁটুসমান পানি। ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ—অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় এই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোডের বাসিন্দা সবুর গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বছরের পর বছর ধরে সাতক্ষীরার মানুষ একই দুর্ভোগে পড়ে আছে। পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো কাজই ঠিকমতো করে না, সব কাজে তারা অনিয়ম করে থাকে। আমরা ২০ বছর এখানে বসবাস করছি; আগে হালকা বৃষ্টিতে তলিয়ে যেত, আর এখনো তাই যায়। তাহলে উন্নতিটা হলো কী? এখন বলছেন, নতুন সরকার এসেছে কাজ হবে। আল্লাহ জানেন আদৌ কাজ হবে কি না।”

একই এলাকার মাছখোলা গ্রামের গৃহবধূ শাহানারা বেগম বলেন, “১০ বছর ধরে এমন হয়, কিন্তু কোনো সমাধান নেই। রান্নাঘরে পানি ঢুকে হাঁড়ি-পাতিল নষ্ট, বন্ধ হয়ে গেছে খাওয়া-দাওয়া। সাপ-মাকড় ঢুকে পড়েছে, ঘুমাতে পারছি না। সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ জায়গায় থাকতে হচ্ছে।”

শিক্ষা কার্যকলাপেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। বৃষ্টিতে ‘দক্ষিণবঙ্গের অক্সফোর্ড’ খ্যাত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ টু মাছখোলা সড়ক এবং কলেজের খেলার মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। কলেজের শিক্ষার্থী সবুজ বলেন, “পানির কারণে কলেজে যেতে পারি না। হাঁটু পানি পার হয়ে যেতে আমাদের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এই সময়টা খুব দুর্ভোগে থাকতে হয়। টিউবওয়েল ডুবে গেছে, পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।”

একই অবস্থা কলারোয়া পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা, কার্যালয় ও শ্রেণিকক্ষ হাঁটুপানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য জেলা পরিষদ ও পৌর প্রশাসকসহ জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম কামরুলসহ কর্তৃপক্ষ।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা। প্যান্ট গুটিয়ে, বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ বাঁচিয়ে কোনোমতে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। এতে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি নিছু হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষায় চারপাশ থেকে পানি এসে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এবার মাঠ ছাড়িয়ে শৌচাগারে যাওয়ার পথটিও পানির নিচে চলে গেছে। বিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, মাঠ ভরাট ও স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলেও দীর্ঘ দিনেও কার্যকর সমাধান মেলেনি।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবু সাঈদ বলেন, “সরকার যেখানে শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়নে জোর দিচ্ছে, সেখানে জলাবদ্ধতার কারণে এই বিদ্যালয়ের শিশুরা স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অনেক অভিভাবক নিজেরাই সন্তানদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন।” বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জোছনা আরা বলেন, “শিশুদের এই সীমাহীন কষ্ট দেখে চুপ থাকা যায় না। তাই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য জোর দাবি জানিয়েছি।”

অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ১৪৯ নম্বর শ্রীফলকাটি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে মাঠের পানি উপচে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও মাঠ ভরাটের জন্য গত ৮ জুলাই জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম।

এদিকে বৃষ্টির কারণে কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও ভ্যানচালকের মতো খেটে খাওয়া মানুষ। ভ্যানচালক ভোলা জানান, “বৃষ্টির জন্য ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছি না, ভাড়াও নেই। প্রতিদিনের চাল-ডাল কেনা বন্ধ। এনজিওর কিস্তি কীভাবে দেবো, সেই চিন্তায় আছি।” একইভাবে দিনমজুর আখতারুল ইসলাম বলেন, “দুই দিন ধরে ঘরে বসে আছি। কোনো কাজ নেই। পরিবার নিয়ে খুব সমস্যায় পড়ে গেছি।”

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত বলেন, “নতুন সরকারের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন খাল ও নদী খনন করা হচ্ছে। ফলে আমি মনে করি এবার হয়তো শহরের জলাবদ্ধতা দূর হবে। পাশাপাশি শহরের স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হবে এবং প্রাণসায়ের খালে পানি নিয়ে যাওয়ার জন্য সব ড্রেন সচল করে প্রাণসায়ের খালের সাথে যুক্ত করা হবে। তখন আশা করি পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

Ads small one

স্বস্তির জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
স্বস্তির জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ

দুই ওয়ানডে হেরে সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। তবে শেষ ওয়ানডে জিতে হোয়াইটওয়াশ (২-১) এড়িয়েছে সফরকারীরা। তৃতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

আগের দুই ম্যাচের ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। হারারেতে এদিন সেই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে দাপুটে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। ২০০ রানের মামুলি লক্ষ্যে ওপেনিং জুটিতেই ১৫১ রান যোগ করেন সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান। সৌম্য ৮২ বলে ৬৯ রানে আউট হলে ভাঙে শুরুর জুটি। তাতে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছয়ের মার। তার পর সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন তানজিদ। কিন্তু দলের রান যখন ১৯৭, তখন তাড়াহুড়ো দেখা যায় তার ব্যাটিংয়ে। যার মাশুল দেন ৯৪ রানে ক্যাচ তুলে। তার ১০১ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৩টি ছয়। তার পর নতুন নামা তাওহীদ হৃদয়ও ফেরেন শূন্য রানে। শেষ পর্যন্ত ৩৬তম ওভারে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন নাজমুল হোসেন (১৮*) ও নুরুল হাসান (০*)।

শুরুতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানে থেমেছে।

এবারও বাংলাদেশের বোলিং কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ১০৮ রানে পড়ে ষষ্ঠ উইকেট। দলকে দুইশ রানের কাছে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা ছিল ওয়েসলি মাধেভেরের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও শেষ দিকে বেন ইভান্সের ঝড়ো ফিফটির।

দলের ১৫১ রানে ফেরা মাধেভেরে খেলেছেন ৭৪ বলে ৭৫ রানের দারুণ ইনিংস। তাতে ছিল ৫টি চার ‍ও ১টি ছক্কা। আর শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স ৪৩ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ঝড়ো ফিফটি তুলে জিম্বাবুয়ের ইনিংস সমৃদ্ধ করেছেন। এই দুজন ছাড়া জিম্বাবুয়ের অন্য ব্যাটারদের অবস্থা ছিল হতাশাজনক। বাকি সবাই মিলে ১৭২ বল খেলে করতে পেরেছেন মাত্র ৬১ রান।

বাংলাদেশের হয়ে ৪৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সফল বোলার ছিলেন পেসার শরিফুল ইসলাম। দুটি করে নেন তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম। একটি নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

গাবুরার নিহত জেলের পরিবারকে ৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
গাবুরার নিহত জেলের পরিবারকে ৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের নিহত জেলে আমিনুর ইসলামের শোকসন্তপ্ত পরিবারের হাতে বিএনপি-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) খুলনা সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিহতের পরিবারের সদস্যদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সহায়তার অর্থ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সহায়তার অর্থ হস্তান্তর করেন।

জানা যায়, গাবুরার নিহত জেলে আমিনুর ইসলামের পরিবারের দুর্দশার বিষয়টি ডা. এম. মনিরুজ্জামান সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে আনেন। পরে মানবিক দিক বিবেচনা করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারটির জন্য ৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।

অনুষ্ঠানে খুলনার জেলা প্রশাসকসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে পরিবারগুলো নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে। এমন সংকটময় সময়ে নিহত জেলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান একটি মানবিক উদ্যোগ। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও অসহায় ও দুর্গত মানুষের পাশে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

নিহত আমিনুর ইসলামের পরিবারের সদস্যরা এই সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের জন্য দোয়া কামনা করেন।

সাতক্ষীরায় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও ‘জলবায়ু সহনশীল’ প্রকল্পের ড্রেন ঢালাই, গুণগত মান নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও ‘জলবায়ু সহনশীল’ প্রকল্পের ড্রেন ঢালাই, গুণগত মান নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
মো: হোসেন আলী: টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণে যখন সাতক্ষীরা শহরের জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো প্রকল্পের ড্রেন নির্মাণের ঢালাই কাজ। আজ শনিবার (১১ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও শহরের অন্যতম ব্যস্ত সরকারি কলেজ-ঝুটিতলা সড়কের ফজিলা কন্টাক্টারের বাড়ির সম্মুখে এই ঢালাই কাজ চলতে দেখা যায়। ঝুম বৃষ্টির মধ্যে এভাবে তড়িঘড়ি করে কাজ করায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু করে আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় রেকর্ড ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনও এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো প্রকল্পের অধীনে এই ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ কাজ সচল রাখা হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (কে-এফ-ডাব্লিউ) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে “ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট (সিআরআইএমপি)”-এর আওতায় এই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিবরণী থেকে জানা যায়, ১ কোটি ৮১ হাজার ৫৫৯ টাকা ৬১ পয়সা ব্যয়ে ৪২৪ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি ড্রেনটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যেটি কাটিয়া লস্করপাড়া সাজেদুল করিমের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে লস্করপাড়া ঈদগাহ মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত। চুক্তি অনুযায়ী ‘মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের ১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা রয়েছে। তবে ১ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পটি সম্প্রতি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির পানিতে সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ ধুয়ে যাচ্ছে, যা কিনা ড্রেনের স্থায়িত্বকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। সরকারি কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে এভাবে চোখের সামনে অনিয়ম চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ঢালাইয়ের বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মীরা। এ প্রসঙ্গে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (ক্যাফ)-এর সদস্য সচিব এডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন বলেন, যে প্রকল্পটি করা হচ্ছে চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করে শহরকে টেকসই রাখার জন্য, সেই ‘জলবায়ু সহনশীল’ প্রকল্পের কাজই যদি এমন চরম বৃষ্টির মধ্যে নিয়ম না মেনে করা হয়, তবে তা চরম প্রহসন। বৃষ্টির পানির তোড়ে সিমেন্টের সঠিক অনুপাত ঠিক থাকে না, ফলে ঢালাই দুর্বল হয়ে যায়। জলবায়ু তহবিলের এই অর্থ আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অধিকার। এর সঠিক ব্যবহার এবং শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় এই কোটি কোটি টাকার প্রকল্প প্রথম বর্ষাতেই ধসে পড়বে।
এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি, এটা (ঢালাই) দুপাশের বর্ডার লাইন করে তারপরে করা হচ্ছে। অর্থাৎ দুপাশে স্টিলের শিট আটকে দিয়ে তারপরে ঢালাই করা হচ্ছে। তারপরেও বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।