সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: দুর্ভোগের নাম মরিচ্চাপ নদী; শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন টেকসই সমাধান
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়া এলাকায় জোয়ারের স্রোতে কাঠের সাঁকো ভেসে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত শুক্রবার দুপুরে বাঁকড়া ও কুন্দুড়িয়া গ্রামের সংযোগকারী এই একমাত্র পারাপার ব্যবস্থাটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ১০টি গ্রামের মানুষ এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমজীবীÑসবার যাতায়াত এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
উল্লেখ্য যে, এখানে ইতিপূর্বে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একটি কংক্রিট সেতু ছিল। কিন্তু তিন-চার বছর আগে নদী খননকালে সেটি ধসে পড়ে। এরপর থেকে এলাকাবাসীর ভাগ্য ঝুলে ছিল একটি নড়বড়ে কাঠের সাঁকোতে। সেই সাঁকোটিও এখন নেই। প্রশ্ন জাগে, একটি জনগুরুত্বপূর্ণ পথে বছরের পর বছর কেন একটি স্থায়ী ও মজবুত সেতু নির্মিত হলো না? স্থানীয় বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে পড়েছে। জরুরি চিকিৎসায় রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এখন প্রায় দুঃসাধ্য। বুধহাটা, পাইথালী ও ব্যাংদহার মতো বড় বাজারগুলোর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে সময় ও খরচÑউভয়ই দ্বিগুণ বেড়েছে, যা নি¤œআয়ের মানুষের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।
শনিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় কাঠের সাঁকো তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই, কারণ সাময়িকভাবে জনদুর্ভোগ কমাতে এর বিকল্প নেই। তবে বাস্তবতা হলো, জোয়ার-ভাটার এই উত্তাল নদীতে কাঠের সাঁকো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। যে কোনো সময় এটি আবারও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। তারা কেবল জোড়াতালির সংস্কার চান না, বরং একটি টেকসই কংক্রিট সেতু চান। এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কেবল ব্যয়ের হিসাব জমা দিলেই চলবে না, বরং দ্রুততম সময়ে একটি আধুনিক ও মজবুত সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে চলে। সেখানে প্রশাসনিক অবহেলার কারণে যাতায়াত ব্যবস্থার এমন বেহাল দশা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা আশা করি, এমপির দেওয়া এক সপ্তাহের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে এবং অতি দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কান্নার অবসান ঘটবে।









