মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

শোক ও শ্রদ্ধায় শহিদ স. ম. আলাউদ্দীনকে স্মরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
শোক ও শ্রদ্ধায় শহিদ স. ম. আলাউদ্দীনকে স্মরণ

ঘাতকের বুলেটে স্তব্ধ স্বপ্নের ৩১ বছর

নিজস্ব প্রতিনিধি: সময়টা ছিল ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন। গভীর মগ্নতায় নিজের প্রিয় সংবাদপত্র দপ্তরে কাজ করছিলেন এক অকুতোভয় শব্দসৈনিক। ঠিক তখনই ঘাতকের নির্মম বুলেট এসে স্তব্ধ করে দিয়েছিল তাঁর কণ্ঠ। তিনি সাতক্ষীরার সীমান্ত জনপদের আলো, দৈনিক পত্রদূতের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য স. ম. আলাউদ্দীন। শুক্রবার (১৯জুন) তিন দশক পেরিয়ে সাতক্ষীরার আকাশে-বাতাসে যেন নতুন করে অনুরণিত হলো সেই চেনা হাহাকার। গভীর শোক, অপরিসীম শ্রদ্ধা, বেদনা আর গৌরবের অম্লান স্মৃতি বুকে নিয়ে পালিত হলো এই জননেতার ৩১তম শাহাদতবার্ষিকী।

শুক্রবার সকালে এক বুক বিষাদ আর গভীর ভালোবাসা নিয়ে শহিদ স. ম. আলাউদ্দীনের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তাঁর স্বজনেরা। পরম শ্রদ্ধায় চিরনিদ্রায় শায়িত এই বীরের স্মৃতির প্রতি নিবেদন করা হয় হৃদয়ের অর্ঘ্য। পুষ্পস্তবক অর্পণে উপস্থিত ছিলেন শহীদের স্বজন স. ম আক্তার-উল-আলম ও মোহাম্মদ ইখতিয়ার হোসেন।
বিকেলে দৈনিক পত্রদূত কার্যালয়ে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ। সেখানে আয়োজন করা হয় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের। চার দেয়ালে তখন কেবলই প্রিয় নেতার স্মৃতি আর তাঁকে হারানোর দীর্ঘশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক গাজী শাহজাহান সিরাজ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে স্মৃতির মণিকোঠা উন্মোচন করেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক এস এম শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় একে একে উঠে আসে একটি গোটা জনপদের থমকে যাওয়ার ইতিহাস। শোকাতুর হৃদয়ে স্মৃতিচারণ করেন দ্য এডিটরস্-এর নির্বাহী সম্পাদক শেখ তানজির আহমেদ, দৈনিক পত্রদূতের সহকারী সম্পাদক সাখাওয়াত উল্যাহ, চিফ রিপোর্টার আব্দুস সামাদ, সিনিয়র রিপোর্টার আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান, অনলাইন ইনচার্জ আসাদুজ্জামান সরদার এবং বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম-এর মৃত্যুঞ্জয় রায়।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধার অবদানের কথা স্মরণ করে আরও বক্তব্য দেন দ্য এডিটরস্-এর সিনিয়র রিপোর্টার মো. রিজাউল করিম, দৈনিক পত্রদূতের নিজস্ব প্রতিনিধি ও মানবজমিনের জেলা প্রতিনিধি আইনজীবী এস এম বিপ্লব হোসেন, ঢাকা টাইমস-এর জেলা প্রতিনিধি মো. হোসেন আলী, টাইগার নিউজের জেলা প্রতিনিধি মিলন বিশ্বাস এবং পত্রদূতের নিজস্ব প্রতিনিধি শেখ আব্দুল আলিম, সেলিম হোসেন, সিরাজুল ইসলাম ও পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শেখ বেলাল হোসেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, স. ম. আলাউদ্দীন ছিলেন দক্ষিণবঙ্গের এক অকুতোভয় আলোকবর্তিকা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের কনিষ্ঠতম সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। দেশ স্বাধীন হলেও তাঁর যুদ্ধ শেষ হয়নি; সেই যুদ্ধ ছিল প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির। ভোমরা স্থলবন্দর, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স, ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সাতক্ষীরা নারকেলতলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের মতো অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে তিনি ছিলেন সাতক্ষীরার আধুনিক রূপকার।

বক্তারা গভীর ক্ষোভ ও বেদনা প্রকাশ করে বলেন, যে মানুষটি একটি অঞ্চলের স্বপ্ন বুনেছিলেন, তাঁকে নিজ কার্যালয়েই নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। দীর্ঘ ৩১টি বছর পার হয়ে গেলেও কেবল প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় এই মহান নেতার হত্যাকা-ের বিচার সম্পন্ন হয়নি, যা সাতক্ষীরাবাসীর জন্য এক চরম অপমানের ও বেদনার। ঘাতকেরা সেদিন কেবল একজন মানুষকে হত্যা করেনি, বরং স. ম. আলাউদ্দীনকে কেড়ে নিয়ে সাতক্ষীরার সামগ্রিক উন্নয়নকে শত বছর পিছিয়ে দিয়েছে। আলোচনা শেষে এক আবেগঘন পরিবেশে শহিদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের কল্যাণে তাঁর আদর্শ ধরে রাখার আকুতি জানিয়ে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

দেবহাটায় জমির বিরোধ: গাছ কাটা ও পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় জমির বিরোধ: গাছ কাটা ও পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার টাউনশ্রীপুর গ্রামে জমির সীমানা বিরোধের জেরে ফলের গাছ কেটে ফেলা এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল ওয়াহিদ বাদী হয়ে একই গ্রামের আব্দুর রশিদ, বেবি খাতুন ও রেজাউল করিম বাবুর বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী আব্দুল ওয়াহিদ তাঁর পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে ঘরবাড়ি ও পুকুর তৈরি করে দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোগদখল করছেন। ওই জমির সীমানা নিয়ে বিবাদীদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। গত ২৯ জুন দুপুরে বিবাদীরা জোরপূর্বক জমির বিভিন্ন প্রকার ফলের গাছ কেটে আনুমানিক ২ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। এতে বাধা দিলে বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

 

পরদিন ৩০ জুন ভোরে পুকুরে গিয়ে দেখা যায়, সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে এবং পানিতে বিষের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগের ফলে পুকুরের আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার মাছ মারা গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলীম উল্লেখ করেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দেবহাটা থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

 

সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাম জানান, খবর পেয়ে তাঁর অফিস থেকে প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছিল। তারা পুকুরের পানি ও মৃত মাছ সংগ্রহ করে এনেছেন। ল্যাব টেস্টের প্রক্রিয়া চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে।

 

মণিরামপুরে ৩ হাজার ৮৮০ কৃষকের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
মণিরামপুরে ৩ হাজার ৮৮০ কৃষকের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুরে চলতি খরিফ-২ মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে ৩ হাজার ৮৮০ জন কৃষকের মাঝে উফশী রোপা আমন ধানের বীজ, রাসায়নিক সার এবং বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথি।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক কৃষককে ৩৩ শতাংশ জমিতে চাষের উপযোগী উফশী রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়। এছাড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার ৮৩০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

পৃথকভাবে ২৫০ জন কৃষককে ৫টি করে লেবুর চারা এবং ৪০ কেজি ট্রাইকো কম্পোস্ট জৈব সার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শাহনাজ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শাহারিয়া হোসেনসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

পাইকগাছা পৌরসভায় ৫২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা পৌরসভায় ৫২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা পৌর সভার ২৬-২৭ অর্থ বছরে ৫২ কোটি ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭শত ৯২ টাকা ২৫ পয়সার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ৩০ জুন বিকেল ৩টায় নতুন পৌর ভবনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী এ বাজেট পেশ করেন। বাজেটে ৫২ কোটি ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭শত ৯২ টাকা ২৫ পয়সা আয়, ৫১কোটি ৫৫লাখ ৭৯ হাজার ২৫৩ দশমিক ৯০টাকা ব্যয় ও ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩৮ দশমিক ৩৫ টাকা উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে।

বাজেট সভায় বক্তব্য রাখেন, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম কিবরিয়া, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমদ, প্রেসক্লাব পাইকগাছার সভাপতি প্রকাশ ঘোষ বিধান। উপস্থিত ছিলেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. লিটু শেখ, প্রধান সহকারী শেখ জিয়াউর রহমান, ইউডিএ উত্তম কুমার ঘোষ, হিসাব রক্ষক মৃনাল কান্তি সানাসহ কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।