দক্ষিণডিহিতে রবীন্দ্রনাথের জন্মজয়ন্তী উৎসবের সাঙ্গ
পত্রদূত রিপোর্ট: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সমাপনী হয়েছে। রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আয়োজন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এবারের উৎসবের আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘রবীন্দ্রনাথের কৃষি দর্শন’।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু সাহিত্য নয়, কৃষি ও কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৈপ্লবিক ভূমিকা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। গ্রামীণ সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে তিনি নওগাঁর পতিসরে সমবায় কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা ছিল সে সময়ের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
তারা আরও উল্লেখ করেন, কৃষিকে আধুনিক করার স্বপ্ন নিয়ে কবি নিজের ছেলে ও জামাতাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য। শিক্ষা শেষে তারা দেশে ফিরলে তাঁদের শিলাইদহে আধুনিক কৃষি গবেষণায় নিয়োজিত করেন। রবীন্দ্রনাথ বিদেশ থেকে উন্নত মানের বীজ ও যন্ত্রাংশ এনে দেশের কৃষি উন্নয়নে যে অবদান রেখেছিলেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়।
খুলনা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার ম-লের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘স্মারক বক্তা’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক মো. আব্দুল মান্নান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুচি রানী সাহা। আলোচনা সভা শেষে কবিগুরুর গান, কবিতা ও নৃত্যের সমন্বয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে স্থানীয় ভক্ত-অনুরাগী ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণডিহির মৃণালিনী দেবীর পৈত্রিক ভিটা প্রাঙ্গণ রবীন্দ্র অনুরাগী ও দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।












