প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের ভূমি অধিকার আদায়ে কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা
জুলফিকার রায়হান, তালা (সাতক্ষীরা): প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণ, খাসজমি বন্দোবস্ত এবং জলমহাল ইজারা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাতক্ষীরার তালাস্থ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ-এর বাস্তবায়নে (FISHNET) Project-এর আওতায় এবং ওশান গ্রান্টস ও ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট-এর আর্থিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ।
সভায় পটুয়াখালী, বরগুনা, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলা ভূমি কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, পাথরঘাটা, তালতলী, শরণখোলা, মোংলা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, তালা ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ভূমি কমিটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় পটুয়াখালী জেলা ভূমি কমিটি প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিক মো. সাইদুর রহমান ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেন, বাগেরহাট জেলা ভূমি কমিটি প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামান ও বেসরকারি সংস্থা জোয়ার বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সালাম, বরগুনা জেলা ভূমি কমিটি প্রতিনিধি আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর কবির মৃধা, খুলনা জেলা ভূমি কমিটি প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট আব্দুর রশীদ ও অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা ভূমি কমিটি প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জ্জী, এম. কামরুজ্জামান, মিজানুর রহমান, অ্যডভোকেট মোস্তফা আসাদুজ্জামান, অ্যাড. মনির উদ্দীন, আলী নূর খান বাবুল, ফরিদা আক্তার বিউটি, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান ও ডুমুরিয়া উপজেলা ভূমি কমিটির সভাপতি সেলিম আক্তার স্বপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভার শুরুতে ভূমি অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রয়াত ভূমি কমিটির সদস্যদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভা সঞ্চালনা করেন উত্তরণের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান জমাদ্দার। সভার উদ্দেশ্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন উত্তরণের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব মোস্তাফিজুর রহমান।
এ সময় FISHNET প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। তিনি ভূমিহীন মৎস্যজীবীদের জন্য খাসজমি বন্দোবস্ত এবং জলমহাল ইজারা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতি, চলমান উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা ভূমিহীন মানুষের ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা, খাসজমি বন্দোবস্ত নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরসমূহের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দাবিদাওয়া আদায়ের ক্ষেত্রে ভূমি কমিটির ভূমিকা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলার কৌশল নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উত্তরণ ভূমিহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। বিশেষ করে ১৯৯৭ সালে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলায় ভূমিহীনদের খাসজমির অধিকার আদায়ের আন্দোলন এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
সভায় আইনজীবী, সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটির স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে নবগঠিত বরগুনা, বাগেরহাট ও পটুয়াখালীর জেলা এবং উপজেলা কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভূমিহীন মৎস্যজীবীদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত নিশ্চিত করতে ভূমি কমিটির কার্যকর ভূমিকা, সংগঠন শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ভূমিহীন মৎস্যজীবীদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিহীন মৎস্যজীবীদের টেকসই জীবিকা, নিরাপদ আবাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।









