শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

সুখের দিনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
সুখের দিনে

ফাহিম শাহরিয়ার রুমি
সুখের দিনে কেন এ হৃদয়
নিভৃতে কাঁদিতে চায়?
হাসির আড়ালে কার যেন বেদনা
নীরবে ভাসিয়া যায়।

রৌদ্রঝলমল প্রভাত-আকাশে
স্বর্ণরেখা খেলে যায়,
তবু মোর চিত্তে অকারণ ছায়া
নিভৃত ব্যথা বুনে যায়।

সবাই যখন গাহে আনন্দগান,
মিলন-সুরে মাতে প্রাণ,
আমি কেন শুনি বিরহের বীণা
অশ্রুর মৃদু তান?

ফুলে ভরা এ জীবনের বাগান,
গন্ধে ভরে চারিধার,
তবু কেন যেন মলিন হইয়া
ঝরে পড়ে অন্তর-হার।

হায়, সুখের মাঝে লুকায়ে থাকে
দুঃখের অচেনা রূপ,
মানব-হৃদয় তাই চিরদিন
বিরোধে গাঁথা এক সুরূপ।

Ads small one

ছায়ার ভেতর একজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
ছায়ার ভেতর একজন

ইউসুফ রেজা
দিনের শেষ আলোর রেখা কমে
আমার আঁধার ধুলো হয়ে নামে।
আমি ক্রমশ বাড়ির দিকে হাঁটি
যেন পৃথিবীর মানচিত্র থেকে
নিজেকে উদ্ধার করতে যাচ্ছি।
পিছনে তাকাই না কখনো
কিন্তু বুঝি আমাকে অনুসরণ করছে
একটি নীরব পদধ্বনি
আমার শ্বাসের সাথে হাঁটে।
তার পকেটে লুকানো আছে
একটি অদৃশ্য অস্ত্র
সম্ভবত ভয়,
সম্ভবত বিরুদ্ধ সময়,
সম্ভবত আমারই আরেকটি মুখ।
রাস্তার হলুদ বাতিগুলো
তামাটে জিজ্ঞাসা ছুঁড়ে দেয়,
আমি প্রতিটি মোড়ের পাশে
নিজেকে একটু একটু বাঁচাই।
আমি থামি সেও থামে
অন্ধকারের ভেতর বসে
হিসাব করে পা ফেলি
যে কোন মুহূর্তে
আমার হৃদয়ের দরজায়
শেষ নক করবে।
এইভাবে আমরা দুজন
একই শরীরের দুই যাত্রী,
একজন বাঁচতে চায়
আরেকজন
ধীরে ধীরে আমাকে হত্যা করতে চায়।
সন্ধ্যা বাড়ে।
রাস্তা ফুরাতে চায় না।
আমি হাঁটি—
আমার নিজের ছায়া নিয়ে
একান্তে ধাওয়া খেতে খেতে।

পালা বদলের সংস্কৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
পালা বদলের সংস্কৃতি

সুদয় কুমার মন্ডল
পালা বদলের সংস্কৃতি
ঝরা পাতার বেদনা বসন্ত বাতাসে
পত্রমোচী বৃক্ষ রাজি সুসজ্জিত পত্রপল্লবে
প্রস্ফুটিত ফুলে মধুকরীর বিচরণ সকাশে।

বিবর্তনের উৎসবে আর্তপীড় প্রাণবন্ত
নব যৌবনা প্রকৃতির অনিন্দ্য আলিঙ্গন
শিখরে রক্তিম আভা কৃষ্ণচূড়ায় শিমুল রক্ত
জবা আ¤্রমুকুলে জানায় সাদর সম্ভাষণ।

সুখ সমৃদ্ধির অমীয় ধারায় ধুয়ে সাজাও
হে রাজন!বিপন্ন কুলে সার্বজনীন আবাসন
অকুন্ঠ প্রকৃতির ঐশ্বর্য সম্ভার বিলিয়ে দাও
অকৃপণ হস্তে মহিমান্বিত অনুশাসন।

সকাল টা দিনের পরিচয় জ্ঞাপক
প্রকৃতির বিমুগ্ধ আভারণ
বিবর্তনের পথে বিভেদ বৈষম্য ভূলে হোক
মনুষ্যত্ব ও মানবতার পূর্ণ জাগরণ।

বসন্তের উদাত্ত আহ্বান নতুনত্বের শুভসূচনায়
তৃণদপি প্রান্তিককুল সঞ্জীবনী পানে উদ্ভাসিত
সংস্কৃতির বাতাবরণে প্রকৃতির সখ্যতা
জীবন সুরক্ষায় সুন্দরের শুদ্ধ সমীক্ষা।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকো—
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।

আমি যত দিই—
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙ্গুলের স্পর্শ
সবই যেন মাটির নীচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।

যেমন ঝড়ের পর একা পাতার উপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনই তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকে
যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।

আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।

তুমি ভালো থাকো
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।

সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।