রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ব্যালট পেপারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট: আগামী স্থানীয় নির্বাচনে আস্থা ফেরাতে নতুন ভাবনার সময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
ব্যালট পেপারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট: আগামী স্থানীয় নির্বাচনে আস্থা ফেরাতে নতুন ভাবনার সময়

শেখ ফরিদ হোসেন

একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রাণভোমরা হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তবে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ ২’শতাধিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে বেশি সনাতন ব্যালট পেপারে এবং কিছু ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ হয়েছে। প্রত্যেকটি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিগত কয়েক দশকে বিভিন্ন নির্বাচনকে ঘিরে জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই, একাধিক ব্যালটে সিল মারা, কেন্দ্র দখল এবং ফলাফল নিয়ে বিতর্কের মতো অভিযোগ বারবার জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হলেও একটি বিষয় স্পষ্ট-নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই আগামী স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে মানুষের আস্থা পুনর্গঠনে নতুন ভাবনার সময় এখন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রযুক্তি আজ বিশ্বের নানা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করছে। নির্বাচন ব্যবস্থাও এর বাইরে নয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নমুক্ত রাখতে বছরের পর বছর ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে অনেক দেশ ইলেকট্রনিক ভোটিং, বায়োমেট্রিক ভোটার শনাক্তকরণ কিংবা ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যালট পেপারের সঙ্গে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি চমৎকার সুরক্ষা ব্যবস্থা মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর দার্শনিক ও ব্যবহারিক বিতর্ক। পরিচয়ের নিশ্চয়তা ও জালিয়াতি রোধ-এই পদ্ধতির প্রধান ইতিবাচক দিক হলো ভোটারের শতভাগ পরিচয় নিশ্চিত করা।

অতীতে ‘জাল ভোট’ বা মৃত ব্যক্তির ভোট দেওয়ার মতো যে অভিযোগগুলো উঠত, আঙুলের ছাপের আধুনিক প্রযুক্তির কারণে তা অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব। যখন একজন ভোটার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সিল মেরে নির্দিষ্ট রেজিস্টারে নিজের আঙুলের ছাপ প্রদান করেন, তখন এটি অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করে যে, সঠিক ব্যক্তিটিই ভোট দিয়েছেন এবং পুনরায় একই ব্যক্তির ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে ভোট দেওয়ার সময় ব্যালট পেপারের নির্ধারিত স্থানে ভোটারের আঙুলের ছাপ গ্রহণ বা প্রযুক্তিগতভাবে তা সংযুক্ত করার ব্যবস্থা থাকলে প্রতিটি ব্যালটের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি হতে পারে। এর উদ্দেশ্য ভোটারকে শনাক্ত করা নয়; ভোটের গোপনীয়তা নষ্ট করা নয়; বরং ভোট গ্রহণ-পরবর্তী কোনো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে তদন্তের জন্য একটি প্রযুক্তিগত যাচাইয়ের সুযোগ রাখা।

যদি কোনো কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়েছে অথবা একাধিক ব্যালটে একই ব্যক্তির সিল মারার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান ব্যবস্থায় এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু যদি ব্যালটে নিরাপদভাবে সংরক্ষিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের সুযোগ থাকে, তাহলে আদালতের নির্দেশ বা আইনসম্মত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন সহজ হতে পারে। এতে দোষী ব্যক্তি, দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে অনিয়মের প্রবণতা কমানোর ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে এই ধারণার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জও কম নয়। গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মৌলিক ভিত্তি হলো গোপন ব্যালট। কোনো অবস্থাতেই এমন প্রযুক্তি গ্রহণ করা যাবে না, যাতে একজন ভোটার কাকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, তথ্য সংরক্ষণের নীতিমালা, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, বাস্তবায়নের ব্যয়, সাংবিধানিক বৈধতা এবং বিদ্যমান নির্বাচনী আইনের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য-সবকিছু গভীরভাবে পর্যালোচনা অপরিহার্য। ফলে প্রযুক্তি যেন স্বচ্ছতা বাড়ানোর পরিবর্তে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। এবং নির্বাচন কমিশন, প্রযুক্তিবিদ, আইনজ্ঞ, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরঅংশগ্রহণে এ বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা বা একটি বিস্তৃত জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে এর সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা আরও স্পষ্ট হবে। প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে এর কার্যকারিতা যাচাই করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

গণতন্ত্রের শক্তি কেবল ভোট গ্রহণে নয়, সেই ভোটের প্রতি মানুষের বিশ্বাসে। সেই বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করতে নতুন প্রযুক্তি, নতুন ধারণা এবং নতুন সংস্কার নিয়ে প্রযুক্তি, আইন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয় অপরিহার্য। নতুন কোনো ধারণা গ্রহণের আগে তা নিয়ে মুক্ত আলোচনা, সমালোচনামূলক মূল্যায়ন এবং বাস্তবসম্মত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়া উচিত। কারণ একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন কেবল একটি সরকারের বৈধতা নিশ্চিত করে না; এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকেও আরও শক্তিশালী করে। তাই বাংলাদেশে এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ফলাফল নয়, পুরো প্রক্রিয়াটিই জনগণের কাছে প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে।

লেখক: শেখ ফরিদ হোসেন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, সাপ্তাহিক সূর্যের আলো, সাতক্ষীরা।

Ads small one

গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পের ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ
গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পের ইতিহাস

বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাস গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। টানা দুই আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো জিতেছেন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট।

আট ম্যাচে ১০ গোল করে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে। এর আগে কাতার বিশ্বকাপেও আট গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে। ফলে টানা দুই বিশ্বকাপে এই পুরস্কার জিতে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হলেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির কিংবদন্তি জার্ড মুলারের পর এক আসরে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন এমবাপ্পে। একটি বিশ্বকাপে তার চেয়ে বেশি গোল আছে শুধু ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের (১৩, ১৯৫৮) এবং হাঙ্গেরির শান্দর কচিশের (১১, ১৯৫৪)।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে পুরুষদের ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও এখন সবার ওপরে এমবাপ্পে। তার গোলসংখ্যা ২২, যা লিওনেল মেসির চেয়ে একটি বেশি।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে মেসিকে ছাড়িয়ে যান এমবাপ্পে। যদিও সেই ম্যাচে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে চতুর্থ স্থান নিয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করে ফ্রান্স।

আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন

৯০ মিনিট ধরে যেন একাই দুর্গ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তার অবিশ্বাস্য সব সেভে বারবার হতাশ হয়েছে স্পেন, আর ১০ জনের আর্জেন্টিনাও বাঁচিয়ে রেখেছিল শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন। মনে হচ্ছিল, আরেকবার হয়তো বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখবেন লিওনেল মেসি। কিন্তু ফুটবল শেষ পর্যন্ত হাসল স্পেনের দিকেই। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র ৩৭ সেকেন্ড পর ফেরান তোরেসের অসাধারণ ফিনিশ ভেঙে দেয় আর্জেন্টিনার সব স্বপ্ন। সেই একমাত্র গোলেই ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নিল লা রোহারা।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করা মুহূর্তটি। ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ এক আক্রমণের সূচনা করেন পেদ্রো পোরো। তার নিখুঁত ক্রস দূরের পোস্টে কোনোভাবে খেলায় রাখেন নিকো উইলিয়ামস। ফিরতি হেড থেকে বক্সের ভেতরে পাওয়া বল জোরালো শটে জালে জড়িয়ে দেন ফেরান তোরেস। গোল হতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম, আর স্তব্ধ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার শিবির।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের দখলে। বলের দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি মিলিয়ে এগিয়ে ছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে ম্যাচ জমিয়ে রাখেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১০টি সেভ করে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসেও গড়েন নতুন রেকর্ড।

তবে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ভাঙে অচলাবস্থা। ১০৬ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে পেদ্রো পোরোর নিখুঁত ক্রস দূরের পোস্টে হেড করে ফেরান নিকো উইলিয়ামস। সেই বল কাছ থেকে জোরালো শটে জালে জড়িয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। এক মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি, স্তব্ধ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার সমর্থকরা।

এর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে পাও কুবার্সির ওপর বেপরোয়া ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনসো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় লিওনেল স্কালোনির দলকে।

একজন কম নিয়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। ম্যাচের ১১৭ মিনিটে লিওনেল মেসির শট ব্লক হওয়ার মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা প্রথমবারের মতো লক্ষ্যে আঘাত হানার চেষ্টা করে। সেটিই ছিল পুরো ম্যাচে তাদের প্রথম উল্লেখযোগ্য শট।

১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের আধিপত্যের সামনে সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মেসিও নিজের ছাপ রাখতে পারেননি।

শেষ দিকে আর্জেন্টিনা মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও স্পেনের রক্ষণ আর গোলরক্ষক কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয়ে যায় লাল জার্সিধারীদের উৎসব। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে উঠলো স্পেন।

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার রেকর্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার রেকর্ড

স্পেনের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখে ইতিহাসের বিরল এক তালিকায় নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচ চলাকালে বহিষ্কৃত হওয়ার মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা মাত্র ষষ্ঠ খেলোয়াড় হন।

এর পাশাপাশি এনজো তৃতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন। এর আগে ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পেদ্রো মনজোন এবং গুস্তাভো দেজোত্তি লাল কার্ড দেখেছিলেন।

প্রায় ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেন। আর এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এনজো ফার্নান্দেজ যুক্ত হলেন বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসের অন্যতম বিরল ও অনাকাঙ্ক্ষিত একটি পরিসংখ্যানে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়দের তালিকা
• ১৯৯০: পেদ্রো মনজোন (আর্জেন্টিনা)
• ১৯৯০: গুস্তাভো দেজোত্তি (আর্জেন্টিনা)
• ১৯৯৮: মার্সেল দেসাই (ফ্রান্স)
• ২০০৬: জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স)
• ২০১০: জন হেইটিঙ্গা (নেদারল্যান্ডস)
• ২০২৬: এনজো ফার্নান্দেজ (আর্জেন্টিনা)

এক নজরে দুই দলের শুরুর একাদশ:
আর্জেন্টিনার একাদশ (৪-৩-৩):
এমিলিয়ানো মার্তিনেস (গোলরক্ষক), গনসালো মন্তিয়েল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেস, আলেক্সিস মাক আলিস্তার, লিওনেল মেসি (অধিনায়ক), হুলিয়ান আলভারেস, নিকোলা গনসালেস।

স্পেনের একাদশ (৪-২-৩-১ / ৪-৩-৩):
উনাই সিমন (গোলরক্ষক), পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, দানি অলমো, আলেক্স বায়েনা, লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারসাবাল।