রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

১০ গোলের মহাকাব্যিক থ্রিলার, ফ্রান্সকে ৪-৬ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল ইংল্যান্ডের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
১০ গোলের মহাকাব্যিক থ্রিলার, ফ্রান্সকে ৪-৬ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল ইংল্যান্ডের

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে যা হলো, তা স্রেফ একটি ব্রোঞ্জ মেডেল ম্যাচ নয়— এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য ম্যাচ হিসেবে চিরকাল মনে থাকবে। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের একচেটিয়া ৪-০ লিড, দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পে ঘূর্ণিঝড়ে ৪-৩, শেষ মিনিটে দেম্বেলের গোলে ৪-৫, তারপর বেলিংহামের শেষ লাথিতে ৪-৬। মোট ১০টি গোলের এই থ্রিলার শেষে ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করলো, আর এমবাপ্পে লিখলেন বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলের নতুন ইতিহাস।

১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটাই ইংল্যান্ডের পুরুষ বিশ্বকাপে সেরা ফলাফল।

প্রথমার্ধ: ইংল্যান্ডের ঝড়, ফ্রান্স ছিন্নভিন্ন

মাত্র ৩ মিনিটে রাইসের বুলেট, তারপর কনসার হেডার, সাকার নাটকীয় তৃতীয় গোল। তবে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য মুহূর্তটা এলো ৪৫+২ মিনিটে। এবেরেচি এজের ডিফেন্ডারের কাঁধের উপর দিয়ে নিখুঁত পাস পেয়ে সাকা শরীর ঘুরিয়ে ফরাসি গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল পাঠালেন জালের কোণায়। বিরতিতে ৪-০— বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই পর্যায়ের ম্যাচে এত বড় ব্যবধান নজিরবিহীন।

দ্বিতীয়ার্ধ: এমবাপ্পের রুদ্রমূর্তি

বিরতির পর মাঠে নামলেন যেন অন্য এক এমবাপ্পে।

৪৮ মিনিটে ওয়াটকিন্সের বল হারানো থেকে ফরাসি কাউন্টার, অলিসের পাসে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে সাইড-ফুট— ফ্রান্স ১-৪। এটি এমবাপ্পের এই বিশ্বকাপে নবম গোল, মেসিকে টপকে গোল্ডেন বুটে একক শীর্ষে।

৫৪ মিনিটে এমবাপ্পের পাস থেকে বারকোলার নিয়ার পোস্টে শট— ২-৪। হেন্ডারসন কিছু করার আগেই বল জালে। স্টেডিয়ামে হঠাৎ করেই পরিবেশ পাল্টে গেল।

আর ৬৬ মিনিটে এলো সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ডি-বক্সের বাইরে অলিসের সঙ্গে একের পর এক ওয়ান-টু খেলে রক্ষণ ভেঙে ভেতরে ঢুকলেন এমবাপ্পে, তারপর শরীর ঘুরিয়ে নিখুঁত ফিনিশে বল গেল নিচের কোণায়। ৩-৪।

মেসির ২১ বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড টপকে এমবাপ্পে এখন ২২ গোলে— বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

মাঝমাঠের হাইড্রেশন ব্রেকে হাঁফ ছাড়লো ইংলিশ শিবির। টুখেলের সামনে প্রশ্ন— ‘বাস পার্ক’ করবেন, নাকি চাপে নাকাল হবেন?

শেষের নাটক

৮৭ মিনিটে সাকার হ্যাটট্রিক— ৫-৩। স্বস্তির নিঃশ্বাস ইংলিশ শিবিরে। কিন্তু ফুটবল কখনও শেষ হয় না শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত।

৯০+৬ মিনিটে দেম্বেলে বাঁ পায়ে কার্লড শটে ফার কর্নারে বল জড়ালেন— ৪-৫। স্টেডিয়ামে চিৎকার। ইংল্যান্ড ডিফেন্ডাররা একে অপরের দিকে তাকাচ্ছেন, ভরসা খুঁজছেন।

কিন্তু শেষ কথা বললেন বেলিংহাম। হাফলাইন থেকে এগিয়ে গেলেন একাই, বক্সে ঢুকলেন, লাক্রোয়াকে পরাজিত করে স্লট করলেন নিচের কোণায়— ৬-৪। সেটাই শেষ কিক, সেটাই শেষ বাঁশি।

বিবিসি রেডিওতে সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার ম্যাট আপসন বললেন, “এর চেয়ে ভালো সমাপ্তি ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযানের হতে পারতো না। বেলিংহামের এই গোলটা বলে দিচ্ছে ম্যাচটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল খেলোয়াড়দের কাছে।”

ম্যাচের নায়করা

বুকায়ো সাকা— হ্যাটট্রিক ও একটি অ্যাসিস্ট। মায়ামির রাতে আর্সেনাল উইঙ্গার পরিণত হলেন ইংল্যান্ডের সুপারহিরোতে।

কিলিয়ান এমবাপ্পে— জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট। হারের রাতেও ইতিহাস গড়লেন। বিশ্বকাপে ২২ গোল, গোল্ডেন বুট (১০ গোল), ফাইনাল ছাড়াও পূর্ণ কিংবদন্তি।

জুড বেলিংহাম— শেষ গোল ও মোট ছয়টি টুর্নামেন্ট গোল। তৃতীয় স্থানের ম্যাচে এই মনোবল ও সৃজনশীলতার প্রদর্শনী আগামী বিশ্বকাপের বার্তা দিয়ে গেলো।

১৯৬৬-এর পর সেরা ইংল্যান্ড

তৃতীয় স্থান। ১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটাই ইংল্যান্ডের পুরুষ বিশ্বকাপে সেরা ফলাফল। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের ব্যথা একটু হলেও কমলো এই বিধ্বংসী জয়ে।

আর ফ্রান্স? কোচ দিদিয়ে দেশমের বিদায়ী ম্যাচ শেষ হলো এই অবিশ্বাস্য ১০ গোলের থ্রিলারে। হারলেও, দেশম ও তার দল মাথা উঁচু রেখেই মাঠ ছাড়লেন।

মায়ামির এই রাতটা অনেকদিন মনে থাকবে।

Ads small one

সাঁতারকুলে ফার্নিচার গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
সাঁতারকুলে ফার্নিচার গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সাঁতারকুলের ফার্নিচার গোডাউনের অগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের সদরদফতর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর ) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ওই ফার্নিচারের গোডাউনে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয় ফায়ার সার্ভিসের দল এবং সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে তারা পৌঁছায়।

সদরদফতর জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পরে পূর্বাচল ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট যুক্ত হয়।

তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।

মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের মুখে জাতীয় ঐক্যের ডাক ইরানি প্রেসিডেন্টের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের মুখে জাতীয় ঐক্যের ডাক ইরানি প্রেসিডেন্টের

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের মুখে দেশের সকল কর্মকর্তা ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দেশের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির যেকোনও প্রচেষ্টা জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব অর্থনৈতিক পদক্ষেপ তার সরকারকে আকস্মিক কোনও নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারবে না, যা দেশে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুদ্ধ, অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে শত্রুরা দেশের অভ্যন্তরে বিভাজন, ফাটল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

‘কড়া জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন ড্রোন বোটে ইরানের হামলা‘কড়া জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন ড্রোন বোটে ইরানের হামলা
পেজেশকিয়ান মূলত ২০১৯ ও ২০২০ সালের ঘটনাপ্রবাহের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন, যা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হয়ে পরবর্তীতে বিস্তৃত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ এখন চরম প্রান্তসীমায় এসে দাঁড়িয়েছে; আমি যদি আবার তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করি, তবে পরিস্থিতি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী সপ্তাহগুলোতে ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য বরাদ্দ থাকা তিন স্তরের পেট্রোল কোটার একটির দাম দ্বিগুণ করা হবে এবং মাসিক কোটার পরিমাণ কমানো হবে।

আবারও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, কেন এখন?আবারও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, কেন এখন?
প্রসঙ্গত গত মাসে তেহরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সরকার ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অর্থনৈতিক কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা সব ধরনের পথ বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে এটি ওয়াশিংটনের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
পুলিশের এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আলতাফ হোসেন (৫৮) এসবির ঢাকার মালিবাগ জোনে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শনিবার রাত ৮টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আলতাফ হোসেনের ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬) গুরুতর আহত হন।

আলতাফ হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় বসবাস করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বড়দেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় একটি গেঞ্জি কারখানার সামনে প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলের সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জনের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলেকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, এসবি সদস্যকে আমিনবাজার এলাকায় পিটিয়ে হত্যা করেছে কয়েকজন ব্যক্তি। আমরা ঘটনাস্থলে আছি, বিস্তারিত পরে জানাবো।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, গাড়ি পার্কিংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজ বাসার কাছেই এসবির ওই সদস্য হামলার শিকার হন। মূলত একটি প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে দুই পক্ষের ঝামেলা মেটাতে গেলে আলতাফ ও তার ছেলেকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এতে আলতাফের মৃত্যু হয়। তার ছেলে গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এসবির সাভার জোনের এএসআই মাসুদ রানা জানান, নিহত আলতাফ হোসেন এসবির সাব ইন্সপেক্টর। তবে তিনি সাভার জোনের নয়, তিনি ঢাকার জোনে কর্মরত। সাভারের আমিনবাজরে তার জায়গা আছে। কারা কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।