মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

শ্যামনগরে অবৈধভাবে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে অবৈধভাবে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ

পত্রদূত ডেস্ক: শ্যামনগরে আইন আদালতের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে অন্যের পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনার প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন শ্যামনগরের বাদঘাটা গ্রামের মৃত শাহাদাতৎ হোসেনের কন্যা সিরাতুন নেছা ফাল্গুনী। তিনি বলেন, আমি একজন সরকারি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক। চাকুরি এবং বৈবাহিক সূত্রে যশোরে বসবাস করে আসছি। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা মৌজায় আমার পৈতৃকসুত্রে এবং ক্রয়কৃত মোট দশ শতক জমি রয়েছে।

 

জে এল নং-২৭, দাগ ৭৩২, ৭৩০,৭৩১ এস এ খতিয়ান ২৪৪। জমিটুকু ক্রয়ের পর তিনি মাটি তুলে ভিটা করেন এবং গাছগাছালি রোপণ করে দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ গভীর রাতে একদল দূস্কৃকিতকারীদের সহায়তায় তার উক্ত সম্পত্তি স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে জনৈক জোবেদা বেগমসহ তার সহযোগীরা দখলের চেষ্টাকালে এলাকাবাসী রুখে দেয়। চাকুরির সুবাদে বাড়িতে না থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়েই উক্ত সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন ওই নারীসহ তার সহযোগীরা।

 

পরবর্তীকালে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সোলেমান সাহেব এবং পৌর বিএনপির আহবায়ক সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বাবুর সালিশে বৈধ কাগজ পত্র দেখাতে না পারায় প্রতিপক্ষ জোবেদা বেগমকে জায়গাটিতে কোন প্রকার ঝামেলা না করার মৌখিক নির্দেশ দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, আমার প্রতিপক্ষ জোবেদা বেগম আদালতে ১৪৫ ধারায় অভিযোগ করেন। শুনানি শেষে আদালত স্ব স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেন। তারপর থেকে জোবেদা বেগম পুনরায় আমার জায়গা দখলের পায়তারা চালাচ্ছে।

 

এবিষয়ে স্থানীয় সাংসদ গাজী নজরুল ইসলাম বরাবর লিখিতভাবে জানিয়েছেন এবং শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মাষ্টার আবদুল ওয়াহেদকে মৌখিকভাবে জ্ঞাত করেছেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু ওই নারী আইন আদালত এবং কোন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মূল্যায়ন না করে আমাকে হয়রানি করে যাচ্ছে।

তিনি যাতে সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে এবং ওই নারীর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় দুই মিষ্টির দোকানকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দুই মিষ্টির দোকানকে জরিমানা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার সদর ও দেবহাটা উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি এবং ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার রাখার অপরাধে দুটি মিষ্টান্ন ভা-ারকে মোট ৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার সকালে শাঁখরা বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীর এতে নেতৃত্ব দেন।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার শাঁখরা বাজারের ‘বিশ্বাস মিষ্টান্ন ভা-ার’-এ ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ বাসি মিষ্টি সংরক্ষণ, দইয়ে মেয়াদের তারিখ না থাকা, জিলাপিতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি ও মূল্য তালিকা না টানানোর অপরাধ প্রমাণিত হয়। এ জন্য ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪৩ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই এলাকার ‘আল্লাহর দান মিষ্টান্ন ভা-ার’-এ মিষ্টির মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং দইয়ে মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় ৩৮ ধারা অনুযায়ী ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে জেলা স্যানিটারি পরিদর্শক রথীন্দ্রনাথ সরকার এবং পুলিশের একটি দল সহায়তা করে। সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীর জানান, ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে এ তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সম্পাদকীয়/ বখাটে, মাদক, জুয়া ও চুরির রুখতে আশু পদক্ষেপ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বখাটে, মাদক, জুয়া ও চুরির রুখতে আশু পদক্ষেপ জরুরি

পাটকেলঘাটা ও সাতক্ষীরা শহরের সাম্প্রতিক অপরাধচিত্র জেলাটির সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একের পর এক বখাটেপনা, চাঁদাবাজি, নারীদের উত্ত্যক্তকরণ, চুরি ও মাদকের বিস্তারে সাধারণ মানুষের জনজীবন আজ চরম অতিষ্ঠ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় বা দক্ষিণাঞ্চলের যেকোনো অঞ্চলে যখন অপরাধীরা এতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠে, তখন তা সমাজব্যবস্থার সামগ্রিক শিথিলতাকেই নির্দেশ করে।

 

পাটকেলঘাটার কালীবাড়ী রোড, হাইস্কুল রোড কিংবা কুমিরা মহিলা কলেজের আশপাশের এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা ও ছবি তোলার মতো অপরাধ শুধু ব্যক্তি নিরাপত্তা বিঘিœত করছে না, বরং নারীশিক্ষার পরিবেশকেও ব্যাহত করছে। তার ওপর পুকুরে গোসলরত নারীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা সামাজিক নৈতিকতার চরম অবক্ষয় প্রকাশ করে। অন্যদিকে, কৃষি ও মৎস্যজীবীদের ওপর নেমে এসেছে আর্থিক বিপর্যয়। খলিশখালী ইউনিয়নে গত ছয় মাসে ৬৫টি সেচ পাম্প চুরি এবং মাছের ঘের থেকে চুরি শুধু অপরাধই নয়, এর মাধ্যমে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। চুরি করা মালামাল ও মাছ কম দামে বিক্রি করে সেই অর্থ মাদকের পেছনে ব্যয় করার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা ইঙ্গিত করে যে এই অপরাধচক্রের মূলে রয়েছে মাদকের নীল ছোবল।

একইভাবে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি কলেজ মোড় এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ধারাবাহিক চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির দুর্বলতা স্পষ্ট করে তোলে। পুলিশের হাতেনাতে আটক বা অভিযানের পরও যখন চুরি থামে না, তখন সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য নিরাপত্তা সবচেয়ে মৌলিক শর্ত।

 

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলেও কেবল আশ্বাসেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ। পাটকেলঘাটার চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকা এবং শহরের সিটি কলেজ মোড়ে নিয়মিত বিট পুলিশিং ও নৈশ টহল দ্বিগুণ করতে হবে। বখাটে চক্র যে মাদক স্পটগুলোতে আড্ডা দেয়, সেগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মাদকের সরবরাহ বন্ধ করা জরুরি। চুরি যাওয়া সেচ পাম্প বা মাছের মতো চোরাই পণ্যের ক্রেতা ও চোর চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও তরুণদের সমন্বয়ে মহল্লাভিত্তিক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করে পুলিশের সাথে যোগাযোগের পথ সুগম করতে হবে, যাতে ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।

জনগণের জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পদে হাত দেওয়া অপরাধীদের প্রতি কোনো অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই। প্রশাসন অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়ে নাগরিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ঋশিল্পীতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ঋশিল্পীতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: “হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিক্যাল থেরাপির ভূমিকা”Ñএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় ঋশিল্পীর স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্যোগে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার রিহ্যাবিলিটেশন হেলথ বিল্ডিংয়ের প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঋশিল্পীর প্রেসিডেন্ট মনিকা তোজি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ খালেদ, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সেলিমুল ইসলাম, সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট ও হেড অব ফিজিওথেরাপি ইউনিট শংকর কুমার ঢালীসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফিজিওথেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

আলোচনায় বক্তারা ঋশিল্পীর ফিজিওথেরাপি কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক কর্মকা-, ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন, চলাফেরার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভর জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হয়। আলোচনা শেষে মানুষের স্বাস্থ্য, শারীরিক সক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ঋশিল্পীর স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কর্মসূচির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।