বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরা জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ

oplus_0

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ।

সভায় সুন্দরবনে জলদস্যুদের তৎপরতা বন্ধ, চাঁদাবাজি বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকসহ সকল ধরনের অবক্ষয় থেকে রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া, যানজট সমস্যা সমাধান, চিংড়িতে জেলি পুশ রোধ, ট্রাক স্টান্ড স্থাপন, মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও কুরবানীর হাট স্থাপনসহ আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাসার, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম, সাতক্ষীরা পৌরসভার সিইও মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাসেম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত, সেনাবাহিনী সাতক্ষীরা ক্যাম্পের সিনিয়র ওরেন্ট অফিসার মো. তোফাজ্জেল হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন, বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মো. ওমর ফারুক প্রমুখ।

 

এছাড়াও সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতার রুপরেখা এবং বর্তমান বাস্তবতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতার রুপরেখা এবং বর্তমান বাস্তবতা

মুহাদ্দিস ওবায়দুল্লাহ

ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতার রুপরেখা এবং ধর্মনিষ্ঠার ব্যাপারে মুহাম্মদ (সা.) দর্শন: আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনে অত্যন্ত দ্ব্যার্থহীন ও স্পষ্ট ভাষায় সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেকটি সামাজিক ব্যধির নিরোসনকল্পে চমকপ্রদ ও ত্রুটিহীন বিধি-বিধান আরোপ করেছেন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই বিধানকে বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। যিনি হলেন বিশ্বশান্তির অগ্রদূত ও মডেল এবং সমগ্র মানবতার জন্য উসুওয়াতুন হাসানা তথা সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মডেল।

 

একই সাথে তিনি হলেন সমগ্র মানবজগতের একমাত্র নেতা ও পথপ্রদর্শক। বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে তিনি ঘোষণা করেছিলেন-“আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা এই দুটি জিনিস আঁকড়িয়ে ধরতে পারো তাহলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। আর সেদুটি হলো আল কুরআন ও রাসুলের সুন্নাহ।” সুত্র: মুওয়াত্তা ইবনে মালেক, মিশকাত শরীফ: হা. নং-১৮৬। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি মুমিনের মুল অস্তিত্ব ও জীবন চলার পাথেয় হলো এই গ্রন্থদুটি। যা প্রতিটি মুমিন হৃদয় তাঁর অন্তরে ধারণ করে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে মানসপটে বদ্ধমূল করেছে। যখন থেকে মুসলিম জাঁতি তাঁদের পথ চলার এই পাথেয় দুটির হুকুমাতকে ভুলে তদস্থলে বিপরীত পন্থাকে বিধান ও শাসন ব্যবস্থার পাথেয় নির্ধারণ করেছে।

 

ঠিক সেই দিন থেকে মুসলিম সমাজে শান্তির পরিবর্তে নেমে এসেছে অন্ধকারের ঘোর তমসা। বর্তমান সময়ে যিনা-ব্যভিচার যে ঘাতক মহাব্যধিতে রুপ নিয়েছে সেটি প্রকাশ করার মতো ভাবভাষা আমার জানা নেই। গত কয়েকদিন আগে মাগুরায় আট বছর বয়সী একজন শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আল কুরআনে এদেরকে চতুষ্পদী জন্তু জানোয়ারের চেয়ে নিকৃষ্ট বলা হয়েছে। অতীতেও এমন ঘটনার দৃষ্টান্ত আছে। ওরা বর্বর, ওরা পশু; ওদের ছোবল থেকে মুক্তি পাই না, চার বছরের শিশু। শান্তিপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ সমাজ ব্যবস্থাকে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে খানখান করছে মানুষ রুপী এই পশুরা।

 

ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতা এই দুটিই সামাজিক শান্তি শৃংখলা প্রতিষ্ঠার জন্য বড় প্রতিবন্ধক এবং এই দুই শ্রেণীর দ্বারাই যিনা ব্যভিচার থেকে শুরু করে যাবতীয় সামাজিক অন্যায় ও সন্ত্রাসবাদের বাদের জন্ম। ইসলামের সুশীতল ছাঁয়াতলে এই দুই শ্রেণীর ভন্ড চরিত্রের কোনো আশ্রয় নেই। বিশেষ করে ইসলাম ধর্মে জ্ঞানহীন কিছু মূর্খ ও ভন্ড পন্ডিত ব্যক্তিবর্গ ধর্মান্ধের মাপকাটি নির্ধারণ করেছেন ঠিক এভাবে-“ইসলাম ধর্মের প্রত্যেকটি বিধানের প্রতি যারা গভীর শ্রদ্ধাশীল এবং ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় জীবনে তাঁর প্রত্যেকটি হুকুম আহকামকে অনুকরণ ও অনুসরণ করে মানবতার একমাত্র রাহমাত ও কল্যাণকামী বন্ধু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

 

বিপরীত মেরু থেকে মূর্খ পন্ডিতরা এই শ্রেণীর ধর্মপ্রাণ মুসলিমদেরকে ধর্মান্ধ বলে আখ্যায়িত করে।” সুতরাং যারা প্রকৃত ধার্মিক তাঁদেরকে ধমান্ধ বলে এই শ্রেণীর বৃদ্ধিজীবীরা সামাজ ব্যবস্থার শান্তিকে বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত ও লন্ডভন্ড করেছে। কুরআন সুন্নাহ ও ভাষা তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এখন ধর্মান্ধের সংজ্ঞা নিরুপণ করবো। ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা তথা ধর্মনিষ্ঠা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার যা বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেল ৪১ এ স্পষ্ট উল্লেখ আছে। অতএব ধর্মের প্রতি আন্তরিক অনুরাগ এবং সাধ্যানুসারে ধর্মের পথ অনুসরণকারীদেরকে ধর্মান্ধ বলাও সংবিধানের খেলাপ। বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধানের ৬৯৪ পৃষ্ঠায় ধর্মান্ধের দুটি অর্থ লেখা হয়েছে।

 

যথা-এক. কোনো ধর্মীয় মতবাদের অন্ধ অনুসারী; গোঁড়া। দুই. পরধর্ম-বিদ্বেষী অর্থাৎ অন্যধর্মের প্রতি অসহিষ্ণুতা, উগ্রতা প্রকাশ করা। এখানে দ্বিতীয় অর্থটির উপর ভিত্তি করে প্রথমটি গ্রহণ করার মধ্যে যথেষ্ঠ যৌক্তিকতা রয়েছে। যেমন: একজন মুসলিম মাসজিদে ইবাদত করবে, একজন খ্রিস্টান গির্জায় ও একজন হিন্দু মন্দিরে উপসানা ও পূজা-অর্চনা করবে। যখন এই তিনজন ব্যক্তি একে অন্যের ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতার পরিবর্তে চরমপন্থী হয়ে অসহিষ্ণুতার ভাব প্রকাশ করবে তখন তাকে আমরা বলি ধর্মান্ধ যা বাংলা একাডেমি কর্তৃক রচিত আধুনিক বাংলা অভিধানের সাথে অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ।

 

আর আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা যে, পৃথিবীর বুকে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির এক উদার দৃষ্টান্তের নাম হলো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। সুতরাং যে ব্যক্তি আপন ধর্মের বিধি-বিধানের প্রতি আন্তরিক অনুরাগী ও সাধ্যানুসারে ধর্মের পথের অনুসারী এবং একই সাথে ভিন্নধর্মের প্রতি পরম সহিষ্ণু ও গভীর শ্রদ্ধাশীল তাঁকে ধর্মান্ধ বলা চরম মূর্খতার পরিচয়। একই সাথে আমাদের সংবিধানের প্রতি অসম্মানবোধ ও উগ্রতা প্রদর্শন করার শামিল যা অবশ্যই দন্ডনীয় অপরাধ। অন্ধের বিপরীত শব্দ হলো চক্ষুষ্মান। যে ব্যক্তি চক্ষুষ্মান থাকা সত্ত্বেও ধর্মের বিধিবিধানের প্রতি আত্ম-পূজারী ও অন্তরান্ধ হয়ে বিতৃষ্ণা, বিরাগ সৃষ্টি করে এবং গোঁড়ামিতা, উগ্রতা প্রদর্শন করে একই সাথে যারা আপন আপন ধর্মের প্রতি অনুরাগী এবং পরধর্মে সহিষ্ণুপ্রিয় তাদের প্রতি অসম্মানবোধ সৃষ্টি করে সে ব্যক্তিই প্রকৃত ধর্মান্ধ ও আত্ম-পূজারী।

 

এই শ্রেণীর ব্যক্তিদের ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতার কারণে ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তিদ্বয়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম খতের সৃষ্টি হয়। আর তাদের এই মূর্খতার কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার সামাজিক ইউনিটের প্রত্যেকটি জনপদে অশান্তির দাবানল জ্বলছে। ধর্মান্ধদের সম্পর্কে কাজী নজরুল ইসলাম যথার্থই বলেছেন-ধর্মান্ধরা শোনো! অন্যের পাপ গনিবার আগে নিজেদের পাপ গোনো। সুত্র: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, পৃষ্ঠা নং: ৬৯৪। ধর্মহীনতার নামে ধমান্ধতা প্রকাশ করা হলো এক চরম মূর্খতাসূলভ আচরণ যা কখনো কাম্য নয়।

 

ধর্মহীনতা বনাম ধর্মনিষ্ঠার ইসলামিক রুপরেখা: মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাক্কী জীবনে যতগুলো সুরাহ অবতীর্ণ হয়েছে তন্মধ্যে সুরাহ কাফিরুনের মধ্যে শিরকের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের সাথে সাথে তাওহীদের ভিত্তিমুলকে হৃদয়পটে ধারণ করে ইবাদত, গোলামী ও দাসত্বকে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। বিখ্যাত ইসলামী সিরাত গ্রন্থকার আল্লামা ইবনে ইসহাক (রহ.), ইবনে জারীর (রহ.), ত্ববারানী (রহ.) একযোগে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন-“কুরাইশ কাফেরগণ একদা রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গিয়ে বললো, হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি যদি চান যে, আপনার সম্পাদের প্রয়োজন আছে, তবে আমরা আপনাকে মক্কার সর্ববৃহৎ ধনী বানিয়ে দিবো। আর বিবাহ করতে চাইলেও আমাদের আরবের সর্বোচ্ছ সুন্দরী রুপসী ও গুণবতী মহিলাটি আপনাকে বিবাহ করিয়ে দিবো।

 

তথাপিও আপনি আমাদের মাবুদ’সমুহকে আর গালি দিবেন না। আর যদি একথায় একমত না হন, তবে আপনি আমাদের খোদাগুলোকে এক বছর পূজা করবেন, পরে আমরাও আপনার প্রভুকে একবছর পূজা করবো। অতঃপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, একটু অপেক্ষা করো, দেখি আমার প্রভু তাতে কি বলেন। অতঃপর এই প্রেক্ষাপটে আল্লাহ সুরাহ আল কাফিরুন নাজিল করেন।” সুত্র: তাফসিরে জালালাইন (আরবী-বাংলা),মাকতাবাতুল ইসলাম, পৃষ্টা নং: ৭/৫৯৬, তাফসিরে ইবনে কাসির(আরবী), পৃষ্ঠা নং: ৪/৬৯৫।

 

ধর্মনিষ্ঠার চমৎকার পরিচয় সুরাহ কাফিরুনের মধ্যে স্পষ্ট চিত্রায়িত হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে-“(১) হে নাবী! তুমি বলে দাও, হে কাফেররা। (২) আমি তাদের ইবাদত করি না যাদের ইবাদত তোমরা করো। (৩) না তোমরা (তাঁর)ইবাদত করো,যার ইবাদত আমি করি। (৪) এবং আমি কখনোই তাদের ইবাদত করবো না,যাদের তোমরা ইবাদত করো। (৫) না তোমরা (তাঁর)ইবাদত করো,যার ইবাদত আমি করি। (৬) অতএব, তোমাদের দ্বীন তোমাদের জন্যে আর আমার দ্বীন (ইসলাম) আমার জন্যে।” সুত্র: সুরাহ কাফিরুন, আয়াত: ১-৬। একই প্রসঙ্গে সুরাহ বাকারার ২৫৬ নং আয়াতে উদ্ধৃত হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে-“(আল্লাহর) দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জোর জবরদস্তি নেই, (কারণ) সত্য (দ্বীন ইসলাম) মানবরচিত মন্দ ধর্ম থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

 

এরপর কোনো ব্যক্তি যদি বাতিল মতাদর্শকে অস্বীকার করে,আল্লাহর দেওয়া জীবন আদর্শের উপর ঈমান আনে, সে যেনো এর মাধ্যমে এমন এক মজবুত রশি ধরলো, যা কোনো দিন ছিঁড়ে যাবার নয়। আল্লাহ সবকিছু শোনেন এবং জানেন।” ইসলামের সর্বশেষ বার্তাবাহক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল কুরআনের অমীয় বাণী ও মানবমুক্তির গাইড লাইন দেওয়ার জন্য আরব উপদ্বীপে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আগমন করেছিলেন। আল কুরআন নাজিল হওয়ার সাথে সাথে আহলে কিতাব ধারী তথা ইহুদি ও নাসারাদেরকেও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত দ্বীন ইসলামকে কবুল করার দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।

 

কিয়ামতের ভয়ঙ্কর মুসিবাতের দিনে ইসলাম ছাড়া অন্যকোনো দ্বীন আল্লাহ গ্রহণ করবেন না। আর এ বিষয়ে সুরাহ ইমরানে আল্লাহ তায়ালা দ্বার্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন- “যদি কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো জীবন বিধান অনুসন্ধান করে তবে তার কাছ থেকে সে (নবউদ্ভাবিত জীবনপ্রথা) কখনো দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালের দিবসে সে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।” সুত্র: প্রাগুক্ত, আয়াত নং: ৮৫।

 

উপরে বর্ণিত সুরাহ কাফিরুনে আমরা দেখেছি শত প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম নামক কল্যাণমুখী জীবন ব্যবস্থার কর্মনীতি থেকে একচুল পরিমাণ নড়চড় করেননি বরং তিনি কাফেরদেরকে বলেছিলেন আমি আমার আমার দ্বীনের বিধানের উপর সুদৃঢ় ও অটল এবং তোমরা তোমাদের দ্বীন নিয়ে থাক। লক্ষণীয় যে, ভিন্নধর্ম ও মতের প্রতি স্বয়ং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহনশীল থেকে ঘোষণা করেছেন দ্বীনের মধ্যে কোনো প্রকার জবরদস্তি নেই।

 

পরকালে ইসলাম ছাড়া অন্য দ্বীন আল্লাহ তায়ালা গ্রহণ করবেন না এটি আল্লাহ তায়ালা আপন ফয়সালার বিষয় কিন্তু একজন মুমিন-মুসলমান হিসাবে ভিন্নধর্মের নীতির প্রতি সহনশীল থাকতে হবে। ইসলামের দাওয়াত ভিন্নমতের মানুষের কাছে পৌছিয়ে দিতে হবে কিন্তু কাউকে জোর জবরদস্তি করার কোনো বিধান ইসলাম কাউকে দেয়নি। কেননা হেদায়াতের একচ্ছত্র ইখতিয়ার আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার হাতে আপন মহিমা ও কুদরাতে সংরক্ষিত। ধর্মনিষ্ঠার ব্যাপারে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারাটা জীবন ত্যাগ কুরবানীর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পৃথিবীবাসির কাছে রেখে গেছেন।

 

পরিশেষে বলবো যে, একজন মুসলিম হিসাবে সুগভীর আন্তরিকতা ও পরম অনুরাগ দিয়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পরিপূর্ণ আনুগত্যে করে ধর্মনিষ্ঠাকে ব্যক্তিজীবন থেকে জাতীয় জীবনের সকলস্তরে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কবি নজরুল যথার্থই বলেছেন- “ভয় নাহি, নাহি ভয়! মিথ্যা হইবে ক্ষয়! সত্য লভিবে জয়।” অন্তবাক্যে বলবো ধর্মহীনতা নয় বরং সত্যদ্বীন ও ধর্মনিষ্ঠাই হোক মানবতার একমাত্র চলার পথ ও পাথেয়, (আমিন)।

লেখক: ইসলামী গবেষক, প্রভাষক, আল হাদিস বিভাগ (কামিল), সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি প্রেসক্লাবের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি প্রেসক্লাবের

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সময়োপযোগী একটি বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে কথিত গণমাধ্যমকর্মীসহ একটি মহল।

ধর্মান্ধতার আড়ালে ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি পবিত্র ও মহান ধর্ম ইসলামও সমর্থন করেনা। বর্তমান তরুণ সমাজে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকান্ডের গুরুত্ব বোঝাতে জেলা প্রশাসকের এ বক্তব্য নিয়ে কোনভাবেই বিভ্রান্তি তৈরি করার সুযোগ নেই।

মুলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে এ ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরার স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল তৈরী করা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন গোলদার, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, দপ্তর সম্পাদক মাসুদুর জামান সুমন, সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, আবু তালেব, কাজী জামালউদ্দিন মামুন, আব্দুস সামাদ, আসাদুজ্জামান সরদারসহ সকল সদস্য। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করার অভিযোগে ওলামা মাশায়েখ পরিষদের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করার অভিযোগে ওলামা মাশায়েখ পরিষদের মানববন্ধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করে জেলা প্রশাসক বক্তব্য দিয়েছেন অভিযোগ এনে বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় শহরের নিউমার্কেট মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলার উদ্যোগে সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য সাতক্ষীরার ধর্মপ্রাণ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং জেলার মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণœ করেছে।

 

অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা ওসমান গণী, মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, মাওলানা রুস্তম আলী তাওহিদী, মাওলানা শাহাদাত হোসেন, মাওলানা ফারুক হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণ করে আসছে।

 

এধরনের মন্তব্য জেলার জনগণের প্রতি অসম্মানজনক এবং অনভিপ্রেত। তারা অবিলম্বে উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদানের দাবি জানান। সমাবেশে আরও বলা হয়, কোনো সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান বক্তারা। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।