শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় বৈশাখের রং: নাওয়া-খাওয়া ভুলে ব্যস্ত শিল্পীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বৈশাখের রং: নাওয়া-খাওয়া ভুলে ব্যস্ত শিল্পীরা

oplus_0

এসএম শহীদুল ইসলাম: সোমবার ​ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১২টা ছুঁই ছুঁই, কিন্তু সাতক্ষীরা শহরের শিল্পী পাড়ায় বিশ্রামের ফুরসত নেই কারো। চারদিকে আঠা, বাঁশের চটা, কর্কশীট, মাটির সরা, কুলো আর উজ্জ্বল সব রঙের ছড়াছড়ি। দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর এই উৎসবকে রঙিন করে তুলতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন স্থানীয় চারুশিল্পী ও মৃৎশিল্পীরা।

​সাতক্ষীরার বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। প্রতিবছরের মতো এবারও শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিশাল আকৃতির বাঘ, হাতি ও লোকজ মোটিফের সব প্রতিকৃতি। শিল্পীরা বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর কাগজের স্তর বসিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন গ্রামীণ বাংলার নানা অনুষঙ্গ।

​শহরের প্রাণকেন্দ্রে মিনিমার্কেটে দেখা গেল শিল্পী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তুলির শেষ আঁচড় দিতে দিতে তিনি বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। আমরা চাই আমাদের কাজের মাধ্যমে সাতক্ষীরার ঐতিহ্য সারা দেশের সামনে ফুটে উঠুক।”

একই কথা বলেন, লেখক ও সাহিত্যিক মনিরুজ্জামান মুন্না। তিনিও এসেছেন রঙিন কাপড়ে ফেস্টুন তৈরির অর্ডার নিয়ে। তিনি বাংলা বরষণ উৎসবকে প্রাণের উৎসব হিসেবে মন্তব্য করে বলেন,  বাঙালির শেকড়পোতা পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে। এখানই রচিত আমাদের হাজার বছরের সম্প্রীতির সেতুবন্ধন।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডিবি) গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ এমাদুল ইসলাম এসেছিলেন বৈশাখী শোভাযাত্রার সরঞ্জাম নিতে। তিনি সকলকে আগাম নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বারো মাসে তেরো পার্বণের সম্প্রীতির অনন্য এই পহেলা বৈশাখ আসে শান্তির বার্তা নিয়ে। পুরাতনকে বিদায় দিয়ে নতুনের ডাকে এ উৎসব হয়ে ওঠে সর্বজনীন।

চারুশিল্পী মোহেবুল্লাহ সরদার, শহিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, ​কেবল বড় প্রতিকৃতি নয়, ব্যস্ততা বেড়েছে মৃৎপল্লিগুলোতেও। সরা চিত্র, মাটির শখের হাঁড়ি আর শিশুদের খেলনা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। লাল, নীল, হলুদ আর সবুজ রঙের কারুকাজে ফুটে উঠছে মাছ, ফুল ও পাখির ছবি।

​​মেলা ও শোভাযাত্রার জন্য তৈরি হচ্ছে নানা ধরণের মাটির গয়না।

স্থানীয় এক নারী উদ্যোক্তা জানান, “এখন তরুণীদের মধ্যে মাটির গয়নার বেশ চাহিদা। তাই আমরা বৈশাখী থিম সামনে রেখে কানের দুল, নেকলেস আর চুড়ি তৈরি করছি। অর্ডার যা এসেছে, তাতে দম ফেলার সময় নেই।”

​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে পুরো শহর। তবে সব ছাপিয়ে এখন সাধারণ মানুষের অপেক্ষা—কখন উদিত হবে বৈশাখের সেই কাঙ্ক্ষিত নতুন সূর্য।

​শহরজুড়ে এখন কেবলই রঙের খেলা আর সাজ সাজ রব। শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় সাতক্ষীরা যেন জানান দিচ্ছে— “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।”

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।