রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

শুভেন্দুই পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী, শপথ আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
শুভেন্দুই পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী, শপথ আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পনের বছরের শাসক মমতা বন্দ্যোপধ্যায়কে ভোটের লড়াইয়ে ধরাশায়ী করা শুভেন্দু অধিকারী আলোচনায় এগিয়ে ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাকেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিল ভারতের শাসক দল বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী দলের ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে শুক্রবার বৈঠক করে শুভেন্দুকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা ঘোষণা করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপি নেতা অমিত শাহ। নিয়ম অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের পরিষদীয় দলনেতাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন।

আজ শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন সরকার শপথ নেবে। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আনন্দবাজার লিখেছে, মুখ্যমন্ত্রী যে শুভেন্দুই হচ্ছেন, তা নিয়ে খুব একটা সংশয় ছিল না পদ্ম (বিজেপির নির্বাচনী প্রতিক) শিবিরে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে তাকেই সবচেয়ে জোরালো দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছিল।

তবে শুভেন্দু ছাড়াও বিজেপির তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত, দলের রাজ্য সভাপতি শমীক দাশগুপ্ত, নারী নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালসহ আরো কয়েকজনের নাম আসছিল আলোচনায়। সবাইকে পেছনে ফেলে ৫৫ বছর বয়সী শুভেন্দুই রাজ্যের দন্ডমুন্ডের কর্তা হতে চলেছেন।

ভারতের যে কোনো রাজ্যে নির্বাচনের পর বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সেই রাজ্যে পাঠায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এ বার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল অমিত শাহকে। তার সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তাদের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে কলকাতার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক হয়।

বিধায়কদলের সঙ্গে বৈঠকের পর অমিত শাহ বলেন, পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শুভেন্দু বলেন, এ বার কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার এক সঙ্গে কাজ করবে। সেই কাজের মাধ্যমে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নপূরণ। আর এ ক্ষেত্রে আমা মন্ত্র হবে ‘চরৈবেতি’।

সংস্কৃত ‘চরৈবেতি’ শব্দবন্ধের অর্থ হল ‘এগিয়ে চলো’। শুভেন্দু বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের এই মন্ত্র নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান। চলতি নির্বাচনে রাজ্যের ৪৬ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। পরের নির্বাচনে ৬০ শতাংশ মানুষকে পাশে আনতে হবে এটাই তার সংকল্প।

গত পাঁচ বছর ধরে বিধানসভায় প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীই ছিলেন রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির আন্দোলন সংগ্রামের প্রধান মুখ। রাজ্যে সন্ত্রাস, ‘অনুপ্রবেশ’, অবৈধ অভিবাসী, দুর্নীতিসহ নানা ইস্যুতে ‘ঝাঁঝালো’ মন্তব্য করে বারবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু প্রার্থী হয়েছিলেন ২০০৭ সালে কৃষক ‘বিদ্রোহের’ জন্য বিখ্যাত নন্দীগ্রাম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত ভবানীপুর আসনে। দুটি আসনেই জিতেছেন তিনি। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে।
এর আগেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতার বিরুদ্ধে লড়ে জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। অর্থাৎ, পরপর দুইবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নির্বাচনে হারিয়ে শুভেন্দু নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেন।

অথচ শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর আগে। তার আগে তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আস্থাভাজন’ ছিলেন। ২০২০ সালের শেষদিকে তিনি তৃণমূল ও মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলছে, তৃণমূলে থাকা ও মমতার আস্থাভাজন হওয়ার কারণেই মনে করা হত বিজেপির পুরনো নেতাদের কাছে শুভেন্দুর গ্রহণযোগ্যতা কম।

তাছাড়া শুভেন্দু অধিকারী পুরনো কংগ্রেসি ঘরানার রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে তার কোনো পুরনো সম্পর্কও ছিল না।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, নির্বাচনে শুভেন্দুর বড় সাফল্যের পরও বিজেপি সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা ছিল। তার একটি কারণ অবশ্যই দলটির ইতিহাস।

অতীতে অনেক রাজ্যেই সরকার গঠন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণায় চমকে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। এমন কাউকে শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হয়েছে, যার কথা কেউ ভাবেননি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু করা হবে কি না, জল্পনা ছিল। তবে একাংশের মতে, অন্য রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে খুব বেশি চমক দেওয়ার সুযোগ ছিল না। মমতাকে ভবানীপুরে হারিয়ে শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী পদে নিজের দাবি অনেক জোরদার করে ফেলেছিলেন। তা উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। করলে দলের অন্দরেই একটি অংশে ক্ষোভ তৈরি হতে পারত। নির্বাচনে এত বড় জয়ের পর সেই ঝুঁকি আর নেননি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপি নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য নির্বাচিত করলেও এবার সরকারে কেউ উপ-মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন কিনা তা জানানো হয়নি। গত দুই দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গে কোন উপ-মুখ্যমন্ত্রী ছিল না। সর্বশেষ জ্যোতি বসুর বামপন্থি সরকারে প্রয়াত সিপিএম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদে ছিলেন।

এনডিটিভি লিখেছে, এবার রাজ্যে দুজন উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে একজন সম্ভবত একজন নারী নেত্রী। সাম্প্রতিক নির্বাচনে আসানসোল দক্ষিণ থেকে জয়ী বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। তিনিই রাজ্যের প্রথম নারী উপ-মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন।

এছাড়া দ্বিতীয় উপ-মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ থেকে হতে পারেন। এমন জল্পনা চলছে যে শিলিগুড়ি থেকে বিজয়ী প্রার্থী শঙ্কর ঘোষকে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩টির ভোটের ফল জানা গেছে গত ৪ মে। এর মধ্যে ২০৭টিতে জিতে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

তৃণমূল ৮০টি আসনে জিতেছে এবং ৬টি আসন পেয়েছে বাম, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলগুলো। রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রে মে ২১ পুনর্নিবাচন হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় নবনির্মিত কবরস্থানের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নবনির্মিত কবরস্থানের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদরের মাছখোলায় ফাতেমা দারুস সালাম কবরস্থানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) বিকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কবরস্থানটির উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-২ (সদর -দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শহরের মেয়র প্রার্থী প্রভাষক ওমর ফারুক, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদ হাসান, ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল ওয়ারেছ এবং সদর উপজেলা মিডিয়া বিভাগের সভাপতি আনিছুর রহমান।

আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান, জাকির হোসেন লস্কর শেলী, শোকর আলী, ব্রক্ষরাজপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য ডাঃ মিজানুর রহমান, নবজান, ঝুটিতলা বাজার কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি এবং এলাকাবাসী।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মৃত মুসলমানদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ফাতেমা দারুস সালাম কবরস্থান ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা কবরস্থানের সার্বিক উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতার আহ্বান জানান।

একসময় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকির হোসেন লস্কর শেলী সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি করে বলেন অত্রালাকার জনচলাচলল অনুপযোগী রাস্তা যাহাতে সংস্কার করা হয় তাহার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।
সংসদ সদস্য রাস্তা সংস্কারের আস্বাস দেন।

 

 

 

মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও গ্রাহক মেলা-২০২৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও গ্রাহক মেলা-২০২৬

সংবাদদাতা: ঝাউডাঙ্গার মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও গ্রাহক মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে, মোহনপুর আনছার ও ভিডিপি ক্লাব প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

“সঞ্চয় মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনকে সুরক্ষিত এবং ঋণমুক্ত রাখে” এই প্রতিপদ্দকে সামনে রেখে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ খলিলুর রহমান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও সদর উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুর্শিদ আলম। এছাড়াও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আখতারুজ্জামান বাপ্পি, ইউপি সদস্য সিদ্দিকুল ইসলাম প্রমুখ।

উক্ত অনুষ্ঠানে মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের নতুন কমিটির সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় ও ক্লাবের সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের মোঃ কবিরুল ইসলাম।

 

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

রোগীদের সঙ্গে মতবিনিময়, সেবার মানোন্নয়নে নির্দেশনা; ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের আশ্বাস

তালা প্রতিনিধি: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন, রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছে মন্ত্রী প্রথমে রান্নাঘর পরিদর্শন করেন। সেখানে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মান যাচাই করতে তিনি খাবার চেখে দেখেন। এরপর মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ড, ওয়াশরুম, ওষুধের স্টোর, অপারেশন থিয়েটার (ওটি), অফিস কক্ষ এবং চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হাজিরা খাতা পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মান সম্পর্কে তাদের মতামত নেন। এছাড়া হাসপাতালের পুকুর ও চত্বরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে হাসপাতালের সমস্যা, সেবার মান এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রী হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। তিনি হাসপাতালের এসি চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ওয়াশরুমসহ চলমান সংস্কার ও উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের তদারকির নির্দেশ দেন। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত মেডিকেল অফিসার ডা. শাওলী নানজিবা তন্নির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তিনি জানান, তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। এ লক্ষ্যে অল্প সময়ের মধ্যেই মাটি পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজ শুরু করা হবে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিতে ৭ থেকে ৮ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে। নতুন ভবনে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক প্যারালাইসিস সেন্টার, ফিজিওথেরাপি সেন্টার, মাতৃদুগ্ধ কর্নার (ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার) এবং ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিজুল হক (লিটু), বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।