শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামট-২০২৬: নাইজরিয়ান এলিছানর হ্যাট্রিক সাতক্ষীরা সদর উপজলা সমিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামট-২০২৬: নাইজরিয়ান এলিছানর হ্যাট্রিক সাতক্ষীরা সদর উপজলা সমিত

 

শফিউল ইসলাম ও এসএম হাবিবুল হাসান: সাতক্ষীরায় জলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামট বিদশি খলায়াড় বুয়টিংয়র হ্যাটট্রিকসহ চার গাল শুভসূচনা করছ সদর উপজলা একাদশ। প্রথম রাউন্ডর ম্যাচ তারা ৫-২ গালর ব্যবধান তালা উপজলা ফুটবল দলক পরাজিত কর সমিফাইনাল উঠছ।

 

১৯ আগস্ট বিকল সাতক্ষীরা জলা স্টডিয়াম অনুষ্ঠিত খলায় ম্যাচর শুরু থকই আক্রমণাত্মক ফুটবল খল সদর উপজলা একাদশ। প্রথমার্ধর ১৪ ও ১৫ মিনিট ঢাকা লিগর নাইজরীয় খলায়াড় এলিছান বুয়টিংয়র জাড়া গাল ২-০ ত এগিয় যায় সদর উপজলা একাদশ। ৪০ মিনিট তিনি নিজর হ্যাটট্রিক পূরণ করন। বিরতির ঠিক আগ তালা উপজলার পক্ষ পনাল্টি থক ব্যবধান ৩-১ করন অ্যানিস।

 

দ্বিতীয়ার্ধর ১৩ মিনিট বুয়টিং নিজর চতুর্থ গালটি করন। খলা শষর কিছুক্ষণ আগ তালার ইদ্রিস ও সদরর সিদ্দিক আরও একটি কর গাল করল ৫-২ ব্যবধান জয় নিয় মাঠ ছাড় সাতক্ষীরা সদর উপজলা ফুটবল একাদশ। চমৎকার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব ছিলন রফারি মুর্শিদি ইলাহি বাবু।

 

উভয় দলই বশ কয়কজন বিদশী খলায়াড় অংশ নন। খলার প্রথমার্ধর শষর দিক একটি গালক কদ্র কর কর্নারর দাবিত ২০মিনিট খলা থক বিরত থাক তালা উপজলা ফুটবল একাদশ। পাশ থাকা কাচ প্রিন্স বলন, চমৎকার খলা হয়ছ। খলায় বিদশী খলায়াড় থাকায় সাতক্ষীরা স্টডিয়াম ছদময় আবশ বিরাজ করছ। জাতীয় খা-খা দলর সদস্য সালমা খাতুন বলন তার নিজর কথা। তিনি ভারতর গহাটি শিলং, নপালর কাঠমুন্ডত খলছন। অতিথি হিসব উপ¯িত থক খলা উপভাগ করন জলা পরিষদ চয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম হাবিব, তালা উপজলা নির্বাহী অফিসার জানাতুল ফরদস ও সদর উপজলা নির্বাহী অফিসার অর্নব দত্ত। আজ বহস্পতিবার বিকল ৩টায় আশাশুনি ও দবহাটা উপজলা একাদশ মুখামুখি হব।**ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬**
**নাইজেরিয়ান এলিসানের হ্যাট্রিক, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমিতি**
**শফিউল ইসলাম ও এসএম হাবিবুল হাসান:** সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বিদেশি খেলোয়াড় বুয়টিংয়ের হ্যাটট্রিকসহ চার গোলে শুভসূচনা করেছে সদর উপজেলা একাদশ। প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে তারা ৫-২ গোলের ব্যবধানে তালা উপজেলা ফুটবল দলToJson পরাজিত করে সেমিফাইনালে উঠেছে।
১৯ আগস্ট বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সদর উপজেলা একাদশ। প্রথমার্ধের ১৪ ও ১৫ মিনিটে ঢাকা লিগের নাইজেরীয় খেলোয়াড় এলিসান বুয়টিংয়ের জোড়া গোলে ২-০ তে এগিয়ে যায় সদর উপজেলা একাদশ। ৪০ মিনিটে তিনি নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। বিরতির ঠিক আগে তালা উপজেলার পক্ষে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ৩-১ করেন অ্যানিস।
দ্বিতীয়ার্ধের ১৩ মিনিটে বুয়টিং নিজের চতুর্থ গোলটি করেন। খেলা শেষের কিছুক্ষণ আগে তালার ইদ্রিস ও সদরের সিদ্দিক আরও একটি করে গোল করলে ৫-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ফুটবল একাদশ। চমৎকার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন রেফারি মুর্শিদি ইলাহি বাবু।
উভয় দলই বেশ কয়েকজন বিদেশি খেলোয়াড় অংশ নেন। খেলার প্রথমার্ধের শেষের দিকে একটি গোলকে কেন্দ্র করে কর্নারের দাবিতে ২০ মিনিট খেলা থেকে বিরত থাকে তালা উপজেলা ফুটবল দল। পাশে থাকা কোচ প্রিন্স বলেন, চমৎকার খেলা হয়েছে। খেলায় বিদেশি খেলোয়াড় থাকায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জাতীয় নারী ফুটবল দলের সদস্য সালমা খাতুন বলেন তার নিজের কথা। তিনি ভারতের গুয়াহাটি-শিলং, নেপালের কাঠমাণ্ডুতে খেলেছেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম হাবিব, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্নব দত্ত। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলা একাদশ মুখোমুখি হবে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে ৯টি বাইসাইকেলসহ এগারো লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে ৯টি বাইসাইকেলসহ এগারো লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

পত্রদূত ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (২০ ও ২১ আগস্ট ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদরসহ অধীনস্থ পদ্মশাখরা, মাদরা বিওপি এবং বাকাল চেকপোস্ট এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় শাড়ি, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, বাই সাইকেল এবং রসুন আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, পদ্মশাখরা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদরের হাড়দ্দহা হতে ৩৬ হাজার টাকার ভারতীয় রসুন আটক করে। ব্যাটালিয়ন সদর এর বিশেষ আভিযানে গেড়াখালী হতে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার ৯ টি ভারতীয় বাই সাইকেল আটক করে।

মাদরা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে কলারোয়া থানার রাজপুর ও ভাদিয়ালি হতে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। এছাড়াও, বাকাল চেকপোস্টের এর আভিযানে সাতক্ষীরা সদরের ডালিপারা হতে ২ লাখ ৪ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ এবং শাড়ি আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ১১ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সুন্দরবনে ঢুকছেন মানুষ, ৮০ দিনে ৪৪ জন আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সুন্দরবনে ঢুকছেন মানুষ, ৮০ দিনে ৪৪ জন আটক

ইব্রাহিম খলিল: বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের সম্পদ আহরণ ও ইকোট্যুরিজম বন্ধ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ নেই জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি কিংবা পর্যটকদের। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এখনও বনে ঢুকছেন অনেকে। মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে আটক হচ্ছেন জেলেরা। বন বিভাগও স্বীকার করছে, একদিকে অভিযান চললেও অন্যদিকে লোকজন সুন্দরবনে ঢুকে পড়ছে।

১৮ আগস্ট পর্যন্ত বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনে প্রবেশ ও মাছ-কাঁকড়া আহরণের ঘটনায় ৩৮টি মামলা হয়েছে এবং ৪৪ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ সময় ৩৮টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। ঝিনুক পাচারের একটি ঘটনায় একটি পিকআপ জব্দের পাশাপাশি প্রায় ৭৭ বস্তা ঝিনুক উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন অভিযানে ২৭৯ কেজি কাঁকড়াও জব্দ করা হয়েছে, যা পরে অবমুক্ত করা হয়।

বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) এরফান উদ্দিন বলেন, জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস সুন্দরবন থেকে সব ধরনের সম্পদ আহরণ ও ইকোট্যুরিজম বন্ধ রয়েছে। এ সময় বিভিন্ন স্টেশন ও টহল ফাঁড়ি থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

তবে বিশাল সুন্দরবনে অসংখ্য খাল থাকায় সব এলাকায় একসঙ্গে নজরদারি করা কঠিন বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, একদিকে টহল দেওয়া হলে অন্যদিকে লোকজন চলে যায়। এছাড়া বন বিভাগে জনবল সংকট রয়েছে। জনবল বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বন বিভাগের এই বক্তব্যে প্রশ্ন উঠছে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত টহল চললেও যদি অন্য দিক দিয়ে মানুষ বনে ঢুকে পড়ে, তাহলে সুন্দরবনের প্রবেশপথগুলো কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে?

সুন্দরবন বন্ধ থাকায় উপকূলের জেলেদের জীবিকায় সংকট তৈরি হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার জেলে মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকলেও জীবিকার তাগিদে কিছু জেলে ও বাওয়ালি নিষেধাজ্ঞার পরও বনে প্রবেশ করেন। পরিবারের অভাব-অনটনের সময় অনেকের পক্ষে এসব বাধা-নিষেধ মেনে অপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। জীবিকার অন্য পথ না থাকায় অনেকে ঝুঁকি নিয়ে বনে যান এবং আটক হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

তবে সব জেলে একইভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেন না উল্লেখ করে রাকিবুল ইসলাম বলেন, কিছু অসাধু জেলে অধিক মুনাফার আশায় বন্ধের সময়ও সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। তাদের কারণে সাধারণ জেলে-বাওয়ালিরা ভোগান্তিতে পড়েন। এ ধরনের অসাধু জেলেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

গাবুরা ইউনিয়নের জেলে মিজানুর রহমান বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকায় তাদের ঠিকমতো সংসার চলছে না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে।

আরেক জেলে আতিকুর রহমান বলেন, তারা সুন্দরবনের মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। সুন্দরবন বন্ধ থাকায় এখন তারা বনে যেতে পারছেন না। বন্ধ শেষ হলে আবার বনে যাবেন। তবে বনে গেলে জলদস্যুদের আতঙ্কে থাকতে হয় বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় আরেক জেলের অভিযোগ, সুন্দরবন বন্ধ থাকায় মানুষের যাতায়াত কমে যায়। এ সুযোগে দস্যুদের লোকজন বনে ঢুকে বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং হরিণ ও বাঘ শিকার করে। মানুষের চলাচল কম থাকায় তারা এসব কর্মকান্ড চালানোর সুযোগ পায় বলেও দাবি করেন তিনি।

বন বিভাগের কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, সুন্দরবনে জলদস্যু রয়েছে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। জেলে ও বাওয়ালিদের কোনো তথ্য থাকলে বন বিভাগকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তথ্য না পেলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলেও জানান তিনি।

সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ রেখে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। সেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ৩৮টি মামলা, ৪৪ জন আটক ও ৩৮টি নৌকা জব্দের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ অভিযান চলছে, কিন্তু সুন্দরবনে মানুষের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।

একদিকে বন বিভাগের দাবি, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টহল চলছে। অন্যদিকে কর্মকর্তারাই বলছেন, বিশাল সুন্দরবনে জনবল সংকটের কারণে সব এলাকায় একসঙ্গে নজরদারি করা কঠিন। স্থানীয় জেলেদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে জীবিকার সংকট ও জলদস্যুদের আতঙ্ক।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও মানুষ কীভাবে সুন্দরবনে ঢুকছে? বন বিভাগ যখন জানে একদিকে টহল চলার সময় অন্যদিকে মানুষ প্রবেশ করছে, তখন ওই প্রবেশপথগুলো নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?

সুন্দরবন রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার পাশাপাশি জেলেদের জীবিকার সংকট এবং জলদস্যুদের তৎপরতা মোকাবিলায় সমন্বিত ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হচ্ছে এখন সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

তাপপ্রবাহের নতুন বাস্তবতা: বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
তাপপ্রবাহের নতুন বাস্তবতা: বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কোনো দূরবর্তী আশঙ্কার নাম নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পানি, শ্রম ও অর্থনীতিতে প্রতিদিন নতুন নতুন চাপ তৈরি করছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার সঙ্গে বাংলাদেশ বহুদিন ধরেই লড়াই করছে।

 

এর সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্ত হয়েছে আরেকটি নীরব দুর্যোগÑতীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ। তাপপ্রবাহের বিপদ অন্য অনেক দুর্যোগের চেয়ে আলাদা। ঘূর্ণিঝড়ের আগে সতর্কবার্তা দেওয়া যায়, আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ সরিয়ে নেওয়া যায়, বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া যায়। কিন্তু তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে মানুষের শরীর ও কর্মক্ষমতার ওপর আঘাত হানে। ফলে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেক সময় চোখে পড়ে না, পরিসংখ্যানেও পুরোপুরি ধরা পড়ে না। অথচ অতিরিক্ত তাপ মানুষের অসুস্থতা বাড়ায়, শ্রমঘণ্টা কমায়, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করে এবং দরিদ্র মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে।

 

এই বাস্তবতায় তাপপ্রবাহকে আর শুধু আবহাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমাদের দেশে গরমকে অনেকটা স্বাভাবিক ঋতুগত ঘটনা হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু স্বাভাবিক গরম এবং তাপপ্রবাহ এক বিষয় নয়। যখন দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক মাত্রায় তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তখন মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক ও খোলা জায়গায় কাজ করা মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

 

এখানে একটি সামাজিক বৈষম্যের বিষয়ও রয়েছে। একজন সামর্থ্যবান মানুষ হয়তো গরমের সময় ঘরে থাকতে পারেন, ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা করতে পারেন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নিতে পারেন। কিন্তু একজন দিনমজুরের পক্ষে কাজ বন্ধ রাখা মানে দিনের আয় হারানো। একজন কৃষকের পক্ষে মাঠে না যাওয়া মানে ফসলের ক্ষতি। ফলে তাপপ্রবাহের অভিঘাত সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না। বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকির আলোচনায় এই সামাজিক বাস্তবতাকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় অংশ নির্ভর করে মানুষের শারীরিক শ্রমের ওপর।

 

কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন, শিল্প, ইটভাটা, রিকশা ও ভ্যান চালানো কিংবা বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক খাতে লাখ লাখ মানুষ খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন। তীব্র গরমে কাজের সময় কমে যায়, উৎপাদনশীলতা কমে যায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু তাদের অনেকেরই কাজের সময় পরিবর্তন, বিশ্রাম বা পর্যাপ্ত পানির নিশ্চয়তা নেই। তাই তাপপ্রবাহ মোকাবিলার নীতিতে শ্রমজীবী মানুষের বাস্তবতা সামনে আনতে হবে। প্রচ- গরমে কাজের সময় পুনর্বিন্যাস, কর্মস্থলে বিশুদ্ধ পানি ও বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং তাপজনিত অসুস্থতার বিষয়ে সচেতনতাÑএসবকে শ্রম নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখতে হবে। বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে আবহাওয়ার সম্পর্ক সরাসরি।

 

অতিরিক্ত তাপ ধান, গম, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য ফসলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে সেচের প্রয়োজন বাড়ে, পানির সংকট তীব্র হয় এবং উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে গবাদিপশু ও পোলট্রির ওপরও তাপের প্রভাব পড়ে। ফলে তাপপ্রবাহ শুধু কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, কৃষি অর্থনীতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষি পরিকল্পনায় তাই জলবায়ু সহনশীল জাত, পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষকদের আবহাওয়ার আগাম তথ্য এবং তাপপ্রবাহ মোকাবিলার উপযোগী চাষাবাদ পদ্ধতি গুরুত্ব পেতে হবে।

 

তাপপ্রবাহের আরেকটি বড় মাত্রা শহরাঞ্চলে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীসহ বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, কংক্রিটের বিস্তার, গাছপালা ও জলাধার কমে যাওয়া এবং যানবাহনের চাপ শহরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। শহরের নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বস্তি বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছোট ঘর, কম বাতাস চলাচল এবং নিরাপদ পানির সীমিত সুযোগ তাপের কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। তাই নগর পরিকল্পনায় তাপপ্রবাহকে গুরুত্ব দিতে হবে।

 

বেশি গাছ, খোলা জায়গা, জলাধার সংরক্ষণ, ছায়াযুক্ত পথ এবং ভবন নির্মাণে পরিবেশবান্ধব নকশাÑএসবকে বিলাসিতা নয়, জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজন হিসেবে দেখতে হবে। তাপপ্রবাহের সময় শুধু মানুষকে সচেতন করলেই হবে না; স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেও প্রস্তুত থাকতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জেলা হাসপাতাল পর্যন্ত তাপজনিত অসুস্থতার রোগী ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতি থাকা দরকার। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তাপজনিত অসুস্থতার লক্ষণ ও জরুরি চিকিৎসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে কোন এলাকায় তাপের ঝুঁকি বেশি, কোন জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে এবং কোথায় দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজনÑএসব তথ্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবহার করা জরুরি।

 

বাংলাদেশে দুর্যোগের আগে সচেতনতা তৈরিতে পোস্টার, মাইকিং, সভা ও প্রচারণা করা হয়। এগুলো প্রয়োজনীয়। কিন্তু সচেতনতার প্রকৃত সাফল্য তখনই, যখন তা মানুষের আচরণে পরিবর্তন আনে। তাপপ্রবাহের ক্ষেত্রে স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্থানীয় সংগঠনগুলোকে কাজে লাগানো যেতে পারে। সহজ ভাষায় মানুষকে জানাতে হবেÑকখন অতিরিক্ত গরম বিপজ্জনক, কীভাবে পানি পান করতে হবে, কখন বিশ্রাম নিতে হবে এবং কখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। নাটক, স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

 

আশাশুনিতে অনুষ্ঠিত সচেতনতামূলক নাট্য আয়োজনের মতো উদ্যোগ দেশের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশ দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এখন সেই সক্ষমতাকে তাপপ্রবাহের ক্ষেত্রেও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। শুধু ‘তাপপ্রবাহ চলছে’Ñএমন তথ্য যথেষ্ট নয়। মানুষের জন্য প্রয়োজন করণীয়ভিত্তিক বার্তা।

 

কোন সময়ে বাইরে না থাকা ভালো, কোন শ্রেণির মানুষ বেশি ঝুঁকিতে, কোথায় নিরাপদ পানি পাওয়া যাবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবেÑএসব তথ্যও দিতে হবে। অর্থাৎ সতর্কবার্তা হতে হবে তথ্যনির্ভর, স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক এবং করণীয়মুখী। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু অভিযোজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিতÑমানুষ কতটা নিরাপদ থাকছে?

 

বড় প্রকল্প, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য, শ্রমক্ষমতা, নিরাপদ পানি, খাদ্যনিরাপত্তা ও বসবাসের পরিবেশকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি শেষ পর্যন্ত মানুষের ওপরই পড়ে। তাই জলবায়ু অভিযোজনের প্রতিটি পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকতে হবে মানুষকে। তাপপ্রবাহ হয়তো ঘূর্ণিঝড়ের মতো দৃশ্যমান নয়। কিন্তু এর ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি এবং বিস্তৃত।

 

সবচেয়ে বড় কথা, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার পর তৎপর হওয়ার পরিবর্তে আগে থেকেই জাতীয় ও স্থানীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা দরকার। স্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রম, শিক্ষা, নগর উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে একই কাঠামোর মধ্যে এনে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

 

ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রাণহানি কমানোর ক্ষেত্রে যে সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি, তাপপ্রবাহের ক্ষেত্রেও সেই ধরনের আগাম প্রস্তুতির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। প্রশ্নটি এখন শুধু কত ডিগ্রি তাপমাত্রা উঠল, তা নয়। প্রশ্ন হলোÑএই তাপমাত্রা থেকে মানুষকে কতটা নিরাপদ রাখা গেল। জলবায়ু পরিবর্তন থামানোর লড়াই বৈশ্বিক; কিন্তু তার অভিঘাত থেকে মানুষকে রক্ষা করার প্রস্তুতি নিতে হবে এখনই, বাংলাদেশেই। তাপপ্রবাহকে তাই ‘গরমের দিন’ হিসেবে নয়, জনস্বাস্থ্য ও জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে দেখার সময় এসেছে।

লেখক: সাংবাদিক