প্রতাপনগরে ওয়াপদার বাঁধে অবৈধ পাইপ অপসারণের নোটিশ অগ্রাহ্য
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ কেটে অবৈধভাবে পাইপ বসিয়ে নোনা পানি তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত দুদিনের মধ্যে এই অবৈধ পাইপ অপসারণের জন্য পাউবো থেকে নোটিশ দেওয়া হলেও নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি সদস্য আসলাম হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, প্রতাপনগরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাকলা পশ্চিম পাড়া পুরাতন ক্লোজারের খাসখালে নোনা পানির মৎস্য ঘের রয়েছে। সেখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি খাসখালে একটি গেট রয়েছে। তবে ওই খালে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বাঁধ বা পাটা বসিয়ে নোনা পানির ঘের করায় কৃষকদের ধান চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে লবণাক্ত পানি এলাকার ভেতরে প্রবেশ করছে। আগে থেকে প্রভাবশালীরা ওই খালে জোরপূর্বক ঘের পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। আউটড্রেন নির্মাণের কথা থাকলেও তা না করায় ধান চাষে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সোহরাব সানার বাড়ির পাশের ছোট গেটে পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের সাময়িক ব্যবস্থা নিয়েছেন। অন্যদিকে তেলিখালী মৌজায় একমাত্র গেটটি এলাকার নিষ্কাশন চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। এ জন্য সোহরাব সানার বাড়ির পাশের গেটের কাছে একটি স্লুইসগেট স্থাপনের জোর দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এছাড়া ওয়াপদার রাস্তার বাইরে প্রায় ১০০ পরিবার বসবাস করে, যারা বছরে দুই-তিনবার প্লাবিত হয়। এই পরিবারগুলোর নিরাপত্তায় এগিয়ে আসে বেসরকারি সংস্থা ‘উত্তরণ’। তারা নদীর পাশে মৎস্য ঘেরের বাঁধের ওপর ২৫ ফুট প্রশস্ত ও ৪ ফুট উঁচু একটি সুরক্ষাবাঁধ নির্মাণ করে দেয়, যার ফলে পরিবারগুলো সেখানে নিরাপদে বসবাসের সুযোগ পায়।
তবে সাবেক ইউপি সদস্য আসলাম হোসেন গাজী সেই প্রটেকশন বাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে নোনা পানি তুলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ওয়াপদার ভেতরের মৎস্য ঘেরে নোনা পানি নিতে সব নিয়ম উপেক্ষা করে পাউবোর মূল বাঁধ কেটে মাটির আনুমানিক ৩ থেকে ৪ ফুট নিচ দিয়ে পাইপ বসানো হয়েছে। এই লবণাক্ত পানির কারণে পার্শ্ববর্তী জমি ধান চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে কৃষকদের রোপণ করা ধানের চারা নোনা পানির প্রভাবে মারা যাচ্ছে।
এ প্রতিকারের দাবিতে মানববন্ধন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সবশেষ সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর আওতাভুক্ত ৭/১ পোল্ডারের চাকলায় ভেড়িবাঁধ কাটার অপরাধে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ও শাখা কর্মকর্তা আলমগীর কবির ২৭ আগস্ট স্বারক নম্বর এল ৬/৬০-এর মাধ্যমে নোটিশ প্রাপ্তির দুদিনের মধ্যে পাইপ অপসারণের নির্দেশ দেন। গত ২৯ আগস্ট আসলাম হোসেন গাজী নোটিশ গ্রহণ করলেও নির্দেশ বাস্তবায়ন করেননি বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী সরজমিনে তদন্তপূর্বক শত শত বিঘা জমি ধান চাষের উপযোগী করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।








