পাটকেলঘাটায় প্রতারণার শিকার নারীর আত্মহত্যার চেষ্টা, থানায় অভিযোগ
পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে এক নারী প্রতারণা ও সর্বস্ব খোয়ানোর শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর লোকলজ্জা ও ক্ষোভে কপোতাক্ষ নদের তীরে ইকো পার্কে ওই নারী বিষাক্ত বড়ি খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী অঞ্জনা দাসের (২৫) বাড়ি তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামে। পাঁচ বছর আগে বিয়ে হওয়া অঞ্জনার তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় তিনি বর্তমানে বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। এর মধ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের সুকুমার দাসের ছেলে সম্রাট দাসের (৩০) সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্রাট দাসও বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক।
গত ৫ জুন সন্ধ্যায় নতুন করে সংসার বাঁধার প্রলোভন দেখিয়ে অঞ্জনাকে পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ ইকো পার্কে ডেকে আনেন সম্রাট দাস। খিলঘাটা পপুলার ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অঞ্জনা দাস জানান, ইকো পার্কে দীর্ঘ সময় কাটানোর একপর্যায়ে সম্রাট তাঁর কানের দুল, গলার চেইন, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মেমোরি কার্ড কেড়ে নেন এবং তাঁর ওপর নির্যাতন চালান। এরপর সম্রাট তাঁকে ফেলে রেখে পালিয়ে গেলে অঞ্জনা সেখানেই বিষাক্ত বড়ি খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় পথচারীরা অচেতন অবস্থায় অঞ্জনাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটকেলঘাটার ‘সেবা ক্লিনিক’ ও পরে ‘স্বাগতা ক্লিনিক’-এ নিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে রাতে তাঁকে পাটকেলঘাটা বলফিল্ড মোড়ের ‘পপুলার ক্লিনিক’-এ ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর অঞ্জনা কিছুটা সুস্থ হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিবারের সন্ধান পায়।
এই ঘটনায় অঞ্জনার পরিবার পাটকেলঘাটা ও কালীগঞ্জÑউভয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযুক্ত সম্রাট দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।








