মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

তালায় মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগে ৩ লক্ষ টাকার মাছ মরে সাবাড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
তালায় মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগে ৩ লক্ষ টাকার মাছ মরে সাবাড়

তালা প্রতিনিধি: তালার মাঝিয়াড়া-খড়েরডাঙ্গা বিলে ৬০ বিঘা আয়তনের মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষরা শুক্রবার রাতে ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। বিষাক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন প্রজাতীর প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মাছ মরে সাবাড় হয়েছে। এরআগে ওই প্রতিপক্ষ মাহাসিন, ইদ্রিস ও রাঙ্গা উক্ত ঘেরের বেড়িবাঁধ কেটে দিয়ে ঘের দখলের চেষ্টা করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

ঘের মালিক উপজেলার মাঝিয়াড়া গ্রামের গাজী কামরুল ইসলাম বলেন, মাঝিয়াড়া-খড়েরডাঙ্গা বিলের ৬০বিঘা জমি ৬ বছরের জন্য জমি মালিকদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে চুক্তি করে হারি নিয়ে সেখানে মাছের ঘের পরিচালনা করে আসছেন।

 

৬ বছরের মধ্যে ইতোমধ্যে ২ বছর শেষ হয়েছে। কিন্তু এই ঘের অবৈধভাবে জোর দখল নেবার জন্য একই এলাকার ইদ্রিস আলী মোড়ল, মহাসিন শেখ ও সুমন শেখ ওরফে রাঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে নানান অপচেষ্টা করে আসছে। কিন্তু ঘের দখল করতে না পেরে প্রতিপক্ষরা ঘেরের ২স্থানে বেড়িবাঁধ কেটে দিয়ে লক্ষধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে। এঘটনার বাঁধা দিলে মহাসিন গং নিরিহ ঘের মালিক গাজী কামরুল ইসলামকে নানান হুমকি প্রদান করে।

ভুক্তভোগী ঘের মালিক গাজী কামরুল ইসলাম বলেন, মহাসিন, রাঙ্গা ও ইদ্রিস মোড়ল ঘের দখলে ব্যর্থ হয়ে শুক্রবার রাতে ঘেরের ক্যানেলে বিষ প্রয়োগ করে। বিষে ক্যানেলে থাকা বিভিন্ন প্রজাতীর ৩লক্ষ টাকার মাছ মরে গেছে। এঘটনার প্রতিকার পেপে কামরুল ইসলাম তালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এবিষয়ে তালা থানার ওসি (তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Ads small one

‎‘মডারেট ইসলাম’ নাকি কুরআন-সুন্নাহর ইসলাম: একজন মুসলিমের অবস্থান কোথায় ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
‎‘মডারেট ইসলাম’ নাকি কুরআন-সুন্নাহর ইসলাম: একজন মুসলিমের অবস্থান কোথায় ?

‎‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
‎মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ, ভারসাম্যপূর্ণ ও চিরন্তন জীবনব্যবস্থা। এটি কেবল কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়; বরং মানুষের বিশ্বাস, ইবাদত, নৈতিকতা, পরিবার, অর্থনীতি, সমাজ, বিচার ও রাষ্ট্র পরিচালনাসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহপ্রদত্ত দিকনির্দেশনার সমন্বিত রূপ। তাই ইসলামের পরিচয় নির্ধারিত হবে কেবল কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে; কোনো যুগের রাজনৈতিক অভিধা, সামাজিক প্রবণতা কিংবা বাহ্যিক বিশেষণের মাধ্যমে নয়। মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকেই তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” (সূরা আল-মায়িদা: ৩)
‎এই আয়াত ইসলামের পূর্ণতা, পরিপূর্ণতা ও চূড়ান্ততার অকাট্য ঘোষণা। ওহির ধারায় দ্বীনের মৌলিক ভিত্তি সম্পন্ন হয়েছে; ফলে ইসলামের মৌলিক পরিচয়ে নতুন কোনো ধর্মীয় রূপ, সংস্করণ বা বিশেষণ সংযোজনের ভিত্তি কুরআন ও সহিহ সুন্নাহয় পাওয়া যায় না।
‎‎সমসাময়িক বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী গণমাধ্যমে ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তারা দাবি করছে যে তারা “মডারেট ইসলামী দল। কিন্তু কুরআন ও হাদিস কিংবা সাহাবায়ে কেরামের যুগের পরিভাষায় ইসলামের এমন কোনো স্বতন্ত্র পরিচয় বা শ্রেণিবিন্যাসের অস্তিত্ব নেই। মুসলমানের পরিচয় একটি তিনি মুসলিম, আর তাঁর জীবনব্যবস্থার নাম ইসলাম।
‎মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য কর।” (সূরা আলে ইমরান: ৩২) আরও বলেন, “রাসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা আল-হাশর: ৭) এই আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে, একজন মুসলিমের চূড়ান্ত মানদ- মানুষের মতামত, রাজনৈতিক দর্শন কিংবা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নয়; বরং আল্লাহর কিতাব ও রাসুলুল্লাহ -এর সুন্নাহ। হযরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো নতুন বিষয় বা কাজ সংযোজন করবে, যা ইসলামের অংশ নয়, তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়; বরং তা প্রত্যাখ্যাত।” অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন, “আমি তোমাদের মধ্যে এমন দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে, ততক্ষণ কখনো পথভ্রষ্ট হবে না—আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।” (আল-মুয়াত্তা; আল-মুস্তাদরাক)
‎এই শিক্ষা থেকেই যুগে যুগে ইসলামী আলেমগণ দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহে ভিত্তিহীন সংযোজন, বর্জন কিংবা পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন এবং কুরআন-সুন্নাহকেই ইসলামী চিন্তা ও চর্চার একমাত্র নির্ভরযোগ্য মানদ- হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যে “মডারেট ইসলাম”-এর কথা বারবার বলতেছে, আমার প্রশ্ন হলো ইসলাম কি কোনো নতুন বিশেষণ বা সংস্করণের মুখাপেক্ষী? ‎মুসলমানদের বিশ্বাস, ইসলাম আল্লাহপ্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ দীন। কোরআন ও সুন্নাহর বিধানই ইসলামের একমাত্র মানদ-। পবিত্র কোরআনে সুদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে, আর ইসলামী অর্থব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে যাকাত ও সুদমুক্ত লেনদেনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নারীর পর্দা আল্লাহ তাআলার ফরজ বিধান।
‎বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাস্তবে সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করছে এবং নারীদের অবাধ মেলামেশা ও পর্দার বিধান সম্পর্কেও এমন অবস্থান নিচ্ছে, যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাজনৈতিক কর্মকা- যে কোনো দলের অধিকার। তবে ইসলামের নামে রাজনীতি করলে সেই দলের নীতি, বক্তব্য ও কর্মসূচি কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে পর্যালোচিত ও সমালোচিত হওয়াও স্বাভাবিক। ইসলামের পরিচয় রাজনৈতিক কৌশলের ভাষায় নয়; কোরআন ও সুন্নাহর ভাষাতেই হওয়া উচিত। ‎মদিনায় রাসুলুল্লাহ যে আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেখানে ইবাদত, ন্যায়বিচার, অর্থনীতি, পারিবারিক জীবন, সামাজিক দায়িত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনা সবই ছিল আল্লাহর বিধানের অধীন। ইসলামকে কেবল ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল নববী মিশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।” (সূরা আল-বাকারা: ২০৮)। লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

বাঘ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিড়াল প্রজাতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
বাঘ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিড়াল প্রজাতি

প্রকাশ ঘোষ বিধান
বাঘ আমাদের জাতীয় প্রাণী ও বীরত্বের প্রতীক। বাঘ কেবল একটি প্রাণী নয়, এটি শক্তি, সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার এক জীবন্ত প্রতীক। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষে অবস্থান করে এটি হরিণ ও শূকরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে বনের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। বাংলাদেশে ও পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন এলাকায় যে সুদর্শন বাঘ দেখা যায় তা দুনিয়াব্যাপী রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলা বাঘ নামে পরিচিত। বাঘ এখন এক বিপন্ন প্রাণী। বিভিন্ন দেশে বাঘ সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে।
বাঘ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিড়াল প্রজাতি। বাঘ হলো ফেলিডি গোত্রের অন্তর্গত একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী। এটি প্যানথেরা গণের অন্তর্ভুক্ত চারটি বৃহৎ বিড়ালের একটি। অর্থাৎ সিংহ, চিতাবাঘ ও জাগুয়ারের সঙ্গে প্যানথেরা গণের চারটি বিশালাকার সদস্যের মধ্যে এটি সর্ব বৃহৎ ও শক্তিশালী প্রাণী। বাঘ বিড়াল প্রজাতির অন্য সকল প্রাণী এমন কি সিংহ হতেও বড় এবং শক্তিশালী প্রাণী। বাঘ ভারত ও বাংলাদেশ সহ মোট ৬ টি দেশের জাতীয় পশু।
২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ সম্মেলন এ এই দিবসটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাঘ সুন্দরবনের জন্য একটি কিস্টোন প্রজাতি। বাঘ টিকে থাকলে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রসহ জীববৈচিত্র্য নিজে থেকেই টিকে থাকবে, সুন্দরবন টিকে থাকবে। এলাকার জনগণ মনে করেন, সুন্দরবন মায়ের মতো, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে, জীবন বাঁচায়, খাদ্য জোগায়। তাঁদের মতে, বাঘ বাঁচলে সুন্দরবন বাঁচবে, সুন্দরবন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বর্তমানে সুন্দরবন বাংলাদেশের বাঘের শেষ আশ্রয়স্থল। বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ। পর্যাপ্ত খাবার না পেলে বাঘ দুর্বল হয়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হারাবে এবং বাঘ-মানুষ সংঘাত বাড়বে।
বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হয়। ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ অভিবর্তনে এ দিবসটির সূচনা হয়। ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথম বাঘ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিজ নিজ দেশে বাঘের সংখ্যা ১২ বছরের মধ্যে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছিল। এর মধ্যে নেপাল বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে। ভারত এবং ভুটানও দ্বিগুণের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও সে লক্ষ্য থেকে দূরে আছে। বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে বাঘের সংখ্যা ১১৪ থেকে বেড়ে বর্তমানে ১২৫টি হয়েছে। ১০বছরে বাঘ বেড়েছে ১৯টি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৩৫০টি। এরপর ১৯৮২ সালের জরিপে ৪২৫টি এবং এর দুই বছর পর ১৯৮৪ সালে সুন্দরবন দক্ষিণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি বাঘ থাকার কথা জানানো হয়।
১৯৯২ সালে ৩৫৯টি বাঘ থাকার তথ্য জানায় বন বিভাগ। পরের বছর ১৯৯৩ সালে সুন্দরবনের ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্যাগমার্ক পদ্ধতিতে জরিপ চালিয়ে ধন বাহাদুর তামাং ৩৬২টি বাঘ রয়েছে বলে জানায়। ২০০৪ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ৪৪০টি। ১৯৯৬-৯৭ সালে বাঘের সংখ্যা উল্লেখ করা হয় ৩৫০টি থেকে ৪০০টি। ওই সময়ে বাঘের পায়ের ছাপ পদ্ধতিতে গণনা করা হয়।
২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে দাঁড়ায় ১০৬টি। হঠাৎ করে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৪০০টি থেকে ১০৬টিতে এসে দাঁড়ালে সারাবিশ্বে হৈ চৈ পড়ে যায়। বাংলাদেশে বাঘ ২০১৫–এর গণনায় ১০৬টি, ২০১৮তে ১১৪টি এবং সর্বশেষ ২০২৪ এর গণনায় ১২৫টি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের বাঘ নানামুখী হুমকির সম্মুখীন। এরপরও বাঘের সংখ্যা যে ঊর্ধ্বমুখী, এটি আশার সঞ্চার করে।
বাঘ প্রাকৃতিকভাবে শুধুমাত্র এশিয়ার ১৩টি দেশে বাস করে। তবে এখন বিশ্বের মাত্র ১০টি দেশে বন্য বাঘ দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, রাশিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইলান্ড, মিয়ানমার এবং চীন। কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামে একসময় বাঘ থাকলেও বর্তমানে সেখানে বাঘ প্রাকৃতিকভাবে বিলুপ্ত। বিশ্বে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাঘ এ দেশেই বাস করে। ভারতের সংরক্ষিত অভয়ারণ্যগুলোতে ৩,১৬৭টিরও বেশি বাঘ রয়েছে। বাংলাদেশের সুন্দরবনে বেঙ্গল টাইগার বা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বসবাস করে।
বর্তমানে বিশ্বে বাঘের মোট ৬টি জীবিত উপ-প্রজাতি রয়েছে। এছাড়াও অতীতে আরও ৩টি উপ-প্রজাতি ছিল যা এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত। বেঙ্গল টাইগার বা রয়েল বেঙ্গল টাইগার : এই উপ-প্রজাতির বাঘ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ভারতীয় উপমহাদেশে। বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন, নেপাল এবং ভুটান হলো এদের প্রধান বাসস্থান। সাইবেরিয়ান বা আমুর বাঘ : এটি বাঘের সব উপ-প্রজাতির মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়। এদের বাসস্থান মূলত রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য এবং উত্তর-পূর্ব চীনে। সুমাত্রান বাঘ : ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে এই বাঘগুলো পাওয়া যায়। এটি জীবিত উপ-প্রজাতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট। মালয়ান বাঘ : মালয় উপদ্বীপে এই বাঘগুলো দেখতে পাওয়া যায়। ইন্দো-চীনা বাঘ : মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়ার বনভূমিতে এই উপ-প্রজাতির দেখা মেলে। দক্ষিণ চীন বাঘ এটি সবচেয়ে বিপন্ন উপ-প্রজাতি, ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে এদের আর বন্য পরিবেশে সরাসরি দেখা যায়নি।
বিগত শতাব্দীতে মানুষের শিকার এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে বালিনিজ, জাভানিজ এবং কাস্পিয়ান টাইগার নামক তিনটি উপ-প্রজাতি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে এই শক্তিশালী প্রাণীর অস্তিত্বই আজ সংকটে। এদের বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ ও বন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

যুব জামায়াত নেতা আল মামুনের জানাজা সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
যুব জামায়াত নেতা আল মামুনের জানাজা সম্পন্ন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালনগর এলাকার যুব জামায়াত নেতা আল মামুনের জানাজা মঙ্গলবার বাদ আসর কামালনগর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।
জানাজার পূর্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, মরহুমের বাবা রবিউল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি ও যুব বিভাগের সভাপতি ওমর ফারুক, শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, শহর সেক্রেটারি খোরশেদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোররাতে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে আল মামুনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টার দিকে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। পরে কামালনগর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।