মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

যুব নেতৃত্বে পরিবেশ দূষণরোধে উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর ডাম্পিং স্টেশন প্রতিষ্ঠায় এডভোকিসি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
যুব নেতৃত্বে পরিবেশ দূষণরোধে উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর ডাম্পিং স্টেশন প্রতিষ্ঠায় এডভোকিসি সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও জলবায়ু-সহনশীল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুব নেতৃত্বে পরিবেশ দূষণরোধে উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর ডাম্পিং স্টেশন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্টেকহোল্ডারদের সাথে এক বিশেষ এডভোকিসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ) সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সিডো’র আয়োজনে সংস্থার ম্যানগ্রোভ সভাঘরে অনুষ্ঠিত সভায়
সিডোর নির্বাহী পরিচালক শ্যামল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার সমাজসেবা উন্নয়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এবং পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র শফিক উদ দৌলা সাগর, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আশরাফ আলী। সিডোর প্রোগ্রাম অফিসার তৌহিদুজ্জামানের পরিচালনা বক্তব্য রাখেন স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাদব চন্দ্র দত্ত, পল্টু বাশার, নারী নেত্রী ফরিদা আখতার বিউটি, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলিনুর নুর খান বাবুল, অর্জন ফাউন্ডেশনের মহুয়া মঞ্জুরী, জেলা ইমাম সমিতির মাওলানা মাহবুবুর রহমান, বিডি ক্লিনের শাহরিয়ার আনজুম, বারসিকের গাজী মাহিদা মিজান এবং টিআইবির আল আমিন হোসেন, যুবনেতা হৃদয় মন্ডল, ইফতি জামিল ও সাকিব হোসেন। এছাড়া একশনএইড বাংলাদেশ এর ইন্সপেরিটর নয়ন হোসেন, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার, ফাইনান্স অফিসার আব্দুস সাত্তার, ইয়ূথ পিয়ার গ্রুপ ফ্যাসিলিটেটর স্বপ্না পারভীনসহ
সভায় বিভিন্ন সামাজিক, পরিবেশবাদী ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে বর্তমানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। শহরকে পরিবেশ দূষণ ও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে পরিবেশ দূষণকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বক্তারা আরও বলেন: বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করতে হবে। উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও আধুনিক স্যানিটারি ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমেই কেবল সাতক্ষীরাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

Ads small one

ফকিরহাটে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
ফকিরহাটে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম চত্ত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারিত কমপ্লেক্সে ভবনের মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রোকনুজ জামান। এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: গোলাম মোস্তফা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্ত শোভা রায়, সমাজসেবা কর্মকর্তা দিপঙ্কর কুমার বিশ্বাস, একাডেমিক সুপারভাইজার আসাদুজ্জামান, সহকারী প্রোগ্রামার মো: আলমগীর হোসেন, বিএনপি নেতা শেখ ইফতেখার আহম্মেদ পলাশ, মোড়ল কামররুজ্জামান, মো: আলমগীর হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব লায়ন দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ফকিরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
ফকিরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের ফকিরহাট সদর বাজারের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টায় এ সভা অত্র বাজারের একটি মার্কেট চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফকিরহাট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: শরীফ নেওয়াজ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: রজিউল্লাহ খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরা, বিএনপি নেতা শেখ ইফতেখার আহম্মেদ পলাশ, ফকিরহাট জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক সেক্রেটারী মাওলানা মোফাজ্জল হায়দার প্রমূখ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: সাদেক মল্লিক। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নোমান আল মেহেদী ও শেখ শহীদ হাসান রানার যৌথভাবে সঞ্চালনায় করেন এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ হারুনার রশিদ,। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ি শেখ কামাল হোসেন বাবুসহ অন্যান্যরা।

সভায় বাজারের উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা, নৈশ্যপ্রহরী, সিসি ক্যামেরা, কেরামবোর্ড ও মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়য়ে আলোচনা করা হয়েছে। এসময় বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য, ইতিহাস ও সাতক্ষীরার করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য, ইতিহাস ও সাতক্ষীরার করণীয়
শেখ সিদ্দিকুর রহমান 
গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর ছিল আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য—“মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা”। ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের ৬০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। UNESCO-এর উদ্যোগে এ বছরের আন্তর্জাতিক আয়োজন ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর চিয়াপাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বর্তমান পৃথিবীতে সাক্ষরতার অর্থ কেবল অক্ষরজ্ঞান নয়; বরং মানুষকে জ্ঞান, দক্ষতা, সচেতনতা, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সাক্ষরতা মানুষকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে, জীবিকা অর্জনে সক্ষমতা বাড়ায়, সমাজে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে এবং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখে।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের ইতিহাস
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
১৯৬৫ সালের ৮ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ইরানের রাজধানী তেহরানে UNESCO-এর উদ্যোগে World Congress of Ministers of Education on the Eradication of Illiteracy বা নিরক্ষরতা দূরীকরণ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীদের বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে নিরক্ষরতাকে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে নয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তেহরান সম্মেলনের সুপারিশের ধারাবাহিকতায় UNESCO-এর ১৪তম সাধারণ সম্মেলনে ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯৬৭ সাল থেকে প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়ে আসছে।
অর্থাৎ ১৯৬৫ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত সম্মেলন ছিল দিবসটির পটভূমি তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, ১৯৬৬ সালে UNESCO আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি ঘোষণা করে এবং ১৯৬৭ সাল থেকে এর আন্তর্জাতিক উদযাপন শুরু হয়।
ছয় দশক পর আজও সাক্ষরতার প্রশ্নটি বিশ্ব থেকে মুছে যায়নি। UNESCO-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালেও বিশ্বে অন্তত ৭৩ কোটি ৯০ লাখ যুব ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মৌলিক সাক্ষরতা দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালে বিশ্বে প্রায় ২৭ কোটি ২০ লাখ শিশু ও কিশোর-কিশোরী বিদ্যালয়ের বাইরে ছিল।
তাই আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের শিক্ষা ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান।
সাক্ষরতা বলতে আমরা কী বুঝি?
একসময় সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হতো শুধু পড়তে, লিখতে ও সহজ হিসাব করতে পারার সক্ষমতা। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতা সেই ধারণাকে অনেক বিস্তৃত করেছে।
এখন একজন মানুষকে এমনভাবে শিক্ষিত ও দক্ষ করে তুলতে হবে, যাতে তিনি তথ্য বুঝতে পারেন, ভুল তথ্য থেকে সত্যকে আলাদা করতে পারেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন, নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে পারেন এবং নিজের জীবন ও জীবিকার উন্নয়নে জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারেন।
অর্থাৎ সাক্ষর মানুষ মানে শুধু অক্ষর চিনতে পারা মানুষ নয়; সাক্ষর মানুষ মানে সচেতন, দায়িত্বশীল, দক্ষ ও আত্মনির্ভর মানুষ।
আজকের দিনে ডিজিটাল সাক্ষরতা, তথ্য সাক্ষরতা, আর্থিক সাক্ষরতা ও পরিবেশগত সচেতনতাও কার্যকর সাক্ষরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশের অগ্রগতি, তবু কাজ বাকি
সাক্ষরতা বিস্তারে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর হিসাবে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর জাতীয় সাক্ষরতার হার ছিল ৭৪.৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষের সাক্ষরতার হার ৭৬.৫৬ শতাংশ এবং নারীর ৭২.৮২ শতাংশ।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত SVRS-এর হিসাবে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ। একই সূত্রে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৫.৬ শতাংশ বলা হয়েছে।
দুটি পরিসংখ্যান ভিন্ন বছরের ও ভিন্ন উৎসের হওয়ায় এগুলোকে একই সময়ের হিসাব হিসেবে দেখা উচিত নয়। তবে উভয় পরিসংখ্যানই বাংলাদেশের সাক্ষরতার অগ্রগতির একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।
এই অগ্রগতি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। কিন্তু পরিসংখ্যানের সংখ্যার আড়ালে আমাদের আরেকটি বাস্তবতা দেখতে হবে। দেশের এখনও একটি বড় জনগোষ্ঠী শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, দরিদ্র পরিবারের সন্তান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সুবিধাবঞ্চিত নারী-পুরুষ এবং শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীকে কার্যকর সাক্ষরতার আওতায় আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
তাই এখন প্রশ্ন শুধু—কত শতাংশ মানুষ সাক্ষর?
প্রশ্ন হওয়া উচিত—কত শতাংশ মানুষ সেই সাক্ষরতা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারছেন?
সাতক্ষীরার চিত্র
সাতক্ষীরার জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ জেলা একদিকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, পানির সংকট ও জীবিকার নানা অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে চলেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর জেলা-ভিত্তিক হিসাবে সাতক্ষীরায় ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৫.২৩ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষের সাক্ষরতার হার ৭৮.৫৭ শতাংশ এবং নারীর ৭১.৯৪ শতাংশ।
অর্থাৎ ২০২২ সালের হিসাবে সাতক্ষীরার সাক্ষরতার হার জাতীয় গড় ৭৪.৬৬ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি। এটি অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু একই সঙ্গে একটি বিষয় বিশেষভাবে ভাবতে হবে—সাতক্ষীরায় নারী ও পুরুষের সাক্ষরতার মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৬.৬৩ শতাংশ পয়েন্ট।
এই ব্যবধান কমাতে না পারলে সামগ্রিক সাক্ষরতার উন্নয়নও পূর্ণতা পাবে না।
কারণ একটি পরিবারে মা যদি শিক্ষিত ও সচেতন হন, তার প্রভাব শুধু একজন মানুষের ওপর পড়ে না; তা সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পারিবারিক অর্থব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও পড়ে।
সাতক্ষীরায় সাক্ষরতা বাড়ানোর লড়াই কোথায়?
সাতক্ষীরার বাস্তবতায় সাক্ষরতা বিস্তারের পরিকল্পনা করতে হলে জেলার ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিতে হবে।
উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না। নদী, খাল, দূরবর্তী গ্রাম, যোগাযোগের সমস্যা এবং দুর্যোগের কারণে অনেক পরিবারের জীবনযাত্রা অনিশ্চিত। দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু-কিশোরও অল্প বয়সে শ্রমে যুক্ত হয়ে পড়ে।
তাই সাতক্ষীরায় সাক্ষরতা আন্দোলনকে শুধু বিদ্যালয়কেন্দ্রিক রাখলে চলবে না।
গ্রাম, পরিবার, বাজার, কর্মক্ষেত্র ও স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠান—সব জায়গাকে সাক্ষরতা আন্দোলনের অংশ করতে হবে।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নতুন উদ্যোগ
যে মানুষটি শৈশবে বিদ্যালয়ে যেতে পারেননি, তাঁর জন্য শিক্ষার দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে না। প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে হবে।
প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে সন্ধ্যাকালীন বা সুবিধাজনক সময়ে সাক্ষরতা কেন্দ্র চালু করা যেতে পারে। স্থানীয় শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও এনজিওগুলোকে যুক্ত করে ছোট ছোট “সাক্ষরতা দল” গড়ে তোলা যেতে পারে।
বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের জন্য সময়সূচি এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে গৃহস্থালি ও জীবিকার কাজের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
শুধু বই হাতে তুলে দিয়ে অক্ষর শেখানো নয়—শেখাতে হবে জীবনমুখী জ্ঞান।
ওষুধের লেবেল পড়া, মোবাইল ফোন ব্যবহার, ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা বোঝা, কৃষি ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য পড়া, দুর্যোগের সতর্কবার্তা বোঝা, সরকারি সেবা সম্পর্কে জানা, নিজের অধিকার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুঝতে পারা—এসবও কার্যকর সাক্ষরতার অংশ।
ডিজিটাল সাক্ষরতা এখন সময়ের দাবি
বর্তমান পৃথিবীতে শুধু কাগজের বই পড়তে পারা যথেষ্ট নয়। একজন মানুষকে ডিজিটাল জগতের সঙ্গেও পরিচিত হতে হবে।
স্মার্টফোনে পাওয়া তথ্য সত্য না মিথ্যা তা যাচাই করা, প্রতারণামূলক বার্তা শনাক্ত করা, অনলাইন ফরম পূরণ করা, সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা, ডিজিটাল আর্থিক সেবা নিরাপদে ব্যবহার করা—এসবও এখন সাক্ষরতার অংশ।
সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে ডিজিটাল সাক্ষরতার আওতায় আনতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, গ্রন্থাগার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় করা যেতে পারে।
একজন মানুষ অক্ষরজ্ঞান অর্জন করলেন, কিন্তু ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হলেন—তাহলে তাঁর শিক্ষা এখনও অসম্পূর্ণ।
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সাক্ষরতার সম্পর্ক
এবারের প্রতিপাদ্যের একটি শব্দ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—“পৃথিবী”।
সাতক্ষীরার মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সবচেয়ে কাছ থেকে অনুভব করেন। লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, পানির সংকট ও কৃষিতে পরিবর্তন—এসব এখানকার মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।
তাই সাতক্ষীরার সাক্ষরতা কর্মসূচিতে পরিবেশ ও জলবায়ু শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
মানুষকে জানতে হবে কীভাবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়, নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে হয়, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা কীভাবে বুঝতে হয়, সুন্দরবন কেন রক্ষা করতে হবে, নদী-খাল দখল ও দূষণের ক্ষতি কী এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে কীভাবে নিজেদের জীবন ও জীবিকাকে খাপ খাওয়ানো যায়।
যে সাক্ষরতা মানুষকে নিজের পৃথিবী রক্ষার শিক্ষা দেয়, সেটিই প্রকৃত অর্থে আধুনিক সাক্ষরতা।
আর্থিক সাক্ষরতাও জরুরি
দারিদ্র্য কমানোর সঙ্গে সাক্ষরতার সম্পর্ক গভীর। কিন্তু শুধু পড়তে ও লিখতে পারলেই অর্থনৈতিকভাবে সচেতন হওয়া যায় না।
মানুষকে সঞ্চয়, ঋণ, সুদ, কিস্তি, ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, বীমা এবং অনলাইন আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে মৌলিক ধারণা দিতে হবে।
সাতক্ষীরার কৃষক, মৎস্যজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও প্রান্তিক নারীদের জন্য জীবিকাভিত্তিক আর্থিক সাক্ষরতা চালু করা যেতে পারে।
এতে মানুষ প্রতারণা থেকে যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি নিজের সীমিত আয়কে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
নারী সাক্ষরতায় বিশেষ গুরুত্ব
সাতক্ষীরার সামগ্রিক সাক্ষরতার হার বাড়াতে হলে নারীদের সাক্ষরতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ২০২২ সালের সরকারি পরিসংখ্যানেই পুরুষ ও নারীর সাক্ষরতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান দেখা যায়।
নারীদের জন্য পৃথক ও নমনীয় সাক্ষরতা কর্মসূচি, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ও অধিকারভিত্তিক শিক্ষা চালু করা যেতে পারে।
একজন নারী যখন নিজের নাম লিখতে পারেন, নিজের সন্তানের বিদ্যালয়ের নোটিশ পড়তে পারেন, চিকিৎসকের পরামর্শ বুঝতে পারেন, মোবাইল ফোনে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারেন—তখন তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষমতায়ন ঘটে।
আর সেই ক্ষমতায়নের প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারে।
বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে হবে
নতুন করে প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষর করার পাশাপাশি শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া বন্ধ করা আরও জরুরি।
কারণ একজন শিশু আজ বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়লে কয়েক বছর পর তাকে আবার সাক্ষরতার কর্মসূচিতে ফিরিয়ে আনতে অনেক বেশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা উপকরণ, পুষ্টি, বিদ্যালয়ে নিরাপদ পরিবেশ এবং প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা বাড়াতে হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রতিটি এলাকায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি করে তাদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
গ্রন্থাগার ও পাঠাগার হতে পারে সাক্ষরতা আন্দোলনের কেন্দ্র
সাতক্ষীরায় সরকারি-বেসরকারি গ্রন্থাগার ও পাঠাগারগুলোকে আরও সক্রিয় করা প্রয়োজন। একটি গ্রন্থাগার শুধু বই রাখার জায়গা নয়; এটি হতে পারে একটি এলাকার জ্ঞানকেন্দ্র।
গ্রন্থাগারে শিশুদের পাঠচক্র, নারীদের সাক্ষরতা ক্লাস, বয়স্কদের পড়াশোনা, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, সংবাদপত্র পাঠ, পরিবেশ শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার বিষয়ে আলোচনা চালু করা যেতে পারে।
প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কার্যকর কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার গড়ে তোলা গেলে সাতক্ষীরার সাক্ষরতা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
চাই সমন্বিত জেলা পরিকল্পনা
সাতক্ষীরায় সাক্ষরতার হার আরও বাড়াতে হলে শুধু একটি দিবসের কর্মসূচি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি জেলা সাক্ষরতা পরিকল্পনা।
জেলা প্রশাসন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক সমাজ, এনজিও, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজকে নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
প্রথমে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক জরিপ করে কোথায় সাক্ষরতার হার কম, কোন বয়সের মানুষ বেশি পিছিয়ে, নারী-পুরুষের ব্যবধান কোথায় বেশি—এসব চিহ্নিত করতে হবে।
তারপর নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
শুধু “সাক্ষরতা বাড়াতে হবে” বললে হবে না; বলতে হবে—কত বছরে কত শতাংশে উন্নীত করা হবে।
লক্ষ্য হোক ৯০ শতাংশ, তারপর ১০০
সাতক্ষীরার ৭৫.২৩ শতাংশ সাক্ষরতার হার একটি অর্জন। কিন্তু এখানেই থেমে থাকার সুযোগ নেই।
পরবর্তী ধাপে জেলার সাক্ষরতার হারকে ৮০, ৮৫ এবং ৯০ শতাংশে উন্নীত করার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য হতে পারে সর্বজনীন সাক্ষরতা।
তবে সেই শতভাগ সাক্ষরতা যেন শুধু পরিসংখ্যানের শতভাগ না হয়। মানুষ যেন বাস্তব জীবনে পড়তে, লিখতে, হিসাব করতে, তথ্য যাচাই করতে, প্রযুক্তি ব্যবহার করতে এবং নিজের জীবন সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারে—সেই নিশ্চয়তাও থাকতে হবে।
সাক্ষরতা মানেই মানুষের মুক্তি
আসলে সাক্ষরতার সঙ্গে মানুষের মুক্তির সম্পর্ক গভীর।
যে মানুষ পড়তে পারেন না, তিনি অনেক সময় নিজের অধিকার সম্পর্কে জানেন না। যে মানুষ তথ্য বুঝতে পারেন না, তিনি সহজেই গুজব ও প্রতারণার শিকার হন। যে মানুষ হিসাব বুঝতে পারেন না, তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। যে মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন না, তিনি আধুনিক অর্থনীতি ও সেবা থেকে পিছিয়ে পড়েন।
তাই সাক্ষরতা শুধু কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা সরকারি দপ্তরের বিষয় নয়।
সাক্ষরতা একটি সামাজিক আন্দোলন।
এটি পরিবারকে শক্তিশালী করে, মানুষকে সচেতন করে, অর্থনীতিকে গতিশীল করে, পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং একটি দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
আমাদের করণীয় কী?
সাতক্ষীরায় সাক্ষরতার হার আরও বাড়াতে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে—
প্রথমত, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক সাক্ষরতা জরিপ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তৃতীয়ত, নারী ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নমনীয় সময়ের সাক্ষরতা কেন্দ্র চালু করতে হবে।
চতুর্থত, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল ও তথ্য সাক্ষরতা বাড়াতে হবে।
পঞ্চমত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ সাতক্ষীরায় পরিবেশ ও দুর্যোগ-সচেতনতা শিক্ষাকে সাক্ষরতা কর্মসূচির অংশ করতে হবে।
ষষ্ঠত, গ্রন্থাগার, পাঠাগার ও কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারগুলোকে স্থানীয় জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সপ্তমত, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তুলতে হবে।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সাক্ষরতার হিসাব শুধু পরীক্ষার খাতায় নয়, মানুষের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনছে, সেটিও পরিমাপ করতে হবে।
শেষ কথা
আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক—সাতক্ষীরার কোনো শিশু যেন দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে, কোনো নারী যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, কোনো প্রবীণ মানুষ যেন অক্ষরজ্ঞান না থাকার কারণে সারাজীবন অন্যের ওপর নির্ভরশীল না থাকেন।
আমরা এমন একটি সাতক্ষীরা চাই, যেখানে মানুষ শুধু নিজের নাম লিখতে জানবে না—নিজের অধিকার জানবে, নিজের দায়িত্ব বুঝবে, প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, পরিবেশ রক্ষা করবে এবং নিজের জীবন ও সমাজের উন্নয়নে জ্ঞানকে কাজে লাগাবে।
কারণ সাক্ষরতা মানে শুধু অক্ষর চেনা নয়; সাক্ষরতা মানে মানুষকে মানুষ হিসেবে শক্তিশালী করে তোলা।
এবারের প্রতিপাদ্য তাই আমাদের সামনে একটি সুস্পষ্ট বার্তা নিয়ে এসেছে—“মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা।”
এই তিনটি শব্দের মধ্যে রয়েছে আমাদের ভবিষ্যতের পথনির্দেশ।
সাক্ষর মানুষ চাই—সমৃদ্ধ সাতক্ষীরার জন্য।
সচেতন মানুষ চাই—সুন্দর পৃথিবীর জন্য।
দক্ষ মানুষ চাই—টেকসই বাংলাদেশের জন্য।
সাক্ষরতার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি ঘর, প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি ইউনিয়ন এবং আমাদের প্রিয় সাতক্ষীরা।
লেখক: সাবেক ব্যাংকার, কবি ও লেখক।