শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

পরীক্ষার্থীর সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে প্রশংসায় পুলিশ সদস্য শিল্পী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
পরীক্ষার্থীর সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে প্রশংসায় পুলিশ সদস্য শিল্পী

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে কোলে থাকা ছোট শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন এক নারী পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শুরুর সময় ঘনিয়ে এলেও শিশুকে কার কাছে রাখবেন, তা নিয়ে তৈরি হয় দুশ্চিন্তা। ঠিক তখনই পরম মমতায় এগিয়ে আসেন দায়িত্বে থাকা এক নারী পুলিশ সদস্য। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ঘটে এই ঘটনা।

পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল শিল্পী নারী পরীক্ষার্থীর দুশ্চিন্তা বুঝতে পেরে বাড়িয়ে দেন সহায়তার হাত। তিনি পরম স্নেহে শিশুটিকে নিজের কোলে তুলে নেন এবং পুরো পরীক্ষার সময় ধরে তার দেখভাল করেন। পুলিশ সদস্যের আশ্রয়ে শিশুটি শান্ত থাকায় নিশ্চিন্তে পরীক্ষার হলে গিয়ে অংশ নেন মা।

ঘটনাটি উপস্থিত অন্যান্য পরীক্ষার্থী ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের নজরে এলে কনস্টেবল শিল্পীর এই মানবিক আচরণ প্রশংসা কুড়ায়। মুহূর্তেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

উপস্থিত অনেকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গতানুগতিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কনস্টেবল শিল্পী মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একজন নারী যেন শুধু সন্তান সামলানোর কারণে জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর দিয়ে তিনি প্রশংসনীয় কাজ করেছেন।

Ads small one

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গৃহবধূর আত্মহত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গৃহবধূর আত্মহত্যা

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সারথী সরকার নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সারথী সরকার ওই গ্রামের বিশ্বনাথ সরকারের স্ত্রী।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার ও দৈনন্দিন কাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরে বিশ্বনাথ সরকারের বড় ছেলে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে মাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সারথী সরকার ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে দেখতে পান। তবে ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি কালিগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে পরিদর্শন শেষে মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে কী কারণে সারথী সরকার আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তা তাৎক্ষণিক ভাবে জানা যায়নি।

সাতক্ষীরায় ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাত রোগী হাসপাতালে ভর্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাত রোগী হাসপাতালে ভর্তি

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রেরিত ডেঙ্গু রোগী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আক্রান্তদের প্রয়োজন অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরায় মোট ২০১ জন ডেঙ্গু রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৫৪ জন রোগী। এসময় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে ৩ রোগীকে। তবে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখনো পর্যন্ত রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদরের হাসপাতালভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন। এছাড়া কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এখন নপর্যন্ত সর্বাধিক ১১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া সদর হাসপাতালে ২৫ জন এবং তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ এবং শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো খুবই জরুরি। বাড়িঘর ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার পাশাপাশি ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসাসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, “জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথাসহ ডেঙ্গণর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”

পাইকগাছায় বাড়ছে ডেঙ্গু-হামের প্রকোপ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপজেলাবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় বাড়ছে ডেঙ্গু-হামের প্রকোপ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপজেলাবাসী

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছায় এখন নিঃশব্দে থাবা বসাচ্ছে ডেঙ্গু ও হামের মতো সংক্রামক রোগ। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে উপজেলা জুড়ে এই দুই রোগের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যকে নতুন এক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গত ১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর এই ৩৩ দিনের ব্যবধানে কেবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই সেবা নিয়েছেন ৮৩ জন। এর মধ্যে ডেঙ্গুর বিস্তার যেমন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, তেমনি হামের উপস্থিতি নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে উপজেলাবাসীকে।

হাসপাতাল সূত্রে প্রকাশ, উল্লেখিত ৩৩ দিনে উপজেলায় হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। এর মধ্যে প্রত্যেককেই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হওয়ায় তাদের মধ্য থেকে দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেলে রেফার্ড করতে হয়েছে চিকিৎসকদের।

অন্যদিকে, একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৬৫ জন চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে ১৬ জন বহির্বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও, ৪৯ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করছেন ১৬ জন রোগী। অবস্থার অবনতি হওয়ায় এ পর্যন্ত ৫ জন ডেঙ্গু রোগীকে খুলনা বা অন্য উন্নত কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু রোধের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাসাবাড়ির আশপাশ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে দিনের বেলায় মশারি টানানো কিংবা বডি রিপেলেন্ট ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন তারা। জ্বর, তীব্র মাথা বা চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা জয়েন্টে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, হামের সংক্রমণ অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায় বিধায় আক্রান্ত রোগীকে শুরুতেই আলাদা বা আইসোলেশনে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, সর্দি, কাশি ও গায়ে লালচে ভাব বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, “হাম কিংবা ডেঙ্গু কোনটিই আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নয়, তবে এটি অবহেলারও অবকাশ রাখে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পানি জমতে দেওয়া যাবে না। শিশুদের টিকাদান শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ফার্মেসি থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।”

কেবল সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের একক প্রচেষ্টায় এই স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন প্রতিটি পরিবারের সম্মিলিত উদ্যোগ। বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করার মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে এই প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ৩৩ দিনের এই ৮৩ জনের পরিসংখ্যান কোনো বিচ্ছিন্ন সংখ্যা নয়; বরং এটি আগামী দিনের বড় কোনো বিপদের পূর্বাভাস। সময়মতো সচেতনতার বর্ম গায়ে জড়াতে না পারলে পাইকগাছার জনস্বাস্থ্য এক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা।