সীমান্তে বাড়ছে পাচার: মাদকে ভাসছে সাতক্ষীরা
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলার সঙ্গে ভারতের ২৭২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে স্থল, নদী এবং সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, এসব সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত মাদক পাচার হয়ে আসছে। বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
জানা গেছে, সাতক্ষীরার ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অভিযানে জব্দ করা প্রায় ১০৪ কোটি টাকার মাদক সম্প্রতি ধ্বংস করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ অন্যান্য মাদক জব্দ করলেও কারবার বন্ধ হচ্ছে না। গ্রাম থেকে শহর—সর্বত্রই বাড়ছে এর প্রভাব।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলোর মাধ্যমেই মূলত এসব উপাদান আনা হয়। বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি এসব সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার কাউন্সিলর সাগর জানান, স্থানীয় পর্যায়ে মাদক প্রতিরোধে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭৪ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ৫১টি মামলা হয়েছে। মাদকের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নীতি অবলম্বন করা হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মাদকের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িয়ে পড়লে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাতক্ষীরা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ঝুঁকি বেশি, তবে মূল ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, সীমান্তে বিজিবির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তবে মাদকের স্থানীয় চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরবরাহ রোখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।









