সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুন্দরবন সুরক্ষা ও আমাদের দায়িত্ব/ ‎‎তারিক ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবন সুরক্ষা ও আমাদের দায়িত্ব/ ‎‎তারিক ইসলাম

‎‎তারিক ইসলাম
‎পৃথিবীর বুকে প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময় আমাদের সুন্দরবন। এর বিশাল ম্যানগ্রোভ বনভূমি কেবল আমাদের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবেই রক্ষা করে না, বরং এটি হাজারো প্রজাতির উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী এবং মৎস্যসম্পদের এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল। তবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত হস্তক্ষেপের কারণে এই ফুসফুস আজ সংকটের মুখে।

‎এই সংকট থেকে সুন্দরবনকে বাঁচাতে এবং এর জীববৈচিত্র্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে বন বিভাগ একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ০১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই তিন মাস বনের অভ্যন্তরে জেলে, বাওয়াল, মৌয়াল বা গোলপাতা সংগ্রহকারী—কারও প্রবেশাধিকার থাকবে না। একই সাথে বন্ধ থাকবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সমাগমও।

‎‎কেন এই নিষেধাজ্ঞা?
‎জুন থেকে আগস্ট-এই তিন মাস সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী এবং মৎস্যসম্পদের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এই সময়ে সুন্দরবনের নদী-খালে থাকা মাছ ডিম ছাড়ে এবং বনের বাঘ, হরিণ, পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী নির্বিঘেœ বংশবিস্তার করে।

‎বনের ভেতর মানুষের চলাচল, ট্রলারের ইঞ্জিনের বিকট শব্দ এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক বা বর্জ্য ফেলার কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘিœত হয়। মানুষের এই কোলাহলমুক্ত পরিবেশ পেলে বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণীরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা দেখায় যে, এই ধরনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ফলে সুন্দরবনের প্রকৃতি আবার নিজের মতো করে সেজে ওঠে এবং বনের প্রাণসম্পদ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

‎আমাদের দায়িত্ব ও করণীয়
‎সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবিকার উৎস এবং সমগ্র দেশের পরিবেশগত ভারসাম্যের প্রতীক। তাই একে রক্ষা করার দায়িত্ব শুধু বন বিভাগের একার নয়, এটি আমাদের সবার জাতীয় দায়িত্ব। এই নিষেধাজ্ঞা সফল করতে আমাদের কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:
‎আইন ও নিয়ম মেনে চলা: এই তিন মাস বনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় বাওয়াল, মৌয়াল ও জেলেরা যাতে কোনোভাবেই বনের ভেতর প্রবেশ না করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বনকে তার নিজস্ব গতিতে বাড়তে দেওয়া আমাদের সবার কর্তব্য।

‎বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা: নিষেধাজ্ঞার এই দীর্ঘ সময়ে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা থমকে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে যে খাদ্য সহায়তা বা ভিজিডি (ঠএউ) চাল দেওয়া হয়, তা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সুষম ও সময়মতো বণ্টন করা হয়, সেদিকে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
‎পর্যটকদের সচেতনতা: ভ্রমণপিপাসু মানুষ ও পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীদের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে হবে। সুন্দরবন ভালো থাকলে তবেই আমাদের পর্যটন শিল্প ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী হবে-এই বোধ জাগিয়ে তুলতে হবে।

‎অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে পাহারা: নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো অসাধু চক্র বা শিকারি দল যাতে সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশ করে হরিণ শিকার বা বিষ দিয়ে মাছ ধরতে না পারে, সেজন্য বন বিভাগের পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জনগণকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

‎সুন্দরবন আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে, এখন সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের।”
‎প্রকৃতির একটি নিজস্ব নিরাময় ক্ষমতা রয়েছে। তিন মাসের এই নীরবতা সুন্দরবনকে তার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং নিজেকে নতুন করে সাজাতে সাহায্য করবে। সাময়িক এই ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফিরে পাব এক সমৃদ্ধ, সবুজ ও প্রাণবন্ত সুন্দরবন। আসুন, বনের এই প্রজননকালকে সম্মান জানাই এবং সুন্দরবন সুরক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি।

‎তারিক ইসলাম: সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনেরর চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনেরর চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনেরর চেষ্টা। বিজিবি বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। ভারতীয় বিএসএফ বেশ কিছু বাংলাদেশিকে পুশব্যাকের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় কড়া নজর দারীতে রয়েছে বিজিবি।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক গোলম মোহাম্মদ সাইফুল আলস খান নিশ্চিত করে জানান, বেনাপোল সাদিপুর খড়েরমাঠ এলাকা  ২১/৬ নং পিলারের কাছ দিয় ভারতীয় বিএসএফ বেশকিছু নগরিককে পুশব্যাকের চেষ্টা করলে জিরো লাইন এলাকায় রুখে দিয়েছে বিজিবি।
স্থানীয়রা জানান সোমবার গভীর রাতে ৮/১০ জনের মত একদল নাগরিককে বাংলাদেশের দিকে টেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। প্রবেশে বাধা দেয় বিজিবি। রাত থেকে জিরো লাইনে অবস্থান করছেন তারা।
বিজিবি কর্পকর্তারা জানান, সকাল দশটার দিকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সুরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তা।

প্রাকৃতিক চাকের মধু বিক্রি করে মৌয়াল বারিকের জীবন জীবিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
প্রাকৃতিক চাকের মধু বিক্রি করে মৌয়াল বারিকের জীবন জীবিকা

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): পাইকগাছার মৌয়াল বারিক স্থানীয় গাছ ও বাসা-বাড়ি থেকে মৌমাছির চাক কেটে সরাসরি ক্রেতার সামনে মধু বিক্রি করেন। এটি খাঁটি মধু পাওয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপায়। প্রাকৃতিক মৌমাছির চাক থেকে মধু আহরণ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন মৌয়াল আব্দুল বারিক। এলাকায় তিনি মধু বারিক নামে পরিচিত।

 

সবাই খাটি ভালো মধু চায়। ভেজাল মুক্ত মধু পেতে ক্রেতার বিড়ম্বানার শেষ নেই। তাই ভেজাল মুক্ত খাটি মধু পেতে সবাই বারিকের উপর আস্থা রেখেছে। বারিক চাক কেটে বাগানে বসে ক্রেতাকে মধু দিচ্ছে। কেহ চাইলে চাক সহ মধু নিতে পারে। তাই খাটি মধু পেতে বারিকের উপর ভরসা।

 

খুলনা জেলার পাইকগাছার মটবাটি গ্রামে আব্দুল বারিকের বাড়ি। তিনি এলাকার বিভিন্ন গাছ বা বাসা বাড়িতে মৌমাছির চাক কেটে মধু সংগ্রহ করেন। সেই মধু বিক্রি করে যে অর্থ আয় করেন তাই দিয়েই চলে তার সংসার। মধু আহরণের পাশাপাশি সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করেন।

 

গ্রামের কোথাও মৌচাকের সন্ধান পেলেই মৌয়াল বারিককে ডাকা হয়। অত্যন্ত যত্নসহকারে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। বারিক মৌচাক থেকে কীভাবে মধু সংগ্রহ করেতে হয় তার কৌশল আয়ত্ত করেছেন । মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের পেশাদার মৌয়াল হয়ে ওঠেছেন তিনি। কয়েক বছর সুন্দরবনের মধু আহরণে মৌয়ালদের সাথে মধু আহরণ করেছেন। সুন্দরবনের পার্শবর্তি উপকূল এলাকায় বড় বা দাশ মৌমাছির চাক বেশী পাওয়া যায়।

 

মৌয়াল বারিক বলেন, আমি প্রায় ২০ -২৫ বছর যাবৎ মৌমাছির চাক থেকে মধু সংগ্রহ করি। মৌচাক কেটে মালিকদের অর্ধেক আমি অর্ধেক নিয়ে থাকি। মৌমাছির চাকের প্রতি কেজি মধু এক হাজার টাকা থেকে ১২শত টাকা দরে বিক্রি করি। চাক থেকে মধু সংগ্রহের আগে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। শুরুতে মৌয়াল বা মধু সংগ্রহকারীরা বেশ কিছু খড় জড়ো করে শুকনা কাচা পাতা পেচিয়ে মশালের মতন তৈরি করা হয়। একে কোনো কোনো এলাকায় বোলেন বা বুন্দা বলা হয়। এ মশাল জ্বালিয়ে ধোয়া তৈরি করে মূলত মৌমাছি তাড়ানো হয়। আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়া একেবারে কাছাকাছিতে নিয়ে গেলে মৌমাছিগুলো চাক ছেড়ে আশপাশে উড়তে থাকে। এ সময় চাকের কিছু অংশ রেখে মৌয়াল দা বা কাঁচি দিয়ে চাক কেটে বালতিতে রাখেন। এরপর সে চাক থেকে মধু হাত দিয়ে চিপে আলাদা করা হয়। চাক কাটা হয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর মৌমাছি আবার চাক বানাতে তৈরি শুরু করে ।

 

মৌয়াল বারিক আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামে-গ্রামে ঘুরে মধু সংগ্রহ করতে হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণ ও তাপমাত্রা বেশী হওয়ায় চাকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপে অনেক চাক নষ্ট হয়ে ছিড়ে পড়ছে। তাছাড়া এ বছর এই অঞ্চলে সে রকম বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টি না হওয়ায় ফুল শুকিয়ে ঝরে যায়, তাই মধু জমে কম। বর্তমানে পর্যাপ্ত মৌচাক না পাওয়ার কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফাল্গুন মাস থেকে আষাড় মাস পর্যন্ত চাকে মধু বেশী পাওয়া যায়। এসময় প্রায় সকল গাছে ফুল ফোটে। আর বাকী মাস গুলোতে চাকে তেমন মধু পাওয়া যায় না।

 

আব্দুল বারিক পাইকগাছা এলাকার একজন সুপরিচিত পেশাদার মৌচাক সংগ্রহকারী। তিনি এলাকার বিভিন্ন বাড়ি বা গাছের প্রাকৃতিক চাক থেকে সরাসরি মধু সংগ্রহ করেন। তিনি কোনো ভেজাল বা কৃত্রিম উপাদান ছাড়াই ক্রেতাদের সামনে সরাসরি চাক থেকে মধু চিপে বা কেটে বিক্রি করেন, যার ফলে মধু শতভাগ খাঁটি থাকে।

ঈদের ছুটি শেষে ভোমরা স্থলবন্দরে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
ঈদের ছুটি শেষে ভোমরা স্থলবন্দরে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম
ইব্রাহিম খলিল : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শেষে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে বন্দরের সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু হয়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল, পণ্য খালাস ও লোড-আনলোড কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে এ সময়ে ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি শেষে সোমবার সকাল থেকে বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ভোমরা সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছা বলেন, ঈদের ছুটি শেষে সোমবার সকাল থেকে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি গতিশীল হয়ে উঠবে।