শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

মেয়ে হারা মায়ের আক্ষেপ আর কোনো মায়ের যেনো মেয়ে সন্তান না হয়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
মেয়ে হারা মায়ের আক্ষেপ আর কোনো মায়ের যেনো মেয়ে সন্তান না হয়?

আজহারুল ইসলাম সাদী

কুমিল্লার লালমাইয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন নিহত হওয়ায় তার মায়ের আর্তনাদে উঠে এসেছে সন্তান হারানোর বেদনা, বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা?
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আর কোনো মায়ের যেনো মেয়ে সন্তান না হয়! ‘কোনো মা যেনো আর সন্তান নেয় না। এই হায়নাদের যদি কোনো বিচার না করতে পারে এই মন্ত্রী-মিনিস্টাররা, তাহলে কোনো বিএনপিও ক্ষমতায় থাকার দরকার নেই। কোনো আওয়ামী লীগও না, হাসিনা, এমপি-মিনিস্টার কিছু চাই না।’

তিনি বলেন, ‘আমার কলিজার পাখিটা যখন চলে গেছে, আমি কি এত কথা বলে বিচার পাব? পাব না, পাব না। সে আল্লাহ দেখতেছে, আল্লাহ এর বিচার করুন।’
তিনি বলেন, ও যে বান্ধবীর বাসায় গেছে, আমি জিজ্ঞেস করেছি, বান্ধবীর মার নাম কী? বান্ধবীর বাবার নাম কী? আমারে বল। ওই বান্ধবীর বাসায় যাই, আমি নিয়ে আসি। ওই বান্ধবীরা খুব খারাপ, বান্ধবীরা খুব খারাপ।’

মেয়েকে স্কুলে পাঠানো বন্ধ রাখার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি স্কুলে ছয় মাস পাঠাই নাই। যাতে মেয়েটা আমার সামনে থাকে।
সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “আর এত কিছু করে যদি আপনারা কিছু না করতে পারেন, সাংবাদিকতা ছেড়ে দিবেন।

শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জান্নাতুল তাজমিনের মা বলেন, ‘নয় মাসের বাচ্চাগুলোরও কোনো নিরাপত্তা নেই। একটা মা একটা বাপের কাছে রাইখা যাবে, এর নিরাপত্তাও নাই। আপনারা কী করেন সাংবাদিকতা করে?
সন্তান হারানোর শোক, বিচার পাওয়ার আকুতি এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। মেয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে তিনি আল্লাহর কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

সমাজে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অন্যায়, অপরাধ, নিরাপত্তাহীনতা এবং কন্যা সন্তান কে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে বিচারহীনতার পরিবেশ দেখে ভুক্তভোগী পরিবার বা মায়েদের চরম হতাশা ও ক্ষোভ থেকে একজন মেয়ে হারা মায়ের ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ক্ষোভের বসে,
আর কারো যেনো মেয়ে সন্তান না হয়, এই ধরনের আবেগঘন মন্তব্য প্রকাশ পাওয়া স্বাভাবিক।
অথচ কন্যা সন্তানকে বলা হয়ে থাকে আল্লাহর রহমত।
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে দুই ভাগে সৃষ্টি করেছেন। পুরুষ আর নারী।

তবে আল্লাহ তায়ালা কাউকে শুধু কন্যা সন্তানই দান করেন। আবার কাউকে পুত্র সন্তান। কাউকে আবার পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন। কাউকে আবার কোনো সন্তানই দান করেন না, আবার কাউকে করে দেন বন্ধ্যা।
অনেক দম্পতি আছেন যারা শত চেষ্টা-তদবির করলেও তাদের সন্তান হয় না। এ সবই আল্লাহ তায়ালার বিশেষ হিকমত ও কল্যাণ-জ্ঞানের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে। যার জন্য তিনি যা উপযোগী মনে করেন তাকে তা দান করেন। কন্যা সন্তানও আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত পুত্র সন্তানও আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত। কন্যা সন্তানেরও প্রয়োজন আছে, পুত্র সন্তানেরও প্রয়োজন আছে। পুরুষ মহিলার মুখাপেক্ষী, মহিলা পুরুষের মুখাপেক্ষী।

উভয়ের সৃষ্টি ও জন্মগ্রহণ আল্লাহ তায়ালার বিশেষ হিকমত ও কল্যাণ-জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল।
গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন নামের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থী ও ঔষধ কোম্পানী রেনেটার কর্মী আব্দুল আলিমের মেয়ে।

বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে মেয়েটি প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যায় পরদিন ফিরে আসে কুমিল্লায়, সেখান থেকে কক্সবাজার যায় সে, ঘটনার দিন কক্সবাজার থেকে আইকনিক এক্সপ্রেসে মধ্যরাতে কুমিল্লার নূরজাহান হোটেল এর সামনে নামে, সেখানে তার ঘোরাঘুরির কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যায়।

১০ অক্টোবর সকালে কুমিল্লা’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়–য়া প্রেস বিফ্রিংয়ে
জানান, কুমিল্লা নূরজাহান হোটেল এলাকা থেকে মেয়েটি রেসকোর্সের বাসায় ফিরতে ওই অটোরিকশায় ওঠে। গভীর রাতে একা পেয়ে ফন্দি আঁটে চালক সুমন। তাকে নিয়ে শহরের না ফিরে উল্টো পথে অটোরিকশা চালাতে থাকেন, এক পর্যায়ে মেয়েটা বুঝতে পেরেই অটোরিকশা থেকে লাইভ লোকেশন ও হোয়াটসঅ্যাপে তার বাবা কে ম্যাসেজ করেন, “বাবা ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, আমাকে নিয়ে যাও” ।

অটোরিকশা চালক সুমন মেয়েটির সাথে ব্যাপক জবরদস্তি করে ধর্ষণের পর হত্যা করে পালিয়ে যায়, মেয়েটির আই ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সকালে মেয়েটির বাবা ঘুমিয়ে থাকায় মোবাইলের ম্যাসেজ না দেখতে পেয়ে সকালে মোবাইলের লোকেশন অনুযায়ী ম্যাসেজ দেয়া স্থানে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে একটি মেয়ের মরদেহ পড়ে আছে!
তিনি তখন মরদেহটি তার মেয়ের বলে সনাক্ত করেন। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ: ফেল করলে তিন মাসে পরীক্ষার সুযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ: ফেল করলে তিন মাসে পরীক্ষার সুযোগ

চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয়। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এ দিন ফল প্রকাশিত হতে পারে।

এবার এইচএসসিতে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আর এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না। অকৃতকার্য বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে এবার থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ দুই মাসের মধ্যে এবং তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে তিন মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও খাতা পুনর্নিরীক্ষণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর বিষয়ে মত দিয়েছেন। তবে দুটি বিষয়ের বেশি সর্বোচ্চ কতটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ফল প্রকাশের পর দুই মাসের মধ্যে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ফল প্রকাশের পর এক মাস পুনর্নিরীক্ষণের কাজ চলবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হবে। এরপর পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ করা হবে।

চেয়ারম্যান বলেন, দুই বিষয়ে পরীক্ষা হলে দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। তবে তিন বা তার বেশি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলে সময় বেশি লাগবে। সে ক্ষেত্রে তিন মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, পুনর্নিরীক্ষণ, পরীক্ষার আয়োজন, পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে ফল প্রকাশ করতে হবে।

দুই বিষয়ে পরীক্ষা, নাকি আরও বেশি—সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, সোমবারের সভায় অন্তর্বর্তী পরীক্ষার ধরন, সম্ভাব্য পরীক্ষার্থী, কতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুরুতে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রসঙ্গ এলেও পরে অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বোর্ড চেয়ারম্যানরা পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তাদের অভিমত দিয়েছেন। তবে দুটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে, নাকি তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণদেরও সুযোগ দেওয়া হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ভাষ্য, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য এ বছর থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন বোর্ড চেয়ারম্যানরা।

এক বছর অপেক্ষা না করানোর ঘোষণা উপদেষ্টার

এর আগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউনে গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এসব শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে একজন শিক্ষার্থীর অন্য সব মেধা ও সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায় না। তাই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সনদের ভিত্তিতে একজন মানুষের জীবন মূল্যায়ন করা উচিত নয়।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই সারাদেশে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্ট।

এবার এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। পরীক্ষার কেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৪৩৯টি। এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে (জিএমটি ১৪৩৩) ভূকম্পনটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে চীন ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র (সিইএনসি)।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সিইএনসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতের নাগকু জেলার উচ্চ পার্বত্য এলাকায়, ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।

সিইএনসি জানিয়েছে, তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে ঘটা এই ভূমিকম্পটি স্থানীয়ভাবে বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী কিংহাই প্রদেশের ইউশুতে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ হন, যা আজকের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ২৮০ কিলোমিটার দূরে ছিল।

থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চাইলেন রুমিন ফারহানা, ওসি বললেন ‘মব সৃষ্টির কথা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চাইলেন রুমিন ফারহানা, ওসি বললেন ‘মব সৃষ্টির কথা’

দুর্গাপূজায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না পাওয়া এবং সৌজন্যমূলক আচরণ না করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় ওসিকে উদ্দেশ্য করে রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।’ সেইসঙ্গে ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, মাটি কাটা ও বালু ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়া এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে গিয়ে খাওয়াদাওয়া করার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি।

থানার কক্ষে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, তিনি একাধিকবার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অনুরোধ করেছেন। বিজয়নগর ও আশুগঞ্জে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হলেও সরাইলে তা পাননি। তার দাবি, নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে স্থানীয় পর্যায়ে তা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাকে দেয়নি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘কতবার রিকোয়েস্ট করেছি যে নিরাপত্তা দেওয়া হোক। আমাকে বিজয়নগরে নিরাপত্তা দিয়েছে, আমাকে আশুগঞ্জে নিরাপত্তা দিয়েছে। ওইটা আইন আছে যে নির্বাচিত এমপি নিরাপত্তা চাইলে লোকাল এরিয়াতে হবে। গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগের সময় একজন এমপি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এবং উনি মারা যাওয়ার পর এই আইনটা হয়।’

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘উনি আমার লোকের ফোনই ধরেন না এবং বলেন, উনি নির্বাচিত এমপি, ওনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। তো এ জন্যই মানুষ যা দেখতেছেন, বাইরে আরও ৫-১০ হাজার মানুষ আছে। তো ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে, তাই না? সো মানুষ আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে।’

ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা, বালু ও ইটভাটাসংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ। কোনও ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় বলে তার অভিযোগ। এসব বিষয়ে জানতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন বলেও জানান। তার ভাষ্য, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে ওসির এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার ওসির

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সরাইল থানার ওসি মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা থানায় এক থেকে দেড়শ লোক নিয়ে এসে হইচই করেন এবং আমার কার্যালয়ে কয়েকশ লোক ঢুকে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।’

ওসি বলেন, ‘উনি কিছু লোককে শিখিয়ে নিয়ে আসছেন যে, আমার বিরুদ্ধে আজেবাজে কথাবার্তা বলছে, যা আমি প্র্যাকটিস করি না। উনি বলছেন, আমি নাকি কোনও এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে ভাত খেয়ে আসছি। আমি কখনও কারও দাওয়াতেই যাই না। বিয়ের দাওয়াতেও যাই না। রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম ছাড়া কোনও খাবারদাবার, খানাপিনায় অ্যাটেন্ড করি না। শুধু সরকারি প্রোগ্রাম, যেখানে ইউএনও মহোদয় থাকেন, আমি থাকি, ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন, তখন আমি যাই।’

মামলার আসামি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন ওসি। তিনি বলেন, ‘উনি লোক সাজিয়ে নিয়ে আসছেন। সে বলছে, আমাকে নাকি মামলার আসামি ছাড়ার ব্যাপারে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। লোকটাকে আমি কখনও দেখছি বলে আমার মনে পড়ে না। আসামিরা আসে, অফিসারেরা ধরে হাজতে পাঠায়, আবার কোর্টে চলে যায়। আমার সঙ্গে ইন্টারোগেশনে কোনও প্রয়োজনই হয় না। সে নাকি আমাকেই ৩০ হাজার টাকা দিছে। এটা তো ওনার শেখানো বিষয়।’

ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘উনি বলছেন, ব্রিকফিল্ড থেকে টাকা নিই। ব্রিকফিল্ড এখানে হাওর অঞ্চল, সবগুলো পানির নিচে ডুবানো। উনি এই অভিযোগটা কোত্থেকে আনলেন?’

পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ওসি বলেন, ‘দুর্গাপূজায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। থানা এলাকার সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চাওয়ার বিষয়টি আলাদা। এ জন্য তিনি পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করতে পারেন। গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি তো একটা টিম ওনার সঙ্গে ওইভাবে এনগেজ রাখা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।’

থানায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওসির

ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, রুমিন ফারহানা তার অনুসারীদের নিয়ে থানার কক্ষে এসে তাকে অবরুদ্ধ করেন এবং থানার বাইরে মিছিল করেন। সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনও সংগঠনের লোকজন ছিলেন কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান। তার দাবি, ওই সংগঠনের লোকজনকে গ্রেফতার না করার জন্য সংসদ সদস্য তাকে প্রায়ই চাপ দেন।

এ সময় জবাবে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেছেন, আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আমরা সব জানি। এখন আসছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংগঠনের লোক চিনাইতে।

ওসি বলেন, থানায় আসা অনেককেই তিনি চিনতে পারেননি। পরে তাদের পরিচয় জানা যেতে পারে। থানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়টি তিনি নোট করে রেখেছেন বলেও জানান।

এ সময় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার সমর্থকদের তর্কে জড়ানোর ঘটনা ঘটে। তাদের কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করে রাখার জন্য থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন ওসি।

এদিকে রুমিন ফারহানা থানায় অবস্থানকালে বাইরে তার পক্ষে এবং ওসির বিরুদ্ধে কয়েক শ মানুষকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ ঘটনায় থানা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।