পথের কোলে তাহাদের মৃত্যু
সুজন হোসেন
তোমাদের পিতার ছায়া মিলিয়াছে, মিলিতেছে আজও;
তবে যাহার পিতার অস্তিত্ব নাই এই পৃথিবীতে আর?
তাহাদের তরে কি শুধুই মৃত্যু আসে দিনরাত্রে?
তাহাদের শেষ আলিঙ্গন শুধু মৃত্যু পক্ষ থেকেই আসে।
তোমাদের দেওয়া গালি হইয়াছে সমাজের কাছে দোয়া,
আর তাহাদের করা প্রার্থনাও মনে হয় যেন অশ্লীল গালমন্দ!
বদলাতে দৃষ্টিভঙ্গি সমাজের,মোদের ডাকিতে হইবে মিছিল;
অত্যাচারীর মতো নির্বাসন দিতে হইবে বিবেককেও,
হত্যা করিতে হইবে পৃথিবীর যত গোলাপের কাঁটা।
ওডিসিয়াস ঘরে ফিরিল তাহার, আপন মাতার কোলে শুইয়া;
তবে যাহাদের নাই মাতা, তাহাদের কোন কোল আছে ধরায়?
ধনিকের গালমন্দগুলো মোদের কাছে লাগে দোয়ার মতন,
তবে তাহাদের আওয়াজেই যেনো রহিয়াছে বড় অভিশাপ।
তোমাদের পিতা যবে আনিয়াছিল পুতুল, খেলিয়ারে তাহা লয়ে;
যবে তোমরা খেলো, পুতুলের বিবাহ দাও আরেকটির লগে,
তখন তাহারা ফুটপাতে তোমার পিতার কাছে বেচে আরেকটা পুতুল।
রাত্রি যবে গভীর হয়, পৃথিবী যবে হইয়া যায় নীরব দর্শক;
যবে রাত্রি দখলে যায় হুতুম পেঁচা আর কোনো অশরীরীর,
তোমাদের শহর যখন নীরবতার দখলেÑতখন তাহারা জাগিয়া রয়
ক্ষুধার পীড়নে! অবিক্রীত রহিয়াছে পুতুল আর হাতের মমত্ববোধ।
ভালোবাসা আর বেচা হইল না এ সভ্য সমাজের শহরে তাহার;
যখন তোমরা ঘুমে,বিভোর হইয়াছ অপার্থিব এক কামে, তখনও
তাদের চলাচলÑচলিতেছে অবিরত নৈশভোজের সংস্থান অন্বেষণ।
তাদের চক্ষে ঘুম নাই, তাদের সুখ নাই, সময় নাই;
জীবন নাই, আত্মহত্যা করিয়া মরিবার মতো মরণও নসিবে নাই।
তবে তাহাদের রহিয়াছে আত্মসম্মান অঢেল, হিমালয় সম!
কাটিয়া যাইবে গলা, তবু তাহাদের চক্ষু রহিবে আকাশ পানে চাহিয়া;
কোটরচ্যুত হইবে দু-চক্ষু, তবে দেখা যাইবে না সে চক্ষে সামান্য ভয়।
তাদের দৃষ্টি ফুঁড়িয়া যায় মহাকাশ, ছিঁড়িয়া ফেলে কবির হৃৎপি-!
কাটিয়া যাইবে হস্তযুগল,তবু ভিক্ষাবৃত্তিতে নামিতে নারাজ একেবারই;
কাটিবে মস্তক, তবু আত্মমর্যাদা ক্ষুণœ হইবে না সামান্যতম।
তাহাদের সম্মানে ধনিক শ্রেণীর উপর দেখাই আমি মধ্যমাঙ্গুলি!
তাহাদের সংগ্রাম বীরশ্রেষ্ঠ অপেক্ষাও কোনো অংশে কম নহে;
তাদের জীবন ত্যাগ কোনো যুদ্ধে লাঞ্ছিতার চেয়ে কম নহে।
তাহাদের আত্মসম্মান আমার প্রেমিকার অপেক্ষাও অধিক;
তাহার কর্মস্পৃহা কোনো যন্ত্রমানবের অপেক্ষাও উন্নততর।








