শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

বিবিসির প্রতিবেদন: বাংলাদেশে ফেরার জন্য ভারত সীমান্তে অপেক্ষা, জেরা এবং তারপর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
বিবিসির প্রতিবেদন: বাংলাদেশে ফেরার জন্য ভারত সীমান্তে অপেক্ষা, জেরা এবং তারপর

অনলাইন ডেস্ক: যারা ভারতে অবৈধপথে গিয়েছিলেন, তারা যদি ‘স্বেচ্ছায়’ ফিরে যেতে চান তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে, ওই ঘোষণার আগেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য অনেক মানুষ প্রতিদিন হাজির হচ্ছেন সাতক্ষীরা আর পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত অঞ্চলে।

 

তাদেরই একজন বাচ্চু মুন্সি বলেন, ‘যখন আমার বছর দশেক বয়স, বাবা মায়ের হাত ধরে ভারতে চলে আসি। প্রায় ৩৮ বছর হয়ে গেল, এখানেই বিয়ে করেছি, ছেলেমেয়ে হয়েছে। তাদের বিয়েও দিয়েছি এখানে।’

কলকাতার দমদম বিমানবন্দর লাগোয়া এলাকায় থাকতেন বাচ্চু মুন্সি। তিনি সপরিবারে হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনার একটি সীমান্ত চৌকি- হাকিমপুরে। বাচ্চু জানান, তিনি খুলনা জেলার বাসিন্দা।

 

বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য হাকিমপুর সীমান্তে প্রতিদিনই হাজির হচ্ছেন বাচ্চুর মতো আরও বহু নারী-পুরুষ ও শিশু। তাদের দাবি, তারা কেউ যশোর, কেউ খুলনা, কেউ সাতক্ষীরা থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। কেউ যান বছর দুয়েক আগে, কেউবা পাঁচ-ছয় বছর আগে।

 

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়ী হয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিন পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দেন, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’দের আর থাকতে দেওয়া হবে না। তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এরপর গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই সাত সকালে সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন নিজের দেশে ফিরে যেতে চাওয়া মানুষরা।

 

হাকিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুর গাজি বলেন, শুরুর দিকে দৈনিক ১০-১২ জন করে আসছিল। এরপর প্রতিদিনই বাড়ছে এই সংখ্যা। দিন তিনেক আগে থেকে সংখ্যাটা কয়েকশোতে গিয়ে ঠেকেছে।

 

সীমান্তে যারা জড়ো হচ্ছেন তাদের অনেকেই বলছেন, তারা ‘চোরাই পথে’ ভারতে গিয়েছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গে ‘অবৈধভাবেই’ বসবাস ও কাজকর্ম করছিলেন।

 

সীমান্ত চৌকিতে একদিন
হাকিমপুর এলাকাটা উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার অধীনে। বিএসএফের চেকপোস্ট পেরিয়ে কিছুটা গেলেই তারালি গ্রাম, তারপরই সোনাই নদী। নদীর ওপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা।

 

সীমান্ত চৌকিতে দাঁড়িয়ে গত বুধবার বিবিসির সাংবাদিক অমিতাভ ভট্টশালী দেখেন, বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য সীমান্তে জড়ো হওয়া মানুষদের প্রথমে একটি পরিত্যক্ত ঘরে অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। সেখান থেকে পুলিশ কর্মীরা একেকটি পরিবারকে ডেকে এনে নথি যাচাই করছেন। বাংলাদেশের পরিচয়পত্র দেখার পাশাপাশি লিখে নেওয়া হচ্ছে নাম ও স্থায়ী ঠিকানা। এরপর ছবি তোলা হচ্ছে।

 

সীমান্তে যাওয়া ব্যক্তিদের কীভাবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন বা বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেনি। তবে স্থানীয় গ্রাম হাকিমপুরের বাসিন্দারা সব কার্যক্রমই দেখেছেন। তাদের একজন ব্যবসায়ী হাসানুর গাজি জানান, চেকপোস্টে নথি যাচাই হচ্ছে, বায়োমেট্রিক হচ্ছে। এরপর সীমান্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বিএসএফ। এখান থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে আমোদিয়া বলে একটা হাঁটা বর্ডার আছে, সেখান দিয়ে পার করে দিচ্ছে। দিনের বেলাতেও করছে, আবার অনেক সময়ে রাত হয়ে যাচ্ছে।

 

গত বুধবার হাকিমপুরের সীমান্ত চৌকিতে কয়েকজনের নথি যাচাইয়ের পর অপেক্ষা করতে বলা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা সেখানেই অপেক্ষা করেন। এরপর তাদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় স্বরূপনগর থানা এলাকাতে গড়ে তোলা ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবিরে।

 

‘ভারতের ভোটার কার্ডও করিয়েছিলাম’
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফা শাওজি জানান, সীমান্ত পেরিয়ে যারা বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য জড়ো হয়েছিলেন, তাদের অনেকের কাছেই ভারতের নানাবিধ পরিচয়পত্র আছে। কারো কাছে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রও আছে। সবাই হয়তো এ বিষয়ে কথা বলছে না, কিন্তু পরিচয়পত্র দেখিয়েছে।

 

ভারতের ভোটার কার্ড থাকার কথা স্বীকার করেছেন সীমান্তে অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন। এরকমই একজন বাচ্চু মুন্সি। তিনি বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করে ভোটার কার্ড করিয়েছিলাম। আধার কার্ড, প্যান কার্ডও করিয়েছিল। প্রথমবার আমি এখানে ভোট দিয়েছিলাম ২০২৪ সালে।’

 

তবে বাধ সেধেছে ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বাচ্চুর পরিবারের নাম।

 

নাজমা নামের একজন বলেন, ‘বিজেপি এখানে সরকারে আসার পর থেকেই তো বলে দিয়েছে আমাদের আর থাকতে দেবে না। তাই বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছি নিজের দেশে। বাংলাদেশের লোক ধরলেই জেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এখন সুযোগ দিয়েছে ফেরত চলে যাওয়ার, তাই চলে যাচ্ছি।’ নাজমার দাবি তিনি যশোরের আদি বাসিন্দা।

 

‘ভারতে আর ফিরব না’
নিজেকে সাতক্ষীরার বাসিন্দা বলে দাবি করা রাইসা পারভিন বলেন, ‘বিজেপি যখন থেকে জিতে এসেছে, তারপর থেকেই বলছে বাংলাদেশিদের আর থাকতে দেবে না। তাই আমি, আমার স্বামী, সন্তানদের নিয়ে চলে যেতে চাই। এসআইআরের সময়ে যখন অনেকে বাংলাদেশে চলে গেছে, সেই সময়েই আমার বাবা-মা ফিরে গেছেন।’

 

শেখ মাসুদ রানা নামে আরেকজন বলেন, ‘সরকারি ঘোষণা তো আছেই, একই সঙ্গে তারা যে অঞ্চলে থাকতেন, সেখানকার পুলিশ কড়াকড়ি করছে। বাড়িওয়ালারাও আর থাকতে দিতে চাইছে না।’

 

সীমান্তে জড়ো হওয়া আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি বাংলা। তাদের মধ্যে আছেন আখতারুল মোড়ল। তিনি বলেন, ‘পুলিশ এসে ঝামেলা করছে, বলছে বাংলাদেশিরা ভাগো। আগেরবার যখন এসআইআর হলো, সেই সময়ে চলে গেলেই ভালো হতো।’ শাহিন আলম মোল্লা নামে আরেকজন বলেন, তিনি আর ‘অবৈধ পথে’ ভারতে ফিরবেন না। ফিরলেও বৈধভাবে পাসপোর্ট নিয়ে বেড়াতে যাবেন।

Ads small one

বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধাপরাধ: ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধাপরাধ: ইরান

ইরানের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো নতুন হামলায় এক বিভীষিকাময় ট্র্যাজেডি ঘটে গেছে। মার্কিন বাহিনী এই অভিযানকে সফল বললেও ইরানের সিরিক কাউন্টিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে তারা। বর-কনে আর অতিথিদের আনন্দময় মুহূর্তটি চোখের পলকে কান্নার রোলে ভেসে যায়।

ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, বিয়ের আসরে চালানো ওই হামলায় অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৬৭ জন। এই ভয়াবহ ঘটনাকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরপরাধ মানুষের ওপর এমন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে বারবার শিশু ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে।

তবে এই অভিযোগের জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, তারা খবরটি সম্পর্কে জানেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী কখনোই সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।

এদিকে হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে অভিযানের খোলামেলা প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী গত রাতে ইরানকে খুব শক্ত আঘাত করেছে। প্রয়োজনে যেকোনো সময় তারা আবার হামলা চালাতে প্রস্তুত।

ট্রাম্প আরও জানান, মার্কিন সেনাবাহিনী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং ইরানের রাডার ও মাইন বসানোর ক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পানিপথটির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখারও আভাস দিয়েছেন তিনি। একদিকে ওয়াশিংটনের কড়া হুমকি, আর অন্যদিকে বিয়ের অনুষ্ঠানে মানুষের রক্তাক্ত লাশ—সব মিলিয়ে সংঘাত এখন চরম রূপ নিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি।

ভারতের রাফাল ধ্বংসকারী সেই যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
ভারতের রাফাল ধ্বংসকারী সেই যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে ভারত যে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল তার জের ধরে দেশটির অন্তত পাঁচটি যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি ইসলামাবাদের।

ভারতের পাঁচটি জেট ফাইটার ভূপাতিত করার কথা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে প্রথম বলেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার।

তবে তিনি তখন এর বেশি কিছু বিস্তারিত জানাননি। যদিও পরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের (আইএসপিআর) মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেন, ভারতের পাঁচটি ভূপাতিত বিমানের মধ্যে তিনটি অত্যাধুনিক রাফাল, একটি সুখোই ও একটি মিগ-২৯।

বিবিসি ভেরিফায়েড জানিয়েছিল, ভারতের পাঞ্জাবের একটি কৃষিক্ষেতে রাফাল যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ পড়েছিল এবং সেনা সদস্যরা সেগুলো সরানোর কাজে যুক্ত ছিল।

ফ্রান্সের ডাসোঁ অ্যাভিয়েশনের তৈরি রাফাল হলো ভারতীয় বিমানবাহিনীর সম্ভারে সবচেয়ে আধুনিক ও বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান।

রাফালকে ধ্বংস করতে পাকিস্তান ব্যবহার করেছিল চীন থেকে কেনা ‘জে-১০ সি ই’ যুদ্ধবিমান। আর সেই যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ কিনতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে বাংলাদেশ প্রথম যে যুদ্ধবিমান কিনেছিল এর আনুষ্ঠানিক নাম এফ-৬। ১৯৭৭ সালে চীন থেকে এসব যুদ্ধবিমান কিনেছিল বাংলাদেশ।

ঢাকার বিজয়স্মরণী থেকে জিয়া উদ্যানের দিকে গেলে রাস্তার মোড়ে মাঝারি আকারের যে যুদ্ধবিমান চোখে পড়ে, সেটি এ ধরনের বিমান। বিমানটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর একে উন্মুক্ত প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়।

আনুষ্ঠানিক নাম এফ-৬ হলেও চীনে বিমানটি পরিচিত জে-সিক্স নামে।

বাংলাদেশ এখন চীন থেকে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন যেসব যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে সেটার নাম অবশ্য জে-টেন সি ই।

সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে আলোচিত এ যুদ্ধবিমানটি দিয়েই পাকিস্তান তার প্রতিপক্ষ ভারতের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রাফাল বিমান ভূপাতিত করার দাবি করে।

রাফাল ভূপাতিত করার দাবি নিয়ে সেসময় আলোচনা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও চীনের জে-টেন বিমান নিয়ে খবর-বিশ্লেষণ উঠে আসে।

বাংলাদেশ এখন যে তার বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহের কথা বলছে, সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে চীনের এই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান জে-টেন কেনার উপর।

বলা হচ্ছে, ইতোমধ্যেই এই বিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে গেছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের পরিকল্পনায় শুধু কি যুদ্ধবিমানই যথেষ্ট?

আকাশ প্রতিরক্ষা, প্রশিক্ষণ, যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবকাঠামো বিবেচনায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

আর চীনের এ যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতায় কতটা পরিবর্তন আনবে?

বাংলাদেশের প্রথম যুদ্ধবিমান কোন দেশের?

বাংলাদেশ ১৯৭৭ সালে চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনে এটা ঠিক। তবে দেশটির প্রথম যুদ্ধবিমানের বহর এসেছিল আরও কয়েকবছর আগে ১৯৭৩-৭৪ সালে।

তখন বাংলাদেশকে বিনামূল্যে যুদ্ধবিমান উপহার হিসেবে দিয়েছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।

সেটা ছিল তখনকার অত্যাধুনিক সুপারসনিক যুদ্ধবিমান মিগ-২১।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, এগুলো ছিল একেবারে ফ্যাক্টরি ফ্রেশ। কারখানা থেকে বের হয়েই আমরা পেয়েছিলাম। মানে রাশান বিমানবাহিনীর বাইরে আমরাই প্রথম পেয়েছিলাম। এমনকি ভারতও আমাদের কয়েকবছর পর মিগ-২১ পেয়েছিল। তখনকার এই অত্যাধুনিক বিমান আমাদের এগিয়ে দিয়েছিল অনেক।

তিনি বলেন, শুধু যুদ্ধবিমান নয়, এর সঙ্গে যত ধরনের মিসাইল, বোমা, রকেট- সব আমাদের দিয়েছিল। তখন থেকেই বিমানবহর শুরু হলো বলা যায়। তখন তো আমাদের কিছুই ছিল না। যুদ্ধের পর এয়াফিল্ডগুলো মেরামত হচ্ছিল। এমনকি ব্যাচের পর ব্যাচ প্রশিক্ষণের জন্য রাশিয়া পাঠানো হয়েছিল।

বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে এখন কী আছে?

বাংলাদেশ প্রথম যুদ্ধবিমান পায় সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে, সেটা হচ্ছে মিগ-২১।

এরপর বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান সংগ্রহের মূল উৎস পরিবর্তিত হয়ে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

১৯৭৭ সালে চীন থেকে এফ-৬, এরপর আশির দশকে আনা হয় এফ-৭।

বাংলাদেশ এরপরও যুদ্ধবিমান কিনেছে। তবে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে একটা বড় পরিবর্তন আসে ১৯৯৯ সালে।

তখন রাশিয়া থেকে আটটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনে বাংলাদেশ। সেগুলো ছিল সেসময়ে পৃথিবীর অন্যতম সেরা আকাশ প্রতিরক্ষা ফাইটার জেট।

তবে ২০২৬ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর বহর বেশ পুরোনো হয়ে পড়েছে। একটা অংশ এখন অচল, আরেকটা অংশ পুরোনো হয়ে অচল হওয়ার পথে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের বিমানবহরে এখন আসলে কী আছে? সরকারিভাবে অবশ্য এর কোন পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না।

তবে সামরিক তথ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ওয়ারপাওয়ার বাংলাদেশ’ এর হিসেবে এর একটা চিত্র পাওয়া যায়। যেখানে দেখা যায় বাংলাদেশের বিমান বাহিনী বহরে এখন বিমান আছে ২১২টি। এর মধ্যে যুদ্ধ বিমান রয়েছে ৪৪টি।

এই ৪৪টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে রাশিয়ার মিগ-২৯ আছে আটটি। আর চীনের নির্মিত এফ-৭ যুদ্ধবিমান ৩৬টি। এই মডেলগুলো কিছুটা পুরোনো।

এছাড়াও আছে ১৪টি ইয়াক-১৩০ বিমান যেগুলো প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হলেও হালকা আক্রমণ চালানোর উপযোগী। রাশিয়া থেকে বিমানগুলো কেনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

চীনের এফটি সেভেন প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান, যুক্তরাষ্ট্রের লকহিডের দুটি সিরিজের কৌশলগত পরিবহন বিমানও আছে বাহিনীতে।

বিমানবাহিনীর বহরে ৭৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে বলেও ওয়ারপাওয়ার বাংলাদেশে তথ্য দেওয়া আছে। এর মধ্যে রাশিয়ার এমআই সিরিজের ৩৬টি হেলিকপ্টার আছে।

আর যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত সেসনা, বেলের বিভিন্ন মডেলের হেলিকপ্টার আছে ২৪টি।

এর পাশাপাশি ফ্রান্স, ইতালি, চেকোস্লোভাকিয়া (চেক রিপাবলিক) থেকে কেনা কিছু প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টারও ব্যবহার করে বাংলাদেশ।

এছাড়া বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর কাছে ৪৪টি ড্রোন রয়েছে বলে জানাচ্ছে ওয়েবসাইটটি। এর মধ্যে ৩৬ টিই স্লোভেনিয়ায় নির্মিত ব্রামর সি ফোর আই।

তুরস্কের তৈরি বায়রাক্তার টিবি টু আছে ছয়টি। গত বছরই এগুলো যুক্ত হয়।

বিমান বাহিনীর সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার বলেন, বাংলাদেশের মিগ-২৯ একটু আধুনিক। কিন্তু সেটাও এখনকার যুগে পুরনো। এর বাইরে আমাদের বাকি যা আছে সবগুলো আরও পুরনো থ্রি-জি প্রযুক্তির। অথচ এখন যে যুদ্ধ হচ্ছে, সেখানে ফোর পয়েন্ট ফাইভ-জি এমনকি ফাইভ-জি প্রযুক্তির স্টেলথ বিমানও ব্যবহার হচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশের বিমানবহর আধুনিকায়ন করার বিকল্প ছিল না। এখন চীন থেকে যে বিমানগুলো আনা হচ্ছে সেগুলো আধুনিক ফোর পয়েন্ট ফাইভ জি প্রযুক্তির।

শুধু যুদ্ধ বিমান কেনাই কি যথেষ্ট?

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের ২০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ। এগুলোকে বলা হচ্ছে মাল্টিরোল ফাইটার জেট।

অর্থাৎ বিমানগুলো আকাশ প্রতিরক্ষায় একইসঙ্গে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী। যেমন-

এয়ার টু এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ এটি আকাশসীমায় শত্রুবিমানকে প্রতিরোধ করতে ব্যবহার করা যায়।

এয়ার টু গ্রাউন্ড অর্থাৎ শত্রু দেশের মাটিতে কোনো টার্গেট থাকলে সেখানে বোমবর্ষণে দক্ষ।

ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ সেনাবাহিনী কোথাও যুদ্ধরত আছে, এই বিমান গিয়ে তাদেরকে সাপোর্ট দিতে পারে। মেরিটাইম এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ সমুদ্রে নৌবাহিনীকে সাপোর্ট দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, এই একটা বিমান, যেটা আমরা কিনতে যাচ্ছি, এটা একাই সব ধরনের কাজ করতে পারে।

তিনি এটাও বলেন, আধুনিক যুদ্ধপরিস্থিতিতে শুধু যুদ্ধবিমানই যথেষ্ট নয়। রাডার, জ্যামিং প্রযুক্তি, মিসাইলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার দেখা যায়। এছাড়া বিমান-নৌ-সেনা অস্ত্র সরঞ্জামের মধ্যে একধরণের ‘রিয়েল টাইম’ সমন্বয়ের উপরও যুদ্ধের সফলতা নির্ভর করছে।

চীনা নির্ভরতার কারণ কী?

বাংলাদেশ বহুমাত্রিক সামরিক সক্ষমতা তৈরি করতে চায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এর জন্য দেশটি মূলত চীনা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।

নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে শুরু করে রণতরী কিংবা সেনাবাহিনীর ট্যাংক, সাঁজোয়া যান থেকে শুরু করে আকাশ প্রতিরক্ষা – সবকিছুর বড় অংশটাই আসে চীন থেকে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সাবমেরিন রয়েছে দু’টি। দুটিই চীনের তৈরি এবং ২০১৭ সালে এগুলো নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়।

এছাড়া গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সব মিলিয়ে নৌযান রয়েছে ১১৭টি। এর মধ্যে সাতটি ফ্রিগেট বা রণতরী আছে বাংলাদেশের।

সাথে আরো আছে ছয়টি কর্ভেট যুদ্ধজাহাজ। কর্ভেট জাহাজগুলোর মধ্যে চারটি চীনের, দুটি যুক্তরাজ্যের।

ফ্রিগেটগুলোর চারটির নির্মাতা চীন, দুইটির যুক্তরাষ্ট্র আর একটি দক্ষিণ কোরিয়ার।

কিন্তু চীন কীভাবে বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের প্রধান উৎস হয়ে উঠল?

পে-স্কেল নিয়ে নতুন প্রশাসনিক জটিলতার আভাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
পে-স্কেল নিয়ে নতুন প্রশাসনিক জটিলতার আভাস

নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেলের গেজেট আগামী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জারি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গেজেট প্রকাশের আগে শেষ মুহূর্তের কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পে-স্কেলের গেজেটের খসড়া এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় মুদ্রণ ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গেজেটটি পরবর্তী ধাপে যাবে।

প্রজ্ঞাপন জারির আগে পে-স্কেলের খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এসআরও নম্বরসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে জারি করা হবে প্রজ্ঞাপন। এসব প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা নিয়েই এখন চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়। ফলে আগামী রোববারই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা।

এর আগে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পরে আগামী রোববার প্রজ্ঞাপন জারির নতুন সময়সীমা জানানো হয়।

এদিকে অর্থসচিব জানিয়েছেন, ৬ সেপ্টেম্বরই নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ফলে এখন নজর রয়েছে বিজি প্রেস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর শেষ মুহূর্তের কার্যক্রমের দিকে।

নতুন স্কেলে ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির চাপ আমলে নিয়ে বেসরকারি খাতের সবখানে, এমনকি সংবাদমাধ্যমেও নতুন বেতন কাঠামো হওয়া দরকার। আবার সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় লোকবল কমিয়েও আনা যেতে পারে। এতে সরকারের ব্যয় কমবে।

নতুন কাঠামোয় সবচেয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ। নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাতও কমিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:১.৯৪৫ থাকলেও নতুন স্কেলে তা ১:১.৭৮ করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, এতে বেতন কাঠামোয় ন্যায্যতা ও ভারসাম্য বাড়বে।

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও পুরো সুবিধা একসঙ্গে মিলবে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।