সম্পাদকীয়/মেগা প্রকল্পের বেড়িবাঁধ কাটার দুঃসাহস: কঠোর ব্যবস্থা চাই
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন দেশের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ একটি উপকূলীয় অঞ্চল। বারবার ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত এই জনপদকে রক্ষায় সরকার ২০২১ সাল থেকে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। উপকূলবাসীর বহু বছরের কান্নার অবসান ঘটিয়ে যখন এই বাঁধ দৃশ্যমান হচ্ছে, ঠিক তখনই কিছু লোভী ও প্রভাবশালী ঘের ব্যবসায়ীর আত্মঘাতী তৎপরতার খবর আমাদের চরমভাবে উদ্বিগ্ন করে। গত শনিবার পূর্ব চাঁদনীমুখা গ্রামে খোলপেটুয়া নদী সংলগ্ন নবনির্মিত এই টেকসই বেড়িবাঁধের সরকারি ব্লক সরিয়ে এবং মাটি ছিদ্র করে অবৈধভাবে লবণ পানি তোলার পাইপ বসানোর যে চিত্র গণমাধ্যমে এসেছে, তা কেবল আইন পরিপন্থীই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের এক শামিল।
অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন মৎস্য চাষি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বাঁধের পাথর-ব্লক সরিয়ে সেখানে ‘নাইনটি পাইপ’ বসাচ্ছেন। উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়িবাঁধের মাটির নিচে বা ব্লক সরিয়ে পাইপ ঢোকানো কতটা বিপজ্জনক, তা বিগত দিনের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোতে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। লবণ পানি তোলার এই পাইপের চারপাশ দিয়ে ধীরে ধীরে মাটি ধসে পড়ে এবং জোয়ারের পানির চাপে পুরো বাঁধটি একপর্যায়ে ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারের একটি যুগান্তকারী উন্নয়ন প্রকল্পকে এভাবে কতিপয় ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আশার কথা যে, পানি উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টি জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছে। তবে শুধু পরিদর্শন বা মৌখিক সতর্কবার্তাই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়। অতীতেও দেখা গেছে, উচ্ছেদ করার কিছুদিন পর আবারও সুযোগ বুঝে এই পাইপগুলো বসানো হয়। এই ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা জাতীয় নিরাপত্তার প্রতীক এই বেড়িবাঁধের ক্ষতি করছে, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।
গাবুরার সাধারণ মানুষ আজ আতঙ্কিত, কারণ এই বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো ইউনিয়ন আবারও প্লাবিত হবে, ধ্বংস হবে তাঁদের জীবন ও জীবিকা। তাই জনস্বার্থে ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে ওই অবৈধ পাইপগুলো অপসারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অংশ দ্রুত মেরামত করা হোক। পাশাপাশি উপকূলের সর্বত্র বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।











