সংবাদদাতা: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)-এ পুলিশ অফিসার থেকে সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম। তার এই অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি, সাতক্ষীরাবাসী এবং স্বজনদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৭ জুন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সদর দপ্তরের পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সার্জেন্ট পদমর্যাদার সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নেতৃত্বের গুণাবলীর স্বীকৃতিস্বরূপ আব্দুল হালিমকে এ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “প্রথমত আমি একজন বাঙালি, একজন বাংলাদেশি এবং সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের সন্তান হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমার এই অর্জন নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অনুপ্রাণিত করবে বলে বিশ্বাস করি।”
মো. আব্দুল হালিম সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মরহুম শওকাত আলী গাজী এবং মা রোকেয়া বেগম। এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি সরকারি বিএল কলেজ, খুলনায় অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০০৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ে স্নাতক এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা অর্জন করেন। ২০১১ সালে তিনি এনওয়াইপিডিতে ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০১৫ সালে পুলিশ অফিসার হিসেবে যোগ দিয়ে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে সার্জেন্ট পদে উন্নীত হলেন।
বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এক অভিনন্দন বার্তায় জানায়, আব্দুল হালিমের এই পদোন্নতি কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি সমগ্র বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। সংগঠনটির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তার সাফল্য নতুন প্রজন্মকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যোগদানে উৎসাহিত করবে।
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি আব্দুল হালিম নিজ এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে চলেছেন।
তার পদোন্নতির খবরে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদ ও মাদ্রাসায় দোয়া মাহফিল এবং মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়। পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আশা প্রকাশ করেছেন, কর্মদক্ষতা, সততা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে আব্দুল হালিম ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ও সাতক্ষীরার সুনাম আরও উজ্জ্বল করবেন।