সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: আশ্রয়ণ প্রকল্পে চরম অনিয়ম
সরকারি কোনো কল্যাণমূলক প্রকল্প যখন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে না পৌঁছে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির শিকার হয়, তখন তা সরকারের জনকল্যাণমুখী ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়নের পুটিমারী আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাম্প্রতিক চিত্রটি ঠিক তেমনই এক হতাশাজনক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সেখানে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত ৯০টি ঘরের মধ্যে ৩০টি ঘর বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সচ্ছল ব্যক্তিরা ঘর বাগিয়ে নেওয়ায় মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়ে প্রকল্পের অধিকাংশ ঘর এখন পরিত্যক্ত, অরক্ষিত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
যে প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল বাস্তুহীন ও প্রান্তিক মানুষকে একটি স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া, সেখানে অসচ্ছল ও ভূমিহীনদের বঞ্চিত করে কীভাবে জায়গা-জমি থাকা বিত্তবানদের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হলোÑসেটি এক বড় প্রশ্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের সত্যতা মিলছে সরজমিন চিত্রেও; প্রকল্পের চাল-বেড়াহীন জরাজীর্ণ ঘরবাড়ি, ব্যবহারের অনুপযোগী বাথরুম এবং একের পর এক ঝুলতে থাকা তালা প্রমাণ করে যে এগুলো প্রকৃত প্রয়োজনভিত্তিক বণ্টন ছিল না। তদুপরি, প্রকল্পের ৩০টি ঘর ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হওয়া এবং এক ব্যবসায়ী তিনটি ঘর কিনে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
যদিও উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দপ্তর থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের এমন অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নজরদারির বাইরে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকারি আশ্রায়ণের ঘর কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তর বা বিক্রিযোগ্য নয়; ফলে এ ধরনের অবৈধ লেনদেন ও দখলের পেছনে দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করা জরুরি।
কেবল তদন্তের আশ্বাসেই যেন এটি সীমাবদ্ধ না থাকে। পুটিমারী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভুয়া ও অবৈধ বরাদ্দ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তা বা মধ্যস্বত্বভোগী যারা রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক। একই সঙ্গে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পুনরায় জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় মানুষকে শনাক্ত করে তাদের মাঝে ঘরগুলো পুনর্বন্টন এবং তা সংস্কারের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত। আশ্রয়ণ প্রকল্প যেন দুর্নীতির আখড়া না হয়ে প্রকৃত ভূমিহীনদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠেÑএটাই এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা।








