সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

মাজারের ডেগে হাত দিয়ে কপাল পুড়লো ডিসি সারওয়ারের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
মাজারের ডেগে হাত দিয়ে কপাল পুড়লো ডিসি সারওয়ারের

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করার তিন দিনের মাথায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দানবাক্স ও তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং মাজার এলাকায় জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের জেরে সৃষ্ট বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানালেন জাতীয় ইমাম সমিতির জেলা সভাপতি ও মাজারের ভক্তসহ একাধিক লোকজন।

রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করে। যদিও সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের কারণ কিংবা নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন, এর উল্লেখ নেই।

তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক একটি সূত্র দাবি করেছে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে নানা ঘটনায় আলোচিত ছিলেন সারওয়ার আলম। সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে জেলা প্রশাসকের কিছু উদ্যোগ আলোচিত-সমালোচিত হয়। এর মধ্যে মাজার সংশ্লিষ্ট ঘটনা এবং এর পক্ষে-বিপক্ষে চলা সমালোচনাই মূল কারণ বলে সচেতন ব্যক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।

প্রত্যাহারের কারণ কী

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকালে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। এর বদলে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে নতুন দানবাক্স স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১২ জুন) সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকালে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়। নতুন দানবাক্স বসানোর পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাজারের দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে থাকা এই দানবাক্সগুলোতে জমা হবে। আগে যেমনটা হাতে হাতে দানের টাকা নেওয়া হতো, এখন আর এমনটা করা যাবে না। প্রশাসনের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে।

কেন এমন উদ্যোগ নিলেন জেলা প্রশাসক

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেছিলেন, ‌‘দীর্ঘদিন ধরে মাজারে দানের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়ার একটা অনিয়মতান্ত্রিক পরম্পরা চালু হয়েছে। হজরত শাহজালাল (রহ.) অবিবাহিত ছিলেন, তার কোনও উত্তরাধিকার ছিলেন না। এখানে দানের যে টাকা আসে, সেটা পাবলিক সম্পত্তি। স্থানীয় প্রশাসন দানের টাকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আওতায় আনতেই উদ্যোগী হয়েছে। তবে দানের কোনও টাকা সরকার নেবে না। যাবতীয় অনিয়ম দূর করে সব টাকাই মাজার এবং মাজারের মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় হবে। এ ছাড়া মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে একটা মহাপরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে খাদেম, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিনিধিসহ ১০ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দানের টাকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে।’

ভক্তদের ক্ষোভ

এ ঘটনার পর ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারভক্তরা দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ‘শাহজালাল, শাহজালাল’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে মাজারের অভ্যন্তরীণ ঐতিহ্য ও ব্যবস্থাপনায় অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেন মাজারের খাদেম, আশেকান এবং ভক্তদের বড় অংশ। এমন পদক্ষেপের পর ‘আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশ’-এর মতো কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে ডিসি সারওয়ার আলমের তীব্র সমালোচনা করা হয়। তাকে ব্যর্থ জেলা প্রশাসক হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

 

একাধিক মাজার অনুসারী জানিয়েছেন, প্রায় সাতশত বছর ধরে যে প্রক্রিয়ায় মাজার পরিচালিত হয়ে আসছে, সে ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করতেই এই কাজ করা হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই করা উচিত হয়নি ডিসির। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে সমালোচনা ও বিতর্ক চলছে। মূলত এজন্য ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে দরগাহের অন্যতম খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন বলেছেন, ‘জেলা প্রশাসক যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দানবাক্স সিলগালা করেছেন, এটা মোটেও সঠিক পদ্ধতি নয়। এটা খুবই অন্যায় হয়েছে। এটা মাজার ও অলি-আউলিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড। দানের টাকা কেবল খাদেমরা নেন না, মসজিদসহ মাজারের উন্নয়নেও ব্যয় হয়। হিসাব চাইতেই পারেন কেউ। কিন্তু জোরজবরদস্তি করে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা চলছে, সেটা ঠিক নয়। এজন্য আমরা ক্ষুব্ধ হয়েছি। প্রতিবাদ জানিয়েছি। শেষ পর্যন্ত ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে শুনেছি।’

দানের টাকা কোথায় যায়

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণের (রহ.) মাজারের কারণেই মূলত সিলেট দেশের ‌‘আধ্যাত্মিক রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। দেশ-বিদেশ থেকে যারাই পুণ্যভূমি সিলেট ভ্রমণে আসেন, তারাই অন্তত একবারের জন্য হলেও এই দুই ওলির মাজার জিয়ারত ও দর্শন করেন। মাজারে আসা এসব ভক্ত-আশেকানরা মনোবাসনা পূরণের উদ্দেশ্যে টাকা, সোনা থেকে শুরু করে দান করেন গরু-ছাগল। বছরের পর বছর ধরে চলছে এমন রীতি। কিন্তু প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থীর কাছ থেকে ওঠা লাখ লাখ টাকা ও দানের অন্যান্য জিনিস কোথায় যায়—এ নিয়ে সিলেটবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ছিল নানা প্রশ্ন।

শাহজালালের মাজারের দানের টাকা যায় কই, ডেগ সিলগালা করলো প্রশাসনশাহজালালের মাজারের দানের টাকা যায় কই, ডেগ সিলগালা করলো প্রশাসন
সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একটা প্রকল্প চলাকালে মাজারের আয়-ব্যয়ের অস্বচ্ছতার বিষয়টি সামনে আসে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে এক সভায় মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হিসাব চাওয়া হলে কিছুই দেখাতে পারেনি দুই মাজারের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ আছে, বছরের পর বছর ধরে মাজারের দানের টাকা ভাগ করে আসছিল মাজারের নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু পরিবার। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ ভেঙে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ফেরাতে সাহসী উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। তার এই উদ্যোগকে সিলেটের সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও একটি পক্ষ তার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। সেটি শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রত্যাহার করায় সমালোচনা

সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের মতে, মাজারে দানের লাখ লাখ টাকার হিসাবে স্বচ্ছতা আনা এবং সংস্কারের মতো একটি ভালো ও সৎ উদ্যোগ নেওয়ার কারণেই তাকে চাপের মুখে সরিয়ে দেওয়া হলো। আবার কেউ কেউ বলছেন, ভালো কাজ করতে গিয়ে তাকে অন্যায্য প্রত্যাহারের শিকার হতে হলো।

জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এহসান উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাজারের দানের টাকায় স্বচ্ছতা আনার জোরালো পদক্ষেপের কারণেই ডিসি সারওয়ারকে বদলি করা হয়েছে।’

 

শাহ মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, শাহজালাল মাজারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই ডিসির অপরাধ। তিনি চেয়েছিলেন দানকৃত টাকা জনকল্যাণ ও মাজারের উন্নয়নে ব্যয় করতে। উল্টো তাকেই সরিয়ে দিয়েছে একটি গোষ্ঠী।

২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান। সিলেটের সাদাপাথর এলাকায় অবৈধ পাথর লুটপাটের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা হয়। এরপর ওই বছরের ১৮ আগস্ট ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। সেখানে সাদাপাথর লুটপাট বন্ধ করে আবার প্রশংসিত হন।

শেষ পর্যন্ত মাজারের সংস্কার ও শৃঙ্খলা আনতে গিয়ে একদিকে যেমন তিনি স্বার্থান্বেষী মহল ও মাজার সংশ্লিষ্টদের একাংশের সমালোচনার শিকার হয়েছেন, তেমনই তাকে আকস্মিক প্রত্যাহারের পর সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সমালোচনা চলছে।

Ads small one

শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে জেলেখালী খাল খনন শেষে পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে জেলেখালী খাল খনন শেষে পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় মুন্সীগঞ্জ জেলেখালীতে প্রায় ২৫ একর জমির মধ্যে গ্রামবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বেসরকারি উদ্যোগে খাল খনন করা হয়েছে। খাল খনন শেষ না হতেই খাল পূর্বের দখলকারীরা পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় গ্রামবাসী।

এলাকার কৃষকরা বলেন, মাটির নিচে লবনাক্ত হলেও এই এলাকায় আমন মৌসুমী ফসল উৎপাদন হয়। একটি ফসলের উপর নির্ভর করে এই অঞ্চলের কৃষক কষ্ট করে টিকে আছে। বছরের অন্যান্য সময় শহরের ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে যেতে হয়। এলাকায় মিষ্টি পানির সংকট থাকার কারণে কৃষকরা এখানে শুধুমাত্র আমন ধান চাষ করে। জেলেখালির খালে বোরো মৌসুমী খালের ২ থেকে ৩ ফিট পানির থাকে, সেই পানির উপর ভরসা করে দুইটি ফসল করার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ সময়ে পানি সংকট দেখা যায়। ফলে বোরো ফসল শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

গ্রামের মধ্যে জেলেখালি খালটি প্রবাহিত হয়েছে, যার ২.২ কিঃমিঃ উন্মুক্ত আছে। সেই অংশটি খনন করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমী কৃষি ফসলের মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য খালটি উন্মুক্ত রাখারও প্রয়োজন। কিন্তু খালটি ভরাট থাকার কারণে প্রতিবছর জলবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশন না হলে ফসল ও বীজতলায় বিগত কয়েক বছর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমী খালে পানি থাকে না, বেশিরভাগ জায়গা পতিত থাকে। এমতাবস্থায় খালটি উন্মুক্ত রাখার দাবিতে জেলেখালি গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর করে উপজেলা প্রশাসনের নিকট পেশ করেন।

জনগণের দাবির পক্ষে প্রশাসন ও বেসরকারি সংগঠন খালটি খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে। যার দাগ নম্বর ২৩৯, ২৮১। জনগনের দাবি, আইনগত মতামতের ভিত্তিতে ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে, সুইডেন দূতাবাস, ঢাকা এর অর্থায়নে, সিএনআরএস-বিফরআরএল প্রকল্পের উদ্যোগে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। খালটি খনন উদ্বোধন করেন সাংসদ গাজী নজরুল ইসলাম।

খালটি খনন করার পর পূর্বের দখলকারী ইসাক আলী পাড়ের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা স্থানীয় মানুষের হুমকি দিয়ে খালের একটি অংশে কিছু রুই জাতীয় মাছের পোনা ছেড়ে দেন। সাথে সাথে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে। খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি বিষয়টি স্থানীয় সুধীমহল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছে তুলে ধরেন। এলাকাবাসীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এছাড়া শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার ভূমিসহ বিভিন্ন মহলে খালটি মুক্ত রাখার আবেদন করেন।

এ বিষয়ে খাল দখলকারী ইসহাক আলী পাড়ের নিকট কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ খালের মাছ বিক্রির আয় থেকে কিছু অর্থ দলীয় ও একটি প্রতিষ্ঠানের নামে যায়। তাছাড়া আমি ব্যক্তিগত কোন কাজে এই অর্থ ব্যবহার করি না, আমার সৃষ্টিকর্তা অনেক কিছু দিয়েছেন। খালমুক্ত থাকলে সবার জন্য ভালো কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় আটকানো রয়েছে। খালমুক্ত থাকলে আমিও সাধুবাদ জানাই। আইনের প্রক্রিয়ায় খালটি মুক্ত হলে আমি ১৫ দিন অথবা এক মাসের মধ্যে সব মাছ ধরে নিতে পারব। এই এলাকার হিন্দু মুসলিম আমার ভাই আত্মীয়। সবাই এই খালের সাথে যুক্ত উল্লেখ করে তাদের ক্ষয়ক্ষতি না করে সমন্বয় করে নেওয়ার কথা বলেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, কোটের নিষেধাজ্ঞা আছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসীর সাথে যাতে সম্পর্কের অবনতি যাতে না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখবো বলে তিনি জানান।

খালপাড়ের বাসিন্দা ধনঞ্জয় গায়েন বলেন, এই খালটি আমাদের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। খালটি খনন হওয়ায় এলাকার পানি নিষ্কাশনসহ কৃষকরা বোরো ধান চাষ করতে পারবেন। এই খালটি খনন করার জন্য খালের দু’পাড়ে কৃষকদের কাছে গণস্বাক্ষর করে নিয়েছে যাতে খালটি উন্মুক্ত থাকে এবং খালের পাড়ে আমাদের জমিতে মাটি রাখতে পারে। খালপাশে কৃষি জমিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জায়গাতে মাটি ফেলা হয়েছে যেটা আমাদের কৃষকের স্বার্থ ও খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য আমরা খননের জন্য একমত হয়েছি ।

কৃষাণী ফুলমতি মিস্ত্রি বলেন, এই খালটি ইজরা বা দখল থাকলে এই খালের একফোঁটা পানি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না স্থানীয় কৃষকরা। আমরা শত শত কৃষক কৃষাণী এখন মাছ ধরছি কিন্তু মাছ ধরার সুযোগ তো দূরে থাক, একফোঁটা পানি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না।

জেলেখালির গ্রামের ইউপি সদস্য দেবাশিষ গায়েন বলেন, উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এর উদ্যোগে এই খালটি খনন করা হয়েছে। এ খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এই খাল দখলদারদের হাতে চলে গেলে এলাকার কৃষকগণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।

 

আলিয়ার এক প্রশংসায় রীতিমতো তারকা বনে গেলেন, কে এই যুবক?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
আলিয়ার এক প্রশংসায় রীতিমতো তারকা বনে গেলেন, কে এই যুবক?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৭ হাজার অনুসারী নিয়ে দিন কাটছিল সুক্রুত দেওর। পরিচিতি বলতে বন্ধু-স্বজন আর অল্প কিছু দর্শক। কিন্তু ভাগ্য বোধহয় অপেক্ষা করছিল একটি মঞ্চের জন্য, আর সেই মঞ্চের নাম ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট।

শোতে এসে এমন এক পারফরম্যান্স দিলেন সুক্রুত, যা দেখে মুগ্ধ শুধু দর্শকই নন, বলিউড তারকা আলিয়া ভাটও। আর আলিয়ার প্রশংসা যেন কাজ করল জাদুর মতো। এরপর যা ঘটল, তা অনেক নতুন শিল্পীর কাছেই স্বপ্নের মতো।

কয়েক দিনের ব্যবধানে সুক্রুতের অনুসারীর সংখ্যা ৭ হাজার থেকে লাফিয়ে পৌঁছে যায় ১ লাখ ৩৬ হাজারে। অর্থাৎ যে সংখ্যাটা একসময় কল্পনার মতো ছিল, সেটাই এখন বাস্তব।

শোটির নির্মাতা ও সঞ্চালক সমায় রায়নাও সুক্রুতকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই তরুণের মধ্যে রয়েছে আলাদা এক আকর্ষণ, যা দর্শকদের চোখ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

নেটদুনিয়াতেও এখন সুক্রুতকে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন তিনি অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক, কেউ আবার দাবি করছেন— এই মৌসুমের সবচেয়ে স্মরণীয় আবিষ্কার হতে পারেন তিনি।

বিনোদন জগতে প্রায়ই বলা হয়, একটি সুযোগ মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। সুক্রুত দেওর গল্পটি আপাতত সেই কথারই নতুন সংস্করণ। কয়েক দিন আগেও যিনি ছিলেন হাজারের ঘরে, তিনি এখন লাখো মানুষের নিউজফিডে। আর সবকিছুর শুরু একটি পারফরম্যান্স, কয়েকটি প্রশংসাসূচক বাক্য এবং দর্শকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা থেকে।

৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেলো মিসর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেলো মিসর

১৯৩৪ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলেছিল মিসর। চলতি বিশ্বকাপসহ অংশ নিয়েছে মোট ৪ আসরে। কিন্তু আগের তিনটি আসরেই ছিল হতাশা। জয় ছিল না একটিও। এবার মোহাম্মদ সালাহের মিসর নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে। তাতে গ্রুপ ‘জি’-এর শীর্ষে উঠে গেছে ফারাওরা।

এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠলেও এখনই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়নি মিসরের। আগামী শুক্রবার সিয়াটলে ইরানের বিপক্ষে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে অন্তত ড্র করলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত হবে।

চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়া মিসর এর আগে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে দুটি গোল করেছিলেন সালাহ। এবার ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। তৃতীয়টিতে রাখেন অবদান।

জয় পেলেও ম্যাচের ১৫ মিনিটে মিসরকে বিপদে ফেলে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কর্নার থেকে টিম পেইনের নিখুঁত ক্রসে হেডে গোল করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ফিন সারম্যান।

শেষ পর্যন্ত মিসর খেলায় ফেরে বিরতির পর। আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে ৫৮ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান মোস্তফা জিকো। এরপর ৬৭ মিনিটে জিকোর ব্যাকহিল পাস থেকে গোল করে মিসরকে এগিয়ে দেন সালাহ। জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কোচ হোসাম হাসানের রেকর্ড স্পর্শ করতে এখন সালাহর প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল। ৮২ মিনিটে ত্রেজেগের ডাইভিং হেডারে ম্যাচের শেষ গোলটি আসে। গোল বানিয়ে দিয়েছেন সালাহ।

উল্লেখ্য, গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিসর। আর ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে নিউজিল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তারা তিনটি ম্যাচই ড্র করেছিল। ইরানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুইবার এগিয়ে গিয়েও ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা।