বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তীব্র গরম, লোডশেডিং ও পানি সংকট: এক জনপদের ত্রিমুখী দীর্ঘশ্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
তীব্র গরম, লোডশেডিং ও পানি সংকট: এক জনপদের ত্রিমুখী দীর্ঘশ্বাস

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কৃষি, মৎস্য ও ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত এই জনপদ আজ তীব্র গরম, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং নাগরিক সেবার চরম অব্যবস্থাপনার কারণে এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি। একদিকে প্রকৃতির রুদ্ররূপ, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক চাহিদার কৃত্রিম সংকট—সব মিলিয়ে সাতক্ষীরাবাসী এখন এক দমবন্ধ করা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
গত কয়েকদিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে অসহনীয় তাপপ্রবাহ। দিনের বেলায় পারদ ক্রমাগত ওপরে উঠছে, তাপমাত্রা প্রায়ই ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। তবে বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মানুষের অনুভূত তাপমাত্রা (হিট ইনডেক্স) আরও অনেক বেশি, যা শরীরকে নিমিষেই ক্লান্ত ও অবসন্ন করে দিচ্ছে।
গরমের তীব্রতায় দিনের বেলায় ঘরের বাইরে বের হওয়া যেন এক অগ্নিপরীক্ষা। রাস্তাঘাট, বাজার, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানÑসবখানেই মানুষের মাঝে ক্লান্তি ও অস্বস্তি স্পষ্ট। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও রিকশাচালকরা। জীবিকার তাগিদে এই তপ্ত রোদ ও লু-হাওয়া উপেক্ষা করেই তাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠায় তাদের দৈনিক আয়ও মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
এই প্রচ- গরমের মধ্যেই আগুনে ঘি ঢালছে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই মানুষের মুখে এখন একটাই আলোচনা, “কবে মিলবে একটু স্বস্তি?” বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কিন্তু এই অজুহাত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পারছে না।
বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই শুরু হচ্ছে আসল নরকযন্ত্রণা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি ঘরবাড়ি যেন একেকটি উত্তপ্ত চুল্লিতে পরিণত হচ্ছে। ফ্যান বন্ধ হয়ে গেলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষদের কষ্ট চরমে পৌঁছায়। রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতর টিকতে না পেরে বাড়ির আঙিনা, গাছতলা, বাঁশবাগান কিংবা খোলা ছাদে আশ্রয় নিচ্ছেন সামান্য বাতাসের আশায়। স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সাতক্ষীরার মানুষের এই গাছতলায় রাত কাটানোর করুণ ছবি ও খবর উঠে এসেছে।
সাতক্ষীরাবাসীর এই দুর্ভোগের মধ্যেই “মরার ওপর খাঁড়ার ঘা” হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুতের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি। গ্রাহকদের অভিযোগ, একদিকে ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং সইতে হয়, অথচ মাস শেষে ভূতুড়ে ও বর্ধিত বিলের কাগজ ঠিকই হাতে এসে পৌঁছায়। সেবার মান না বাড়িয়ে এভাবে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোকে সাধারণ মানুষ ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত পরিবারগুলো এই বাড়তি বিলের বোঝা টানতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের এই কঠিন সময়ে সাতক্ষীরা পৌরবাসীর জন্য আরও এক বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র পানি সংকট। তীব্র গরমে যেখানে পানির চাহিদা কয়েক গুণ বেশি, সেখানে পৌরসভা থেকে পানি সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ। নাগরিকদের অভিযোগ, দিনের পর দিন কল দিয়ে এক ফোঁটা পানিও পাওয়া যায় না। রান্নাবান্না, গোসল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য মানুষ হাহাকার করছে।
সবচেয়ে পরিহাসের বিষয় হলোÑ পৌরসভা নাগরিকদের পানি দিতে না পারলেও প্রতি মাসে নিয়মিত পানির বিল ঠিকই পাঠিয়ে দিচ্ছে! পানি সাপ্লাই না দিয়েও মাস শেষে বিলের কাগজ ধরিয়ে দেওয়ার এই অন্যায্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে পৌরবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সেবা না পেয়েও কেন প্রতি মাসে বিল গুনতে হবে—এই প্রশ্ন এখন সাতক্ষীরার প্রতিটি নাগরিকের। এই ত্রিমুখী সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জেলার সার্বিক অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে।
কৃষি ও মৎস্য খাতে বিপর্যয়: বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে ফসলের মাঠ শুকিয়ে যাচ্ছে। সাতক্ষীরার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো মৎস্য ঘের ও হ্যাচারি। তীব্র গরম ও বিদ্যুতের অভাবে পানি ঠান্ডা রাখার পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে মাছের ঘেরগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এছাড়া বরফকল, ফ্রিজিং প্ল্যান্ট এবং ছোট ছোট উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন সচল রাখতে না পেরে বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত: সামনে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকলেও গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছে না। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে বা মোমবাতি-জরুরি আলোর মৃদু আলোয় তাদের পড়তে হচ্ছে। পানির অভাবে এই গরমে তারা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসকদের সতর্কতা: চিকিৎসকরা বলছেন, তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, মাথা ঘোরা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই আবহাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। চিকিৎসকরা সবাইকে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন, অথচ সেই পানির জন্যই পৌরবাসীকে চড়া দামে বাইরে থেকে পানি কিনতে হচ্ছে।
প্রকৃতির বিরূপ পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং পৌরসভার চরম পানি নিষ্ক্রিয়তার যুগপৎ আঘাতে আজ নাকাল সাতক্ষীরাবাসী। তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তীব্র গরম আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি পানি না পেয়েও বিল দেওয়ার এই দ্বৈত ও ত্রিমুখী যন্ত্রণা দীর্ঘদিন কোনো জনপদের পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব নয়।
সাতক্ষীরার মানুষ প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার, বিদ্যুতের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি পুনর্বিবেচনা করার এবং অবিলম্বে পৌরসভায় নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছেন। প্রকৃতির কাছে তাদের এখন একটাই প্রার্থনা—”একটু বৃষ্টি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, আর এক ফোঁটা সুপেয় পানি।” লেখক: সাবেক ব্যাংকার

Ads small one

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

আজ (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’।

১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানব পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে বৈশ্বিক উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ ৫ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৯৭৩ সাল থেকে দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়। পরিবেশ বিষয়ে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি হিসেবে এটি পরিচিত।

দিবসটি উপলক্ষে পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা আলোচনা সভা, র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক প্রচারণার আয়োজন করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও পৃথক কর্মসূচি পালন করছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, বন্যা, খরা ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ, বায়ুদূষণ এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিবেশগত সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। তাদের মতে, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগই একটি নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, জলবায়ু ও পরিবেশের সংকট মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও জনসচেতনতার মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

কলারোয়ায় নারী ও শান্তিবিষয়ক আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় নারী ও শান্তিবিষয়ক আলোচনা সভা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে নারী, শান্তি ও সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) ও অর্জন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
নারী উদ্যোক্তা মৌসুমী সরদারের সভাপতিত্বে সভায় সামাজিক শান্তি রক্ষা এবং নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন দীপা রানী, মনিকা রানী, রঞ্জন ম-ল, প্রভা মন্ডল ও ইশিতা মন্ডল। বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

এক বছরে দেশে ৫২ হাজার বৃক্ষনিধন, জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ার দাবি পরিবেশবাদীদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
এক বছরে দেশে ৫২ হাজার বৃক্ষনিধন, জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ার দাবি পরিবেশবাদীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশে আশঙ্কাজনক হারে গাছ কাটা ও বন উজাড় রোধে একটি ‘জাতীয় বন ও বৃক্ষনিধন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প, নগরায়ণ, শিল্পায়ন, কৃষিজমির সম্প্রসারণ এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে দেশের বনভূমি ও সবুজ আচ্ছাদন ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বৃহস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তর মিলনায়তনে ‘গাছনিধন মিডিয়া মনিটরিং ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) কোষাধ্যক্ষ আমিনুর রসুল বাবুল অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যৌথ আয়োজক হিসেবে ছিল আরডিআরসি, গ্রীন ভয়েস, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, ব্রাইটার্স এবং ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম।

গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে দেশে ৫২ হাজার ৩৭৫টি বৃক্ষনিধনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি আগের বছরের (২০২৪-২৫) তুলনায় ৭১.২ শতাংশ কম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক হিসাবে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার ৪১টি এবং কক্সবাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার বৃক্ষনিধনের তথ্য পাওয়া গেছে। বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় অনুষ্ঠানে ৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বন আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, টেকসই কৃষিবনায়ন সম্প্রসারণ, নগর পরিকল্পনায় সবুজ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা এবং বনের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, বৃক্ষনিধনের ফলে মাটিক্ষয়, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে গাছ কাটার হার গত বছরের চেয়ে কমেছে। সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, আইন ও নীতিমালা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় বৃক্ষনিধন পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। পরিবেশগত অপরাধ দমনে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস এবং গ্রিন সেভারসের প্রতিষ্ঠাতা এহসান রনিসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।