সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

মান্দারবাড়িয়া: বাংলাদেশের পরবর্তী পর্যটন বিস্ময় হওয়ার অপেক্ষায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
মান্দারবাড়িয়া: বাংলাদেশের পরবর্তী পর্যটন বিস্ময় হওয়ার অপেক্ষায়

মো. মামুন হাসান

বাংলাদেশের পর্যটনের কথা উঠলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন কিংবা কুয়াকাটার নাম। অথচ দেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলে এমন একটি সমুদ্র সৈকত রয়েছে, যার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত গুরুত্ব এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা একসঙ্গে বিবেচনা করলে সেটি শুধু একটি নতুন পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উপকূলীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। সেই সৈকতের নাম মান্দারবাড়িয়া।

অদ্ভুত এক বৈপরীত্য হলো, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পাশেই প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্র সৈকত আজও দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে অজানা। সুন্দরবনের পশ্চিম অংশ ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত এই সৈকত একদিকে যেমন অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার, অন্যদিকে এটি বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি, টেকসই পর্যটন এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নের এক অনাবিষ্কৃত সম্ভাবনা। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব এবং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাহীনতার কারণে এই সম্পদ এখনো জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি।

বিশ্বের অনেক দেশ আজ তাদের অর্থনীতির বড় অংশ গড়ে তুলেছে প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের ওপর। তারা বুঝতে পেরেছে, পাহাড়, বন, নদী কিংবা সমুদ্র শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; এগুলো জাতীয় সম্পদ। বাংলাদেশও যদি একই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে, তাহলে মান্দারবাড়িয়া হতে পারে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের নতুন কেন্দ্র।

মান্দারবাড়িয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর অনন্য ভূপ্রাকৃতিক অবস্থান। এক পাশে সুন্দরবনের নিবিড় ম্যানগ্রোভ বন, অন্য পাশে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি। একই ভ্রমণে একজন পর্যটক সমুদ্র, বন, নদী, বন্যপ্রাণী এবং জীববৈচিত্র্যের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। পৃথিবীর খুব কম পর্যটন গন্তব্যেই এমন সমন্বিত অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। এই বৈশিষ্ট্যই মান্দারবাড়িয়াকে কক্সবাজারের প্রতিযোগী নয়, বরং সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি আন্তর্জাতিক ইকো ট্যুরিজম গন্তব্যে পরিণত করতে পারে।

বর্তমান সময়ে পর্যটনের নতুন ধারা হলো অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভ্রমণ। মানুষ এখন কেবল সমুদ্র দেখতে চায় না; তারা প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চায়। তারা চায় পাখির ডাক শুনতে, ম্যানগ্রোভের নৌপথে ভেসে যেতে, লাল কাঁকড়ার বিচরণ দেখতে, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে কাছ থেকে জানতে। মান্দারবাড়িয়া এই সবকিছু একসঙ্গে দিতে সক্ষম।

কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন আমাদের সামনে দাঁড়ায়। এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মান্দারবাড়িয়া কেন আজও জাতীয় পর্যটন মানচিত্রে যথাযথ স্থান পায়নি? উত্তরটি খুবই স্পষ্ট। আমরা এখনো পর্যটনকে ব্যয় হিসেবে দেখি, বিনিয়োগ হিসেবে নয়। ফলে যেখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রয়োজন ছিল, সেখানে বছরের পর বছর কেটেছে অবহেলায়। অথচ পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ মানে শুধু রাস্তা বা রিসোর্ট নির্মাণ নয়; এটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তোলা, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

এখন সময় এসেছে মান্দারবাড়িয়াকে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার। এটি শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয়; এটি হতে পারে বাংলাদেশের প্রথম ম্যানগ্রোভ ইকো কোস্ট। এখানে পরিকল্পিতভাবে কার্বন নিরপেক্ষ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে সৌরবিদ্যুৎচালিত নৌযান, পরিবেশবান্ধব ভাসমান ইকো লজ, সীমিত ধারণক্ষমতাভিত্তিক পর্যটন, গবেষণা কেন্দ্র এবং কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম একসঙ্গে পরিচালিত হবে। এতে যেমন জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে, তেমনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীও পর্যটনের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হবে।

আরও একটি সাহসী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সরকার চাইলে মান্দারবাড়িয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ম্যানগ্রোভ রিসার্চ অ্যান্ড ইকো ট্যুরিজম ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, পরিবেশবিদ, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে গবেষণা পরিচালনা করবে। এতে বাংলাদেশ শুধু পর্যটন নয়, জলবায়ু গবেষণার ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক পরিচিতি অর্জন করতে পারবে।

বিশ্বব্যাপী উপকূলীয় পর্যটন জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। উপযুক্ত পরিকল্পনা, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং কার্যকর প্রচারণার মাধ্যমে মান্দারবাড়িয়াও কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি শক্তিশালী উৎসে পরিণত হতে পারে। এই সম্ভাবনার কথাই বিভিন্ন বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে।

মান্দারবাড়িয়ার সৌন্দর্যের অভাব নেই। অভাব রয়েছে দূরদর্শী পরিকল্পনার। ইতিহাস সাক্ষী, যে দেশ তার প্রাকৃতিক সম্পদের মূল্য বুঝতে পারে, সেই দেশই টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের জন্য মান্দারবাড়িয়া সেই বিরল সুযোগগুলোর একটি, যা এখনো আমাদের হাতছাড়া হয়নি। প্রশ্ন একটাই, আমরা কি সময় থাকতে এই সম্ভাবনাকে চিনতে পারব, নাকি আরেকটি জাতীয় সম্পদও অবহেলার ইতিহাসে হারিয়ে যাবে?

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

 

Ads small one

দেবহাটায় পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ প্রবাসীর, সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ প্রবাসীর, সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা: দেবহাটায় কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক প্রবাসী। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শরিফুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দেবহাটার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ এলাকায় তাঁদের ৮.১৫ একর পৈতৃক জমি রয়েছে। ২০১৮ সালে স্থানীয় রওশন আরা রুবি ও তাঁর ছেলে জায়েদ বিন কাদেরসহ কয়েকজন উক্ত জমি জবরদখল করে মৎস্য চাষ শুরু করেন। জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ও প্রশাসনের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত পক্ষ তা এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রওশন আরা রুবি জানিয়েছেন, শরিফুল ইসলাম তাঁর দেবর। ২০০২ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় প্রতিপক্ষ পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে রেখেছিল। পরবর্তীতে সন্তানরা বড় হলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় জমি উদ্ধার করেন। বালিথা মৌজার ওই জমি নিয়ে নি¤œ আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলায় শরিফুল ইসলামের পরিবার হেরে গিয়ে এখন ভিত্তিহীন ও মনগড়া অভিযোগ তুলছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগপ্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জেলা নাগরিক কমিটির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগপ্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জেলা নাগরিক কমিটির

খাল দখল ও নেটপাটায় পানিপ্রবাহ বন্ধ
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাল অবৈধ দখল, নেটপাটা ও বাঁশের বেড়ি দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষের কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত পরিবার ও কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দখলদাররা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
গত ১ আগস্ট জেলা নাগরিক কমিটির জলাবদ্ধতা নিরসনবিষয়ক পরামর্শ সভার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলি নুর খান বাবলু ও কমিটির অন্যতম সদস্য শেখ সিদ্দিকুর রহমান সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, গাভা স্বাস্থ্যকল্যাণ কেন্দ্রের সামনে কালভার্টের মুখ বাঁশের নেটপাটা দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ঘের মালিক সুকুমার রায় মাছ চাষের স্বার্থে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রেখেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দম্ভভরে বলেন, “যারা জলাবদ্ধতার শিকার তারা তো কিছু বলে না, আপনি বলছেন কেন? আমি যা করেছি ঠিকই করেছি।”
এরপর প্রতিনিধি দল জোড়দিয়া কোচের বিল এলাকার সরকারি কোচের খাল পরিদর্শন করে। সেখানে অভিযোগ ওঠে, প্রাক্তন আওয়ামী লীগ নেতার অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খালে জোড়দিয়া গ্রামের সদরউদ্দীনের ছেলে রেজাউল ইসলাম কেনা নেটপাটা ও বাঁশের বেড়ি দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষ করছেন। স্থানীয়রা জানান, খালে সাদা মাছ ছাড়া থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে উপস্থিত শত শত গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, সরকারি খাল অবৈধভাবে দখল করে বছরের পর বছর মাছ চাষ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবাদ করলেও দখলদারদের প্রভাবের কারণে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এ সময় প্রাক্তন ইউপি সদস্য শেখ জাকিরুল হক, প্রাক্তন সদস্য নজরুল ইসলাম, মিন্টুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা খাল দখল ও জলাবদ্ধতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালে একই এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলে জোড়দিয়ার কোচের খাল ও বোড়ামারা খালের নেটপাটা এবং অবৈধ বাঁধ জনসাধারণ অপসারণ করেন। পরে গাভা গ্রামের মনজুরুল আহমেদ (পিতা: মৃত আলাউদ্দিন মোড়ল) সাতক্ষীরা সদর আদালতে নিরীহ ১০ জন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে সি আর-১২৫৭/২৪, তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৪, একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই দখলদার চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে বিভিন্ন স্থানে নেটপাটা ও বাঁধ দিয়ে সরকারি খালে মাছ চাষ অব্যাহত রেখেছে।
বর্তমানে জোড়দিয়া, কোচের বিল ও আশপাশের এলাকায় শত শত বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত, নেটপাটা ও বাঁধ অপসারণ এবং খাল খননের মাধ্যমে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে সন্ধ্যায় ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, “গাভায় কালভার্টের মুখ বন্ধ করার ঘটনায় সুকুমারকে একাধিকবার তিরস্কার করা হলেও তিনি তা শোনেননি। জোড়দিয়ার কোচের বিল ও বোড়ামারা খালের নাব্যতা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে খাল খনন প্রয়োজন। খাল বন্ধ করে মাছ চাষ করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কৈখালী-২ স্লুইস গেটের পাট স্থাপনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বহীনতা এবং প্রভাবশালী দখলদারদের প্রতি পরোক্ষ প্রশ্রয়ের কারণেই জলাবদ্ধতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর অভিযান পরিচালনা করে সরকারি খাল দখলমুক্ত, নেটপাটা ও অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

 

দৈনিক পত্রদূতে খবর প্রকাশের পর প্রতিবন্ধী আবুবকরের পাশে জেলা প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
দৈনিক পত্রদূতে খবর প্রকাশের পর প্রতিবন্ধী আবুবকরের পাশে জেলা প্রশাসন

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরা সদরের ধূলিহর ইউনিয়নের বেড়বাড়ী গ্রামের শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী আবুবকর সিদ্দিক (২৫) ও তাঁর বৃদ্ধা নানি সোনাভান বিবির মানবেতর জীবন নিয়ে পত্রদূতে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের নির্দেশে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন এবং সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম ৩ আগস্ট সোমবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারটির হাতে নগদ অর্থ ও দুই বান টিন তুলে দেন।
এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ ২৩ বছর লালন-পালন করার পর দুই বছর আগে ক্যানসারে মা মারা গেলে আবুবকর তাঁর নানিকে নিয়ে চরম সংকটে পড়েছিলেন। সহায়তার হস্ত বাড়িয়ে দেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।