বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় আগুনে পুড়ে ছাই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় আগুনে পুড়ে ছাই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউস মোড় সংলগ্ন রসুলপুর এলাকার ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অগ্নিকা-ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। এতে দোকানে থাকা ২০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মালামাল ও নগদ ২ লাখ টাকা পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।

গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ দোকানটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।

সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন পুরোপুরি নেভানোর আগেই দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

Ads small one

‘মেয়ে হয়ে কেন ছেলেদের কোচ হতে পারবো না’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
‘মেয়ে হয়ে কেন ছেলেদের কোচ হতে পারবো না’

মেয়েদের কুস্তির মঞ্চ পেরিয়ে এবার ছেলেদের কোচের ভূমিকায় শিরিন সুলতানা। একসময় নিজেই প্রতিপক্ষের সঙ্গে কুস্তির ম্যাটে লড়েছেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করেছেন ছয় বছর আগে। এরপর হাতে তুলে নিয়েছেন কোচিংয়ের দায়িত্ব। গত এক বছর ধরে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করছেন। তবে মেয়েদের নয়, শিরিন এখন কোচিং করাচ্ছেন ছেলেদের জাতীয় দলকে। আর সেটিই তাকে নিয়ে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে।

এশিয়ান গেমসে অংশ নেবে বাংলাদেশের কুস্তি দল। সেই দলের ছেলেদের দুই বেলা অনুশীলন করিয়ে যাচ্ছেন ময়মনসিংহ থেকে উঠে আসা সাবেক এই কুস্তিগীর। ৩৭ বছর বয়সী শিরিনের ছেলেদের কোচ হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। ছেলেদের দলের কোচ হওয়ার জন্য আরও অনেকে থাকলেও ফেডারেশন বেছে নিয়েছে শিরিনকে। সিদ্ধান্তটি নিয়ে কারও কারও আক্ষেপ থাকলেও তাতে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি ফেডারেশন।

তবে আলোচনা-সমালোচনায় কান দিচ্ছেন না শিরিন। অনুশীলনের এক ফাঁকে তিনি বলেছেন, ‘কে কী বললো তা কানে নিচ্ছি না। আমার কাজ কোচিং করানো তাই করে যাচ্ছি। তা সেটা ছেলে বা মেয়েদের কোচ হই না কেন। একজন মেয়ে হয়ে কেন ছেলেদের কোচ কিংবা শেখাতে পারবো না। কোথায় কী লেখা আছে। আমি তো ছেলে কোচদের কাছ থেকে শিখেছি। ছেলেদের কাছ থেকে যদি শিখতে পারি, তাহলে আমি কেন কোচিংয়ে এসে ছেলেদেরই আবার শেখাতে পারবো না।’

বাংলাদেশের ফুটবলে মিরোনা, হ্যান্ডবলে ডালিয়ার পর এবার কুস্তিতেও ছেলেদের কোচের ভূমিকায় একজন নারী। তবে শিরিনের পথচলা শুরু হয়েছিল খেলোয়াড় হিসেবে। ২০০৯ সালে কুস্তির সঙ্গে তার যাত্রা শুরু। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমানতালে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি।

২০১২ সালে ইন্দো-বাংলা রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৫৫ কেজি ওজনশ্রেণিতে জিতেছিলেন স্বর্ণপদক। ২০১৬ সালে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে ৬৮ কেজি ওজনশ্রেণিতে পেয়েছিলেন রৌপ্যপদক। পরের বছর আজারবাইজানের বাকুতে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে অর্জন করেন ব্রোঞ্জ। ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে হয়েছিলেন চতুর্থ। অংশ নিয়েছেন এশিয়ান ইনডোর অ্যান্ড মার্শাল আর্টস গেমসেও। ২০১৯ সালে কুস্তির ম্যাট থেকে বিদায় নেন শিরিন।

ম্যাটের সেই অভিজ্ঞতা ও অর্জনকে কাজে লাগিয়েই এখন নতুন প্রজন্মের কুস্তিগীর তৈরি করছেন তিনি। কোচ হিসেবেও নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। সম্পন্ন করেছেন সলিডারিটি কোচেস কোর্স লেভেল-২।

শিরিন কুস্তি ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও। এ কারণে সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করেন, ফেডারেশনে নিজের প্রভাব কাজে লাগিয়েই কোচ হয়েছেন তিনি। তবে এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন শিরিন। তিনি বলেছেন, ‘আমি কোচ হওয়ার জন্য কাউকে প্রভাব বিস্তার করিনি। এমন কাজ আমি কেন করবো। আমার যোগ্যতা আছে বলেই জাতীয় দলের কোচ হয়েছি। আর কে কী বললো তা নিয়ে আমি ভাবছি না। আমার মনোযোগ অনুশীলনে।’

জ্বালানি সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে মাসের সংসার খরচ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে মাসের সংসার খরচ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত পরিবহন, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাসের কম চাপের কারণে সিএনজি চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য গ্যাস না পেয়ে অনেকে সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করছেন। এতে মাসের সংসার খরচের সঙ্গে যোগ হয়েছে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়।

রাজধানীর হাজিপাড়া পেট্রোলপাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালক হালিম উদ্দিন বলেন, ‘একবার গ্যাস নিতে আসলেই দুই থেকে তিন ঘণ্টা চলে যায়। আগে যেখানে একবার গ্যাস নিতে আসলে ৩৫০ টাকার গ্যাস ঢুকতো, এখন সেখানে ১৩০ টাকার বেশি নেওয়া যায় না। কারণ গ্যাসের চাপ কম। এই গ্যাস দিয়ে ৪ ঘণ্টার বেশি সিএনজি চালানো যায় না। আবার গ্যাস নিতে আসলে ২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। অর্থাৎ কেউ ৮ ঘণ্টা সিএনজি চালাতে হলে তাকে ৪ ঘণ্টা গ্যাসের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এদিকে আয় হোক আর না হোক মালিকের জমা তো দিতেই হয়।’

গ্যাসচালিত পরিবহনে এক চাপে যতটা গ্যাস নেওয়া যায়, তাই নিতে হয়। স্বাভাবিকভাবে গ্যাসের চাপ বেশি থাকলে সিলিন্ডারে বেশি গ্যাস ঢোকে, আর চাপ কম থাকলে কম গ্যাস নেওয়া যায়। একবার সিএনজিতে গ্যাস প্রবেশ করালে নির্দিষ্ট পরিমাণ শেষ না হলে নতুন করে গ্যাস নেওয়াও যায় না।

অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার আবাসিক বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনও কোনও এলাকায় একেবারেই গ্যাস থাকে না। আবার কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে টিমটিম করে চুলা জ্বলে। এতে গরম পানিও করা যায় না, রান্না তো দূরের কথা।

ফলে সকালে অফিসে যাওয়ার আগে রান্না করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন মানুষ। কেউ ভোরে উঠে রান্না করছেন, কেউ মধ্যরাতে রান্না করছেন। আবার কেউ সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করছেন। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।

মিরপুরের বাসিন্দা রাসনা চৌধুরী বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরেই সকালে উঠে দেখি চুলায় গ্যাস নেই। দুপুরের আগে চুলা জ্বালানো যায় না। আগে সকালে রান্না করে রেখে বের হতাম। আর এখন অফিস থেকে এসে ক্লান্ত হয়েই রান্না করতে হয়। এই রান্না শুধু সেদিনের না, পরের দিনের দুপুরের রান্নাটাও সেরে ফেলতে হয়। দুপুরে যারা বাসায় থাকে তারা ওভেনে গরম করে সেই তরকারি খায়, আর ভাত রান্না করে রাইস কুকারে। সকালে নাস্তা করতে হলে হয় আগের দিনের বাসি খাবার ওভেনে গরম করি, না হলে বাইরে থেকে কিনে আনি। কারণ বিদ্যুতের চুলায় রান্না করতে সময় লাগে। সকালে এত সময় থাকে না। প্রতিদিন এভাবে চলা সম্ভব নয়।’

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আনজুম সুলতানা বলেন, ‘গ্যাসের চাপ কখন থাকবে, কখন থাকবে না, তার ঠিক নেই। সকাল ১০টার দিকে রান্না বসানোর পর হঠাৎ গ্যাসের চাপ কমে যায়। আধা রান্না করে পরে সেটা আবার সিলিন্ডার চুলায় নিয়ে যেতে হয়। সিলিন্ডারই যদি ব্যবহার করতে হয়, তাহলে আমরা গ্যাস বিল দেবো কেন? মাসের বাজারের খরচের সঙ্গে এখন গ্যাসের বাড়তি খরচও যোগ হয়েছে।’

শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও সংকট

শুধু সিএনজি বা বাসাবাড়ি নয়, গ্যাস সংকটে চাপে পড়েছে শিল্প খাতও। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও মেশিন বন্ধ রেখে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালাতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।

চট্টগ্রামে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ভারী শিল্পসহ প্রায় ৩ হাজার কারখানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে বলে সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন কমছে। এর সঙ্গে কয়লা ও জ্বালানি তেলের সংকট এবং কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কম থাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও নাজুক হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরের বিদ্যুতের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে, গ্রীষ্মে গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। পিজিসিবির হিসাবে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় দেশে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৮৪৪ মেগাওয়াট। আজ একই সময়ে লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৯৪৩ মেগাওয়াট।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, গ্যাসভিত্তিক ৭২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৪১টিতে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এসব কেন্দ্রের প্রয়োজন ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৮৫২ মিলিয়ন ঘনফুট।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম

বর্তমানে দুটি এলএনজি টার্মিনাল সক্রিয় হওয়ার পরও রাজধানীতে গ্যাস সংকট কাটছে না। এর প্রধান কারণ, এলএনজি সরবরাহ ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি বাড়ানো যাচ্ছে না। ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহক্ষমতার এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কম পাওয়ার কারণ হিসেবে আমদানি বিঘ্নিত হওয়াকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যদিও সরকার বলছে, চলতি মাসে বেশ কয়েকটি এলএনজি কার্গো আসার কথা রয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ সেগুলো না আসবে, ততক্ষণ সাধারণ মানুষের কষ্ট কমানো যাচ্ছে না।

দেশে এখন মোট গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার হিসেবে মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ২ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ৭০৯ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি থেকে পাওয়া যাচ্ছে। দেশীয় খনি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট।

সংসদে দুঃখ প্রকাশ

সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ২ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে দেশের মানুষ কষ্টে আছে বলে স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এ সময় বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। জাতীয় সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা লুকোচুরি করতে চাই না। মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে কষ্টে আছে। আমি আমার মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আজকের এই পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। বিগত দেড় দশক ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি আজ এ দেশের মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে।’

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তাৎক্ষণিকভাবে এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই সমাধান নয়। দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘এই পরিস্থিতি একদিনে হয়নি। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি আর এক শ্রেণিকে সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর ভর্তুকির বোঝা চাপানোর ফলেই আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকার এলএনজি টার্মিনাল করার কথা বলছে, এই টার্মিনাল করতেও কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে। ফলে আজকের সংকট সমাধানের কোনও গতি নেই সরকারের হাতে।’

ফলে একদিকে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট, অন্যদিকে এলএনজি আনার পরিকল্পনা, ভোলার গ্যাস আনার পরিকল্পনা, স্থলভাগে বা সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান—যে পরিকল্পনাই করা হচ্ছে, তার কোনোটিই এখনকার গ্যাস সংকট কমাতে পারবে না। দীর্ঘমেয়াদে হয়তো চাহিদা পূরণ করা যাবে। সব মিলিয়ে গ্যাসের ভোগান্তি থেকে সহসাই মুক্তি মিলছে না সাধারণ মানুষের।

র‌্যাব বিলুপ্তি করে এসআরবি বিল সংসদে, বিরোধী দলের ৭ আপত্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
র‌্যাব বিলুপ্তি করে এসআরবি বিল সংসদে, বিরোধী দলের ৭ আপত্তি

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ দ্রুত পাস করা, র‍্যাবের জনবল-সম্পদ ও রেকর্ড সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তর, অভিযোগ তদন্তের কাঠামো এবং সদস্যদের আটক ও শাস্তির ক্ষমতা নিয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি তুলেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। বিলের ওপর দেওয়া নোট অব ডিসেন্টে তারা বলেছেন, র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের আগে যথাযথ জাতীয় পরামর্শ ও শক্তিশালী জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে উত্থপিত বিলে এই আপত্তি জানানো হয়।

গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে উত্থপিত বিলটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে কমিটির প্রতিবেদনসহ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন।

কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী দলের সাতটি আপত্তির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বিরোধী দলের সাতটি আপত্তি হলো-

বিরোধী দলের সাত আপত্তি

১. পরামর্শ ছাড়াই দ্রুত বিল পাস ঝুঁকিপূর্ণ

নোট অব ডিসেন্টে বলা হয়েছে, র‍্যাব বিলুপ্ত করা বিএনপির দীর্ঘদিনের অবস্থান। ২০১৪ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে দলটি র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে তোলার সময়ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম র‍্যাব বিলুপ্তির আগের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও নতুন বাহিনী গঠনের আগে বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বিরোধী সদস্যরা উল্লেখ করেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর এবং গুম কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও সতর্ক করেছে, যথাযথ নজরদারি ছাড়া এসআরবি র‍্যাবের নতুন নাম হয়ে উঠতে পারে।

বিলের ধারা ২৭(৩) অনুযায়ী র‍্যাবের জনবল, স্থাপনা, ক্ষমতা, রেকর্ড, সম্পত্তি, চুক্তি ও দায় সরাসরি এসআরবিতে যাবে। ফলে নাম পরিবর্তনের বাইরে বাহিনীর কাঠামো ও কার্যক্রমে কী পরিবর্তন আসছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তা না হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন বাহিনীকে র‍্যাবের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হতে পারে।

তাদের প্রস্তাব, বিলের ওপর কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার সময় বাড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট, প্রসিকিউটর, আইনজীবী, রাজনৈতিক দল, ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে একাধিক পরামর্শ সভা করা।

২. র‍্যাবের রেকর্ড কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে

ধারা ২৭(৩) অনুযায়ী র‍্যাবের হিসাববই, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও দলিল এসআরবিতে যাবে। কিন্তু হস্তান্তরের আগে এসব নথি কীভাবে সংরক্ষণ, তালিকাভুক্ত ও নিরাপদ করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নেই।

বিরোধী সদস্যরা বলেন, গুমসহ গুরুতর অপরাধের বহু মামলায় র‍্যাবের পদায়ন ও বদলির আদেশ, ডিউটি রোস্টার, অভিযান ও গ্রেফতার রেকর্ড, হেফাজত রেজিস্টার, গাড়ি চলাচলের তথ্য, ওয়্যারলেস লগ, ইলেকট্রনিক রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ ও অস্ত্র ইস্যু রেজিস্টার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হতে পারে। রেকর্ড হস্তান্তরের সময় এসব নষ্ট, পরিবর্তন বা হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলে চলমান মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাদের প্রস্তাব, ধারা ২৭-এ রেকর্ড সুরক্ষার পৃথক বিধান যুক্ত করতে হবে। হস্তান্তরের সময় প্রতিটি নথি ও আলামতের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নিতে হবে। কোনো রেকর্ড গোপন, পরিবর্তন, সরানো বা নষ্ট করা অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। আদালতের আদেশ ছাড়া সাবেক আটকস্থলের কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। আদালত, ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউটর ও আইনসম্মত তদন্ত দলকে প্রয়োজনীয় রেকর্ড দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৩. এসআরবির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে স্বাধীনতা দরকার

বিলের ধারা ২৪-এ অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এর সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং সদস্য-সচিব হবেন এসআরবির পরিচালক (লিগ্যাল ও মিডিয়া)। বিরোধী সদস্যদের মতে, যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বাহিনীর কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে অভিযোগ তদন্ত হলে স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

তাদের আরও আপত্তি, কমিটির পূর্বঘোষণা ছাড়া ক্যাম্পে প্রবেশ, হাজতখানা পরিদর্শন, রেকর্ড সিলগালা বা আটক ব্যক্তি ও সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বলার ক্ষমতা স্পষ্ট নয়। অপরাধের আলামত পাওয়া গেলে তা ফৌজদারি তদন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও নেই। অভিযোগকারীকে ফল জানানো এবং তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়েও স্পষ্ট বিধান নেই।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন কমিটি গঠন করতে হবে। এতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়েছে। কমিটির সচিবালয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে রাখার পাশাপাশি এসআরবির স্থাপনায় পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রবেশ, নথি পরীক্ষা ও আটক ব্যক্তির সঙ্গে একান্তে কথা বলার ক্ষমতা দিতে হবে।

৪. মামলা আদালতে যাওয়ার আগে এসআরবির কাজ কে দেখবে

ধারা ১২ থেকে ১৫-তে এসআরবিকে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ, গ্রেফতার ও ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তি ও জব্দ আলামত নিকটবর্তী থানায় হস্তান্তরের কথা থাকলেও এসআরবির অভিযান সম্পর্কে জেলা পুলিশ, পুলিশ সুপার বা আদালতের কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান নেই।

বিরোধী সদস্যরা বলেন, এসআরবিকে পুলিশের মতো ক্ষমতা দেওয়া হলে পুলিশের মতো নিয়মিত জবাবদিহির ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তাদের প্রস্তাব, এসআরবির প্রতিটি জেলায় মাসিক বিবরণী দিতে হবে। এতে গ্রেফতার ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, কারণ, থানায় হস্তান্তরের সময়, তল্লাশি ও জব্দের তথ্য এবং পরোয়ানার বিষয় উল্লেখ থাকবে। বিবরণীর অনুলিপি পুলিশ সুপার বা পুলিশ কমিশনার এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে হবে।

৫. এসআরবি কোথায় এবং কতক্ষণ কাউকে আটক রাখতে পারবে

বিলের ধারা ১৩-তে বেসামরিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘আটক’ শব্দ ব্যবহার করা হলেও এর স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই। ধারা ১৫(৪)-এ এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বেসামরিক ব্যক্তিকে কোথায় এবং কতক্ষণ রাখা যাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট সময়সীমা নেই। ধারা ১৪-তে ‘অনতিবিলম্বে’ থানায় হস্তান্তরের কথা বলা হলেও এর নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

বিরোধী সদস্যরা বলেন, অতীতে র‍্যাবের অঘোষিত স্থাপনায় মানুষকে আটকে রাখার অভিযোগ ও হেফাজত রেজিস্টার না রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসআরবির প্রতিটি দফতর, ক্যাম্প, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে।

প্রতিটি হেফাজতের জন্য ক্রমিক নম্বরযুক্ত রেজিস্টার রাখতে হবে। সেখানে ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, আইনগত কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসার তথ্য এবং থানায় হস্তান্তরের সময় উল্লেখ করতে হবে। থানায় হস্তান্তরের সর্বোচ্চ সময়সীমাও আইনে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

৬. প্রশিক্ষণ ছাড়া পুলিশি ক্ষমতা প্রয়োগ নয়

ধারা ২৫-এ সদস্যদের প্রশিক্ষণের কথা বলা হলেও প্রশিক্ষণের মেয়াদ, পাঠ্যক্রম ও পাসের মানদণ্ড পরে বিধিতে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ধারা ১৩-তে সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ওপরের কর্মকর্তাকে ফৌজদারি তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী সদস্যদের মতে, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী থেকে প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের ফৌজদারি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, গ্রেফতার, তল্লাশি, জব্দ, কেস ডায়েরি ও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

তাদের প্রস্তাব, প্রশিক্ষণ শেষ করে সনদ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সদস্যকে এই ক্ষমতা দেওয়া যাবে না। পুলিশ ছাড়া অন্য বাহিনী থেকে আসা সদস্যদের জন্য কমপক্ষে দুই মাসের কনভার্সন কোর্স, ব্যবহারিক পরীক্ষা ও পরবর্তী রিফ্রেশার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৭. বেআইনি আদেশ মানতে অস্বীকার করলে সদস্যের সুরক্ষা

ধারা ১৮ অনুযায়ী শৃঙ্খলাভঙ্গ বা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সদস্যকে আটক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সর্বোচ্চ কতদিন আটক রাখা যাবে, তা স্পষ্ট নয়। আবার ধারা ২২-এ কোয়ার্টার গার্ডে আটক, অতিরিক্ত ড্রিল, গার্ড ও ফ্যাটিগ ডিউটির মতো শাস্তির বিধান রয়েছে।

বিরোধী সদস্যদের আশঙ্কা, বেআইনি আদেশ মানতে অস্বীকারকারী বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের তথ্য দেওয়া কোনো জুনিয়র সদস্যও কমান্ডের প্রতিকূলতার শিকার হতে পারেন। তাই আইনসম্মত আদেশ অমান্য এবং বেআইনি কাজে অংশ নিতে অস্বীকার করার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা জরুরি।

তাদের প্রস্তাব, ছয় মাসের মধ্যে অভিন্ন আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধি প্রণয়ন করতে হবে। বেআইনি কাজের তথ্য দেওয়া বা তাতে অংশ নিতে অস্বীকারকারী সদস্যকে আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। এই সুরক্ষা পদোন্নতি, বদলি, প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতার প্রতিবেদন ও বিদেশে দায়িত্ব পালনের সুযোগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নোট অব ডিসেন্টে এসব প্রস্তাবের পাশাপাশি এসআরবি গঠনের আগে আরও বিস্তৃত জাতীয় পরামর্শ এবং শক্তিশালী স্বাধীন নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।