সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল: ৫ শয্যার ওয়ার্ডে ৪৫ রোগী, চারদিকে ময়লার স্তূপ
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পা ফেলার জায়গা নেই। ৫ শয্যার এই ছোট ওয়ার্ডটিতে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগীকে। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী নিয়ে একদিকে যেমন চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে বাড়ছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সদর হাসপাতালের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা মাত্র পাঁচটি। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে বারান্দা বা মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, একই জায়গায় বয়স্ক ও শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওয়ার্ডটির চারপাশ ময়লা-আবর্জনার স্তূপে ভরে আছে। রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো অসুস্থ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে।
এক রোগীর স্বজন বলেন, “ভেতরে তিল ধারণের জায়গা নেই। চারপাশে দুর্গন্ধ আর ময়লা। বাধ্য হয়েই এই পরিবেশের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। ছোট বাচ্চা আর বৃদ্ধদের একই জায়গায় রাখা হচ্ছে, এতে তো রোগ আরও ছড়াতে পারে।”
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং জনবল ও শয্যা সংকটে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নত করা এবং বেড সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই মানবিক সংকটে দ্রুত নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে সামনে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।









