মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা সদরের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নের বাস্তবচিত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সদরের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নের বাস্তবচিত্র

সম্ভাবনা, সংকট ও ভবিষ্যৎ পথরেখা

শেখ সিদ্দিকুর রহমান

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আজ বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। একসময় কৃষিনির্ভর অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই জনপদ বর্তমানে কৃষি, মৎস্য, আমদানি-রপ্তানি, ক্ষুদ্র শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, দুগ্ধ শিল্প এবং প্রবাসী আয়ের সমন্বয়ে এক নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো নির্মাণ করছে। বিশেষ করে ভোমরা স্থলবন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক কৃষির বিস্তার এবং তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তিমুখী আগ্রহ সাতক্ষীরা সদরের অর্থনীতিকে নতুন গতিশীলতা দিয়েছে।

সম্প্রতি পরিচালিত এক বিস্তৃত জরিপে সাতক্ষীরা সদরের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্প কাঠামো, দক্ষতা উন্নয়ন, যুবসমাজের বাস্তবতা এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা নিয়ে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা কেবল একটি উপজেলার অর্থনৈতিক চিত্র নয়; বরং সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনা ও সংকটেরও প্রতিফলন।

বর্তমানে সাতক্ষীরা সদরের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে প্রধানত চারটি বড় খাতে ভাগ করা যায়Ñ ১. ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি, ২. মৎস্য ও কৃষিভিত্তিক উৎপাদন, ৩. ফল চাষ ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প

সাতক্ষীরা সদরের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি বর্তমানে ভোমরা স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাণিজ্য ব্যবস্থা। ভারতের কলকাতার সাথে দূরত্ব তুলনামূলক কম হওয়ায় এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হচ্ছে।

পাথর, পেঁয়াজ, ফল, শিল্প কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য, রাসায়নিক দ্রব্যসহ নানা ধরনের পণ্য প্রতিনিয়ত এই বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। এর ফলে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসা, কাস্টমস ক্লিয়ারিং, ট্রাক পরিবহন, গুদামজাতকরণ, শ্রমিক কার্যক্রম এবং লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনায় বিশাল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু সরাসরি ব্যবসায়ী নয়, বন্দরকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার শ্রমিক, পরিবহন কর্মী, হোটেল ব্যবসায়ী, দোকানদার, হিসাবরক্ষক, দালাল, সহকারী এবং অস্থায়ী শ্রমজীবী মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ভোমরা স্থলবন্দর এখন কেবল একটি সীমান্তবন্দর নয়; এটি সাতক্ষীরা সদরের অর্থনীতির স্পন্দিত হৃদপি-।
সাতক্ষীরা সদর এখনও একটি কৃষি সমৃদ্ধ অঞ্চল। তবে কৃষির ধরন এখন অনেকটাই বদলে গেছে। আগে যেখানে শুধুই ধান চাষ ছিল মূল ভরসা, এখন সেখানে বাণিজ্যিক কৃষি, ফল চাষ এবং উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে।

লবণাক্ততা সহনশীল বোরো ও আমন ধানের চাষ এখানে ব্যাপকভাবে হয়। পাশাপাশি শীতকালীন সবজি, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও বারোমাসি সবজি উৎপাদনে এখানকার কৃষকরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, সাতক্ষীরা সদর দেশের অন্যতম উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

সাতক্ষীরার আম এখন দেশের গ-ি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও সুনাম অর্জন করেছে। বাংলাদেশ থেকে প্রথম যে আম ইউরোপে রপ্তানি হয়েছিল, তার অন্যতম উৎস ছিল সাতক্ষীরা। ল্যাংড়া, হিমসাগর, আম্রপালি, ফজলি ও গোপালভোগ আম এখন স্থানীয় অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি। বর্তমানে শুধু আম উৎপাদন নয়, আম প্যাকেজিং, গ্রেডিং, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং রপ্তানিভিত্তিক বিপণন ব্যবস্থার সাথে হাজারো মানুষ জড়িত। আম মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে এক ধরনের উৎসবমুখর কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

 

বাগান পরিচর্যা, ফল পাড়া, ঝুড়ি তৈরি, গাড়ি পরিবহন, বাজারজাতকরণ—সব মিলিয়ে এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক শৃঙ্খল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরিষা চাষের পাশাপাশি কাঠের বাক্স বসিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহের প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অনেক তরুণ এখন আধুনিক মৌচাষে যুক্ত হচ্ছেন। সরিষা ফুলের মধু দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। এটি একদিকে কৃষকের অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করছে।

সাতক্ষীরা বলতেই একসময় যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হতো, তা হলো চিংড়ি শিল্প। “হোয়াইট গোল্ড” নামে পরিচিত এই খাত এখনও গুরুত্বপূর্ণ হলেও গত কয়েক বছরে এর অবস্থা কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষ এখনও বহু মানুষের জীবিকার উৎস। সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ছোট-বড় অসংখ্য ঘের রয়েছে। এছাড়া মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, ডিপো, বরফকল এবং পরিবহন ব্যবস্থার সাথে বিপুল জনগোষ্ঠী জড়িত। তবে গত কয়েক বছরে ভাইরাস আক্রমণ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, পানির গুণগত মানের অবনতি এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে অনেক চাষি লোকসানের মুখে পড়েছেন।

বিশেষ করে ভিয়েতনাম, ভারত ও ইকুয়েডরের তুলনামূলক কম দামের চিংড়ির সাথে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি পিছিয়ে পড়ছে। অনেক চাষি এখন চিংড়ির পরিবর্তে সাদা মাছ, কাঁকড়া অথবা ধান চাষের দিকে ঝুঁকছেন। গত পাঁচ বছরে সাতক্ষীরা সদরে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দুগ্ধ শিল্প।
বর্তমানে অসংখ্য আধুনিক ডেইরি খামার গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে।

 

দুধ উৎপাদন, সংগ্রহ, পরিবহন, গোখাদ্য তৈরি, ভেটেরিনারি সেবা এবং দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এই খাত বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণও এই খাতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরী স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাইস মিল, প্লাস্টিক পণ্য, হালকা প্রকৌশল, কাঠের কাজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কুটির শিল্পের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তারা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন।

 

ধান উৎপাদন বেশি হওয়ায় এখানে স্বয়ংক্রিয় রাইস মিল গড়ে উঠেছে। এছাড়া ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। বর্তমানে সাতক্ষীরা সদরের কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি তিনটিÑ কৃষি ও মৎস্য, বন্দর ও বাণিজ্য ও প্রবাসী আয়। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলভিত্তিক পরিবহন খাতে হাজারো যুবক কর্মরত। শহর সম্প্রসারণের ফলে রাজমিস্ত্রি, রডমিস্ত্রি, টাইলস মিস্ত্রি ও কাঠমিস্ত্রিদের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কাজ এখন সাতক্ষীরা সদরের তরুণদের নতুন স্বপ্ন। অনেক তরুণ ঘরে বসে গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল বিপণন, তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা এবং অনলাইনভিত্তিক কাজ করছেন।

এই খাত এখন “ডিজিটাল রেমিট্যান্স” হিসেবে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। জরিপ অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদরের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ যুবক-যুবতী বর্তমানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। এটি উদ্বেগজনক হলেও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করলে এই জনগোষ্ঠীকেই দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।
স্থানীয় নিয়োগকর্তারা প্রধানত চারটি দক্ষতা ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছেনÑ ১. তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতার অভাব, ২. যোগাযোগ ও ভাষাগত দুর্বলতা, ৩. কারিগরি জ্ঞানের ঘাটতি,

 

৪. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাব
বিশেষ করে আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনা, ডিজিটাল বিপণন, গ্রাহকসেবা এবং ইংরেজি যোগাযোগে দক্ষ কর্মীর সংকট প্রকট। বর্তমানে নারীদের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেÑ তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যবসা, বিউটি ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা, হস্তশিল্প ও কুটির শিল্প, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ ও স্বাস্থ্যসেবা।
ঘরে বসে আয় করা যায়—এমন পেশাগুলোর প্রতি নারীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। একসময় সুলতানপুর চামড়া বাজার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বড় কেন্দ্র ছিল। কিন্তু ট্যানারি স্থানান্তর, মূল্য সংকট ও বকেয়া অর্থের কারণে এই খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্লাস্টিক ও ধাতব পণ্যের আগ্রাসনে ঐতিহ্যবাহী মাটির শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে।

চীন থেকে আসা কমদামী কাপড় এবং বড় ব্র্যান্ডের বাজার দখলের ফলে স্থানীয় তাঁত ও হোসিয়ারি শিল্প টিকে থাকার সংগ্রাম করছে। সাতক্ষীরা উপকূলীয় জেলা হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও বন্যা এখানকার মানুষের নিত্য বাস্তবতা। এই পরিস্থিতিতে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কাজ, আধুনিক ডেইরি খামার এবং বন্দরভিত্তিক ব্যবসাকে তুলনামূলক দুর্যোগ সহনশীল খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ কর্মী তৈরির জন্য শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সম্ভাবনার সাতক্ষীরা, প্রস্তুতির এখনই সময়। সাতক্ষীরা সদর আজ পরিবর্তনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে কৃষি, মৎস্য, বন্দর ও ব্যবসা এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে; অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি, ডেইরি শিল্প, আধুনিক কৃষি ও তরুণ উদ্যোক্তারা তৈরি করছেন নতুন ভবিষ্যৎ। তবে এই সম্ভাবনাকে টেকসই রূপ দিতে হলে প্রয়োজনÑ আধুনিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ।

সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে সাতক্ষীরা সদর কেবল একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা হিসেবেই নয়, বরং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে।

লেখক: সাবেক ব্যাংকার

 

 

 

 

 

Ads small one

কোন বিপদের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
কোন বিপদের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের তিন মাস পরই দেশে এক ধরনের অস্থিরতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, সীমান্তে পুশ-ইন ও সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের সরকারবিরোধী ভূমিকা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব বিষয় সরকারকেও ভাবনায় ফেলেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ‘‘দেশের জন্য সামনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে’’— সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন মন্তব্যের পরই এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি আসলে কোনও বিপদের ইঙ্গিত দিলেন? আসলে ভেতরের খবর কী? সামনে কী হচ্ছে? এমন অসংখ্য প্রশ্ন সামনে আসছে।

জানতে চাইলে সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট আলতাফ পারভেজ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কোনদিক থেকে এমনটি বলেছেন জানি না। তবে দেশের সামগ্রিক অবস্থা কিছুটা জটিলই বলা যায়। অর্থনীতি ভালো নেই, ব্যাংকগুলোতে অস্থিরতা, আইএমএফ’র ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না, ইসলামী ব্যাংকের কর্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব। আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টিও সরকারকে চাপে ফেলেছে।

অপরদিকে একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের তৎপরতা নিয়েও এক ধরনের উদ্বিগ্নতা কাজ করছে প্রশাসনে। এসব বিষয় হয়তো প্রধানমন্ত্রীকে ভাবাচ্ছে। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার তাগিদ দিতে পারেন।’’

কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ১০০ দিনের মাথায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে ইতোমধ্যে নানা মূল্যায়ন করেছেন রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সামনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এমন শঙ্কাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘দেশের জন্য সামনে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। বিএনপির কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তাই কঠিন সময়ে হেসেখেলে চললে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক বড় ক্ষতি হবে।’’

গত ৩১ মে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি)-এ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থনীতিতে বড় ধরনের শঙ্কা

সামনে দেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তার আভাস সরকারের পক্ষ থেকেই বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকার-প্রধান থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই কৃচ্ছ্রসাধন করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসি না চালানো, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে মিতব্যয়িতা, বিপণিবিতান খোলা রাখার বিষয়ে সময়সীমা নির্ধারণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের কারণে সামনের আরও কঠিন সংকট মুহূর্তের শঙ্কার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশের ব্যাংকিং খাতও টালমাটাল। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনও অগ্রগতি নেই। জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সেখানে চলছে গ্রাহক-শেয়ার হোল্ডারদের আন্দোলন। এমনকি সংঘর্ষ-গুলির ঘটনাও ঘটেছে। সেই সংকটেরও সমাধান সহসা হবে কিনা বলা কঠিন। ২০২৫ সালের বেশিরভাগ সময় মূল্যস্ফীতি ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকলেও মার্চে তা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু এপ্রিলে আবার ৯ শতাংশের ওপরে উঠে যায়, ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও নির্দিষ্ট আয়ের জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হয়। এ নিয়েও শঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আইএমএফের ঋণ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে চরম আর্থিক সংকট সরকারকে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চ্যালেঞ্জ

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয় গত ২৭ মে। তবে এই সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।

সারা দেশে হত্যা, চাঁদাবাজি, গণপিটুনি, চুরি-ছিনতাই ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা খুব একটা কমেনি। এতে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা নতুন করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অপরাধবিরোধী অভিযান চালানো হলেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এখনও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। গত ১৯ মে মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনায় এ পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে আসছে। এর বাইরে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। মব কালচার বন্ধ হচ্ছে না। মাজারে হামলা অব্যাহত আছে।

সম্প্রতি মিরপুরে শাহ আলী মাজারে উগ্রবাদী হামলায় মারধরের শিকার হন ভক্ত অনুরাগীরা। কিন্তু প্রকৃত অভিযুক্তদের গ্রেফতার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।

যদিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ সংস্কার এবং বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নতুন চাপ

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার।

আলোচনা আছে, সেই সময়ে চুক্তির আয়োজন ও শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করা—এই পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বে ছিলেন ড. খলিলুর রহমান। গত ৪ মার্চ এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এই চুক্তিতে প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্মতি ছিল।’’

তিনি আরও জানান, ‘‘ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।’’ যদিও তা অস্বীকার করে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ওই চুক্তি নিয়ে তার দলের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেও এই সরকারের অবস্থানের ইঙ্গিত রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।

এই চুক্তি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের এমন অবস্থানের মধ্যেই সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে এই আইন বাতিলের দাবি উঠেছে।

এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি তাদের। বিশেষ করে সংসদে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধী দলের তেমন উচ্চবাচ্য না থাকা, স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাম দলগুলোও এ নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতকে দায়ী করে আসছে। তারা অবিলম্বে এ চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে তারা নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এ চুক্তির বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হবে।’’ ‘‘এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি প্রক্রিয়া।’’ তিনি এ চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

সংসদের বাইরে থাকা ধর্মীয় দলগুলোও এ চুক্তি নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। সব মিলিয়ে সামনে বিষয়টি নিয়েও উত্তপ্ত হতে পারে রাজনৈতিক ময়দান।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার পথে বাজার পরিস্থিতি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের মধ্যেও এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও সরকার এ নিয়ে বাজার মনিটরিংসহ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সম্প্রতি আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় এর প্রভাব বাজারের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ওজনে কারচুপি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। সিন্ডিকেট দমনে কোনও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেট যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ কতটুকু ফলপ্রসূ হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

দীর্ঘ মেয়াদে ভোগাতে পারে হাম

গত দুই মাসেরও বেশি সময়ে চলা হামে শিশুমৃত্যু অব্যাহত আছে। এটি পুরোপুরি কবে শেষ হবে এ নিয়ে কোনও সুখবর নেই। সরকার নানা পদক্ষেপের কথা জানালেও থামছে না শিশুমৃত্যুর মিছিল। সর্বশেষ গত ১ জুন আরও ৩ জনসহ এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৮৮ জন।

সম্প্রতি ইউনিসেফ জানিয়েছে, তারা বারবার অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে সম্ভাব্য টিকা সংকট এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। তবে সেই সতর্কবার্তাগুলো মূলত উপেক্ষিতই ছিল।

যদিও সরকার ইতোমধ্যে শিশুদের টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে শিশুমৃত্যু থামছে না। অনেকের ধারণা, হামের প্রাদুর্ভাব না থামাতে পারলে সরকারকে বড় ধরনের সংকটে পড়তে হতে পারে।

পুশ-ইন নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়লাভের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন সামীন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বিএসএফ-এর গুলিতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ ১ ‍জুন যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া খুলে ১০-১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। যদিও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে, এ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি

আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে চিন্তায় ফেলেছে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বড় ধরনের শোডাউন দিয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গত ১ জুন ঢাকার ধানমন্ডিতে দলটির প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। অনেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। আর পরদিন ২ জুন তার নিজ জেলা ভোলাতেও ঘটেছে এমন ঘটনা।

অপরদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতও সরকারকে চাপে রাখতে নানা কর্মসূচি দিচ্ছে। দুই শক্তিকে সরকার কোন কৌশলে মোকাবিলা করবে তা দেখার বিষয়।

কীভাবে দেখছেন রাজনীতিবিদরা?

জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। হত্যা, ধর্ষণ ও মব কালচার বন্ধ হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশেও নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে। জুনের মধ্যেই সরকার পড়তে পারে আর্থিক সংকটে।’’

তিনি বলেন, ‘‘অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে তথাকথিত বিরোধী দল জামায়াত যে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, সেটাও এক ধরনের অশনি সংকেত। এর বাইরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতাও সরকারকে এক ধরনের চিন্তায় ফেলেছে। তারাও হয়তো ফেরার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। আগামী দিনে এসব বিষয় মোকাবিলা করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এমনটি হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পেরেছেন সরকার-প্রধান।’’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘‘সরকার কোনও কিছুই সঠিকভাবে সামাল দিতে পারছে না। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আর ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। চাঁদাবাজি ও খুনোখুনির খবর সামনে আসছে। তাই সরকার-প্রধানের আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’’

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘‘একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তাছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন। আশা করি তার যোগ্য নেতৃত্বে কঠিন পরিস্থিতি থেকেও ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।’’

জুনে কমলো এলপিজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
জুনে কমলো এলপিজির দাম

জুনে কমেছে এলপিজির দাম। ১২ কেজি সিলিদাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাস লিটার প্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল ১২ কেজিতে ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার আগে এপ্রিল মাসে অর্থাৎ ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৭ টাকা করেছিল বিইআরসি। অর্থাৎ এপ্রিলে দুই দফায় ১২ কেজিতে ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়।

খলিলুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
খলিলুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে এক বার্তায় তাকে এই অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই অর্জন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বহুপাক্ষিক ও অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগাযোগ, সংলাপ ও সহযোগিতা গড়ে তুলবেন। আমরা এই নতুন দায়িত্বের জন্য তার সাফল্য কামনা করি।’’

প্রসঙ্গত, এর আগে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি এবং জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক।

তিনি জানান, মোট ভোট পড়েছে ১৯০টি। এর মধ্যে ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাইপ্রাসের বহুপাক্ষিকতা-বিষয়ক বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস কাকুরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট। অর্থাৎ ভোটের ব্যবধান ৮টি।