রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম গঠন: আহবায়ক এড. ঝুমুর, সদস্য সচিব সুমন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম গঠন: আহবায়ক এড. ঝুমুর, সদস্য সচিব সুমন

পত্রদূত ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলা, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনাড়ম্বর সম্মেলনে সাতক্ষীরায় গঠিত হয়েছে ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম সাতক্ষীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করা, পরিবেশ সুরক্ষায় সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে রবিবার (২ আগস্ট) শহরের একটি হোটেলের হলরুমে অ্যাওসেড-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফোরাম গঠন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার ঝুমুর। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন অ্যাওসেডের (অঙঝঊউ) ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হেলেন খাতুন। এতে সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। শুরুতে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংগীত।


হেলেন খাতুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে সাতক্ষীরা, বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনপদগুলোর একটি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছে। কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে, মাছ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক পরিবার জীবিকা হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। জলবায়ুর এসব বহুমাত্রিক প্রভাব শুধু পরিবেশ নয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কোস্টাল ভয়েসের আহবায়ক মোস্তফা জামাল পপলু বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে সবচেয়ে কম অবদান রাখা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। অথচ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষতিপূরণ এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য অধিকার এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। এই বৈষম্য দূর করতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী নাগরিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।

অ্যাওসেডের হেড অফ অপারেশন্স রবিউল আলম, ‘ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম সাতক্ষীরা’র অন্যতম লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা। পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল জীবনযাত্রা গড়ে তোলা, পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব নীতি প্রণয়নে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা এবং তরুণ সমাজকে জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে জাতীয় আন্তর্জাতিক ভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সভায় আলোচনা করেন, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, মাধব দত্ত, সমরেশ কুমার দাস, লুইস রানা গাইন, অধ্যাপক হেদায়েতুল ইসলাম, শেখ মুশফিকুর রহমান মিল্টন, হেদায়েত হোসেন, আমিনা বিলকিস ময়না, আফজাল হোসেন, কৃষ্ণ ব্যানার্জি, অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব, হাবিবুর রহমান সোহাগ, রুবিনা খাতুন রুনা ও ইমরান হোসেন।

সভার শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটির সদস্যরা বলেন, সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, গবেষক, গণমাধ্যম এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। একই সঙ্গে উপকূলের মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, দাবি ও সংকট জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় তুলে ধরে কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ফোরাম সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
জলবায়ু ক্ষতি সহ অন্যান্য বিষয় লিখিত ও চিত্র উপস্থাপন করেন সালাউদ্দিন অপু।

অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনা করেন, অ্যাডভোকেট তনুজা পিয়াসী শাওলীন, এডভোকেট মনোয়ারা পারভীন মিলি, লাবন্য হালদার, চায়না দাস, গুলশান আরা সোমা, তাপসী মন্ডল, তনয়া সায়নী মেধা, মিতু মন্ডল প্রমুখ।

সংগঠনের উপদেষ্টা মাধব দত্ত প্রয়াত আহবায়ক ড. দিলারা বেগম, রেহানা খাতুন হেনা, মাহবুবুর রহমান মোহন, অ্যাডভোকেট কামরুননাহার ছবি ও অন্যান্য শ্রদ্ধাভাজন প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মরণে ঘোষণা করেন শোক প্রস্তাব। তাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ হলেন। অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, মাধব দত্ত, লুইস রানা গাইন, অধ্যাপক শেখ হেদায়েতুল ইসলাম, এডভোকেট মুনির উদ্দিন।

একই সাথে সিজেএফের ৫ সদস্য বিশিষ্ট ওয়ার্কিং কমিটি ঘোষণা করা হয়। সদস্যবৃন্দ হলেন, শেখ মোশফিকুর রহমান মিল্টন, এডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসাইন, রুবিনা খাতুন রুনা, হাবিবুর রহমান সোহাগ, মিতু মন্ডল।

Ads small one

সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ নাজিম উল্লাহর প্রয়াণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ নাজিম উল্লাহর প্রয়াণ

Oplus_131072

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদ এ কে এম নাজিম উল্লাহ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার ভোর চারটার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে জেলার শিক্ষক ও সচেতন সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার জানায়, রোববার বাদ জোহর শহরের মেহেদীবাগ এলাকার খাদিজাতুল কোবরা মসজিদে জানাজা শেষে তাঁকে নলতা শরীফে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাজিম উল্লাহ ১৯৯৮ সালে খুলনার ডুমুরিয়া শাহপুর কলেজ থেকে স্থানান্তরিত হয়ে সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগ দেন এবং ২০১২ সালে অবসর নেন। তাঁর মেধা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সততার গুণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ কলেজের স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। তৎকালীন সরকারপ্রধানের হাত থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ সম্মাননাও লাভ করে।
বড় ধরনের সরকারি তহবিল ছাড়াই নিজস্ব অর্থায়নে টিনশেড ক্যাম্পাসকে চার ও পাঁচতলা একাডেমিক ভবনে উন্নীত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাব স্থানীয় শিক্ষার প্রসারে অবিস্মরণীয় অবদান হিসেবে বিবেচিত।

আশাশুনিতে সাংসদের পক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিলিং ফ্যান বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে সাংসদের পক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিলিং ফ্যান বিতরণ

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের উদ্যোগে আশাশুনি সদর ইউনিয়নের শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সিলিং ফ্যান বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার সকালে আশাশুনি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে এই উপহারসামগ্রী তুলে দেন।

বিতরণকৃত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—আশাশুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আশাশুনি হাফিজিয়া মাদ্রাসা, বড় দুর্গাপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, আশাশুনি প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠন, আশাশুনি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল, আশাশুনি মোটরসাইকেল চালক সমবায় সমিতি, আদালতপুর দারুল আরকান হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং আশাশুনি ফজলুর রহমান হাফিজিয়া মাদ্রাসা।
অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতা আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনসেবার ধারাবাহিক অংশ হিসেবে সাংসদের পক্ষে এই উপহার দেওয়া হয়েছে। জনকল্যাণমুখী এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ সময় সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাফেজ আব্দুল্লাহ, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য এবিএম আলমগীর পিন্টু, সহ-সেক্রেটারি এস এম শহিদুজ্জামান বাবলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আশাশুনিতে নতুন এসিল্যান্ড হিসেবে যোগ দিচ্ছেন মিঠুন মৈত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে নতুন এসিল্যান্ড হিসেবে যোগ দিচ্ছেন মিঠুন মৈত্র

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলায় নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দিচ্ছেন মিঠুন মৈত্র (পরিচিতি নম্বর: ১৯০২৪)। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের এসএ শাখার এক আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

৩৮তম বিসিএস প্রশাসনের এই কর্মকর্তা ইতিপূর্বে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। গত ২৮ জুলাই জারীকৃত এক আদেশে তাকে আশাশুনি উপজেলায় বদলি ও পদায়ন করা হয়।