রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ব্লু ইকোনমি ও সাতক্ষীরা উপকূল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
ব্লু ইকোনমি ও সাতক্ষীরা উপকূল

‎‎তারিক ইসলাম
‎‎আজ ৮ জুন, বিশ্ব সমুদ্র দিবস। এবারের সমুদ্র দিবসের মূল সুর ও প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সাথে সমুদ্রের গভীর মিতালি রয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার রাষ্ট্রীয় সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতি শব্দবন্ধটি আমাদের উন্নয়ন ভাবনায় নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। আর এই সম্ভাবনার ফ্রন্টলাইনে রয়েছে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ উপকূল।‎
‎সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা সরাসরি বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের এই মোহনা কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধারই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক নীল অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে। সমুদ্রের নোনা জলের এই প্রাচুর্যকে কাজে লাগিয়ে সাতক্ষীরা জেলা দেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য উৎপাদনকারী অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত বাগদা চিংড়ি বা ‘সাদা সোনা’ এবং সুস্বাদু কাঁকড়া আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। সমুদ্র ও সংলগ্ন খাঁড়িগুলো থেকে আহরিত এই সম্পদ স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখছে।
‎‎তবে নীল অর্থনীতির এই বিপুল সম্ভাবনার বিপরীতে সাতক্ষীরা উপকূলের রয়েছে এক রূঢ় বাস্তবতার গল্প। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম সারির শিকার এই অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষ। সিডর, আইলা, আম্পান থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককালের ঘূর্ণিঝড় রেমালের মতো একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত সইতে হয় এই জনপদকে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জোয়ারের তীব্রতায় উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এর ফলে একদিকে যেমন কৃষি জমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে দেখা দিচ্ছে তীব্র সুপেয় পানির সংকট। সাগরের রুদ্ররূপের কাছে প্রতিনিয়ত নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারাচ্ছে হাজারো পরিবার।
‎‎বিশ্ব সমুদ্র দিবসের এই লগ্নে আমাদের ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে-কীভাবে সমুদ্রের সম্পদকে টেকসই উপায়ে ব্যবহার করে উপকূলের এই মানুষগুলোর জীবনমান উন্নয়ন করা যায়। সাতক্ষীরা উপকূলে সুনীল অর্থনীতির সুফল পেতে হলে প্রথমে আমাদের প্রথাগত চিংড়ি বা কাঁকড়া চাষের বাইরে গিয়ে সামুদ্রিক শৈবাল (ঝবধবিবফ) চাষ এবং আধুনিক মৎস্য আহরণ প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে। বঙ্গোপসাগরের তলদেশের খনিজ সম্পদ উত্তোলনে গবেষণার পরিধি বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি, সুন্দরবন সংলগ্ন মান্দারবাড়িয়া সৈকতের মতো সম্ভাবনাময় উপকূলীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে গড়ে তুলতে পারলে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে এক বিশাল বিপ্লব ঘটাতে পারে।
‎‎সমুদ্র আমাদের যেমন অঢেল সম্পদ দেয়, তেমনি তার সুরক্ষার দায়িত্বও আমাদের। প্লাস্টিক বর্জ্য ও রাসায়নিক দূষণ থেকে বঙ্গোপসাগরকে মুক্ত রাখা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে, সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ম্যানগ্রোভ বনের কৃত্রিম জলছাপ তৈরি করা, যা সাগরের জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করবে।
‎‎সমুদ্রের নীল জলরাশির মাঝেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের আগামী দিনের অর্থনৈতিক মুক্তির চাবিকাঠি। বিশ্ব সমুদ্র দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক-সাতক্ষীরা উপকূলের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে বঙ্গোপসাগরের নীল অর্থনীতিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়া। তবেই সুরক্ষিত থাকবে আমাদের উপকূল, সমৃদ্ধ হবে আমাদের বাংলাদেশ। ‎‎লেখক: ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

Ads small one

পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা সভা

তালা প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও তীব্র তাপদাহের ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ক্ষতি মোকাবিলা এবং অভিযোজনের জন্য উন্নত ও দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিবছর ৩১০ থেকে ৩৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ আদায় করে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বন্টন করতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার পাইকগাছায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘প্রকৃতির জন্য অনুপ্রাণিত। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাওসেড’ ও ‘পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম’ যৌথভাবে এই সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে।
পাইকগাছা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সভাপতি অখিল চন্দ্র ম-ল। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাওসেড-এর হেড অব প্রোগ্রাম শংকর রঞ্জন সরকার এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংস্থার নলেজ ম্যানেজমেন্টের টিম লিডার মোসালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাওসেড-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক হেলেনা খাতুন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য, শ্যামাপদ ম-ল, নুরুন্নাহার পারভীন, শেখ জুলি, সুভাষ চন্দ্র ম-ল, নুর ইসলাম গাজী, মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. বাসুদেব রায় ও মানিক ভদ্র। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় শহীদ এম. এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চারটি ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।

দেবহাটায় চুরির সন্দেহে শিশুকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় চুরির সন্দেহে শিশুকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক শিশুকে আখ ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আহত শিশুর বাবা হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন বেলা তিনটার দিকে দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে আব্দুল হাকিম (১৩) পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে সাইফুল ইসলামের (৪৫) দোকানে আখের রস খেতে যায়। হাকিম ২০টাকার রস খেয়ে সাইফুলকে ৫০টাকার একটি নোট দিলে দোকানদার তাকে ৩০টাকা ফেরত দেন। এরপর সাইফুল ক্যাশ টেবিল পাহারা দিতে বলে প্রস্রাব করতে যান। ফিরে এসে তিনি হাকিমের বিরুদ্ধে ক্যাশ টেবিল থেকে টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন।
শিশু হাকিম নিজের জামা-প্যান্ট তল্লাশি করতে বললে সাইফুল তল্লাশি চালিয়ে ফেরত দেওয়া ৩০ টাকা ছাড়া আর কোনো টাকা পাননি। এরপরও সাইফুল চোর সন্দেহে হাকিমের বাঁ কানে সজোরে চড় মারেন এবং আখ দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট ও বেদনাদায়ক ফোলা জখম করেন। ঘটনাটি কাউকে বললে আরও মারধর করা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখে।
গত ৫ জুন সকালে শরীরে প্রচ- ব্যথা অনুভব হলে হাকিম তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানায়। ওই দিন সকাল ১০টার দিকে হাকিমের বাবা হাফিজুল ইসলাম, দাদা আলাউদ্দীন, দাদি রাফিজা খাতুন ও মা সোমা আক্তার সাইফুলের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কারণ জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল কাঠের বাটাম এবং তাঁর স্ত্রী বানু খাতুন বঁটি নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে তাঁরা রাফিজা খাতুনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

জেলা যুবদলের শুভেচ্ছা মিছিল ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
জেলা যুবদলের শুভেচ্ছা মিছিল ও সমাবেশ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে সাতক্ষীরায় মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল। রোববার বিকেলে শহরের মাওয়া চাইনিজ রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণ থেকে এই শুভেচ্ছা মিছিল বের হয়।
কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি, নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণবঙ্গের আমিনুর রহমান আমিনকে তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং শাহাজান রনিকে মৎস্য ও পশুপালন বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত করায় এই আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর শফিকুল আলম বাবুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আলী শাহিন, সদস্যসচিব মাসুম রানা সবুজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন রহমান, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী রাসিউল করিম রোমান ও জেলা যুবদলের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এস আই আশা।
এছাড়াও বক্তব্য দেন আশাশুনি উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আবু জাহিদ সোহাগ, দেবহাটা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, সদস্যসচিব মেহেদী হাসান সবুজ, কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল্লাহ বাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক এবং আশাশুনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান আখতার প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সাতক্ষীরায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে জেলা যুবদলে যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্বকে সামনে আনা প্রয়োজন। এ সময় জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।