রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

১ লাখ ২০ হাজার টাকার স্বপ্ন, আজ ২০ শ্রমিকের ভরসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
১ লাখ ২০ হাজার টাকার স্বপ্ন, আজ ২০ শ্রমিকের ভরসা

ঈদের অর্ডারে ব্যস্ত সাতক্ষীরার ‘রাকিব সুজ’

মিলন বিশ্বাস: শিল্প-কারখানায় পিছিয়ে থাকা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরায় সীমিত পুঁজিতে গড়ে ওঠা একটি ছোট জুতা কারখানা এখন হয়ে উঠেছে কর্মসংস্থান ও সম্ভাবনার নতুন প্রতীক। শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত “রাকিব সুজ” নামের এই কারখানাটি বর্তমানে প্রায় ২০ জন শ্রমিকের জীবিকার উৎস। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এখন দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারখানার শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষ।

২০২২ সালে মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পুঁজি এবং কয়েকজন নতুন কারিগর নিয়ে উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমান শুরু করেন এই উদ্যোগ। শুরুতে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও ধীরে ধীরে স্থানীয় বাজারে জায়গা করে নেয় তাদের তৈরি জুতা। বর্তমানে কারখানাটিতে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ ধরনের জুতা তৈরি হচ্ছে। অটোকাটিং মেশিনের ব্যবহার এবং দক্ষ নারী শ্রমিকদের নিপুণ হাতে প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জোড়া জুতা।

শিশু থেকে শুরু করে নারী-পুরুষের বিভিন্ন বয়স উপযোগী জুতা তৈরি হচ্ছে এখানে। পাইকারি বাজারে প্রতি জোড়া জুতা ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে এসব জুতা।

কারখানার নারী শ্রমিক বিলকিস পারভিন বলেন, “আমি এখানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। নিয়মিত বেতন পাই, তাই সংসার ভালোভাবে চালাতে পারছি। বাড়ির পাশেই কাজ হওয়ায় এলাকার অনেক নারী এখন স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।”

আরেক নারী শ্রমিক সেলিনা খাতুন বলেন, “ঈদের আগে কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। তবে এই কারখানার আয়ে আমার সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসার ভালোভাবেই চলছে।”
ক্রেতারাও স্থানীয়ভাবে তৈরি জুতার মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন ক্রেতা জানান, “রাকিব সুজের জুতার ডিজাইন ও কোয়ালিটি অনেক ভালো। দামও তুলনামূলক কম। তাই পরিবারের সবাই এখন স্থানীয় এই জুতাই ব্যবহার করছে।”

কারখানার ম্যানেজার সোহারব হোসেন বলেন, “ঈদ সামনে থাকায় অর্ডারের চাপ অনেক বেড়েছে। শ্রমিকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন। আমরা ভালো মান বজায় রেখে জুতা তৈরি করছি। কোনো সমস্যা হলে গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক রিটার্ন সুবিধাও দিচ্ছি।”

কারখানার মালিক হাফিজুর রহমান বলেন, “শুরুটা খুব কঠিন ছিল। প্রথম দুই বছর অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। কারিগরদের কাজ শিখিয়ে নিতে হয়েছে। এখন আল্লাহর রহমতে চাহিদা বেড়েছে। ভবিষ্যতে কারখানাটি আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আরও মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “সাতক্ষীরায় জুতা শিল্প নিয়ে তেমন কোনো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নেই। যদি সরকারি বা বেসরকারিভাবে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতো, তাহলে আমরা আরও উন্নত মানের জুতা তৈরি করে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারতাম।”

এ বিষয়ে বিসিক সাতক্ষীরার উপব্যবস্থাপক গৌরব দাস বলেন, “রাকিব সুজ দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত জুতা তৈরি করছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে বিসিক বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে। এ ধরনের উদ্যোগ জেলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

শিল্পায়নে পিছিয়ে থাকা সাতক্ষীরায় সীমিত পুঁজিতে গড়ে ওঠা এমন উদ্যোগগুলোই বদলে দিতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র। “রাকিব সুজ” এখন শুধু একটি কারখানার নাম নয়, বরং বহু মানুষের স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস ও জীবিকার প্রতীক।

 

 

 

 

 

Ads small one

ঐতিহ্য ও বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র সাতক্ষীরার ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্য ও বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র সাতক্ষীরার ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক’

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের কোলাহল আর ব্যস্ততার মাঝে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার এক টুকরো সবুজ চত্বর ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক’। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক পার্কটি কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্রই নয়, এটি সাতক্ষীরার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক নীরব সাক্ষী।

প্রতিদিনই শহরের হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে এই পার্ক প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে সকাল এবং বিকেলে সব বয়সী মানুষের জন্য এটি এক অন্যতম মিলনমেলায় পরিণত হয়।

ইতিহাস ও নামকরণ: মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে এই পার্কের নাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মার্চের গণআন্দোলনের সময় ৩ মার্চ নিহত দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী বীর শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের স্মরণে এই পার্কটির নামকরণ করা হয়। পার্কের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, যা আগত দর্শনার্থী ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করে।

নাগরিক জীবনের ফুসফুস: যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে ক্লান্তি দূর করতে এই পার্কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক বড় আশ্রয়স্থল।

প্রাতঃভ্রমণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা: প্রতিদিন ভোরে শহরের শত শত সচেতন নাগরিক এখানে আসেন প্রাতঃভ্রমণ ও ব্যায়াম করতে। পার্কের বিশাল গাছপালার ছায়া ঘেরা পরিবেশ ভোরের বাতাসকে রাখে সতেজ।

বিকেলের আড্ডা ও শিশু বিনোদন: বিকেলে পার্কটি মুখরিত হয়ে ওঠে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের আড্ডায়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এটি শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান।
সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু: সাতক্ষীরার যেকোনো বড় উৎসব, মেলা, রাজনৈতিক সমাবেশ কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল ভেন্যু হিসেবে বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। বিজয় মেলা, বইমেলা কিংবা স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই মাঠ উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রত্যাশা: স্থানীয় দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পার্কের পরিবেশ রক্ষায় এবং সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করতে কিছু সংস্কার প্রয়োজন। পার্কের ভেতর বসার পর্যাপ্ত আধুনিক বেঞ্চের ব্যবস্থা করা, ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ) আরও উন্নত করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানান তারা।

নাগরিকদের অভিমত: “শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কটি আমাদের সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ। পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন যদি পার্কটির সৌন্দর্য বর্ধনে এবং পরিবেশ রক্ষায় আরও একটু নজর দেয়, তবে এটি দেশের অন্যতম সেরা একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”

সব মিলিয়ে, সাতক্ষীরার ঐতিহ্য ও নাগরিক জীবনের স্পন্দন হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। শহরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিনোদনের স্বার্থে এই পার্কের যতœ নেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। সংবাদদাতা জুলফিকার আলী

 

 

 

 

 

 

কলারোয়ার জালালাবাদে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার: ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার জালালাবাদে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার: ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

সংবাদদাতা: পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার কলারোয়ার জালালাবাদ ইউনিয়নে গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

 

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান নিশান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জালালাবাদ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৬৪১টি কার্ডধারী পরিবারের মাঝে পরিবারপ্রতি ১০ কেজি করে এই চাল বিতরণ করা হয়।

 

চাল বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন-ইউপি সচিব আমিনুর রহমান, ইউপি সদস্য মোকলেছুর রহমান, মোজব্বার আলী, মাহবুবর রহমান ও মনিরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আলী মাহমুদ, মশিয়ার রহমান, শফিউল আজম ও সাইফুল ইসলাম, মহিলা ইউপি সদস্য কাঞ্জন বিবি, নুর জাহান ও সালমা খাতুন, ডিএম আফতাবুজ্জামান প্রমুখ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ব্রহ্মরাজপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
ব্রহ্মরাজপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণ

সংবাদদাতা: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে সরকারি ভিজিএফ (ভার্নারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের এই মানবিক সহায়তার আওতায় ইউনিয়নের মোট ১ হাজার ০৪৬টি সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে এই চাল বিতরণ করা হয়।

শনিবার (২৩ মে) ও রবিবার (২৪ মে) দুই দিনব্যাপী উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ইউনিয়নের পৃথক দুটি স্থানে এ চাল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই চাল বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহিনুল ইসলাম।

 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেরাজুর রহমান, যুবদল নেতা জিয়ারুল ইসলাম, ট্যাগ অফিসার সুমন সাহা, ইউপি সদস্য সুভাষ চন্দ্র, হাকিম, লুৎফর, এবং কুরমান ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা রজব আলীসহ স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সদস্যবৃন্দ।