রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের যে চিত্র সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, তাকে কেবল ‘অব্যবস্থাপনা’ বললে ভুল হবে; এটি জনস্বাস্থ্যের প্রতি চরম অবহেলার এক নিষ্ঠুর দলিল। পাঁচ শয্যার একটি ওয়ার্ডে যখন প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগীকে চিকিৎসা নিতে হয়, তখন স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলাও নিরর্থক হয়ে পড়ে। সেখানে চিকিৎসা নয়, বরং এক মানবেতর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
একটি জেলা শহরের প্রধান সরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের এমন জরাজীর্ণ দশা মেনে নেওয়া কঠিন। ধারণক্ষমতার চেয়ে আট-নয় গুণ বেশি রোগী যেখানে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন, সেখানে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখাই অসম্ভব। তার ওপর শিশুদের সঙ্গে বয়স্কদের একই স্থানে রাখা হচ্ছে, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ‘ক্রস ইনফেকশন’ বা সংক্রমণের ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সুস্থ হতে এসে নতুন কোনো রোগ বাধিয়ে বাড়ি ফেরার এই শঙ্কা রোগীদের জন্য চরম উদ্বেগের।
হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা আরও ভয়াবহ। চারদিকে ময়লার স্তূপ আর উৎকট দুর্গন্ধের মধ্যে সুস্থ মানুষের পক্ষেই টিকে থাকা দায়, সেখানে রোগাক্রান্ত মানুষ কীভাবে আরোগ্য লাভ করবে? পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হাসপাতালের মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। জনবল সংকট বা স্থানাভাবের দোহাই দিয়ে এই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে জায়েজ করার কোনো সুযোগ নেই।
সাতক্ষীরা একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় এখানে মাঝে মাঝেই পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। এটি জানা সত্ত্বেও কেন আগেভাগে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি, সেই দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।
আমরা সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের এই মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন। কেবল শয্যা বাড়ানোই সমাধান নয়, একই সঙ্গে ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিশু ও বয়স্কদের জন্য পৃথক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। ডায়রিয়ার প্রকোপ আরও বাড়ার আগেই যদি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হয়, তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। নাগরিকের ন্যূনতম সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাÑকর্তৃপক্ষ আশা করি এই সত্যটি ভুলে যাবে না।

 

Ads small one

সাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ জেলে বাড়ি ফিরলেন ৫৪ বছর পর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
সাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ জেলে বাড়ি ফিরলেন ৫৪ বছর পর

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় সাগরে ৫৪ বছর আগে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া এক জেলে হঠাৎ বাড়ি ফিরে এসেছেন। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাগরে যার সলিল সমাধি হয়েছিল ভেবে স্বজনরা অপেক্ষার প্রহর গোনা অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই ছৈয়দ আহাম্মদ (৮৩) বৃদ্ধ বয়সে আবারও ফিরে এসেছেন নিজের ভিটেমাটি ও স্বজনদের কাছে। পাঁচ দশকের বেশি সময় পর ফিরে আসা ব্যক্তিকে একনজর দেখতে তার বাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজির হচ্ছেন অনেকে।

শুক্রবার (৮ মে) এ ঘটনায় ফিরে আসা বৃদ্ধের ছেলে আকরাম (৫৩) হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর আগে, গত মঙ্গলবার (৫ মে) হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচবিঘা গ্রামের ফজলি বাড়িতে তিনি ফিরে আসেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ দশক আগে কুতুবদিয়া উপকূলে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হন ছৈয়দ আহাম্মদ। দীর্ঘদিন তার কোনও খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার ধরে নেয় তিনি আর বেঁচে নেই। পরে স্বজনরা স্বাভাবিক জীবনেও ফিরে যান।

পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর কোনোভাবে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন এলাকায় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কাটান তিনি। সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশন এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

গত ৫ মে দুপুরে হাতিয়ার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন ছৈয়দ আহাম্মদ। বাড়িতে এসে নিজের পরিচয় দিলে প্রথমে অনেকে বিস্মিত হন। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠরা তাকে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন এলাকাবাসী। তবে দীর্ঘদিন পর ফিরে আসার এই ঘটনায় পরিবারে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা।

ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে আকরাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তার অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তার বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি পারিবারিক সম্পদ ও টাকাপয়সা নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে ঘটনাটিকে অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন বলে মন্তব্য করেছেন। হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষ ৫৪ বছর পর জীবিত ফিরে আসবেন, এটা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। তবে বাড়িতে ফেরার পর তাকে ঘিরে পারিবারিক টানাপোড়েনও সৃষ্টি হয়েছে।

হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, বৃদ্ধের ছেলে আকরাম জানিয়েছেন তার বাবা ফেরত আসার পর তার চাচাতো ভাইদের কাছে উঠেছেন। পরে সামাজিক সিদ্ধান্তে তার কাছে থাকার জন্য বলেছেন। তবে তার চাচাতো ভাইয়েরা তার কাছে থাকতে দিচ্ছেন না।

পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১০ মে) বিকেলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সরকারি আদেশ অমান্য করায় অভিযুক্তকে জরিমানাও করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মৌজার ১৪৯ দাগের ‘ক’ তপশিলভুক্ত সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন পরিদর্শন করে অবৈধ নির্মাণের প্রমাণ পান।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন তালা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, মাত্র এক শতক সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি আদেশ অমান্য করার দায়ে দ-বিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় নির্মাণাধীন স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জমি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জনস্বার্থে কোনো অবৈধ দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

এমএ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাল ডাক্তারি সনদ বিক্রি করে আসছিল ‘প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন’ (পিটিএফ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার (১০ মে) দুপুরে যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা অভিযান চালিয়ে ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দিয়েছেন।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছিলেন। সে সময় জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এ কে আজাদ ওরফে ইকতিয়ারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে লোকচক্ষুর অন্তরালে চক্রটি তাদের জাল সনদ বিক্রির বাণিজ্য অব্যাহত রাখে।
২০১৬ সালে খুলনার যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (জয়েন্ট স্টক) থেকে নিবন্ধন নিয়ে কেশবপুর শহরের মাইকেল মোড়ে একটি ভাড়া বাসায় পিটিএফের ‘কেন্দ্রীয় হেড অফিস’ খোলেন আবুল কালাম আজাদ। এরপর ডিএমএফ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফিসহ ৫৬টি ট্রেডে সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে ট্রেনিং সেন্টার শুরু করেন। আকর্ষণীয় লিফলেটের প্রলোভনে পড়ে বেকার যুবকরা এখানে আসতেন এবং কোর্সভেদে ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া ডাক্তারি সনদ হাতিয়ে নিতেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিষয়ক যেকোনো ট্রেনিং বা সনদ প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ কে আজাদ জয়েন্ট স্টকের একটি সাধারণ নিবন্ধনকে পুঁজি করে গত ১১ বছর ধরে অবৈধভাবে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সরকারি তদারকি না থাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, “পিটিএফ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুয়া সনদ বিক্রি করছেÑএমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তারা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”