বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

শ্যামনগরে কৃষকদের মাঝে লবণসহনশীল বীজ ও উপকরণ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে কৃষকদের মাঝে লবণসহনশীল বীজ ও উপকরণ বিতরণ

পত্রদূত ডেস্ক: শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০০ জন কৃষকের মাঝে লবণসহনশীল বীজ ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফেইথ ইন অ্যাকশন’ তাদের ‘জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি প্রকল্প’-এর আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কানাডীয় দাতা সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড রিনিউ’-এর আর্থিক সহযোগিতায় গাবুরা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের কৃষকদের এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়ালিউল ইসলাম। তিনি বলেন, “গাবুরায় কৃষি উৎপাদনে অভিযোজন কৌশল রপ্ত করা জরুরি। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও এসব উপকরণ কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবেন।”
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, গাবুরায় লবণাক্ততার হার অন্য এলাকার চেয়ে বেশি। এখানে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়ে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এদিন ২০০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষ কৃষকের প্রত্যেককে ১০ ধরনের লবণসহনশীল সবজি বীজ, ৪০ কেজি জৈব সার, ৫টি জিও ব্যাগ ও ১টি পানির ঝাঁঝরি দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে সংস্থাটি এদিন ২ কেজি করে ঢ্যাঁড়স, ডাঁটা শাক, পুঁই শাক ও কলমী শাকের বীজ এবং ১ কেজি করে ঝিঙা, ধন্দুল, শসা, চাল কুমড়া ও মিষ্টি কুমড়ার বীজসহ মোট ৮ হাজার কেজি জৈব সার বিতরণ করে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম ও ফেইথ ইন অ্যাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার মিল্টন বাড়ৈ। এ সময় মিল অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস, প্রজেক্ট অফিসার পরিতোষ কুমার বৈদ্য ও জেন্ডার অফিসার নওমী বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

আশাশুনির জলাশয়ে বিলুপ্তপ্রায় শাপলা ফুল: হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
আশাশুনির জলাশয়ে বিলুপ্তপ্রায় শাপলা ফুল: হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য

আশাশুনি সংবাদদাতা: একসময় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিল, খাল, পুকুর ও জলাশয়গুলোতে শাপলা ফুলের বাহার ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ষা এলেই ফুটে উঠতো সাদা, লাল ও বেগুনি রঙের শাপলা, যা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, গ্রামীণ জীবনের এক আবেগময় অংশ হিসেবেই পরিগণিত ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আশাশুনির সেই অপরূপ দৃশ্য ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত আধুনিকায়ন, জলাশয় ভরাট, রাসায়নিক বর্জ্য এবং অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ফলে আজ বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক জলজ উদ্ভিদ শাপলা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় গ্রামের শিশুরা সকাল সকাল শাপলা তুলতে পুকুরে যেত। মায়েরা রান্নার উপকরণ হিসেবে শাপলার ডাটা সংগ্রহ করতেন। শাপলার শিকড় (ঢ্যাঁড়শের মতো অংশ) ছিল গ্রামীণ পুষ্টিকর খাদ্য, যা পেটের নানা রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

বিশেষ করে প্রতিটি গ্রামে পুকুরঘাট, বিল বা খালের ধারে বসে শাপলা ফোটা দেখার যে অপার আনন্দ ছিল তা আজ শহুরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে। আশাশুনির বড়দল, খাজরা, বুধহাটা, কাদাকাটি, আনুলিয়া, শ্রীউলা, প্রতাপনগরসহ অনেক এলাকায় এখন আর আগের মতো শাপলা দেখা যায় না।উপজেলা কৃষি ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, শাপলা শুধু একটি ফুল নয় এটি একটি জীববৈচিত্র্যবান এলাকার পরিচায়ক।

 

এটি জলাশয়ের স্বাস্থ্যবিধান রক্ষা করে এবং ছোট মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে। ফলে শাপলা বিলুপ্ত হওয়া মানে শুধু ফুল হারানো নয়, একটি জীববৈচিত্র্যগত ভারসাম্যের বিপর্যয়ও। আশাশুনি সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সজল কুমার আঢ্য মনে করছেন, শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রকৃতি চেনাতে হলে, গ্রামীণ সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে হলে স্থানীয় জলজ উদ্ভিদ সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিল ও খাল পুনরুদ্ধার, রাসায়নিক দূষণ রোধ এবং শাপলা সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।পরিবেশবান্ধব আশাশুনি গড়তে হলে প্রকৃতির এই নিঃশব্দ ধ্বংস ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

কেশবপুরে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চড়া মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চড়া মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বিসিআইসি ডিলাররা সিন্ডিকেট করে রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চলতি পাট মওসুমে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাব ডিলারদের অভিযোগ, এসব সার বিসিআইসি ডিলারদের কাছ থেকে তাদের চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে বলেই তারা কৃষকদের কাছে চড়া মূল্যেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

ডিলারদের অতি মুনাফা লাভের আশায় এ উপজেলায় সম্প্রতি টিএসপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সারের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে পাট ও সবজি চাষীরা পড়েছেন বিপাকে। যে কারণে চলতি মওসুমে কেশবপুরে পাট চাষে সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, কেশবপুরে বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলার রয়েছেন ১৩ জন। এসব ডিলারের অধীনে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১০৮ জন খুচরা বিক্রেতা (সাব ডিলার) রয়েছেন। এছাড়া এ উপজেলাই বিএডিসি ডিলার রয়েছে ২৯ জন। চলতি মওসুমে কেশবপুরে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে।

 

এছাড়া সবজি চাষ হয়েছে ৬ শত ৮০ হেক্টর জমিতে। পাট ও অন্যান্য সকল প্রকার মওসুমি ফসলের অনুকুলে চলতি জুন মাসের মোট ইউরিয়া সারের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ শত ১৮ মেট্রিক টন, ডিএপি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ শত ৯২ মেট্রিক টন, এমওপি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ শত ১০ মেট্রিক টন, টিএসপি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৭২ মেট্রিক টন। গত মে মাসে ১ শত ৩৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ১ শত ৩০ মেট্রিক টন ডিএপি, ১ শত ১৫ মেট্রিক টন এমওপি ও ৫৫ মেট্রিক টন টিএসপি সারের বরাদ্দ দেয়া হয়।

 

অথচ কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অধিকাংশ বিসিআইসি ডিলার ও সাব ডিলাররা অধিক মুনাফা লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৃষকদের কাছে বেশী দামে সার বিক্রি করছেন। এর ফলে ভরা মওসুমে কৃষকরা বাধ্য হয়ে এ সার চড়া মূল্যে কিনে জমিতে প্রয়োগ করছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটা দোকানে সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য লেখা থাকলেও প্রতি কেজি ইউরিয়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ডিএপি ৩২ থেকে ৩৮ টাকা, টিএসপি ৩৫ থেকে ৪২ টাকা, এমওপি ২২ থেকে ২৬ টাকা দরে বিক্রি করছেন খুচরা সার বিক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, কেশবপুর উপজেলার প্রত্যেক বিসিআইসি ডিলারের রয়েছে গোপন গুদাম ঘর।

 

রাতের আধারেই সেখান থেকেই চড়া মূল্যে এ সার চলে যাচ্ছে মৎস্য ব্যবসায়ীর ঘেরে। যার কারণে বিসিআইসি ডিলাররা বরাদ্দকৃত সার সাব ডিলারদের কাছে বিক্রি করতে অনিহা প্রকাশ করছেন। এভাবে বিসিআইসি ডিলাররা সারের সংকট তৈরী করে তাদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্যে বিক্রি করছেন। বিধায় কৃষকদের চড়া মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের এক খুচরা বিক্রেতা জানান, চলতি মাসে তার দোকানে ইউরিয়া সারের চাহিদা ১৫০ বস্তা থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ২০ বস্তা, ডিএপি সারের চাহিদা ১৫০ বস্তা থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ৫ বস্তা, টিএসপি সারের চাহিদা ১০০ বস্তা থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ৫ বস্তা, এমওপি সারের চাহিদা ১০ বস্তা থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ৩ বস্তা।

বিদ্যানন্দকাটি গ্রামের কৃষক মোকাররাম হোসেন বলেন, চলতি বছর তিনি ৬ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এ জমিতে সার প্রয়োগ করতে তিনি বাধ্য হয়ে কেশবপুর শহরের এক দোকান থেকে ১৫ শত টাকায় ১বস্তা ইউরিয়া ও ১৫ শত টাকায় ১বস্তা ডিএপি কিনেছেন। দোকানে স্যারের সরকার নির্ধারিত মূল্য লেখা থাকলেও সে দামে তিনি সার কিনতে পরেনি। তার অভিযোগ, কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় অধিকাংশ সার ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৃষকদের কাছে বেশী দামে সার বিক্রি করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন সিন্ডিকেটের কথা অস্বীকার করে বলেন, সারের কোন সংকট নেই। কৃষকরা মাত্রা অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করায় একটু সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কোন ব্যবসায়ী বেশী দামে সার বিক্রি করলে তার রশিদ থাকলে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালন উপলক্ষে ২টি সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালন উপলক্ষে ২টি সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশ থেকে অপুষ্টি জনিত অন্ধত্ব নির্মূল এবং অপুষ্টি জনিত শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে ২৮ জুন সারাদেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালন করা হবে। ঐ দিন সারাদেশের ন্যায় সিটি কর্পোরেশনের ৩১ ওয়ার্ডে বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে ৬-১১ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিট ‘এ’ ক্যাপসুল (এক লাখ আইইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (দুই লাখ আইইউ) খাওয়ানোসহ শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর বিষয়ে পুষ্টি বার্তা প্রচার করা হবে।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে পালন উপলক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ আয়োজিত আজ (বৃহস্পতিবার) নগরীর শেরে বাংলা রোডস্থ নগর স্বাস্থ্য ভবনের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিক অবহিতকরণ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, ভিটামিন এ ক্যাপসুল শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ রাতকানা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার মাধ্যমে এ ক্যাম্পেইনকে সফল করার অনুরোধ করেন।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মেহেদী হাসান, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: তরিকুল ইলসাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলামসহ প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কর্মীরা অংশ নেন।

সম্মেলনে জানানো হয়, মহানগরীতে মোট এক লাখ আট হাজার নয়শত ৫২ জন শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (এক লাখ আইইউ) খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ১২ হাজার তিন শত ৩৭ এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুর সংখ্যা ৯৬ হাজার ৬৫৫ জন। এবছর সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে মোট এক হাজর চারশত ২০জন ভলেন্টিয়ার, ওয়ার্ড ভিক্তিক কেন্দ্র সংখ্যা ৫৮০টি, মোট কেন্দ্র সংখ্যা ৭১০ টি, মোবাইল কেন্দ্র ৮০টি, এনজিও পরিচালিত কেন্দ্র ৫০টি এবং ৬২ জন সুপারভাইজার কাজ করবে। তথ্যবিবরণী

 

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালনে জেলা পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি ও পরিকল্পনা সভা
বাংলাদেশ থেকে অপুষ্টি জনিত অন্ধত্ব নির্মূল এবং অপুষ্টি জনিত শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে ২৮ জুন সারাদেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালন করা হবে। ঐ দিন সারাদেশে ৬-১১ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিট ‘এ’ ক্যাপসুল (এক লাখ আইইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (দুই লাখ আইইউ) খাওয়ানোসহ শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানের বিষয়ে পুষ্টি বার্তা প্রচার করা হবে।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে পালন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার খুলনা নগরীর স্কুল হেলথ ক্লিনিকের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন সভাপতিত্ব করেন।

সভাপতি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে বিশেষ করে অভিভাবকগণকে শিশুদের ক্যাপসুল গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি জানান, জেলার সকল সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতায় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে নিজ নিজ কর্মপরিধিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত চার মাসের মধ্যে অথবা এরও আগে যারা ভিটামিন এ ক্যাপসুল গ্রহণ করেছে, তাদের এবার ক্যাপসুল প্রদান করা হবে না। শিশুকে অবশ্যই ভরা পেটে ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। এ বছর ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় নির্ধারিত একদিনই শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো: রফিকুল ইসলাম গাজী, পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপপরিচালক মো: আকিব উদ্দিন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ উপজেলা স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় জানানো হয়, জেলার ৯ টি উপজেলার এবং ২ টি পৌর সভায় মোট তিন লাখ ২৩ হাজার আটশ ৫৭ জন শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিট ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ (দুই লাখ আইইউ) ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩৯ হাজার তিনশত ৮৯ এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুর সংখ্যা দুই লাখ ৮৪ হাজার চারশ ৬৮জন। মোট এক হাজার সাতশত ৬২টি স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে। তথ্যবিবরণী