শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

শ্যামনগরে বিএনপি নেতৃবৃন্দের সভায় বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য কমিটির দাবী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বিএনপি নেতৃবৃন্দের সভায় বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য কমিটির দাবী

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে সৎ, যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আলহাজ মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ।

সভাপতির বক্তব্যে মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তৃণমূলের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি গণমানুষের দল। তাই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে হলে বিতর্কিত, সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে জনসম্পৃক্ত, সৎ ও যোগ্য নেতাদের নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি নয়, সংগঠনই বিএনপির সবচেয়ে বড় পরিচয়। দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে সফল করতে নেতাকর্মীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বক্তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারকারী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় তৃণমূলের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তারা বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি পুনর্বিবেচনা করে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে বিগত ১৭ বছর দলের দুঃসময়ে মামলা-হামলার শিকার ও সক্রিয়ভাবে দলের পাশে থাকা নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও দাবি করেন, শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদকে আহ্বায়ক করে নতুন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলে দল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে দ্রুত কমিটি পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সভায় শ্যামনগর উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্বের প্রতি বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি পুনর্বিবেচনা করে সৎ, যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য আহ্বায়ক কমিটি গঠনের জোর দাবি জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, তৃণমূলের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে দলের উচ্চপর্যায় দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং একটি ঐক্যবদ্ধ ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের মাধ্যমে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত করা হবে।

 

 

Ads small one

এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ: ফেল করলে তিন মাসে পরীক্ষার সুযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ: ফেল করলে তিন মাসে পরীক্ষার সুযোগ

চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয়। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এ দিন ফল প্রকাশিত হতে পারে।

এবার এইচএসসিতে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আর এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না। অকৃতকার্য বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে এবার থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ দুই মাসের মধ্যে এবং তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে তিন মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও খাতা পুনর্নিরীক্ষণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর বিষয়ে মত দিয়েছেন। তবে দুটি বিষয়ের বেশি সর্বোচ্চ কতটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ফল প্রকাশের পর দুই মাসের মধ্যে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ফল প্রকাশের পর এক মাস পুনর্নিরীক্ষণের কাজ চলবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হবে। এরপর পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ করা হবে।

চেয়ারম্যান বলেন, দুই বিষয়ে পরীক্ষা হলে দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। তবে তিন বা তার বেশি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলে সময় বেশি লাগবে। সে ক্ষেত্রে তিন মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, পুনর্নিরীক্ষণ, পরীক্ষার আয়োজন, পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে ফল প্রকাশ করতে হবে।

দুই বিষয়ে পরীক্ষা, নাকি আরও বেশি—সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, সোমবারের সভায় অন্তর্বর্তী পরীক্ষার ধরন, সম্ভাব্য পরীক্ষার্থী, কতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুরুতে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রসঙ্গ এলেও পরে অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বোর্ড চেয়ারম্যানরা পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তাদের অভিমত দিয়েছেন। তবে দুটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে, নাকি তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণদেরও সুযোগ দেওয়া হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ভাষ্য, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য এ বছর থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন বোর্ড চেয়ারম্যানরা।

এক বছর অপেক্ষা না করানোর ঘোষণা উপদেষ্টার

এর আগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউনে গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এসব শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে একজন শিক্ষার্থীর অন্য সব মেধা ও সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায় না। তাই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সনদের ভিত্তিতে একজন মানুষের জীবন মূল্যায়ন করা উচিত নয়।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই সারাদেশে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্ট।

এবার এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। পরীক্ষার কেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৪৩৯টি। এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে (জিএমটি ১৪৩৩) ভূকম্পনটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে চীন ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র (সিইএনসি)।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সিইএনসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতের নাগকু জেলার উচ্চ পার্বত্য এলাকায়, ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।

সিইএনসি জানিয়েছে, তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে ঘটা এই ভূমিকম্পটি স্থানীয়ভাবে বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী কিংহাই প্রদেশের ইউশুতে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ হন, যা আজকের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ২৮০ কিলোমিটার দূরে ছিল।

থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চাইলেন রুমিন ফারহানা, ওসি বললেন ‘মব সৃষ্টির কথা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চাইলেন রুমিন ফারহানা, ওসি বললেন ‘মব সৃষ্টির কথা’

দুর্গাপূজায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না পাওয়া এবং সৌজন্যমূলক আচরণ না করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় ওসিকে উদ্দেশ্য করে রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।’ সেইসঙ্গে ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, মাটি কাটা ও বালু ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়া এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে গিয়ে খাওয়াদাওয়া করার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি।

থানার কক্ষে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, তিনি একাধিকবার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অনুরোধ করেছেন। বিজয়নগর ও আশুগঞ্জে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হলেও সরাইলে তা পাননি। তার দাবি, নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে স্থানীয় পর্যায়ে তা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাকে দেয়নি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘কতবার রিকোয়েস্ট করেছি যে নিরাপত্তা দেওয়া হোক। আমাকে বিজয়নগরে নিরাপত্তা দিয়েছে, আমাকে আশুগঞ্জে নিরাপত্তা দিয়েছে। ওইটা আইন আছে যে নির্বাচিত এমপি নিরাপত্তা চাইলে লোকাল এরিয়াতে হবে। গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগের সময় একজন এমপি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এবং উনি মারা যাওয়ার পর এই আইনটা হয়।’

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘উনি আমার লোকের ফোনই ধরেন না এবং বলেন, উনি নির্বাচিত এমপি, ওনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। তো এ জন্যই মানুষ যা দেখতেছেন, বাইরে আরও ৫-১০ হাজার মানুষ আছে। তো ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে, তাই না? সো মানুষ আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে।’

ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা, বালু ও ইটভাটাসংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ। কোনও ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় বলে তার অভিযোগ। এসব বিষয়ে জানতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন বলেও জানান। তার ভাষ্য, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে ওসির এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার ওসির

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সরাইল থানার ওসি মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা থানায় এক থেকে দেড়শ লোক নিয়ে এসে হইচই করেন এবং আমার কার্যালয়ে কয়েকশ লোক ঢুকে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।’

ওসি বলেন, ‘উনি কিছু লোককে শিখিয়ে নিয়ে আসছেন যে, আমার বিরুদ্ধে আজেবাজে কথাবার্তা বলছে, যা আমি প্র্যাকটিস করি না। উনি বলছেন, আমি নাকি কোনও এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে ভাত খেয়ে আসছি। আমি কখনও কারও দাওয়াতেই যাই না। বিয়ের দাওয়াতেও যাই না। রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম ছাড়া কোনও খাবারদাবার, খানাপিনায় অ্যাটেন্ড করি না। শুধু সরকারি প্রোগ্রাম, যেখানে ইউএনও মহোদয় থাকেন, আমি থাকি, ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন, তখন আমি যাই।’

মামলার আসামি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন ওসি। তিনি বলেন, ‘উনি লোক সাজিয়ে নিয়ে আসছেন। সে বলছে, আমাকে নাকি মামলার আসামি ছাড়ার ব্যাপারে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। লোকটাকে আমি কখনও দেখছি বলে আমার মনে পড়ে না। আসামিরা আসে, অফিসারেরা ধরে হাজতে পাঠায়, আবার কোর্টে চলে যায়। আমার সঙ্গে ইন্টারোগেশনে কোনও প্রয়োজনই হয় না। সে নাকি আমাকেই ৩০ হাজার টাকা দিছে। এটা তো ওনার শেখানো বিষয়।’

ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘উনি বলছেন, ব্রিকফিল্ড থেকে টাকা নিই। ব্রিকফিল্ড এখানে হাওর অঞ্চল, সবগুলো পানির নিচে ডুবানো। উনি এই অভিযোগটা কোত্থেকে আনলেন?’

পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ওসি বলেন, ‘দুর্গাপূজায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। থানা এলাকার সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চাওয়ার বিষয়টি আলাদা। এ জন্য তিনি পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করতে পারেন। গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি তো একটা টিম ওনার সঙ্গে ওইভাবে এনগেজ রাখা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।’

থানায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওসির

ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, রুমিন ফারহানা তার অনুসারীদের নিয়ে থানার কক্ষে এসে তাকে অবরুদ্ধ করেন এবং থানার বাইরে মিছিল করেন। সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনও সংগঠনের লোকজন ছিলেন কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান। তার দাবি, ওই সংগঠনের লোকজনকে গ্রেফতার না করার জন্য সংসদ সদস্য তাকে প্রায়ই চাপ দেন।

এ সময় জবাবে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেছেন, আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আমরা সব জানি। এখন আসছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংগঠনের লোক চিনাইতে।

ওসি বলেন, থানায় আসা অনেককেই তিনি চিনতে পারেননি। পরে তাদের পরিচয় জানা যেতে পারে। থানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়টি তিনি নোট করে রেখেছেন বলেও জানান।

এ সময় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার সমর্থকদের তর্কে জড়ানোর ঘটনা ঘটে। তাদের কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করে রাখার জন্য থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন ওসি।

এদিকে রুমিন ফারহানা থানায় অবস্থানকালে বাইরে তার পক্ষে এবং ওসির বিরুদ্ধে কয়েক শ মানুষকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ ঘটনায় থানা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।