মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

পশ্চিম তীরে মার্কিন আইনপ্রণেতাকে বন্দুকের নলের মুখে আটকে রাখলো ইসরায়েলি সেটেলাররা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
পশ্চিম তীরে মার্কিন আইনপ্রণেতাকে বন্দুকের নলের মুখে আটকে রাখলো ইসরায়েলি সেটেলাররা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র সশরীরে দেখতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য রো খান্না। ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের খোঁজখবর নেওয়ার সময় আমেরিকার তৈরি অস্ত্রধারী ইসরায়েলি সেটলাররা তাকে বন্দুকের নলের মুখে আটকে রাখে।

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রগতিশীল এই আইনপ্রণেতা শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আমার ফিলিস্তিন সফরের সময় আমেরিকার তৈরি এম-৪ রাইফেল উঁচিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা আমাকে এবং অন্য আমেরিকানদের আটকে রাখে।

তিনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দিকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, যখন আইডিএফ (ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস) সেখানে পৌঁছায়, তারা বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষ নেয় এবং আমাদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখে।

এই আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা একটি মস্ত বড় ভুল করেছে।

রো খান্না পশ্চিম তীরের খিরবেত জানুতা নামের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানকার বাসিন্দারা ইসরায়েলি সেটেলারদের হাতে জাতিগত নিধনের শিকার হয়েছেন। উগ্রপন্থি সেটেলারররা ওই গ্রামের স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে, ঘরবাড়ি লুটপাট করেছে, রাইফেল ও পাথর দিয়ে বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া তারা জানালার কাচ ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল ভেঙে ফেলা, পানির ট্যাংক খালি করা এবং ফসলি জমিতে অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য ফেলার মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রো খান্না বলেন, আমরা এমন একটি গ্রামে ছিলাম যা ইসরায়েলি সেটেলাররা ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা সেখানকার স্কুল এবং পুরো গ্রামটিই ধ্বংস করে দিয়েছে, আমরা কেবল তা দেখছিলাম। ঠিক তখনই আমেরিকার তৈরি এম-৪ মেশিনগান হাতে একদল গুন্ডা এসে আমাদের রাস্তা অবরোধ করে আটকে রাখে। এরপর তারা আইডিএফ-কে ডাকে এবং আইডিএফ আমেরিকানদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো ওই গুন্ডাদের পক্ষ নেয়।

কংগ্রেস সদস্য খান্নার সঙ্গে সফররত তার সহকারী ক্যামেরন কাস্কি জানিয়েছেন, সেটেলাররা এই প্রতিনিধিদলটিকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রেখেছিল। এই পরিস্থিতিতে তারা সাহায্যের জন্য জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে বারবার যোগাযোগ করেন। কাস্কি জানান, অবশেষে ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তারা এসে হস্তক্ষেপ করেন এবং তাদের মুক্তি নিশ্চিত করেন।

তবে কট্টর ইসরায়েলপন্থি মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এই মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষে কোনও হস্তক্ষেপ করেছিলেন কিনা বা তাদের সঙ্গে হওয়া এমন আচরণের কোনও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী খিরবেত জানুতার কাছে সেটেলারদের দ্বারা গাড়ি আটকে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও দাবি করেছে যে, তাদের বাহিনীই এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পায়। এই সহায়তার অর্থ দিয়েই মার্কিন প্রযুক্তির এম-৪ রাইফেলের মতো অস্ত্র কেনা হয়, যা এখন ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরায়েলি সেটেলারদের হাতে দেখা যাচ্ছে।

গাজায় চলমান গণহত্যা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বর্ণবাদী নীতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ব্যাপকভাবে ধসে পড়েছে। রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের গ্রহণযোগ্যতার হার ২০১৮ সালের ৫৯ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে চলতি বছরের মে মাসে মাত্র ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Ads small one

বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমী, সহযোগিতা করলে দ্রুত উন্নতি করবে: যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমী, সহযোগিতা করলে দ্রুত উন্নতি করবে: যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত

ঠাকুরগাঁওয়ে ঐতিহ্যবাহী ২০০ বছরের পুরনো এশিয়ার সর্ববৃহৎ আম গাছ ও সমতলের চা বাগান পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকালে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী সীমান্তের আম গাছ ও সীমান্তের নিটলডোবা গ্রামে সমতলের চা বাগান পরিদর্শন করেন। তিনি চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজে শ্রমিক সেজে বাগানে চা এর পাতা তোলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মন্তব্য করে বলেন, আমি সমতলে চা কখনও দেখিনি। এই প্রথম বাংলাদেশে সমতলে চা চাষ দেখে সীমাহীন খুশি হয়েছি। আরও খুশি হয়েছি এত পুরনো আম গাছ দেখে। আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। এখানকার মানুষ খুবই পরিশ্রমী। তাদের সহযোগিতা করলে তারা দ্রুত উন্নতি করবেন। আমরা সবসময় আপনাদের সঙ্গে থাকবো। ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।

এ সময় তার সঙ্গে টি স্টেটের মালিক ফয়জুল ইসলাম হিরু, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূতের এ সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ সময় তিনি স্থানীয় ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং সুলতান টি ও ঐতিহাসিক আমগাছের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত হন।

মমতার ভাইঝির রহস্যজনক মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
মমতার ভাইঝির রহস্যজনক মৃত্যু

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝি বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় ঘটকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বীরভূম জেলার রামপুরহাটে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

২৮ বছর বয়সী বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের মৃতদেহটি বিকেলে তার রামপুরহাটের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রামপুরহাট সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি গত কয়েক বছর ধরে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং তার চিকিৎসা চলছিল। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, স্বামী ও তার মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল।

পূর্বে স্কুল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধভাবে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বৃষ্টির বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারচুপির কারণে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর তিনি চাকরিটি হারান বলে জানায় পরিবার।

পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বীরভূমের রামপুরহাটে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পাঁচবারের সাবেক এই বিধায়ক একটি চিরকুট রেখে যান, যেখানে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছিলো বলে দাবি করেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।”

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সেক্রেটারি অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে।

এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও হয়রানির বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন অ্যান্ডা ফিলিপ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বলে মনে করেন আইপিইউ সেক্রেটারি। সাক্ষাতে নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ সংশ্লিষ্টরা।