শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পটপটি: আমাদের শৈশব-স্মৃতি/ ‎তারিক ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
পটপটি: আমাদের শৈশব-স্মৃতি/ ‎তারিক ইসলাম

‎তারিক ইসলাম

‎‎ইটের দেয়ালের ফাটলে, রাস্তার ধারে কিংবা পরিত্যক্ত কোনো ঝোপঝাড়ে বেগুনী রঙের ছোট্ট ফুলটি আমাদের প্রায়ই চোখে পড়ে। অযতœ আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই উদ্ভিদের দিকে হয়তো আমরা অনেকেই ফিরেও তাকাই না। কিন্তু একটু মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করলেই মনের কোণে ভেসে ওঠে হারিয়ে যাওয়া রঙিন শৈশব। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন-কথা হচ্ছে আমাদের চিরচেনা ‘পটপটি’ গাছ নিয়ে। বিজ্ঞানীদের কাছে এটি Ruellia tuberosa নামে পরিচিত হলেও, আমাদের লোকালয়ে এর পরিচিতি চমৎকার সব নামে। কেউ একে ডাকেন ‘টপাসিন’ নামে, আবার কারও কাছে এটি শুধুই ‘ফাটাফাটি’।

‎‎নব্বইয়ের দশক বা তার আগের প্রজন্মের মানুষের কাছে পটপটি কেবল একটি সাধারণ আগাছা নয়, এটি ছিল শৈশবের এক জাদুকরী খেলনা। বর্ষার দিনে কিংবা বিকেলে খেলার মাঠে পটপটি গাছের শুকনো খয়েরি রঙের বীজ সংগ্রহ করার ধুম পড়ে যেত। সেই শুকনো বীজ মুখে নিয়ে থুতু দিয়ে কিংবা এক বাটি জলে ভিজিয়ে রাখলেই ঘটত সেই কাঙ্ক্ষিত ম্যাজিক! কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ‘পট’ করে এক শব্দে ফেটে যেত বীজটি। এই সাধারণ একটি ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকত এক অদ্ভুত অনাবিল আনন্দ। আজকের দিনে ভিডিও গেম আর স্মার্টফোনের ভিড়ে বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা এই সহজ ও প্রাকৃতিক আনন্দ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত।

‎কেবল খেলার ছলেই নয়, পটপটি বা টপাসিন উদ্ভিদের রয়েছে নানা ভেষজ গুণাগুণ। লোকজ চিকিৎসায় এর শিকড় ও পাতার রস বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে। অথচ সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সচেতনতার অভাবে এই উদ্ভিদটি আজ আমাদের চারপাশ থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। নগরায়ণের আগ্রাসনে ইট-পাথরের শহরে এখন আর আগের মতো পটপটি গাছের দেখা মেলে না।

‎‎আমাদের যান্ত্রিক জীবনে প্রকৃতির ছোঁয়া দিন দিন কমে আসছে। পটপটির মতো এই সাধারণ উদ্ভিদগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আনন্দ পেতে সবসময় দামী খেলনার প্রয়োজন হয় না; প্রকৃতির বুকেই লুকিয়ে থাকে সুখের চাবিকাঠি।

‎‎শৈশবের নস্টালজিয়া জাগিয়ে তোলা এই পটপটি গাছটি আমাদের জীববৈচিত্র্যেরই একটি অংশ। আগাছা ভেবে একে উপড়ে ফেলার আগে অন্তত একবার ভাবা উচিত, এটি আমাদের কতশত স্মৃতির সাক্ষী। আসুন, প্রকৃতির এই অবহেলিত উপহারগুলোকে চিনে রাখি এবং আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে এই চেনা ইতিহাসগুলো বাঁচিয়ে রাখি।
‎লেখক: ‎তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

ফকিরহাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‌্যালি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
ফকিরহাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‌্যালি

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: “সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বাগেরহাটের ফকিরহাটে ডেঙ্গুৃ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলায় উদ্যোগে র‌্যালি বের হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যৌথ শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টায় র‌্যালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্ত্বর থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

র‌্যালিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রোকনুজ জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: আসাদুজ্জামান সাগর, আরএমও ডা: সরদার তানভীর মাহমুদ অনিক, মেডিকেল অফিসার ডা: মিসকাতুস সালেহীন, ডা: মৃনাল কান্তি সাহা, ডা: মনোজ মালাকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: গোলাম মোস্তফা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, সহকারী প্রোগ্রামার মো: আলমগীর হোসেন, উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর দেবরাজ মিত্র ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, ডাক্তার, নার্স, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: আসাদুজ্জামান সাগর বলেন. আমাদের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা যেকোনো পাত্রে যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে নিয়মিত নজর দেওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রোকনুজ জামান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের মানুষকে নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আশেপাশে ও বাড়ির আঙিনায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার রাখার আহবান জানান।

কলারোয়ায় আল আমিন ফ্যাইন্যান্স এর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযাগে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় আল আমিন ফ্যাইন্যান্স এর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযাগে মানববন্ধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে গ্রাহকের দুইকোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা হওয়া আল আমিন ফ্যাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্টের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার এবং টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টায় কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ওই প্রতিষ্ঠানে টাকা রেখে প্রতারিত হওয়া শতাধিক গ্রাহক এ অভিযোগ করেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক, জাহানারা খাতুন, আব্দুস সাত্তার, সাবিনা খাতুন প্রমুখ।

বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ২০১২ সাল থেকে কলারোয়া থেকে ১৩৬ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় দুইকোটি ২৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় আল আমিন ফ্যাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক সবুজ। ২০১৩ সাল থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও গ্রাহকদের একটি টাকাও ফেরত না দিয়ে চম্পট দেয় প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ছোটাছুটি করেও কোন টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন বলেন, মেয়ের বিয়ের জন্য তীল তীল করে ৪লক্ষ টাকা জমিয়েছিলাম। সে সময় প্রতারক ওমর ফারুক সবুজ অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রলোভনে পড়ে সমুদয় টাকা আল আমিন ফ্যাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছিলাম। কিন্তু ওই প্রতারক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিনেও টাকাগুলো ফেরত দেয়নি।

হোটেলের কর্মচারী স্বামী বিধবা সাবিনা খাতুন বলেন, হোটেল শ্রমিকের কাজ করে জমানো ৬৩ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে ওই প্রতারক প্রতিষ্ঠান। আমি পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি। অসুস্থ্য হওয়ার পরেও ঔষধ কিনে খেতে পারি না। আমি আমার টাকা ফেরত চাই। সাথে সাথে ওই প্রতারকদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ওমর ফারুক সবুজের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ওই টাকা হেড অফিসে জমা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি চালু আছে না বন্ধ হয়ে গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন জমি ক্রয় করতে গিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। তবে এটার দায় স্থানীয় কর্মচারী আবু সাঈদ সবুজের।

তবে আবু সাঈদ সবুজ বলেন গ্রাহক টাকা পাবে। কিন্তু পাওনা টাকার অংকটা কম। এত টাকা হওয়ার সুযোগ নেই। গ্রাহক পাবে ২৬ লক্ষ টাকা। ইতোমধ্যে কিছু টাকা পরিশোধও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া আমি তো কর্মচারী ছিলাম মাত্র।

বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে শ্যামনগরে আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে শ্যামনগরে আলোচনা সভা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১ টায় উক্ত অনুষ্ঠানে সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোছাঃ মাহমুদা সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইরফান হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মোঃ রেজাউল করিম, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফায়সাল আহমেদ, জিএম আব্দুল জলিলসহ পরিবেশকর্মী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সিপিজির সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এসময় বক্তারা বলেন, জীববৈচিত্র্য পৃথিবীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। বন, নদী, জলাভূমি ও বন্যপ্রাণী রক্ষার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্ভব। মানুষের অসচেতন কর্মকান্ড, বন উজাড়, নদী দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে পড়েছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গাছ লাগানো, প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং বন্যপ্রাণী শিকার ও নিধন বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিপাদ্য: “প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ”।