সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

লোহাগড়ায় সাংবাদিকের জামাতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
লোহাগড়ায় সাংবাদিকের জামাতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামানের জামাতা আমিনুল ইসলামকে (২৮) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের কুমারডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আমিনুল ইসলাম কুমারডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাই ফকিরের ছেলে। মাত্র ১ মাস ২০ দিন আগে আমিনুল ও কামরুন্নাহার দম্পতির ঘরে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের ছেলে সিরাজের কাছে পাওনা ১২ হাজার টাকা নিয়ে আমিনুলের বড় ভাইয়ের বিরোধ ছিল। শনিবার রাতে টাকা আদায়ের দাবিতে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ জাহাঙ্গীর ও তাঁর লোকজন চড়াও হলে আমিনুল তাঁর বড় ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। এ সময় সিরাজ ও তাঁর সহযোগীরা আমিনুলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কামরুজ্জামানের মেয়ে কামরুন্নাহার জানান, বিয়ের পর থেকেই তিনি বাবার বাড়িতে ছিলেন। আগামী ২৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে তুলে নেওয়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত ছিল। তার আগেই এই হত্যাকা-ে তাঁর ১ মাস ২০ দিন বয়সী সন্তানটি পিতৃহীন হলো।
এই ঘটনায় নড়াইলের লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে সাংবাদিক কামরুজ্জামানের জামাতার এই নৃশংস হত্যাকা-ে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন।

Ads small one

সাপ্তাহিক ‘বেগম’: বাঙালি নারীর কণ্ঠস্বর ও জাগরণের প্রতীক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সাপ্তাহিক ‘বেগম’: বাঙালি নারীর কণ্ঠস্বর ও জাগরণের প্রতীক

সাকিবুর রহমান বাবলা
২০ জুলাই বাংলা সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও নারী জাগরণের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে কলকাতার ওয়েলেসলি স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষার প্রথম সচিত্র নারী সাপ্তাহিক ‘বেগম’। দেশভাগের প্রাক্কালে যখন নারীদের শিক্ষা, সাহিত্যচর্চা ও জনজীবনে অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত সীমিত, তখন ‘সওগাত’-এর সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের দূরদর্শী উদ্যোগে প্রকাশিত এই পত্রিকা নারী সমাজের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। তৎকালীন প্রতিকূল সামাজিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মুসলিম নারীদের শিক্ষার আলোয় আনার লক্ষ্যেই ছিল। পত্রিকার প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছিল নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ছবি। মাত্র ৫০০ কপি মুদ্রিত চার আনা মূল্যের সেই সংখ্যাই পরবর্তীকালে একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের ভিত্তি রচনা করে।
পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি ও সমাজনেত্রী বেগম সুফিয়া কামাল। তিনি প্রথম চার মাস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তখন বিএ শ্রেণির ছাত্রী নূরজাহান বেগম শুরু থেকেই ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল ও লেডি ব্রেবোর্ন কলেজের একদল তরুণী শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে ‘বেগম’-এর প্রাথমিক কর্মপরিসর। পরবর্তীকালে নূরজাহান বেগম সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রায় ছয় দশক ধরে পত্রিকাটিকে সফলভাবে পরিচালনা করেন। সম্পাদকীয় বিভাগে ফজলে লোহানীরও গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ছিল।
দেশভাগের পর ১৯৫০ সালে ‘বেগম’-এর কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। সে সময় নারীদের ছবি প্রকাশ করা অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না। রক্ষণশীল সমাজে অনেক নারী ছদ্মনামে লিখতেন, কিন্তু ‘বেগম’ তাঁদের নিজস্ব নাম ও ছবিসহ লেখা প্রকাশের জন্য উৎসাহিত করত। এটি ছিল তৎকালীন সময়ে এক বৈপ্লবিক ঘটনা। এর ফলে অসংখ্য নারী প্রথমবারের মতো জনপরিসরে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার সুযোগ পান।
নারী সাংবাদিকতার বিকাশে ‘বেগম’-এর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৪৮ ও ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যাগুলোও পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং নারীদের লেখালেখির পরিসর সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখে। এটি শুধু সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রই তৈরি করেনি, বরং নারী সাংবাদিক, সম্পাদক ও সাহিত্যিক তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবেও গড়ে উঠেছিল। সুফিয়া কামাল, শামসুন্নাহার মাহমুদ, জাহানারা আরজু, নীলিমা ইব্রাহিম, রাজিয়া খাতুন, প্রতিভা গাঙ্গুলী, সেলিনা পান্নি এবং পরবর্তীকালে সেলিনা হোসেনসহ বহু বিশিষ্ট লেখকের সাহিত্যজীবনের সঙ্গে ‘বেগম’-এর নিবিড় সম্পর্ক ছিল।
বেগম’ কেবল একটি পত্রিকা ছিল না, বরং তা তৎকালীন পাঠিকাদের কাছে একটি ‘পরিবার’-এর মতো হয়ে উঠেছিল। ডাকযোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পত্রিকা পৌঁছানো এবং পাঠিকাদের চিঠি ও লেখা প্রকাশের মাধ্যমে এটি শহর ও গ্রামের নারীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগাযোগসূত্র গড়ে তোলে, যা ‘বেগম-পাঠিকা সভা’ নামেও পরিচিতি পায়। এই সংযোগ নারীদের একাকীত্ব দূর করে তাঁদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। সাহিত্য ও সামাজিক বিষয়ের পাশাপাশি পরিবার ও জীবনযাপনভিত্তিক নানা বিষয়ও নিয়মিত প্রকাশিত হতো।
১৯৫৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বেগম ক্লাব’। শামসুন্নাহার মাহমুদ ছিলেন এর সভাপতি, নূরজাহান বেগম সেক্রেটারি এবং সুফিয়া কামাল অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন। এটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম নারী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্লাব হিসেবে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। ষাট ও সত্তরের দশকে ‘বেগম’ জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে। নারী শিক্ষা, আইনি অধিকার, সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার দূরীকরণ ও আত্মনির্ভরতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়মিত স্থান পেত এর পাতায়।
বর্তমানে ‘বেগম’ মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে এবং এর প্রচ্ছদমূল্য ৫০ টাকা। নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা ফ্লোরা নাসরিন খান পত্রিকাটির দায়িত্ব পালন করছেন। ডিজিটাল যুগে মুদ্রিত পত্রিকার নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ‘বেগম’ তার ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। একই সঙ্গে, সাত দশকের সমৃদ্ধ আর্কাইভ ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি, যা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা যোগাবে। বাংলা সাংবাদিকতা ও নারী জাগরণের ইতিহাসে ‘বেগম’ কেবল একটি পত্রিকা নয়; এটি নারী আত্মপ্রকাশ, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক অগ্রগতির এক ঐতিহাসিক প্রতীক।

সাতক্ষীরায় চার কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় চার কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুখরালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারজন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের এই কৃতিত্বের জন্য সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা হলো পঞ্চম শ্রেণির অদৃতা বিশ্বাস, ঊর্মী বাছাড়, মাকফুর হোসেন রিয়ন ও নোমান বিন সাবিদ।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি কবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা অনুরাগী আলহাজ্ব কাজী ফজলুল হক, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আরা, রং তুলি অ্যাডের পরিচালক মহিবুল্লাহ, সাংবাদিক একরামুজ্জামান ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি প্রদীপ কুমার ঘোষ।
আলোচকেরা বলেন, শিক্ষার্থীদের এই অর্জন শুধু তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং গোটা এলাকার জন্য গৌরবের। ভবিষ্যতেও এই শিক্ষার্থীরা সাফল্যের এই ধারা বজায় রেখে দেশ ও সমাজের সুনাম বৃদ্ধি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট ও শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।

আশাশুনিতে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার এক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার এক

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ রবিউল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে উপজেলার দরগাহপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রাম থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত দলিল গাজীর ছেলে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশাশুনি থানার এসআই আনজীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল শ্রীধরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আশাশুনি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। সোমবার সকালে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।