মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ড্রেনের ময়লা রাস্তায়: বৃষ্টিতে পুনরায় মিশছে ড্রেনেই, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ড্রেনের ময়লা রাস্তায়: বৃষ্টিতে পুনরায় মিশছে ড্রেনেই, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা পৌরসভার কাটিয়া লস্কার পাড়া এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের চরম উদাসীনতায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ড্রেন পরিষ্কার করা হলেও সেই ময়লা যথাসময়ে অপসারণ না করায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগে লস্কারপাড়া এলাকার প্রধান ড্রেনটি পরিষ্কার করেন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তবে ড্রেন থেকে তোলা পচা কাদা ও ময়লা-আবর্জনা ড্রেনের পাশেই রাস্তার ওপর স্তূপ করে রেখে যাওয়া হয়। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও সেই ময়লা সরিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির ফলে রাস্তার পাশে জমে থাকা এই ময়লা ধুয়ে পুনরায় ড্রেনেই গিয়ে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন ড্রেন পরিষ্কারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বৃষ্টির পানিতে ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে চরম দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করছে। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের পচা কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

দেখা যাচ্ছে যে, দীর্ঘ রাস্তা জুড়ে ড্রেন থেকে তোলা ভেজা কাদা ও আবর্জনার স্তূপ রাস্তার একপাশ দখল করে আছে, যা ড্রেনের ভেতরেই ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই আবর্জনার স্তূপ অপসারণ করে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করা হোক এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান করা হোক। পৌরসভার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকান্ডের দ্রুত প্রতিকার চান ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

Ads small one

সাতক্ষীরায় দিগন্তজোড়া ঘেরে মাছ চাষে বিপ্লব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দিগন্তজোড়া ঘেরে মাছ চাষে বিপ্লব

মাছুম বিল্লাহ: দিগন্তজোড়া মাছের ঘের, ঘেরের পানি বৃদ্ধি এবং পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতক্ষীরার মৎস্য চাষীরা। একসময় এই অঞ্চলের অধিকাংশ ঘেরে শুধু চিংড়ি চাষ হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাষ পদ্ধতিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। চিংড়ি চাষে ঝুঁকি থাকায় একই ঘেরে চিংড়ি চাষের সাথে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, প্রভৃতি মাছ চাষ হচ্ছে।

 

সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও চাষীদের নিরলস পরিশ্রমে জেলায় মাছ চাষে নেমে এসেছে এক নতুন বিপ্লব। এতে উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি চাষিদের আয়ও আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মাছ চাষিরা জানান, উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে পরামর্শ, উন্নত মানের পোনা, সুষম খাদ্য, নিয়মিত পানি পরীক্ষা কারণে মাছের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। তাছাড়া অনেক চাষি ঘেরের বেড়িঁতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে অতিরিক্ত আয় করছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা কর্মকর্তা জি.এম. সেলিম বলেন, আমরা উপজেলা পর্যায় থেকে নিয়মিত মৎস্য চাষীদের সাথে যোগাযোগ রাখছি এবং আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য চাষীদের উৎসাহিত করছি। আমরা এবছর উপজেলা ভিত্তিক মৎস্য চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করিনি জুলাই মাস শেষ হলে আমরা এটা নির্ধারণ করব।

 

আদালতের রায় পাওয়ার পরও জমির দখল পেতে আদালত পাড়ায় ঘুরছেন বৃদ্ধ সামছুল কবীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
আদালতের রায় পাওয়ার পরও জমির দখল পেতে আদালত পাড়ায় ঘুরছেন বৃদ্ধ সামছুল কবীর

পত্রদূত রিপোর্ট: ওয়ারেশ ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমির নামপত্তন ও খাজনা পরিশোধ করে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দপুরের অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ৮০ বছরের বৃদ্ধ একেএম সামছুল কবীর। রেকর্ড সংশোধনের মামলার রায় তার পক্ষে যাওয়ার পরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে জমির দখল বুঝে না পেয়ে আদালতপাড়ায় সময় কাটছে তার। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা আদালত চত্বরে এমনই হাতাশা ব্যক্ত করেন সামছুল কবীর।

কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের সামছুল রহমানের ছেলে একেএম শামছুল কবীর জানান, ২০০৭ সালে তিনি পূবালী ব্যাংকের খুলনা প্রধান শাখার পিন্সিপ্যাল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় অবসরে যান তিনি। মুকুন্দপুর মৌজার আরএস-২৪ খতিয়ানের ৭১২ দাগে ওয়ারেশসূত্রে ৭ দশমিক ৩৩ শতক ও ১৯৭৯ সালের ৬ জুলাই আবু বক্কর সরদারের কাছ থেকে চার শতক জমি কিনে মোট ১১ দশমিক ৩৩ শতক জমির নামপত্তন করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ওই জমি ভুল করে একই গ্রামের আশরাফ আলীর নামে রেকর্ড হয়।

 

রেকর্ড মূলে ওই জমি আশরাফ আলীর ওয়ারেশগণ গায়ের জোরে জবরদখল অব্যহত রাখায় তিনি সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যােিজষ্ট্রট আদালতে পিটিশন ৪৩৯/১৭ নং মামলা করেন। ২০১৯ সালের ২২ আগষ্ট বিচারক ওই জমি তাকে ভোগদখল করার জন্য নির্দেশনা দেন। এরপরও তিনি ওই জমির দখল না পাওয়ায় রেকর্ড সংশোধনের জন্য সাতক্ষীরা ল্যা- সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ১৩৩১/২০ নং মামলা করেন।

 

মামলায় আশরাফ আলীর ছেলে দাউদ আলী সরদারসহ ১০জনকে বিবাদী করা হয়। ওই আদালতের বিচারক মোঃ জাহিদুল আজাদ ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তার (শামছুল কবীর) পক্ষে রায় ও ২৪ সেপ্টেম্বর ডিক্রী দেন। আদেশে তার (শামছুল কবীর) নামে রেকর্ড প্রদান করে খতিয়ান সংশোধনের জন্য তৎকালিন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও কালিগঞ্জ সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

বেগতিক বুঝে ল্যা- সার্ভে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদীপক্ষ মহামামন্য হাইকোর্টে ৪৭০৪/২৩ নং রিট পিটিশন দাখিল করে। আদালত শুনানী শেষে সাতক্ষীরা ল্যা- সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার জন্য বিবাদীপক্ষ দাউদ সরদার ও তার শরীকদের নির্দেশনা দেন। এরপর বিবাদীপক্ষ ল্যা- সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালে ১১৫/২৪ নং আপীল মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় তিনি (শামছুল কবীর) স্বাক্ষ্য দিয়েছেন।

 

আপিল মামলা পরবর্তী ২৪টি ধার্য দিনেও পড়লে আপিলকারি পক্ষ মামলা বিলম্বিত করতে কৌশলে সাক্ষ্য দিতে গড়িমসি করছেন। আগামি পহেলা জুলাই সাক্ষীর জন্য পরবতী দিন ধার্য রয়েছে। ফলে তিনি ল্যা- সার্ভে ট্রাইব্যুনালে রায় পাওয়ার পরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে জমি দখলে নিতে পারছেন না। প্রায় ৮০ বছর বয়সেও তিনি ন্যয় বিচারের মাধ্যমে জমির দখল পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জীবদ্দশায় ওই জমির দখল পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি।

তবে এ ব্যাপারে মনিরুল সরদার সাংবাদিকদের বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. প্রণব সরকার বলেন, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তিনি একেএম শামছুল কবীরের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আদালত দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য যথেষ্ট আন্তরিক।
আপিলকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. পরিতোষ কুমার ঘোষের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

 

শার্শায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্যপণ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
শার্শায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্যপণ্য

বাগআঁচড়া (শার্শা) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে নোংরা পরিবেশে একটি বেকারি কারখানাতে তৈরি করা হচ্ছে হরেক রকম বেকারী খাদ্যপণ্য। যা খেয়ে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন ছোট-বড় হাজারও মানুষ।

তথ্য-অনুসন্ধানে (২৯ জুন) সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলা বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর বড়কলনির মোড়ের পাশে একটি বাড়ির মধ্যে রিয়াদ ফুড নামক বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বিস্কুট, রুটি কেকসহ বিভিন্ন রকমের বেকারি খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে।

বেকারী খাবার তৈরী করতে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল, রং ও নি¤œমানের পাম তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। শ্রমিকরা বিশেষ পোশাক ছাড়া খালি পায়ে খাবার তৈরী করছে। নোংরা ও অপরিষ্কার কড়াই গুলোতে আটা ময়দা প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। ডালডা দিয়ে তৈরী করা ক্রিম রাখা পাত্রগুলোতে ঢাকনা নাই, ঝাকে ঝাকে মাছি ভনভন করছে। উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ন তারিখ ছাড়াই বাহিরে মোড়কে বনরুটি, পাউরুটি, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারী খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে।

 

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে একটি বাসা বাড়ির মধ্যে বেকারি পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করছে এমনও অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিন্মমানের উপকরণ দিয়ে তৈরী করা খাবার নিয়মিত খেলে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে।

রিয়াদ ফুড এর মালিক মো. খোকনের কাছে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার পরিবেশনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ছোট ব্যাবসায়ী, আমি সব আইন কারণ মানতে পারছি না। আপনারা বড় কারখানায় গিয়ে দেখুন, সেখানেও আমার চেয়ে খারাপ অবস্থা।

এবিষয়ে শার্শা উপজেলা সেনেটারি ইন্সপেক্টর শেফালী খাতুন জানান, যদি কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্টান নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি করেন, তবে সেই প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।