শ্যামনগরে নদীর চরের হাজারো গাছ কেটে মাটিচাপা, হুমকিতে বেড়িবাঁধ
উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে নদীর চরের অন্তত এক হাজার ছোট-বড় গাছ কেটে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে পূর্ব দুর্গাবাটী এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা গাছ নিধনের এই দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোলপেটুয়া নদীর চরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বিভিন্ন প্রজাতির গাছÑযা উপকূলীয় পরিবেশের জন্য ঢাল হিসেবে পরিচিত—সেগুলো নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে। গাছগুলো কাটার পর সেখানেই মাটিচাপা দিয়ে চরের জমি ভরাটের কাজ চলছে। এতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এই গাছগুলো জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রথম বাধা হিসেবে কাজ করে। এভাবে বন উজাড় করলে নদীর চর দুর্বল হয়ে পড়বে এবং পার্শ্ববর্তী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এই গাছগুলো আমাদের রক্ষা করে। এভাবে গাছ সাফ করে ফেললে সামান্য জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে আমাদের ঘরবাড়ি সব তলিয়ে যাবে।”
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার ইউনিয়নে নদীর চরের গাছ কেটে মাঠ তৈরি করা হচ্ছে অথচ আমরা কিছুই জানি না। শত বছরের পুরনো এসব গাছ কাটার অনুমতি কে দিল, প্রশাসনের কাছে আমার সেই প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার দাবি, দ্রুত এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করা হোক।”
ইয়ুথ প্ল্যান বাংলাদেশের সভাপতি আবদুল হালিম বলেন, উপকূলীয় বনভূমি ধ্বংসের ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।









