সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ট্রাম্পের ‘মহাপুরুষ’ তত্ত্বের নেপথ্য কাহিনি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের ‘মহাপুরুষ’ তত্ত্বের নেপথ্য কাহিনি?

 

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে নিজের ক্ষমতার ‘কোনও সীমা’ তিনি খুঁজে পাননি বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার দ্য অ্যাক্সিওস শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন। শুধু তা-ই নয়, আগামী সপ্তাহে প্রকাশ পেতে যাওয়া একটি বইয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ট্রাম্প নিজেকে ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষ হিসেবে মনে করছেন এবং এই ধারণা তিনি বেশ উপভোগও করছেন।

ট্রাম্প এখন আর কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের ক্ষমতার সীমানা পরীক্ষা করছেন না, বরং তিনি নিজের ক্ষমতাকে বিশ্ব ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে দেখছেন। তিনি নিজেকে আলেকজান্ডার, চেঙ্গিস খান বা নেপোলিয়নের মতো বিশ্বজয়ী ও একনায়কদের কাতারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছেন, যারা একসময় পুরো বিশ্বকে নিজেদের ইচ্ছামতো পরিচালনা করেছিলেন।

অ্যাক্সিওসের মার্ক ক্যাপুটোকে দেওয়া ৪৫ মিনিটের এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, অন্য সবার আত্মসমর্পণই তার ক্ষমতার মাপকাঠি। তিনি দাবি করেন, জি-৭ নেতারা তার এই রসিকতা বিশ্বাস করেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন ‘আমিই বস’। পাশাপাশি ইসরায়েলও তাকে ‘প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করে’ এবং ‘আমি যা বলব, তারা তা-ই করবে’।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান এবং জোনাথন সোয়ানের লেখা ‘রেজিম চেঞ্জ’ বইটি আগামী মঙ্গলবার বাজারে আসছে। এই বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে এমন একটি নথি দেখিয়েছেন যেখানে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, তিনি আতিল্লা দ্য হুন, চেঙ্গিস খান, নেপোলিয়ন, স্টালিন, মাও সেতুং এবং হিটলারের চেয়েও বেশি ক্ষমতাধর।

লেখকেরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প নিজেই সেই নথি থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নাম পড়ে শোনান এবং ব্যাখ্যা করেন কীভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ক্ষমতার কাছে এই ঐতিহাসিক চরিত্ররা ‘নস্যি’ ছিলেন। আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, সিজার কিংবা উইলিয়াম দ্য কনকারার সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘ওদের তো কোনও উড়োজাহাজ ছিল না, তাই না? চাইলেই তো সব জায়গায় ভ্রমণ করা যেত না।’ লেখকদের মতে, নেপোলিয়নের নাম নেওয়ার সময় ট্রাম্পের মুখে এক ধরনের পরম তৃপ্তি প্রকাশ পাচ্ছিলো।

হ্যাবারম্যান ও সোয়ান লিখেছেন, এই ঘটনার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল যে, মাও সেতুং, হিটলার এবং স্ট্যালিনের মতো স্বৈরাচারীদের তালিকায় নিজের নাম দেখে ট্রাম্পের স্পষ্ট আনন্দ প্রকাশ এবং অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে নিজেকে এমন মানুষদের কাতারে মেনে নেওয়া, যারা ভয় ও বিজয়ের মাধ্যমে পৃথিবীকে পুনর্গঠন করেছিলেন।

ফ্রান্সে একটি ‘প্রভাবশালী’ জি-৭ সম্মেলন শেষ করে ফেরার কয়েক ঘণ্টা পর দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই আকাশচুম্বী ক্ষমতা তত্ত্বের আভাস বারবার পাওয়া গেছে। ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তার সবচেয়ে পছন্দের বিশ্বনেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি শি জিনপিংয়ের কাজের প্রতি একাগ্রতা এবং মোদিকে একজন ‘অত্যন্ত শক্ত মনের মানুষ’ হিসেবে প্রশংসা করেন।

সবচেয়ে দুর্বল নেতাদের নাম বলতে অস্বীকৃতি জানালেও ট্রাম্প জি-৭-এ ভ্লাদিমির পুতিনের অনুপস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ করেন। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর রাশিয়াকে এই জোট (তৎকালীন জি-৮) থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ভার্সাই প্রাসাদে তাকে যে রাজকীয় নৈশভোজের সম্মান দিয়েছিলেন, সেই আভিজাত্যকে নিজের ‘দুর্বলতা’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ভাষায়, মিত্ররা কেবল তখনই প্রাসঙ্গিক যখন তারা বুঝতে পারে যে আসল ক্ষমতার অধিকারী কে। ইসরায়েল প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি না থাকলে আজ ইসরায়েলের কোনও অস্তিত্ব থাকত না’। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ‘ভালো, তবে আমাদের তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে’।

ডলারের দাপটে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো কমলো স্বর্ণের দামডলারের দাপটে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো কমলো স্বর্ণের দাম
ইরান চুক্তি নিয়ে ক্ষুব্ধ নিজের দলের রিপাবলিকান কট্টরপন্থিদেরও একহাত নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আগে আমি যাদের সম্মান করতাম, এখন আর তাদের করি না। ওরা সব কট্টরপন্থি।’ চুক্তিটি কেন তার আগের দাবি অনুযায়ী পুরোপুরি কঠোর হলো না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিজের তৈরি করা বাস্তবতাকেই সামনে এনে দাবি করেন, এই চুক্তির ফলাফল আসলে ইরানের ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ এবং সেখানে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’।

সীমাহীন ক্ষমতার দাবি করলেও ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে একটি শক্তি এখনও তাকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা হলো ‘অর্থনীতি’। তিনি যুক্তি দেন, কট্টরপন্থিদের সন্তুষ্ট করতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করলে তা বিশ্বব্যাপী ‘মহামন্দা’ ডেকে আনতে পারত। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়া এবং শেয়ারবাজারের রেকর্ড উত্থানই প্রমাণ করে যে ইরান চুক্তিকে সমর্থন দিয়ে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার একটিই প্রাথমিক ইচ্ছা… আমি কখনোই প্রয়াত এবং মহান হারবার্ট হুভার হতে চাই না।’ উল্লেখ্য, হুভার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩১তম প্রেসিডেন্ট, যার নাম বিশ্বব্যাপী মহামন্দার সঙ্গে চিরকাল জড়িয়ে আছে।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এই ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সম্পর্কিত নথিটি পোস্ট করেন এবং এর লেখককে একজন ইতিহাসবিদ বলে দাবি করেন।

তবে সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান এবং জোনাথন সোয়ান তাদের বইয়ে আসল সত্য ফাঁস করে দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ওই নথির লেখক আসলে কোনও ইতিহাসবিদ নন, বরং বিখ্যাত গলফার গ্যারি প্লেয়ারের গলফ ব্যাগ বহনকারী এবং ব্যক্তিগত বিশ্বস্ত বন্ধু!

সেই গলফ সহকারীর তৈরি করা নথির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল: বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজের ক্ষমতা ব্যবহারের যে সাহস ট্রাম্প দেখিয়েছেন, তা তাকে ‘এই গ্রহে এযাবৎকালের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত করেছে’।

Ads small one

শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে জেলেখালী খাল খনন শেষে পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে জেলেখালী খাল খনন শেষে পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় মুন্সীগঞ্জ জেলেখালীতে প্রায় ২৫ একর জমির মধ্যে গ্রামবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বেসরকারি উদ্যোগে খাল খনন করা হয়েছে। খাল খনন শেষ না হতেই খাল পূর্বের দখলকারীরা পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় গ্রামবাসী।

এলাকার কৃষকরা বলেন, মাটির নিচে লবনাক্ত হলেও এই এলাকায় আমন মৌসুমী ফসল উৎপাদন হয়। একটি ফসলের উপর নির্ভর করে এই অঞ্চলের কৃষক কষ্ট করে টিকে আছে। বছরের অন্যান্য সময় শহরের ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে যেতে হয়। এলাকায় মিষ্টি পানির সংকট থাকার কারণে কৃষকরা এখানে শুধুমাত্র আমন ধান চাষ করে। জেলেখালির খালে বোরো মৌসুমী খালের ২ থেকে ৩ ফিট পানির থাকে, সেই পানির উপর ভরসা করে দুইটি ফসল করার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ সময়ে পানি সংকট দেখা যায়। ফলে বোরো ফসল শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

গ্রামের মধ্যে জেলেখালি খালটি প্রবাহিত হয়েছে, যার ২.২ কিঃমিঃ উন্মুক্ত আছে। সেই অংশটি খনন করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমী কৃষি ফসলের মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য খালটি উন্মুক্ত রাখারও প্রয়োজন। কিন্তু খালটি ভরাট থাকার কারণে প্রতিবছর জলবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশন না হলে ফসল ও বীজতলায় বিগত কয়েক বছর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমী খালে পানি থাকে না, বেশিরভাগ জায়গা পতিত থাকে। এমতাবস্থায় খালটি উন্মুক্ত রাখার দাবিতে জেলেখালি গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর করে উপজেলা প্রশাসনের নিকট পেশ করেন।

জনগণের দাবির পক্ষে প্রশাসন ও বেসরকারি সংগঠন খালটি খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে। যার দাগ নম্বর ২৩৯, ২৮১। জনগনের দাবি, আইনগত মতামতের ভিত্তিতে ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে, সুইডেন দূতাবাস, ঢাকা এর অর্থায়নে, সিএনআরএস-বিফরআরএল প্রকল্পের উদ্যোগে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। খালটি খনন উদ্বোধন করেন সাংসদ গাজী নজরুল ইসলাম।

খালটি খনন করার পর পূর্বের দখলকারী ইসাক আলী পাড়ের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা স্থানীয় মানুষের হুমকি দিয়ে খালের একটি অংশে কিছু রুই জাতীয় মাছের পোনা ছেড়ে দেন। সাথে সাথে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে। খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি বিষয়টি স্থানীয় সুধীমহল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছে তুলে ধরেন। এলাকাবাসীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এছাড়া শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার ভূমিসহ বিভিন্ন মহলে খালটি মুক্ত রাখার আবেদন করেন।

এ বিষয়ে খাল দখলকারী ইসহাক আলী পাড়ের নিকট কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ খালের মাছ বিক্রির আয় থেকে কিছু অর্থ দলীয় ও একটি প্রতিষ্ঠানের নামে যায়। তাছাড়া আমি ব্যক্তিগত কোন কাজে এই অর্থ ব্যবহার করি না, আমার সৃষ্টিকর্তা অনেক কিছু দিয়েছেন। খালমুক্ত থাকলে সবার জন্য ভালো কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় আটকানো রয়েছে। খালমুক্ত থাকলে আমিও সাধুবাদ জানাই। আইনের প্রক্রিয়ায় খালটি মুক্ত হলে আমি ১৫ দিন অথবা এক মাসের মধ্যে সব মাছ ধরে নিতে পারব। এই এলাকার হিন্দু মুসলিম আমার ভাই আত্মীয়। সবাই এই খালের সাথে যুক্ত উল্লেখ করে তাদের ক্ষয়ক্ষতি না করে সমন্বয় করে নেওয়ার কথা বলেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, কোটের নিষেধাজ্ঞা আছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসীর সাথে যাতে সম্পর্কের অবনতি যাতে না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখবো বলে তিনি জানান।

খালপাড়ের বাসিন্দা ধনঞ্জয় গায়েন বলেন, এই খালটি আমাদের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। খালটি খনন হওয়ায় এলাকার পানি নিষ্কাশনসহ কৃষকরা বোরো ধান চাষ করতে পারবেন। এই খালটি খনন করার জন্য খালের দু’পাড়ে কৃষকদের কাছে গণস্বাক্ষর করে নিয়েছে যাতে খালটি উন্মুক্ত থাকে এবং খালের পাড়ে আমাদের জমিতে মাটি রাখতে পারে। খালপাশে কৃষি জমিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জায়গাতে মাটি ফেলা হয়েছে যেটা আমাদের কৃষকের স্বার্থ ও খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য আমরা খননের জন্য একমত হয়েছি ।

কৃষাণী ফুলমতি মিস্ত্রি বলেন, এই খালটি ইজরা বা দখল থাকলে এই খালের একফোঁটা পানি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না স্থানীয় কৃষকরা। আমরা শত শত কৃষক কৃষাণী এখন মাছ ধরছি কিন্তু মাছ ধরার সুযোগ তো দূরে থাক, একফোঁটা পানি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না।

জেলেখালির গ্রামের ইউপি সদস্য দেবাশিষ গায়েন বলেন, উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এর উদ্যোগে এই খালটি খনন করা হয়েছে। এ খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এই খাল দখলদারদের হাতে চলে গেলে এলাকার কৃষকগণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।

 

আলিয়ার এক প্রশংসায় রীতিমতো তারকা বনে গেলেন, কে এই যুবক?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
আলিয়ার এক প্রশংসায় রীতিমতো তারকা বনে গেলেন, কে এই যুবক?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৭ হাজার অনুসারী নিয়ে দিন কাটছিল সুক্রুত দেওর। পরিচিতি বলতে বন্ধু-স্বজন আর অল্প কিছু দর্শক। কিন্তু ভাগ্য বোধহয় অপেক্ষা করছিল একটি মঞ্চের জন্য, আর সেই মঞ্চের নাম ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট।

শোতে এসে এমন এক পারফরম্যান্স দিলেন সুক্রুত, যা দেখে মুগ্ধ শুধু দর্শকই নন, বলিউড তারকা আলিয়া ভাটও। আর আলিয়ার প্রশংসা যেন কাজ করল জাদুর মতো। এরপর যা ঘটল, তা অনেক নতুন শিল্পীর কাছেই স্বপ্নের মতো।

কয়েক দিনের ব্যবধানে সুক্রুতের অনুসারীর সংখ্যা ৭ হাজার থেকে লাফিয়ে পৌঁছে যায় ১ লাখ ৩৬ হাজারে। অর্থাৎ যে সংখ্যাটা একসময় কল্পনার মতো ছিল, সেটাই এখন বাস্তব।

শোটির নির্মাতা ও সঞ্চালক সমায় রায়নাও সুক্রুতকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই তরুণের মধ্যে রয়েছে আলাদা এক আকর্ষণ, যা দর্শকদের চোখ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

নেটদুনিয়াতেও এখন সুক্রুতকে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন তিনি অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক, কেউ আবার দাবি করছেন— এই মৌসুমের সবচেয়ে স্মরণীয় আবিষ্কার হতে পারেন তিনি।

বিনোদন জগতে প্রায়ই বলা হয়, একটি সুযোগ মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। সুক্রুত দেওর গল্পটি আপাতত সেই কথারই নতুন সংস্করণ। কয়েক দিন আগেও যিনি ছিলেন হাজারের ঘরে, তিনি এখন লাখো মানুষের নিউজফিডে। আর সবকিছুর শুরু একটি পারফরম্যান্স, কয়েকটি প্রশংসাসূচক বাক্য এবং দর্শকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা থেকে।

৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেলো মিসর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেলো মিসর

১৯৩৪ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলেছিল মিসর। চলতি বিশ্বকাপসহ অংশ নিয়েছে মোট ৪ আসরে। কিন্তু আগের তিনটি আসরেই ছিল হতাশা। জয় ছিল না একটিও। এবার মোহাম্মদ সালাহের মিসর নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে। তাতে গ্রুপ ‘জি’-এর শীর্ষে উঠে গেছে ফারাওরা।

এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠলেও এখনই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়নি মিসরের। আগামী শুক্রবার সিয়াটলে ইরানের বিপক্ষে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে অন্তত ড্র করলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত হবে।

চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়া মিসর এর আগে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে দুটি গোল করেছিলেন সালাহ। এবার ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। তৃতীয়টিতে রাখেন অবদান।

জয় পেলেও ম্যাচের ১৫ মিনিটে মিসরকে বিপদে ফেলে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কর্নার থেকে টিম পেইনের নিখুঁত ক্রসে হেডে গোল করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ফিন সারম্যান।

শেষ পর্যন্ত মিসর খেলায় ফেরে বিরতির পর। আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে ৫৮ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান মোস্তফা জিকো। এরপর ৬৭ মিনিটে জিকোর ব্যাকহিল পাস থেকে গোল করে মিসরকে এগিয়ে দেন সালাহ। জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কোচ হোসাম হাসানের রেকর্ড স্পর্শ করতে এখন সালাহর প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল। ৮২ মিনিটে ত্রেজেগের ডাইভিং হেডারে ম্যাচের শেষ গোলটি আসে। গোল বানিয়ে দিয়েছেন সালাহ।

উল্লেখ্য, গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিসর। আর ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে নিউজিল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তারা তিনটি ম্যাচই ড্র করেছিল। ইরানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুইবার এগিয়ে গিয়েও ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা।