শূন্যের জ্যোতির্বিদ্যা
জহুরুল হক জুলু
শূন্যেরও নিজস্ব এক জ্যোতির্বিদ্যা আছে,
যেখানে নিভে যাওয়া নক্ষত্রেরা
আলো হারিয়ে নয়,
অন্য এক আকাশে স্থানান্তরিত হয়।
আমি বহুবার ফিরে এসেছি
বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে,
তবু প্রত্যাখ্যানের ধ্বনিকে
কখনো শেষ সত্য বলে মানিনি।
কারণ প্রতিটি অনুত্তরিত আহ্বান
আমার ভেতরে খুলে দিয়েছে
আরও গভীর কোনো করিডর,
যেখানে নীরবতাও নিজের ভাষা আবিষ্কার করে।
যা হারিয়ে গেছে বলে মনে হয়েছিল,
তা আসলে রূপ বদলে
রয়ে গিয়েছিল অন্য কোনো সত্তায়
হয়তো এক দীর্ঘশ্বাসে,
হয়তো অদেখা কোনো ভোরের অন্তরালে।
আমি গন্তব্যের প্রতি অতিরিক্ত বিশ্বস্ত ছিলাম না কখনো,
বরং পথের ধুলোয় পড়ে থাকা
অসমাপ্ত সংকেতগুলো কুড়িয়ে নিয়েছি
অলক্ষ্যে।
অনেকে যাকে ভাঙন বলেছে,
আমি সেখানে শুনেছি
অদৃশ্য নির্মাণের শব্দ।
যে সেতু চোখে দেখা যায় না,
মানুষের অন্তরই
কখনো কখনো তার উপর দিয়ে অতিক্রম করে।
আমি জানি,
সব বৃক্ষ ফলের ভারেই মহিমান্বিত হয় না
কিছু বৃক্ষ শুধু ঝড় সহ্য করার জন্যই
আকাশের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকে।
আমার ভেতরে যে অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে,
তা কোনো ক্ষত নয়,
বরং এক চলমান নকশা,
যা প্রতিদিন নতুন রেখার জন্ম দেয়।
আজ আর কোনো চূড়ার প্রয়োজন অনুভব করি না,
উচ্চতা প্রায়ই বিভ্রম সৃষ্টি করে।
আমি এখন গভীরতার অনুশীলনে নিমগ্ন,
যেখানে পতনও
এক ধরনের অন্তর্গত উত্তরণ।
এবং জীবন-
সে কখনো পূর্ণবিরতির শিল্প জানত না,
সে কেবল বিরতির ভেতর দিয়েই
মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে শেখায়।











