রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

নিজের ঘরেই পরবাসী মা: ‘আরা’র দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয় কান্নার স্বর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
নিজের ঘরেই পরবাসী মা: ‘আরা’র দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয় কান্নার স্বর

নিজস্ব প্রতিনিধি: শহরের মেহেদীবাগ এলাকার এক চিলতে ভবনের ভেতরে ১৯ জন প্রবীণের বসবাস। এই ছোট ঘরগুলো যেন এক একটি স্মৃতির মহাফেজখানা, যেখানে জমে আছে কেবলই অবহেলা আর বঞ্চনার গল্প। সাতক্ষীরার ‘আরা’ বৃদ্ধাশ্রমের এই বাসিন্দাদের ৯ জনই নারী, যারা জীবনের সবটুকু দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেও আজ ঠাঁই পেয়েছেন অন্যের দয়ায় গড়ে ওঠা এই আশ্রমে।

মিলি বিশ্বাসের গল্পটা অন্য দশটা সাধারণ মায়ের মতো হতে পারতো। নব্বইয়ের দশকে স্বল্প বেতনের চাকরিতে সংগ্রাম শুরু করে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজের উপার্জনে গড়েছেন দোতলা বাড়ি। বড় ছেলে ও ছোট ছেলে দুজনেই সচ্ছল, মেয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

কিন্তু অভিযোগের তির বড় ছেলের দিকে। মিলি বিশ্বাসের দাবি, কৌশলে সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর শুরু হয় নির্যাতন। নিজ বাড়িতেই পরবাসী হয়ে পড়া এই মা অবশেষে আশ্রয় নিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। ক্ষোভ আর অভিমানে নীল হয়ে যাওয়া এই জননী বলেন, “জীবনের শেষ সময়ে এসে বড় ছেলের মৃত্যু নিজের চোখে দেখে যেতে চাই।” এই চরম হাহাকার যেন কেবল একজন মায়ের নয়, বরং চরম অবহেলার শিকার এক সত্তার আর্তনাদ। আশ্রমের প্রতিটি ঘরেই লুকিয়ে আছে এমন আরও বহু দীর্ঘশ্বাস।

জাহানারা খাতুনের একসময় নাম ছিল করুণা বিশ্বাস। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাকে তার স্বামী অন্যের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে তার দাবি। নতুন জীবনে ধর্ম পরিবর্তন করে সন্তানদের মানুষ করলেও আজ তারা কেউ পাশে নেই। এক সন্তান সম্পর্ক অস্বীকার করেছে, অন্যজন রাখে না কোনো খোঁজ।

লাভলী খাতুন খুলনার খালিশপুরের এই নারীর জীবন যেন সংগ্রামের জীবন্ত দলিল। পঙ্গুত্ব বরণ করার পর স্বামী ছেড়ে গেলে গার্মেন্টস কর্মী আর দিনমজুর হিসেবে কাজ করে তিন মেয়েকে মাস্টার্স পাস করিয়েছেন। সেই মেয়েরা আজ প্রতিষ্ঠিত হলেও মায়ের ঠিকানা হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমের এই চার দেয়াল।

আশ্রমের ১৯ জন প্রবীণের দিন কাটে একঘেয়ে রুটিনে। ভোরে উঠে ওষুধ সেবন আর প্রার্থনা। এরপর জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকা বা বারান্দায় বসে শূন্যতায় চেয়ে থাকা। বিকেলে সামান্য হাঁটাহাঁটি আর আড্ডা থাকলেও অবচেতনে সবাই যেন কারো অপেক্ষায় থাকেন। পরিবার থেকে যোগাযোগ না থাকায় মোবাইল ফোনগুলোও অধিকাংশ সময় নীরব থাকে। রাতের আঁধারে পুরনো স্মৃতি আর সন্তানদের মুখ মনে করেই ভাঙা ঘুমে পার হয় তাদের সময়।

সীমিত সাধ্যের মধ্যেও এই প্রবীণদের আগলে রাখছে ‘আরা’ সংস্থা। আবাসন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, কেবল আশ্রয় দেওয়াই তাদের শেষ লক্ষ্য নয়, তারা চান এই প্রবীণদের আপন ঠিকানায় ফিরিয়ে দিতে। দীর্ঘমেয়াদী কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই শত শত প্রবীণকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে যাদের পরিবার কোনোভাবেই গ্রহণ করতে রাজি হয় না, তাদের জন্যই ‘আরা’ আজ শেষ ঠিকানা।

সপ্তাহে চার দিন মাছ, দুই দিন ডিম ও এক দিন মাংসের ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি অনেকটা ব্যক্তি-অনুদান নির্ভর। সরকারি সহযোগিতা পর্যাপ্ত নয় বলে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হয়।

 

 

Ads small one

আশাশুনিতে লোকালয়ে অবৈধ কয়লা চুল্লি, ধোঁয়ায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ও প্রকৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে লোকালয়ে অবৈধ কয়লা চুল্লি, ধোঁয়ায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ও প্রকৃতি

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের তকিপুর এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে কাঠ পোড়ানো কয়লার চুল্লি। লোকালয়ের একদম পাশে গড়ে ওঠা এসব কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকার জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের কোনো অনুমোদন না থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব আর গোপন লেনদেনের জোরে নির্বিঘেœ চলছে এই ক্ষতিকর ব্যবসা।

তেঁতুলিয়া-সোনাই সড়কের মাঝামাঝি তকিপুর নামক স্থানে ৪টি বিশেষ চুল্লি তৈরি করা হয়েছে। মাটি ও ইটের তৈরি এসব চুল্লিতে দিনরাত পোড়ানো হচ্ছে শত শত মণ কাঠ। শাহনগর গ্রামের বিপুল শাহর জমি ভাড়া নিয়ে বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের আলী গাজী এই কারবার চালাচ্ছেন। কারখানার কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের বাড়িঘরে। এতে নষ্ট হচ্ছে ফলন্ত গাছপালা ও জমির ফসল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ধোঁয়ার কারণে এলাকার শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা খুব কষ্টে আছি। চুল্লির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করেই তারা এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।”

এর আগে স্থানীয়রা মৌখিকভাবে অভিযোগ জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। দ্রুত তদন্ত করে এই অবৈধ চুল্লির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

১৫ জুনের মধ্যে উন্নয়নকাজ শেষের কড়া নির্দেশ এমপি রবিউলের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
১৫ জুনের মধ্যে উন্নয়নকাজ শেষের কড়া নির্দেশ এমপি রবিউলের

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। রোববার (১০ মে) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।
সভার শুরুতে উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব চলমান প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বেশ কিছু ঠিকাদারের কাজের ধীরগতি ও অনিয়ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রকৌশলী জানান, অর্থবছর শেষ হতে চললেও অনেক কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়, যা চুক্তির শর্তের পরিপন্থী।
সংসদ সদস্য রবিউল বাশার ঠিকাদারদের বক্তব্য শোনেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণমান বজায় রেখে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, “চুক্তি মোতাবেক কাজ করা বাধ্যতামূলক। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন করতে হবে। জনস্বার্থের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।”
সভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস সবুর, উপজেলা আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল কুদ্দুছ এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভেনামি চিংড়ি চাষের সম্ভাবনা নিয়ে সচিবালয়ে পর্যালোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
ভেনামি চিংড়ি চাষের সম্ভাবনা নিয়ে সচিবালয়ে পর্যালোচনা সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি চিংড়ি চাষের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১০ মে) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা দেশের মৎস্য খাতে ভেনামি চিংড়ি চাষের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি আয় বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিংড়ি চাষের কোনো বিকল্প নেই।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল এবং ‘শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (সেব)-এর খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের সভাপতি ও সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম বাবলা। আলোচনায় অংশ নেন ছবি ফিশ-এর মো. মুজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, মহাপরিচালক, যুগ্ম সচিব এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কক্সবাজার, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার মৎস্য কর্মকর্তারা ভেনামি চিংড়ি চাষের মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভেনামি চিংড়ি চাষের সঠিক নীতিমালা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে।