সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইডের সাফল্যে কমেছে মামলা দায়েরের হার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইডের সাফল্যে কমেছে মামলা দায়েরের হার

মধ্যস্থতায় ১,৪৬৫ বিরোধ নিষ্পত্তি, বাড়ছে আদালতের বাইরে বিরোধ মীমাংসার প্রবণতা

বদিউজ্জামান : সাতক্ষীরায় সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ, মামলা পরিচালনা এবং বিশেষ করে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় আদালতে নতুন মামলা দায়েরের হার কমেছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক বিরোধ আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হওয়ায় সময়, অর্থ ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি আদালতের ওপর মামলার চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস।

সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ সময়ে মোট ২ হাজার ১৯৯টি আবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩৮০টি মামলা দায়ের, ৬১টি মামলা নিষ্পত্তি এবং ১ হাজার ৭৯৭টি আবেদন মধ্যস্থতার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। মধ্যস্থতার মাধ্যমে সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৬৫টি বিরোধ। এছাড়া আইনগত পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে নারী-পুরুষসহ বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীকে। মধ্যস্থতার মাধ্যমে অর্থ আদায় করে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের পরিশোধের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন আদালতে মামলা দায়েরের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফৌজদারি মামলায় ৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, পারিবারিক মামলায় ৩৫ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং দেওয়ানি মামলায় প্রায় ৬৬ দশমিক ৯ শতাংশ মামলা দায়ের কমেছে।

ফৌজদারি মামলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য: লিগ্যাল এইড অফিসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল ১৯৯টি। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮০টিতে। অর্থাৎ মামলা দায়েরের হার কমেছে প্রায় ৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশ।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ফৌজদারি বিরোধ মধ্যস্থতার জন্য ১৪৯টি আবেদন গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সফল মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে ৮৬টি, যা মোট আবেদনের প্রায় ৫৭ দশমিক ৭২ শতাংশ।

মাসভিত্তিক তথ্যেও মধ্যস্থতা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায়। জানুয়ারিতে ২৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ৯টি, মার্চে ১০টি, এপ্রিলে ৯টি, মে মাসে ১২টি এবং জুনে ১৬টিÑমোট ৮০টি ফৌজদারি মামলা সংশ্লিষ্ট আদালতে দায়ের হয়েছে। বিপরীতে সফল মধ্যস্থতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬টি।

পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে লিগ্যাল এইডের বড় ভূমিকা: পারিবারিক আদালতেও লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতা কার্যক্রমের প্রভাব স্পষ্ট। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আদালতে পারিবারিক মামলা দায়ের হয়েছিল ৩২৯টি। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে হয়েছে ২১৩টি। অর্থাৎ মামলা দায়েরের হার কমেছে ৩৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ২৭৮টি আবেদন গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৬২টি বিরোধ সফল মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। সফলতার হার প্রায় ৫৮ দশমিক ২৮ শতাংশ।

মাসভিত্তিক হিসাবেও পারিবারিক মামলা দায়েরের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। জানুয়ারিতে ৫৬টি, ফেব্রুয়ারিতে ৪৩টি, মার্চে ২৭টি, এপ্রিলে ৪৩টি, মে মাসে ২৪টি এবং জুনে ২০টিÑমোট ২১৩টি মামলা দায়ের হয়েছে।

দেওয়ানি মামলায় মামলা দায়ের কমেছে প্রায় ৬৭ শতাংশ: দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রেও লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আদালতে ১৬৬টি দেওয়ানি মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০২৬ সালের একই সময়ে মামলা দায়ের হয়েছে মাত্র ৫৫টি। এতে মামলা দায়েরের হার কমেছে প্রায় ৬৬ দশমিক ৯ শতাংশ।
এ সময়ে মধ্যস্থতার জন্য ৮২টি আবেদন গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৪টি বিরোধ সফলভাবে মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।

লিগ্যাল এইড অফিসের নথিতে বলা হয়েছে, দেওয়ানি মামলায় মধ্যস্থতার সফলতার হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও আবেদনপত্র গ্রহণের সময় দাখিলকৃত দলিল, খতিয়ানসহ অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অনেক আবেদনকারীকে প্রতিকার পাওয়ার উপযুক্ত পথ সম্পর্কে আইনগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মামলা না করে বিকল্প আইনি প্রতিকারের পরামর্শ: জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক আবেদনকারী বিরোধ নিয়ে সরাসরি দেওয়ানি মামলা করতে আগ্রহী হলেও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও বিষয়বস্তু পর্যালোচনার পর দেখা যায়, মামলা দায়ের না করে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩সহ অন্যান্য আইনে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ ধরনের ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড অফিস থেকে আবেদনকারীকে যথাযথ আইনগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় দেওয়ানি মামলা দায়ের থেকে আবেদনকারীরা বিরত থাকছেন। এর ফলে একদিকে বিচারপ্রার্থীর অর্থ ও সময় সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে আদালতে নতুন মামলার চাপও কমছে।

নারী-পুরুষ উভয়েই পাচ্ছেন আইনগত পরামর্শ: ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে ২ হাজার ১৯৯টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৮০টি মামলা দায়ের, ৬১টি মামলা নিষ্পত্তি এবং ১ হাজার ৭৯৭টি আবেদন মধ্যস্থতার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া নারী ও পুরুষ মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে আইনগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নথিতে উল্লেখিত হিসাব অনুযায়ী, নারী আবেদনকারীদের ১ হাজার ৩৮২টি এবং পুরুষ আবেদনকারীদের ৪২৬টি ক্ষেত্রে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০৮ জন।

মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি আদায় করা অর্থের পরিমাণ ১ কোটি টাকারও বেশি। নথিতে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মধ্যস্থতার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের পরিমাণ ১ কোটি ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যস্থতায় বিশেষ ভূমিকা বিশেষ মধ্যস্থতাকারীদের: জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের কার্যক্রমে বিশেষ মধ্যস্থতাকারীদের সম্পৃক্ততা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দুইজন স্পেশাল মিডিয়েটর প্রয়োজন রয়েছে। মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই অনেক বিরোধের সমাধান সম্ভব হচ্ছে।

আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতে মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় ধরে বিচার প্রক্রিয়ায় থাকার পরিবর্তে উপযুক্ত বিরোধগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি হলে বিচারপ্রার্থীর সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়। একই সঙ্গে আদালতের মামলাজট কমাতেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

জনবল ও অবকাঠামো সংকটেও চলছে কার্যক্রম: সাফল্যের পাশাপাশি সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে রয়েছে জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট। অফিসের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে স্টাফ সংখ্যা ৬ জন, অথচ আরও জনবল প্রয়োজন।

প্রয়োজনীয় জনবলের তালিকায় রয়েছেÑ স্টেনো টাইপিস্ট কাম-কম্পিউটার অপারেটরÑ৩ জন, বেঞ্চ সহকারীÑ২ জন, হিসাব রক্ষকÑ১ জন, প্রসেস সার্ভারÑ২ জন, অফিস সহায়কÑ৩ জন। অর্থাৎ মোট ১১টি পদে জনবল প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া অফিসের কম্পিউটার সংকটও রয়েছে। প্রয়োজন ৩টি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও প্রিন্টারসহ। একই সঙ্গে মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন ২ জন স্পেশাল মিডিয়েটর।

নিজস্ব ভবনের জন্য জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ: জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের নিজস্ব ভবন না থাকাও একটি বড় সমস্যা। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন ভবন নির্মাণের স্থান সংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ কর্তৃক প্রেরিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তবে নিজস্ব ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের প্রথম তলায় লিগ্যাল এইড অফিসের জন্য জায়গা বরাদ্দ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তিতে নতুন সম্ভাবনা: সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সামগ্রিক পরিসংখ্যান বলছে, আইনগত সহায়তা এখন শুধু দরিদ্র মানুষের মামলা পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আইনগত পরামর্শ, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি এবং মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলা হওয়ার আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে লিগ্যাল এইড অফিস ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে ২০২৬ সালে ফৌজদারি, পারিবারিক ও দেওয়ানি মামলায় মামলা দায়েরের হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি মধ্যস্থতার মাধ্যমে শত শত বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় সাতক্ষীরায় ‘মামলা নয়, সমঝোতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের কার্যক্রম নতুন মাত্রা পেয়েছে।

Ads small one

কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান হাফিজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান হাফিজ

সংবাদদাতা: যশোরের কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন চৌকস ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান হাফিজ।

এর আগে তিনি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানা, শ্যামনগর থানা ও কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনকালে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে তিনি পরিচিত।

তালায় সরকারি কর্মকর্তা ও তৃণমূল নারীদের সম্মেলন : উঠে এলো বৈষম্য ও সম্ভাবনার চিত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
তালায় সরকারি কর্মকর্তা ও তৃণমূল নারীদের সম্মেলন : উঠে এলো বৈষম্য ও সম্ভাবনার চিত্র

তালা প্রতিনিধি: প্রান্তিক দলিত নারীদের উন্নয়নের মূল স্্েরাতে সম্পৃক্ত করতে এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরার তালায় এক ব্যতিক্রমী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃণমূল সংগঠনের সদস্যদের মুখোমুখি হয়েছেন সরকারের ১১টি দপ্তরের কর্মকর্তারা। শুনেছেন তাদের দুঃখ-দুর্দশা, বঞ্চনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে তালা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে এ সম্মেলনের আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ভূমিজ ফাউন্ডেশন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং ‘সমতার জন্য লড়ি (সজল)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তৃণমূল নারী নেত্রী সরস্বতী দাস। সঞ্চালনা করেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অচিন্ত্য সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মাসুম বিল্লাহ, কৃষি অফিসার হাজিরা খাতুন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাব্বির হোসেন, সিনিয়র মৎস্য অফিসার তারিক ইমাম, সমাজসেবা অফিসার আরিফুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার, আইসিটি অফিসার মোতাহার হোসেন, যুব উন্নয়ন অফিসার আশুতোষ কুমার বিশ্বাস এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাষ কুমার দাস। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহীদুল ইসলাম।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম, উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল নাহার আশা, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ার্দার, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল দলিত নারীদের কণ্ঠস্বর। সোমা সরকার, ঋতু সরকার, টুম্পা বিশ্বাসের মতো নেত্রীরা জানান, এখনও সমাজে তাদের জাতপাতের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। সরকারি ভাতা, ভিজিডি কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা কৃষি প্রণোদনা পেতে গিয়ে তারা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। অনেক সময় তথ্য না জানার কারণে তারা সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

তবে হতাশার পাশাপাশি সম্ভাবনার গল্পও উঠে আসে। সজল প্রকল্পের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার পর তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন। নিজেরা সঞ্চয় করছেন, হাঁস-মুরগি পালন ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

প্রধান অতিথি ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বিশ্বাস করে। কোনো নাগরিক যাতে সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রশাসন কাজ করছে। তিনি উপস্থিত সকল কর্মকর্তাকে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে একদিনে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

 

সোমবার বিকালে শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।

 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ আদেশ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ আসামিদের আদালতে নিয়ে আসে। তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

 

পাঁচ কারণ দেখিয়ে তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—

 

> মরিয়ম গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যাওয়ার সময় আসামিরা বাসায় ছিল। আত্মহত্যায় তাদের প্ররোচনা আছে কি না;

> তারা ভুক্তভোগীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উস্কানি, মানসিক চাপ, ভয়-ভীতিপ্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় ধাবিত করেছেন কি না;

 

> পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার অবস্থান শনাক্তসহ গ্রেপ্তার;

 

> অচেনা আসামি জড়িত আছে কি না তা শনাক্তসহ গ্রেপ্তার;

 

>মামলার মূল রহস্য উদঘাটন।

 

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।

 

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে।

 

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

 

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

 

এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে এদিন দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়।

 

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

 

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।