সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার আ.লীগ নেতা নজরুল ইসলামকে পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার আ.লীগ নেতা নজরুল ইসলামকে পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলামকে পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একইসাথে তার চারটি মামলায় জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস ম-লের আদালতে এ গ্রেপ্তার দেখানো ও জামিন শুনানীর কার্যক্রম চলে।

মোঃ নজরুল ইসলাম(৭৩) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উত্তর ফিংড়ি গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে ও সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সর্বশেষ চেয়ারম্যান ছিলেন। আদালত চত্বরে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তার ওপেন হার্ট সার্জারী করানো হয় এবং তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সাতক্ষীরা আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই নজরুল ইসলামকে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে ঢাকার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন আদালতে পাঠায়। পরবর্তীতে তাকে সাতক্ষীরা থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের জন্য সাতক্ষীরায় আনা হয়।

 

এসব মামলার মধ্যে তাকে ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুরাতন সাতক্ষীরার আবির হাসানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর শ্যামনগরের মালঞ্চ নদীর চরে ফেলে রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলা, ২০২০ সালের ২৬ মার্চ ধুলিহরের অহিদ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলা, ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর গভীর রাতে সাতক্ষীরার আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আনারুল ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে শিকড়ি কুলবাগানে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলা, ২০১৪ সালের ১৩ জুন গভীর রাতে সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ইসলাম মোড়লকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাধবকাটিতে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলা এবং ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল চলাকালিন ঝাউডাঙা বাজারে গোবিন্দকাটি গ্রামের ভ্যানচালক হাফিজুর রহমানকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী আদালতের মাধ্যমে থানায় দায়েরকৃত পাঁচটি হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য গত বুধবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে সংশ্লিষ্ঠ মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তারা আবেদন জানান।

 

সে অনুযায়ি গত বৃহষ্পতিবার ঢাকার কারাগার থেকে তাকে সাতক্ষীরা কারাগারে আনা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে সাতক্ষীরা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

 

দুপুর ১২টার দিকে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হলে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস ম-ল তাকে পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেন। একইসাথে তার আইনজীবীরা আদালতে চারটি মামলায় জামিন আবেদন জানালে শুনানী শেষে সব কটি মামলায় জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের পুলিশ উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম।
আসামীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাড. সাহেদসহ ২৫/৩০ জন।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনউদ্দিন জানান, আসামী মোঃ নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন না’মঞ্জুর হওয়ার পর সোমবার দুপুর একটার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

Ads small one

শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা: রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০ টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের মৃত নূর আহম্মদ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল মোমিন সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলেন- তার নিলাম খরিদা ভূমি ছোট ভাই আব্দুল মালেক ও তার সহযোগী বড় ভগ্নিপতি মোঃ আমজাদ হোসেন ও সেজো ভাইয়ের স্ত্রী শাকিলা বেগম এর বক্তব্য দিয়ে আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আমার বৃদ্ধা মাকে ভুল বুঝিয়া এক মিথ্যা বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে কিছু না শুনে- না জেনে তার ও তার স্ত্রীর সম্মান হেয় করায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।

একই দিন দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দিলিপ কুমার রায়। তিনি শ্যামনগর উপজেলা মিঠাচন্ডিপুর গ্রামের মৃত কাত্তিক চন্দ্র রায়ের ছেলে। দিলিপ কুমার তার লিখিত বক্তব্যে দাবী করেন, হরিনগর এলাকার দিলিপ মল্লিকের কন্যা চম্পা রানী তার স্ত্রী ছিলেন।

 

উক্ত চম্পা রানীর বিরুদ্ধে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ করে বলেন, জনৈক আব্দুল মান্নানকে দিয়ে তার ভিটা বাড়ি লিখে নেওয়ার জন্য হুমকি ও মারপিট করেন। এই ঘনটায় তিনি শ্যামনগর থানায় ১৫৮২ নং জিডি করেন।

 

এই ঘটনায় চম্পা রানী নিজেকে আহত দেখিয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদলতে মামলা করেন। দিলীপ দাবী করেন বর্তমান তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এব্যাপারে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

সাতক্ষীরায় ঋশিল্পীতে শিক্ষা সহায়তাপ্রাপ্ত শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ঋশিল্পীতে শিক্ষা সহায়তাপ্রাপ্ত শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ

সোমবার ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনালে শিক্ষা সহায়তা প্রকল্পের আয়োজনে ঋশিল্পী প্রশিক্ষণ কক্ষে এ পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব অর্ণব দত্ত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ত করেন ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট মনিকা তোজি। উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যানোদের মাঝে উস্থিত ছিলেন ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ খালেদ, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সেলিমুল ইসলাম, প্রোগ্রাম ম্যানেজার সনোজ কুমার বসু এবং ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনালের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ঋশিল্পীর বিদেশী অতিথি মারিয়া, জান মার্কো, সোলে ও এলিস তাঁদের অনুভূতি ও শুভেচ্ছা বক্তব্যে শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব অর্ণব দত্ত শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও সামগ্রিক বিকাশে সহযোগিতামূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট মনিকা তোজি সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। পরে শিক্ষা সহায়তাপ্রাপ্ত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৪০ জন শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

 

 

 

 

 

 

আশাশুনিতে নিখোঁজের ৩৮ ঘন্টা পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি কালাম সরদারের কাদামাখা লাশ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে নিখোঁজের ৩৮ ঘন্টা পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি কালাম সরদারের কাদামাখা লাশ উদ্ধার

পত্রদূত রিপোর্ট: নিখোঁজের ৩৮ ঘণ্টা পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি কালাম সরদারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্ল্যা ইউনিয়নের আগরদাঁড়ি গ্রামের নিজ বড় ভাই নূর ইসলামের বাড়ির পিছন থেকে পুলিশ তার কাদামাখা লাশ উদ্ধার করে।

মৃত কালাম সরদার (৬০) আশাশুনি উপজেলার আগরদাঁড়ি গ্রামের রহিম সরদারের ছেলে।
আশাশুনি উপজেলার আগরদাঁড়ি গ্রামের গোলাম কিবরিয়া গোল্ডেন জানান, তার বাবা কালাম সরদার গ্রামে গ্রামে ফল কিনে বাজারে বিক্রি করতেন। দাদা মৃত আব্দুর রহিমের কাছ থেকে আট শতক জমি কিনে নিয়েছেন মর্মে একটি ভুয়া দলিল দেখিয়ে চাচা নূর ইসলাম আট শতক জমি দাবি করে আসছিলেন।

 

ওই জমি পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে তার বাবা নামপত্তন করে নেন। জমির হাল রেকর্ড ও তার বাবার নামে। একপর্যায়ে বড় চাচা নূর ইসলাম ওই জমি তার দাবি করে ২০২৪ সালে আশাশুনি সহকারি জজ আদালতে মামলা করে। মামলার পর থেকে দখল করার চেষ্টা করলে বড় চাচার সাথে তাদের বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

গোলাম কিবরিয়া গোল্ডেন আরো জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাশর্^বর্তী মোড়ে চা খাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। রাতে বাড়ি না ফেরায় সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন তারা।

 

একপর্যায়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আঙুর হোসেনের পরামর্শে সোমবার সকাল ১০টার দিকে থানায় সাধারণ ডায়েরী করার সিন্ধান্ত নেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশি চাচা গিয়াউদ্দিনের স্ত্রী সালেহা খাতুন বড় চাচা নূর ইসলামের বাড়ির পিছনে বাবার কাদামাখা লাশ দেখতে পেয়ে তাকে খবর দেন। তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিক আশাশুনি থানাকে অবহিত করলে দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। বাবার ঘাড়ে ও মাজায় চামড়া ছোলা রয়েছে।

 

তিনি আশঙ্কা করছেন জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।
কুল্ল্যা ইউনিয়নের সাত নং ওয়ার্ডের সদস্য আঙুর হোসেন জানান, দেবহাটা সার্কেল অফিসারসহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ খান জানান, কালাম সরদারের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না।