মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

শ্যামনগরের গাবুরায় বেড়িবাঁধ রক্ষায় কঠোর অভিযান শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের গাবুরায় বেড়িবাঁধ রক্ষায় কঠোর অভিযান শুরু

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় গাবুরা দ্বীপ ইউনিয়নে মেঘা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত টেকসই বেড়িবাঁধ রক্ষায় অবৈধ ‘নাইনটি’ (নদী থেকে নোনা পানি উত্তোলনের পাইপলাইন) অপসারণে কঠোর অভিযান শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইউনিয়নের কোথাও নতুন করে কোনো অবৈধ ‘নাইনটি’ স্থাপন করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জি. এম. মাছুদুল আলম। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে স্থাপিত সব অবৈধ পাইপলাইন দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কিছু মৎস্যঘের মালিক বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে অবৈধভাবে ‘নাইনটি’ স্থাপন করে নদী থেকে নোনা পানি উত্তোলন করে আসছিলেন। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টেকসই বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জোয়ার-ভাটাপ্রবণ এই উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছিল।

এ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে মঙ্গলবার চেয়ারম্যান জি.এম. মাছুদুল আলম স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ও যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের প্রথম দিনেই বেড়িবাঁধের ওপর স্থাপিত একাধিক অবৈধ ‘নাইনটি’ অপসারণ করা হয়।

চেয়ারম্যান জি. এম. মাছুদুল আলম বলেন, “নদী ও বেড়িবাঁধ উপকূলের মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান ভরসা। এগুলোর ক্ষতি করে এমন কোনো কর্মকান্ড সহ্য করা হবে না। যারা অবৈধভাবে ‘নাইনটি’ স্থাপন করেছেন, তারা দ্রুত নিজ উদ্যোগে অপসারণ করুন। অন্যথায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি জানান, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় এ অভিযান নিয়মিত চলবে এবং ভবিষ্যতে কোনো অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না।

ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মৎস্যঘের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় জনগণের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেড়িবাঁধ রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

 

 

 

 

Ads small one

শ্যামনগরে বিএনপি’র গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগে মামলায় আ. লীগের ১০ নেতা কর্মী কারাগারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বিএনপি’র গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগে মামলায় আ. লীগের ১০ নেতা কর্মী কারাগারে

পত্রদূত রিপোর্ট: ২০২০ সালে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখাশোনা, খোঁজখবর নেওয়া ও ত্রাণ দিতে যাওয়ার সময় বিএনপি নেতা কর্মীদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে সম্প্রতি দায়েরকৃত মামলায় দ্ইুজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ১০জন নেতা কর্মীর জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ সাঈদুর রহমান উভয়পক্ষের শুনানী শেষে এ আদেশ দেন।

জামিন না’মঞ্জুর হওয়া আসামীরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর গ্রামের সৈয়দ আলী গাজীর ছেলে ও নূরনগর ইউপি চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহম্মেদ, তার ভাই হাবিবুর রহমান হবি, একই উপজেলার বংশীপুর গ্রামের মহসিন গাজীর ছেলে জাহিদ হোসেন, সোলায়মান গাজীর ছেলে রায়হান কবীর, আজাদ গাজীর ছেলে সোলায়মান গাজী, সুরমান গাজীর ছেলে শহীদুল গাজী ,তার ভাই শফিউল্লাহ, বংশীপুর গ্রামের আজাদ গাজীর ছেলে ও ঈশ^রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. শোকর আলী, তার ভাই আব্দুল কাদের ও কাশেম গাজীর ছেলে মোজাম গাজী।

গত ১৯ মার্চ শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর গ্রামের আবুল হোসেন সরদারের ছেলে আজিজুল ইসলামের দায়েরকৃত মামলা থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আম্ফানে শ্যামনগর থানা এলাকার জনসাধারণের ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়। উক্ত ক্ষতিগ্রস্তদের দেখাশুনা, খোঁজখবর নেওয়া ও ত্রাণ দেওয়ার জন্য ২০২০ সালের ২১ জুন সকাল ১০টার দিকে বিএনপির নেতা কর্মীরা প্রাইভেট কার, মোটর সাইকেল ও মাইক্রোবাসযোগে শ্যামনগর থেকে কাশিমাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। গাড়িবহরটি কাশিমাড়ি ইউনিয়নের কাতখালি ব্রীজের উপর পৌঁছালে থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম জগলুল হায়দার, সাধারণ সম্পাদক আতাউল হক দোলন, নূরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহম্মেদ, ঈশ^রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. শোকর আলী, অ্যাড. জহুরুল হায়দারসহ বেশ কিছু লোকজন লোহার রড, দা, লাঠি ও ককটেল নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় বাদি, বিএনপি নেতা বাধঘাটার শেখ শাহারিয়ার মাসুদ, যাদবপুরের রাসেল, ইসমাইলপুরের মোক্তার হোসেন, শ্রীফলকাটির আনিসুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। ৫ লাখ টাকার ত্রাণ সামগ্রী ও ঔষধ নষ্ট করা হয়। এশটি প্রাইভেট কার, ১০ টি মটর সাইকেল ও একটি মাইক্রোবাস ভাংচুর করে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়। এ ঘটনায় জিএম জগলুল হায়দারসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা (জিআর-১৫/২৬ শ্যামঃ) দায়ের করা হয়।

এজাহারে উল্লেখিত বখতিয়ার আহম্মেদ, তার ভাই হাবিবুর রহমান হবি, জাহিদ হোসেন, রায়হান কবীর, সোলায়মান গাজী, শহীদুল গাজী ,তার ভাই শফিউল্লাহ, ঈশ^রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড, শোকর আলী, তার ভাই আব্দুল কাদের ও মোজাম গাজী ক্রিমিনাল মিস কেস ২২৩৫৭/২৬ ও ২২৩৫৯/২৬ মূলে মহামান্য হাইকোর্টে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন।

 

বিচারপতিদ্বয় যথাক্রমে কেএম জাহিদ সরোয়ার ও শেখ আবু তাহের গত ১১ মে তাদের আট সপ্তাহের জন্য অন্তবর্তীকালিন জামিন দিয়ে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করার নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ি তারা সোমবার সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ সাঈদুর রহমানের আদালতে প্রবীন আইনজীবী অ্যাড. আবু বক্কর ছিদ্দিক এর মাধ্যমে হাজির হন। বিচারক আসামীপক্ষের জামিন আবেদন ও রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি শোনার একপর্যায়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনুদ্দিন ১০জন আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীর জামিন না’মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

বেনাপোল ইনসপেকসন অব হেল্পওয়ে হোম শীর্ষক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
বেনাপোল ইনসপেকসন অব হেল্পওয়ে হোম শীর্ষক কর্মশালা

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: মানব পাচার প্রতিরোধ পুনঃবাসনসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মঙ্গলবার দুপুরে বেনাপোল একটি হোটেলে ইনসপেকসন অব হেল্পওয়ে হোম শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্টিত হয়েছে।

সভায় শেল্টার হোমসহ পাচার প্রতিরোধের উপর বিভিন্ন ধরনের আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় আরো উল্লেখ করা হয়, শেল্টার হোমে পৃথকভবে নারী শিশু পুরুষদের নিরাপত্তা খাদ্য চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করা হয়। আইনি সহায়তা দেওয়া হয় পাচারের শিকার নাগরিকদের। প্রশিক্ষণ পরামর্শ বা আর্থিক সহায়তার কথা উল্লেখ করেন মানবধিকার কর্মার্তারা।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ। ইউনাইটেড নেশনের ঢাকা কো অডিনেটর তাসনিম বিনতে করিম, রাইট যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, সাংবাদিক মহাসিন মিলন ও বকুল মাহবুব ছাড়াও বিজিবি পুলিশ ও পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তারাসহ গণমাধ্যম কর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

কেশবপুর থানা পুলিশের অভিযানে নারীসহ ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
কেশবপুর থানা পুলিশের অভিযানে নারীসহ ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ আসামি গ্রেপ্তার

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আদালতের ওয়ারেন্টভূক্ত ২ নারীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত সোমবার (৬ জুলাই) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুনের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ উপ-পরিদর্শক মোকলেছুর রহমান এর নেতৃত্বে একদল চৌকস অফিসার নিয়ে ৬ জুলাই সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

 

অভিযানকালে আদালতের ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি মজিদপুর গ্রামের মৃত আয়ন উদ্দিন শেখ এর ছেলে আদিল উদ্দিন (২৭), মুলগ্রামের মৃত কেরামত সানার ছেলে লিটন হোসেন (২৫), রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আরশাদ আলীর ছেলে মজিবর রহমান (৩০), কন্দর্পপুর গ্রামের কওসার গাজীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম মিন্টু (৩৫), মাদারডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল কাদের মোড়লের ছেলে আমিনুর রহমান (৩১), সাগরদত্তকাঠি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আজহারুল ইসলাম (২৫), একই গ্রামের জাহা মোড়লের ছেলে নুর ইসলাম (৩৫), জাহানপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী খার ছেলে আব্দুল হান্নান খা (৪৫), খোপদহি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মোড়লের ছেলে মিন্টু রহমান (৩০), বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের হযরত আলীর স্ত্রী প্রিয়া আক্তার তমা (২২), পরচক্রা গ্রামের শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রী রুপা খাতুন (২৪) কে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোছা: রোকসানা খাতুন বলেন, বিজ্ঞ আদালতের ওয়ারেন্টভূক্ত ২ নারীসহ ১১ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের যশোর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।